ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে – Justice delayed, justice denied; justice hurried, justice buried. অর্থাৎ দীর্ঘসূত্রতা ন্যায় বিচারকে যেমন অস্বীকার করে, তেমনি তাড়াহুড়ার বিচারও যেনতেন হয়। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে তাই দীর্ঘসূত্রতা ও তাড়াহুড়া উভয়ই পরিত্যাগ করে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বরন করতে হবে। প্রত্যেকটি ঘটনাই আলাদা, প্রত্যেকটি অপরাধেরই কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। বিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাই ঘটনা বা অপরাধের বৈশিষ্ট্যগুলোর নিরিখেই অগ্রসর হওয়া উচিত। বিচার ব্যবস্থার প্রারম্ভিব পর্ব হল পুলিশি কার্যক্রম। পুলিশি কার্যক্রমের সবচেয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায় হল ফৌজদারি মামলার তদন্ত করা। তাই বিচারের ক্ষেত্রে যেমন তাড়াহুড়া ন্যায় বিচারের পথ রুদ্ধ করতে পারে, তেমনি তদন্তের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়াও ন্যায় বিচারের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এমনও হতে পারে যে তদন্তের ক্ষেত্রে অধিক ত্রস্ততা ভুক্তভোগীদের বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশের পথটুকু চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংগ হল পুলিশ। বলতে কি এই ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিচার ব্যবস্থার কাঁচামাল সরবরাহ করা থেকে শুরু করে পাকামালের সংরক্ষণ, পরিবহণ ও অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে পুলিশ। পুলিশি কর্মকাণ্ডই মূলত বিচার ব্যবস্থাকে গতিশীল করে। ফৌজদারি আইনের প্রয়োগের প্রাথমিক ধাপে মামলা রুজু করা হয় পুলিশের থানায়। (যদিও আদালতে সরাসরি মামলা রুজু করা যায়, তথাপিও ফৌজদারি মামলার প্রবেশ পথ পুলিশই উন্মুক্ত করে)। পুলিশ গ্রেফতার না করলে সাধারণত আদালতে অভিযুক্তরা যায় না। আবার আদালত কাউকে সাজা প্রদান করলে তাকে গ্রেফতারের কাজটিও করে পুলিশ।

কিন্তু বিচারের দীর্ঘসূত্রতার প্রসংগ এলেই আমাদের দেশে এক শ্রেণির মানুষ পুলিশের তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। আমরা এই নিবন্ধে সেই বিষয়েই আলোকপাত করব। আমাদের অনুমান প্রকল্প হল, তদন্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের দোষারোপযোগ্য সাধারণ দীর্ঘসূত্রতা নেই। ন্যায় বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যে দীর্ঘসূত্রতা তা তদন্ত পর্যায়ে নয়, বরং বিচারিক পর্যায়ে।

সাধারণভাবে পুলিশ কোন ফৌজদারি মামলার তদন্তের মাধ্যমে আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে। আদালত সরাসরি ফৌজদারি মামলা আমলে নিতে পারে। অধর্তব্য মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এটা প্রায়শই হয়। কিন্তু, ধর্তব্য অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন তথা তদন্তের উপর নির্ভর করতে হয়। কেননা, আদালতে সমস্যা উপস্থাপন, আসামী শনাক্ত, আসামী গ্রেফতার — এই জাতীয় কাজের সবটাই যদি আদালতই করে তবে আদালতের মূল কাজ বিচার প্রক্রিয়াটি মুখ থুবড়ে পড়বে। তবে তাত্ত্বিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আদালত সম্পূর্ণরূপে পুলিশের উপর নির্ভরশীল নয়। কোন মামলার তদন্তকার্য সম্পাদন করে পুলিশ যদি হাজার পৃষ্ঠার কোন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে সেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালত সরাসরি নাকচ করে দিতেও পারেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতকে গ্রহণ করতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু সাধারণভাবে আদালত তা করেন না। আদালতকে ন্যায় বিচারের স্বার্থেই পুলিশ প্রতিবেদনকে গ্রাহ্য করতে হয়।

