ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

নির্ধারিত তারিখে মামলার সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত না হওয়া বিচারের দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ। ফৌজদারি মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ অফিসারদের বিধিবদ্ধ সরব উপস্থিতি পুলিশ সংগঠনকে বিচার ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে স্থান দিয়েছে। তাই বিচার ব্যবস্থার যে কোন স্তরেই পুলিশের অনুপস্থিতি, ব্যক্তি অফিসারদের অবহেলা বা অসহযোগিতা গোটা বিচার প্রক্রিয়ার গতিকেই শ্লথ করে তুলতে পারে।

সাধারণ সাক্ষীদের আদালতমুখী হতে অনীহার পিছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে। আদালতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অসহযোগিতা, দুর্ব্যবহার, দুর্নীতি, আদালত প্রঙ্গণে অনুকূল পরিবেশের অভাব, যাতায়াত ভাতা ও খোরাকী ভাতা না পাওয়া ইত্যাদি অনেক কারণেই সাধারণ মানুষ পুলিশের তদন্তে সাক্ষী হতে অনীহা পোষণ করে। আবার কোন কারণে কোন মামলার সাক্ষীদের কলামে কোন মানুষের নাম ঢুকে পড়লে তিনি সেটাকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। এমতাবস্থায়, এ সব মানুষকে আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পুলিশের জন্য সব সময় একটি দূরুহ চ্যালেঞ্জ।

এ তো গেল সাধারণ মানুষের কথা। কিন্তু প্রতিটি ফৌজদারি মামলায় কোন না কোন পর্যায়ে পুলিশকে জড়িত হতে হয়। পুলিশ সাক্ষীদের মধ্যে আছেন সাধারণ সাক্ষী, জব্দ তালিকা তৈরির সাক্ষী, সুরতহাল তৈরির সাক্ষী, মামলার এজাহারকারী বা বাদী সাক্ষী কিংবা তদন্তকারী কর্মকর্তা বা আইও সাক্ষী। অবৈধ মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র বা অন্যকোনভাবে উদ্ধারজনিত মামলায় পুলিশ সদস্যগণ সকল ক্যাটেগরিতেই সাক্ষী হতে পারেন। এজন্য আদালতের কাঠগড়া দাঁড়ানো সাক্ষীদের একটি বড় অংশ থাকে পুলিশ অফিসার। আর সাধারণ সাক্ষীদের মতো পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার দায়িত্বও পুলিশের উপর বর্তায়। কিন্তু পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার ব্যাপারেও পুলিশকে বড় সমস্যায় পড়তে হয়। আলোচ্য নিবন্ধে পুলিশ সাক্ষীদের সময় মতো আদালতে হাজির করতে না পারার পিছনের কারণগুলো তুলে ধরে সেগুলো দূর করার সম্ভাব্য পন্থা আলোচনা করা হবে।

পুলিশ সাক্ষীদের সময় মতো আদালতে হাজির হতে ব্যর্থতার পিছনে বড় কারণ হল, আদালতের ইসুকৃত সমন সময় মতো তাদের কাছে পৌঁছায় নায়। প্রায় ক্ষেত্রেই সাক্ষীর জন্য নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পর সমন পাওয়া যায়। এই বিলম্বের কারণগুলো পরস্পর গ্রথিত একটি শৃঙ্খলিত ঘটনাবলীর অংশস্বরূপ।

প্রথমত, আদালত থেকে সাক্ষীর প্রতি সমনগুলো প্রায় ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সময় থাকতে ইসু করা হয় না। এর পিছনে আদালতে সাপোর্টিং স্টাফের স্বল্পতার সাথে সাথে তাদের অদক্ষতাও দায়ী। অনেকে অবশ্য তাদের দুর্নীতির প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন।

দ্বিতীয়ত, পুলিশ সাক্ষীদের ঘন ঘন পোস্টিং স্থান পরিবর্তন হওয়া। যে পুলিশ অফিসার যে স্টেশনে কর্মরত থাকাকালীন মামলার সাক্ষীর খাতায় নাম ঢুকিয়েছেন, তিনি সেই জেলা থেকে একবার বদলী হয়ে গেলে তাকে সহজে খুঁজে পাওয়া মুস্কিল হয়ে পড়ে।

এর কারণ অবশ্য পুলিশের সাংগঠনিক বিন্যাস। বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন থানা-জেলা-রেঞ্জ-কেন্দ্র এই ঊর্ধ্বক্রমে বিন্যাস্ত। একই জেলার মধ্যে কোন পুলিশ অফিসারের বদলীর ব্যাপারটি দেখেন জেলার এসপিগণ। মেট্রোপলিটন পুলিশে হলে দেখেন পুলিশ কমিশানরগণ। কিন্তু জেলার বাইরে একই রেঞ্জের মধ্যে বিষয়টি দেখেন রেঞ্জ ডিআইজিগণ। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলীর ক্ষেত্রে ডিআইজিগণ সরাসরি আদেশ দেন এবং সে আদেশের কপি উভয় জেলার পুলিশ সুপারদের কাছেই যায়। কিন্তু এক রেঞ্জ হতে অন্য রেঞ্জএ বদলী হলে এটা করা হয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে।

ভিন্ন রেঞ্জে বদলীকৃত পুলিশ অফিসারগণ প্রথমে রিপোর্ট করেন রেঞ্জ অফিসে। এর পর রেঞ্জ থেকে পোস্টিং পেলে নির্দিষ্ট জেলায় চলে যান। তাই পোস্টিং পাওয়া জেলার এসপি আর ডিআইজি ভিন্ন অন্য কোন এসপি (বিশেষত সেই পুলিশ অফিসার পূর্বে যে জেলায় থেকে মামলার সাক্ষী হয়েছেন) তা জানতে পারেন না।

এমতাবস্থায়, পরবর্তীতে সে পুলিশ অফিসার যখন সাক্ষী হিসেবে সমন পান তখন আদালাত মূলত তার নামে সমন পাঠান তার পূর্ববর্তী জেলায়। এ ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে কোন পুলিশ অফিসার ফেনী জেলার কোন আদালতে সাক্ষী দিবেন, ফেনীর আদালত তার সমন পাঠাবেন ফেনী জেলায়। ফেনী জেলা পাঠাবেন উক্ত পুলিশ অফিসার তার জেলা থেকে সর্ববেশ বদলী হয়ে যে রেঞ্জে গেছেন সেই রেঞ্জের ডিআইজির কাছে। ডিআইজি হয়তো এই সমন পাঠাবেন তার বদলী হওয়া পরবর্তী রেঞ্জের ডিআইজির কাছে। ডিআইজি পাঠাবেন তার অধীনের কোন জেলায়, যেখানে তিনি তাকে পদায়ন করেছিলেন। সেই জেলার এসপি এই সমন পাঠাবেন কোন থানায় যেখানে আলোচিত পুলিশ অফিসার পদায়িত রয়েছেন।

আর যদি দ্বিতীয় রেঞ্জ থেকে অন্য কোথাও সেই অফিসার বদলী হয়ে যান, তাহলে রেঞ্জ ডিআইজি সমনখানা পাঠাবেন অন্য কোন রেঞ্জ-এ। এভাবে কোন পুলিশ সাক্ষীর নামে সাক্ষীর সমন বা ওয়ারেন্ট ঘুরতে ঘুরতে সাক্ষীর হাতে যখন পড়বে ততোক্ষণে মামলার সাক্ষীর তারিখ পার হয়ে গেছে। এমন ঘটনা যে সব মামলার ক্ষেত্রেই হয়, তা অবশ্য নয়। তবে যেভাবে আদালতে মামলার জট বাড়ছে তাতে এমন ধরনের ঘটনার সাংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি খুনের অপরাধের মামলা থানায় রুজু হওয়ার পর থেকে আদালতে গিয়ে তার বিচার শুরু হতে সময় লাগে কমপক্ষে পাঁচ বছর। অনেক ক্ষেত্রে এটা দশ বছরও হতে পারে। এই মামলার সাক্ষী গ্রহণ যখন শুরু হয়, ততোদিনে সেই মামলার সাক্ষী পুলিশ অফিসারগণ হয়তো এক ডজন পোস্টিং স্থান পাল্টিয়েছেন। তিনি হয়তো সাব-ইন্সপেক্টর থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসপি হয়ে গেছেন। তাই সনাতনি কায়দায় তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা আসলেই দূরহ ব্যাপার।

উদাহরণস্বরূপ, আমি ২০০৩ সালে এএসপি প্রবেশনার অবস্থায় দিনাজপুর কোতওয়ালী থানার একটি মাদকের মামলার তদন্ত করেছিলাম। দিনাজপুর থেকে আমি পোস্টিং এ গেলাম রাজশাহীতে, তারপর ঢাকা মেট্রোপলিটনে, ডিএমপি থেকে র‌্যাবে, র‌্যাব থেকে আবার রাজশাহীতে, রাজশাহী থেকে গেলাম খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে। তারপর এলাম মাগুরা জেলায়। ততোদিনে আমি এএসপি থেকে সিনিয়র এএসপি হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছি। এত ঘাটের পানি খেয়ে এএসপি থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হওয়ার পর আমার পালা এলো সাক্ষ্য দেবার। অর্থাৎ প্রায় চার বছর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আমার সাক্ষী দেয়ার ডাক পড়েছিল।

