ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু রোম হর্ষক অপরাধের খবর শুনে, পত্রিকার পড়ে, টিভিতে দেখে মানুষ অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে গেছে বলে অনুমান করা যায়। মানুষের মাঝে অপরাধ ভীতি কতটা বেড়েছে তার কোন জরীপ এদেশে হয় না। তবে টিভির টক শো, পত্রিকার সম্পাদকীয় পড়ে মনে হয় দেশের মানুষ বেশ আতঙ্কিত। কিন্তু এই আতঙ্কের কি স্থায়ী কোন রূপ আছে? সত্যিই কি আগের চেয়ে দেশে অপরাধ বেড়ে গেছে?

আম জনতা অনেক কথাই বলেন। সমাজ বিজ্ঞানী থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরাও এ নিয়ে বেশ মুখরোচক ও হতাশা ব্যঞ্জক কথা বলেন। অনেকে নতুন সরকারের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুলে ধরেন।কিন্তু একজন অপরাধ বিজ্ঞানী না হলেও অপরাধ বিশ্লেষক কিন্তু দেশের অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য করবেন না। কারণ, তিনি জানেন যে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক উন্নতীর উপজাত হিসেবে আমরা অপরাধ পেয়ে থাকি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ইউরোপে শ্ল্পি বিপ্লবের সময় সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ বেড়ে গিয়েছিল। এর কারণ সম্পদের অভাব ছিল না। বরং চুরি, ডাকাতি বা দস্যূতার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ মানুষের হাতে ছিল বলেই সেই সময় চুরি-ডাকাতি বেড়ে গিয়েছিল।আমাদের দেশের অপরাধ প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখো যাবে দেশে শীত কালের চেয়ে গরমের মওসুমে অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়ে থাকে।

বিগত ১০/১২ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে দেশে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি- মার্চ মাসের তুলানায় পরের ছয় মাসে অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়েছে। এরপর শেষের তিন মাস মানে অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বরে অপরাধ আবার কমেছে।

আমি ২০০০ সাল থেকে ২০১৩ সালের অপরাধ পরিসংখ্যানে এপ্রিল মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখলাম এই ১৪ বছরের মধ্যে শুধু দুইটি সালে ২০১০ ও ২০১১ সালে এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে অপরাধ কম হয়েছে। কিন্তু অন্য সালগুলোতে মানে, ১৪ বছরের মধ্যে ১২ বছরের হিসেবে এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে অপরাধ বেশি হয়েছে। এই ১৪ বছরের গড় হিসেব যদি নেই, তাহলে দেখব প্রতি বছর এপ্রিল মাসের তুলনায় সারা দেশে মে মাসে ৩৯৭টি অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়েছে।

এমতাবস্থায়, এটা নির্ধিদায় বলা যায়, প্রকৃতিগতভাবেই আমাদের দেশে ইংরেজি বছরের প্রথমের তুলনায় মাঝামাঝিতে অপরাধ বেশি হয়। এক্ষেত্রে চলতি মে মাসের অপরাধের ঊর্ধ্বগতি দেখে বা পত্র-পত্রিকায় বা টিভির পর্দায় দেশ গেল দেশ গেল ধরনের টক শোতে কান দেয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে অপরাধের স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এটা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আমাদের সনাতনি পুলিশিং কৌশলের পরিবর্তে নতুন ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বাড়াতে হবে পুলিশের অপারেশনাল ও তদন্তের সামর্থ্য।