কোন ফৌজদারি ধর্তব্য মামলার তদন্তের গতির উপর এই মামলার বিচারের গতি বহুলাংশে নির্ভরশীল। তদন্ত প্রতিবেদন সময় মতো না পেলে আদালত সময় মতো বিচারকার্য শুরুই করতে পারবেন না। এমতাবস্থায়, দ্রুততম সময়ে তদন্ত সম্পন্ন করা ফৌজদারি মামলার ফলাফলের উপর নিয়ামকধর্মী প্রভাব ফেলে। কিন্তু দ্রুততম সময়ের তদন্তের সাথে বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে হওয়া দরকার। তাই দেশের নীতি নির্ধারক ও আইন প্রণয়নকারীগণ দ্রুততম সময়ে তদন্ত সমাপ্তির প্রক্রিয়াটির পরের ধাপ দ্রুততম সময়ে বিচারকার্য সম্পাদনের উপরও গুরুত্ব আরোপ করবেন বলে আশা করা যায়।

কিন্তু, আমাদের নীতি নির্ধারকদের তদন্তকার্য দ্রুততর করার দিকে যে মনোযোগ লক্ষ্য করা যায়, বিচারকার্য দ্রুততর করার ব্যাপারে সেরকম মনোযোগ দেখা যায় না। আবার আদালতে মামলা জটের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েও অনেকে পুলিশের তদন্তের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেন। আদালতের মূলতবী মামলার জট ছড়ানোর উপায় বাতলানোর জন্য একজন স্বনামধন্য আইনজীবীকে ইউএনডিপি এর একটি প্রকল্প পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছিল। উক্ত আইনজীবী পরামর্শক সমস্যার কারণগুলোর তালিকার অগ্রভাগে লিখেছিলেন পুলিশের মামলা তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা। ঠিক একই ভাবে সুপারিসমালার অগ্রভাগে লিখেছিলেন, পুলিশকে সকল মামলা তদন্তের সময় সীমা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

পত্রিকান্তে জানা যায়, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । সেই সংশোধনীতেও পুলিশের মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে ৬০ কার্য দিবস। অর্থাৎ বিশেষ কোন মামলা নয়, যে কোন ধর্তব্য ফৌজদারি মামলার তদন্ত পুলিশকে ৬০ দিনের মধ্যেই সমাপ্ত করতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ থাকলে সেটা আরো ৬০ দিন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে কোন অবস্থাতেই একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫০ দিনের বেশি সময় পাবেন না। সেটা হতে পারে চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা কিংবা বিডিআর বিদ্রোহের মতো পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের মামলা। যদি এর চেয়েও বেশি সময় লাগে, তাহলে অন্য কোন পুলিশ অফিসার তদন্ত করবেন। আর পূর্বের তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে না পারার ব্যর্থতায় অসদাচরণের বিভাগীয় মামলায় পড়তে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) সহ অনেক বিশেষ আইনে মামলা তদন্তের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সময় সীমা আর যাই হোক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলায় ফেলার মতো অবস্থার সৃষ্টি করে না। যৌতুকের জন্য মারপিট জাতীয় মামলায় আসামীদের নাম-ঠিকানা থাকে সুস্পষ্ট। মামলাগুলো এতই সাধারণ প্রকৃতির হতে পারে যে ঘটনাস্থলে একবার গিয়েই একটি মামলার তদন্ত শেষ করা যায়। কিন্তু অজ্ঞাত পরিচয় একটি লাশের পরিচয় উদ্ঘাটন করে অজানা অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তকার্য ৬০ বা ১৫০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা কতটা যুক্তিনির্ভর? একটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পেশাদার অপরাধীদের শনাক্ত করে, তাদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণের জন্য বস্তুগত বা অবস্থাগত সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে ১২০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া কতটা ব্যবহারিক জ্ঞাননির্ভর? আর যদি একজন পুলিশ অফিসারের হাতে যখন প্রায় ডজন খানেক মামলা থাকে, তখন কোন মামলার ক্ষেত্রে কোন সময়সীমা মেনে চলবেন এই তদন্তকারী রক্ত মাংসের আদম সন্তানটি?

তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম, কোন অপরাধের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা না হলে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশের অফিসারগণ মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে যে অভ্যসগতভাবেই গড়িমসি করেন, এমনটি তো নয়। যারা তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তারা কি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছেন কোন দিন? আমি পাঠকদের জন্য ২০০৯ সালের পুলিশ কর্তৃক তদন্তকৃত মামলার একটি পরিসংখ্যান উপস্থাপন করব। এই পরিসংখ্যানটি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক প্রশাসনিক প্রতিবেদন-২০০৯ তে। এই প্রতিবেদন কোন গোপনীয় দলিল নয়। অপরাধ পরিসংখ্যানের মতো এই প্রতিবেদন যে কেউ সংগ্রহ করে পড়তে পারেন।

বিগত বছরের জেরসহ ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে মোট তদন্তধীন মামলার সংখ্যা ছিল ১,৮১,৩৮০টি। এর মধ্যে একই বছর পুলিশ তদন্তকারীগণ ১,৫৪,৮৫৪ টি মামলার তদন্ত সমাপ্ত করেছিলেন । একটু হিসেব কষলেই দেখা যাবে, এই বছর পুলিশ অফিসারগণ তাদের তদন্তাধীন মামলাগুলোর ৮৫.৩৮% এর তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ তদন্তকার্যকে পুলিশ পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি ধরলে পুলিশ অফিসারদের এই ক্ষেত্রে সাফল্য ৮৫% এর উপরে। তাই মামলা তদন্তে পুলিশের দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগটি ধোপে টিকে না। বাংলাদেশের কোন সরকারি অফিসে অর্পিত দায়িত্ব বৎসরান্তে ৮৫% সম্পন্ন করা হয় বলে শোনা যায় না। আমাদের দেশের কোন সরকারি সংস্থা তাদের উন্নয়ন বাজেটের ৮৫% খরচ করতে পারেন বলেও শোনা যায় না।

এবার আসা যাক মামলার বিচার প্রসঙেগ। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্যই যে ন্যায় বিচার আটকে থাকে সেই অভিযোগ কতটুকু সঠিক? আমরা দেখলাম যে পুলিশ প্রতিবছর তাদের তদন্তাধীন মামলাগুলোর ৮৫% এর ও বেশির তদন্ত সম্পন্ন করে। কিন্তু যে সব মামলা তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়, তাদের বিচারকার্য কি সেই বছরের মধ্যে সম্প্নন হয়, কিংবা পরের বছরের মধ্যে?

তাহলে আসুন আমরা ২০০৯ সালে পুলিশ কর্তৃক বিচারের জন্য প্রেরিত মামলাগুলোর বিচারের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করি। ২০০৯ সালে সারা দেশে পুলিশ তদন্তকারীগণ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিয়ে আদালতে বিচারের জন্য যেসব মামলা পাঠিয়েছিল সেগুলোর সাথে পূর্ববর্তী বছরের জেরযুক্ত হয়ে একই বছর দেশের নিম্ন আদালতগুলোতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার মোট সংখ্যা ছিল ৫,০৫,৫২৯টি। এই সব মামলার মধ্যে ১৩,৪১৮ টির বিভিন্ন উপায়ে আপোস করা হয়েছিল। এর পরও হিসেব করে দেখা গেল ২০০৯ সালে পুলিশের পাঠানো মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ১৪.৭% মামলার বিচার কার্য শেষ হয়েছে । অর্থাৎ পুলিশ যেখানে প্রতি বছর তদনত্মাধীন মামলার ৮৫% এর তদন্ত শেষ করে, সেখানে আদালতে প্রেরিত মামলাগুলোর মধ্যে ৮৫% মামলার বিচারকার্য অসমাপ্ত থেকে যায়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত-সাফল্য আদালতের বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার হারের সমান। যেহেতু আদালত তার কাছে প্রেরিত মামলাগুলোর মাত্র ১৪% এর বিচারকার্য সমাপ্ত করতে পারেন, তাই প্রতি বছরই মামলার জট নিরবিচ্ছিন্নভাবে বেড়েই চলছে। এখানে তদন্তাধীন মামলা আর বিচারাধীন মামলার মধ্যে সম্পর্ক আমাদের বুঝতে হবে। তদনত্মাধীন মামলার সংখ্যা বাড়লে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমবে, আর তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা কমলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়বে। তাই পুলিশের তদন্তের দ্রুততা আদালতের বিচারিক দীর্ঘসূত্রতাকে আরো বেশি প্রকট করে তুলবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সমস্যাটি কোথায়? পুলিশের তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার জন্যই কি ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে, না জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্য কোন কারণে? যেখানে ৮৫% মামলার বিচার প্রতি বছরই মূলতবীর খাতায় চলে যায়, সেখানে পুলিশ যত দ্রুততার সাথেই তদন্তকার্য সম্পন্ন করুক না কেন তাতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে না।

ধরা যাক, মামলা তদন্তের সময়সীমা ৬০ কর্ম দিবসই রাখা হল। এর ফলে পুলিশ অফিসারগণ অধিকতর কর্মসচেষ্ট হবেন, মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে, ধরা যাক, পুলিশ প্রতিবছরে রুজুকৃত মামলাগুলোর শতভাগ এর তদন্তকার্য সমাপ্ত করল। কিন্তু পুলিশের এই কর্মতৎপরতায় আদালতে মামলার জট বাড়বে না কমবে? যেখানে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পুলিশ তাদের উপর অর্পিত তদন্ত কাজের ৮৫% চলতি বছরেই সমাপ্ত করে, সেখানে পুলিশকে মামলা তদন্তের ব্যাপারে অলস বা দীর্ঘসূত্রতার দোষে দুষ্ট বলা সমীচীন নয়। বরং তদন্তের ক্ষেত্রে সময়ের স্বল্পতা পুলিশের দক্ষতার মান হ্রাস করতে পারে।

ফৌজদারি মামলার তদন্তকার্য নিঃসন্দেহে একটি সময় সাপেক্ষ বিশেষজ্ঞকর্ম। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তদন্তকার্য সম্পন্ন করা অবশ্যই প্রত্যাশিত। সেই সাথে এও প্রত্যাশিত যে পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত তদন্ত যেন সুষ্ঠু হয়, সঠিক হয়। তদন্ত হল কোন অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। তদন্তকালে যদি অপরাধীদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা না যায়, অভিযুক্তদের অপরাধে জড়িত থাকার সপক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ যদি আদালতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা না হয়, তাহলে অভিযুক্তরা সহজেই খালাস পাবে। অন্যদিকে তাড়াহুড়া করে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হলে পুলিশ দায়সারা গোছেন তদন্ত কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীদের রেখে নিরীহ নাগরিকদের নামে অভিযোগপত্র প্রণয়নের সম্ভাবনা বাড়বে।

পরিশেষে বলব, তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্যের হার ইতোমধ্যেই ৮৫% এর অধিক। এই হারকে শতভাগে উত্তীর্ণ করার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় হতে পারে, তবে অর্জন করা বাস্তবে সম্ভব নয়। অন্যদিকে, আদালতের বিচারকার্য সম্পাদনের সাফল্য ১৪%। তাই মামলার তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ন্যায় বিচার বিপন্নের মূল কারণ নিহিত রয়েছে। এজন্য তদন্তকার্য দ্রুততর করার চেষ্টা তদবিরের পরিবর্তে আমাদের বিচারকার্য দ্রুততর করার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। যে বিষয়টি কোন সমস্যাই নয়, তাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগী হওয়া বিজ্ঞচিত নয়, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্য হতে গুরুতর সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্যই আমাদের সকল সহায়-সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের আশু করণীয় হবে বিচারকার্য দ্রুততর করার কার্যকর পন্থা বের করা। এজন্য আমাদের বিচারকদের সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বাড়াতে হবে বিচার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের দক্ষতাও

সূত্রাবলীঃ
১. http://www.thedailystar.net/beta2/news/govt-moves-to-amend-crpc/
২. http://us.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-23/news/362516
৩. Page 99 Administrative Report of Bangladesh Police for 2009. Published by Peoples Republic of Bangladesh
ditto