বলাবাহুল্য, শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে আমার সমনটি দ্রুত আমার হাতে এসে পড়েছিল। কিন্তু একজন সাব-ইন্সপেক্টর হলে আমাকে খুঁজে পেতে হয়তো আরো কয়েক তারিখ তথা কয়েক মাস লেগে যেত। কারণ এএসপি থেকে উপরের কর্মকর্তাদের সংখ্যা যেমন নগণ্য, তেমনি তাদের বদলী-পদায়ন ইত্যাদির রেকর্ড থাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সহজেই আমাকে খুঁজে বের করতে পেরেছিল। কিন্তু নিম্ন পদস্থদের রেকর্ড রাখার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা না থাকায় তাদের খুঁজে পাওয়া সময় সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায় যেটা আদালতের বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

পুলিশ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে উপস্থাপনের ব্যাপারে নানা ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। নানা দিক থেকে নানা প্রকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ ব্যাপারে বেশ তৎপর থাকেন। কিন্তু সমস্যার মূলে গিয়ে তা দূর করার তেমন কোন পদক্ষেপ আদতে গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন ঘটনার পর বা আদালতের কড়া কড় আদেশের পর প্রচলিত প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার চেষ্টা লক্ষ্যণীয় হলেও তা স্থায়ী হয়নি।

অনেকের মতে পুলিশের বর্তমানে বিপি নম্বর (ব্যক্তিগত শনাক্তকারী নম্বর) তথা প্রত্যেক সদস্যের পরিচয় পত্রের অনন্য নম্বরগুলো অভিযোগপত্রে আইওর বা সাক্ষীর নামের শেষে লিখে দিলে তাদের খুঁজে বের করা সহজতর হবে। অনেকে বলেন, বিপি নম্বরের সাথে সাথে তাদের যদি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা যায়, সেটাও বড় উপকারী হবে। কারণ মোবাইল ফোনে সরাসরি তাদের সাথে কথা বলে তাদের সাক্ষীর তারিখ জানিয়ে দেয়া যাবে।

আমি মনে করি, এই ‍উভয় বিষয়ের গুরুত্ব রয়েছে। তবে এগুলোর ব্যবহারবিধিতে যথেষ্ঠ ফাঁকফোকর রয়েছে। যেমন, সরকার কোন পুলিশ অফিসারকেই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেয় না। তাই যে বস্তুটি সরকারিভাবে আমি সরবরাহ করিনি, সেই বস্তুটি সরকারিভাবে নথিভুক্ত করার আদেশ কিভাবে দেই। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে এটা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের সকর শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিপি নম্বর সরবরাহ করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পিআইএমএস বা আইডি কার্ড শাখায় এটা সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এ ডাটা বেইজে এখন পর্যন্ত শুধু পরিচয় পত্র দেয়ার পর আর বিশেষ কারণ ছাড়া আপটুডেইট করা হয়না। আবার মাঠ পর্যায়ের পুলিশ অফিসারদের এতে প্রবেশের সুযোগও নেই। জেলার এসপিগণ তার জেলার এক পুলিশ অফিসার এক নিযুক্তি থেকে অন্য নিযুক্তিতে গেলে, তিনি তার জেলা আদেশ বই হালনাগাদ করতে পারেন। কিন্তু পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আইডি কার্ড সেকশনে তার কোন কাজ নেই। কোন পুলিশ অফিসারের বর্তমান অবস্থান জানতে গিয়ে পিআইএমএসএ যদি সার্চ দেয়া যায়, তাহলে তাকে হয়তো পাঁচ বছর আগের অবস্থানেই পাওয়া যাবে। কেননা, মাঠ পর্যায়ের কোন হালনাগদ তথ্য আইডি কার্ড সেকশনে প্রবেশ করানো হয় না।

এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, আমাদের বর্তমান রীতি অনুসারে আদালত তো সেই পুলিশ অফিসারকে তার নথিপত্রে যে ঠিকানা লিখা আছে সেখানেই খুঁজবেন। তার সমন পাঠাবেন সেই জেলার পুলিশ সুপারের কাছেই। এক্ষেত্রে পুলিশ সুপার তার নথিপত্রে সেই পুলিশ সাক্ষী যে ইউনিটে সর্ব শেষ বদলী হয়েছেন, সেখানেই তার সমন পাঠাবেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নয়। অনেক ক্ষেত্রে আদালত অবশ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সেও সমন পাঠান। কিন্তু এটা হয় সর্বশেষ বা চূড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে। কোন সাক্ষীকে কোনভাবেই যখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন আদালত পুলিশ প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আদেশ লিখে থাকেন।আমাদের ফৌজদারিক কার্যবিধিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উপর সমন ইসু করার কোন বিধান নেই।

তবে পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের পিআইএমএস (পার্সনেল ইনফরমেশন সিস্টেম) বা আইডি কার্ড শাখার যে সুবিধা আছে তা সহজেই বাড়িয়ে পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়ানো যায়। এ জন্য আমি নিম্নলিখিত বিষয় প্রস্তাব করছি।

১. পিআইএমএস সিস্টেমকে ওয়েব বেইজ করতে হবে। এর ফলে দেশের যে কোন স্থান হতে পিআইএমএস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে কিংবা তথ্য ইনপুট দেয়া যাবে বা সংশোধন করা যাবে।

২. পুলিশের সকল ইউনিট থেকে পিআইএমএস সিস্টেমে তথ্য প্রবেশ করানোর সুযোগ রাখতে হবে। এটা হলে কোন নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ ইউনিটে কর্মরত কোন পুলিশ অফিসারের নিযুক্তি বদল বা বদলী হলেই সংশ্লিষ্ট ইউনিট সেটা সংশোধন বা হালনাগাধ করতে পারবে। এতে কেন্দ্রের উপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি মাঠ পর্যায়েরি ইউনিটগুলোর সক্ষমতাও বাড়বে।

৩. কোন পুলিশ অফিসারের পোস্টিং, নিযুক্তি বা বদলীর তথ্য যে সব স্থানের নথিতে থাকে সে সব ইউনিটেই পিএমআইএস হালনাগাধ করার সুযোগ রাখতে হবে।

৪. পরপর তিনটি তারিখে কোন পুলিশ সাক্ষী আদালতে হাজির না হলে তার সমনের কপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো যেতে পারে।

৫. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন শাখা পিএমআইএস হতে বিপি নম্বর নিয়ে সাক্ষীর বর্তমান অবস্থান তথা পোস্টিং স্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে সমন পাঠাবেন।

৬. পুলিশ সাক্ষীদের বিপি নম্বর অভিযোগপত্রের সাক্ষীর কলামে নামের পাশে বাধ্যতামূলকভাবে লিখতে হবে। বিপি নম্বর ছাড়া কোর্ট ইন্সপেক্টর তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন (পুলিশ প্রতিবেদন) নথিতে গ্রহণ করবেন না।

৭. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন বা প্রসিকিউশন শাখাকে শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমানে একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও একজন কনস্টেবল নিয়ে এ শাখার কাজ চলছে। কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনা করে এর দায়িত্বে অন্তত একজন ইন্সপেক্টরসহ এর জনবল পাঁচ জনে উন্নীত করা যেতে পারে। কেননা সমন জারির ক্ষেত্রে যখন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা স্থানীয় ব্যবস্থার চেয়ে বেশি কার্যকর হবে তখন দ্রুত এর কর্মপরিধি ও কর্মভার বাড়তেই থাকবে যা দুজন পুলিশ সদস্যের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হবে না।

সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতির পিছনে সাধারণ কারণগুলো দূর করতে না পারলে শুধু ‍পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেই মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা দূর করা যাবে না। পুলিশ অফিসারদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত না হওয়ার পিছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে, তারা এ কাজে যে ব্যয় করেন, সরকার থেকে প্রাপ্য যাতায়াত ও খোরাকী ভাতা তার চেয়ে অনেক কম। খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতে একজন ‍পুলিশ অফিসার যতটাকার বাস ভাড়া পরিশোধ করেন তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করতে হয়, ঢাকা শহরের গাবতলী থেকে আদালত পাড়ায় যাতায়াতের জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের ভিতরের যাতায়াত তারা পান মাইলেজ হিসেবে যার পরিমাণ অতি নগণ্য। একদিকে মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে ব্যয়, অন্য দিকে মামলার সাক্ষী দিতে গিয়ে ব্যয় সব মিলে তাদের সাক্ষীর কাঠ গড়ায় দাঁড়ানোর ব্যপারে অনীহা থাকতেই পারে। তাই আদালতের সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য বিচ্ছিন্ন নয়, সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।(১৪/০৬/২০১৪)