ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

police

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশন্যাল ক্রাইম প্রিভেনশন এন্ড কমাণ্ড সেন্টারের অফিস থেকে বের হয়ে দিয়ে গাড়ির দিকে হেঁটে চলছি। সামনের লাইব্রেরি ভবন থেকে বের হয়ে এক তরুণ থপাস করে সেলুট দিয়ে সামনে এগিয়ে এল।

-স্যার, আমি এস আই অমুক । র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সে আছি। আপনার লেখা আমার দারুণ ভাল লাগে। ফেইসবুকে আমি আপনার প্রতিটি স্টাটাসই পড়ি। আমি আপনার একজন ফ্যান, মানে ভক্ত।

মনে মনে ভাবলাম, কী যে লিখি, আর কী যে স্টাটাস দেই এবং আমার জুনিয়র সহকর্মীগণ কী-ই বা পড়েন! আর কেনই বা আমার লেখা তাদের পছন্দ আমি ঠিক বুঝতে পারি না। তবে হ্যাঁ, কোন একটা বিষয়ে বিরূপ-স্বরূপ কিছু পত্রিকায় বের হলেই বা আলোচনা উঠলেই আমি তার সম্পর্কে আমার মতামত দেওয়ার চেষ্টা করি। আর মতামতের ক্ষেত্রে নির্মোহ থেকে তথ্যপ্রমাণের উপরই নির্ভর করি।

তবে সব বিষয়ের উপর সব ধরনের মতামত যে দেয়াযায়, তাও নয়। সরকারি কর্মচারিদের সব বিষয়ে নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডা কিংবা অন্তরঙ্গ সহকর্মীদের মাঝে অনেক বিষেয়ে তর্কবিতর্ক করা যায়। কিন্তু তাই বলে প্রচার মাধ্যমে বা সামাজিক সাইটে সব মতামত প্রকাশের সুযোগ নেই। সরকারি চাকরির শর্তসমূহ সব কিছু বলা অনুমোদন করে না। আর নৈতিকতার খাতিরেও সব বিষয়ে সব সময় বলা সঙ্গত নয়। সরকারি কর্মচারিদের সরকার কিংবা সরকারের নীতি সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রচার মাধ্যমে প্রচার করা আমলাতন্ত্রের নীতিবিরোধী। সরকারের গোপনীয়ত রক্ষা করা সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য বটে। তাই জানি বলেই সব কিছু বলে দিতে পারি না। তা দেয়া উচিতও নয়।  তবে যতটুকু বলা যায় বা সরকারি কর্মচারিদের নৈতিকতা বিরোধী নয়, তা বলতে দ্বিধা কেন?

কিছু দিন আগে নিহত সহকর্মী পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় কী না উল্টাপাল্টা কথার তুবড়ি ছুটছিল। সব দিক থেকে এমনভাবে প্রচারণা চলছিল যেন এ সমাজে শুধু পুলিশ ইন্সপেক্টর মরহুম মাহফুজের মেয়েই মাদকাসক্ত কিংবা বখে গেছে। কিন্তু ঐশী যে ছিল আমাদের সমাজেরই আর দশটা মেয়ের মতো এবং এ সমাজ তাকে সঠিক রাস্তায় পথ চলার দিশা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা কেউ বুঝতেই চাইল না। যে কোন পুলিশ সদস্যের জন্য এ মূল্যায়ন কষ্টকরই বটে। তাই এতে আমি দু’চার কথা না লিখে থাকতে পারিনি। আমার এই কয়েকটি কথাই আমার সহকর্মীদের মনে দাগ কেটেছে। এক এএসপি সহকর্মী ফোন করে বলল, ‘স্যার, ঐশী সম্পর্কে আপনার লিখাটি পড়ে আমার চোখে পানি এসেছিল’।

আমি বললাম, ‘তোমার চোখে পানি এলেও এটা কয় জনেই বা পড়েছে?’

সে বলল, ‘স্যার, দেখেন, আপনার লেখাটি কতবার শেয়ার হয়েছে ।’

তাই তো! ফেইসবুকের কোন পোস্ট যত বেশিবার শেয়ার হবে, ততো বেশি সংখ্যক পাঠক বা বন্ধু একে পড়েছে বা পছন্দ করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। আমার সেই লেখাটি এখন পর্যন্ত ৭৫ বার শেয়ার হয়েছে।

আজ এই তরুণ সহকর্মীর কথা শুনে নিজেকে সামান্যতম হলেও সফল মনে হচ্ছে। বুঝতে পারছি, শুধু কাজেকর্মেই নয়, লিখেও পুলিশ অফিসারদের উজ্জীবীত করা যায়। মনে হল, পুলিশিং এর উপর দুই চার কথা লিখে যাওয়াই উচিৎ। আমার লেখা সাহিত্যের মানদণ্ডে টিকুক বা না টিকুক, পুলিশ সহকর্মীদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাগত জ্ঞান সর্বোপরি  মনোবল বৃদ্ধিতে  তা অবশ্যই সাহায্য করবে। (১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩)