ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অতি সামান্য জ্ঞান নিয়ে কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী যখন ফৌজদারি মামলার তদন্তকৌশল বা নীতি-পদ্ধতি নিয়ে নীতি নির্ধারণী বক্তব্য দিয়ে বসেন, তখন তদন্ত সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান নিয়ে আর বসে থাকতে পারি না৷ মুখ বুঝে থাকতে কষ্ট হয়৷ কথা বলে ফেলি৷ হাত গুটে বসে থাকতে পারি না, কয়েকটা লাইন লিখতে বসি৷ আলোচ্য নিবন্ধটি এমনি একটি প্রতিক্রিয়ার ফসল৷

সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকার শেষের পাতায় ৯টি অনুদঘাটিত তদন্তাধীন মামলার তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে যে প্রতিবেদন বেরিয়েছে সেখানে একটি হাইলাইট মন্তব্য রয়েছে যেখানে পুলিশকে বাদ দিয়ে আদালতের অধীনে একটি পৃথক তদন্ত সংস্থা গঠনের দাবী তোলা হয়েছে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থেকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তকার্য আলাদা করে অপুলিশ কোন সংস্থার হাতে তুলে দিলে তদন্তকারীগণ নাকি পুরো সময় তদন্তে ব্যয় করতে পারবেন ৷ এতে তদন্ত দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে, তদন্ত মানসম্মত হবে এবং তদন্ত নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বপূর্ণ হবে৷ বাংলানিউজ২৪.কম নামের একটি অনলাইন পত্রিকাতেও জনৈক আইনজীবীও একই দাবী তুলে কলাম লিখেছেন ।

তদন্তকে পুলিশ থেকে আলাদা করার জন্য কিছু স্বার্থন্বেষী মহল বহুদিন থেকেই চেষ্টা করে আসছে এবং বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হবার পর সে প্রচেষ্টা আরো জোরদার হয়েছে ৷ তাই পুলিশের কাছ থেকে তদন্তকে আলাদা করার পরামর্শটিতে যতটা জনস্বার্থ জড়িত আছে, তার চেয়েও অনেক বেশি জড়িত রয়েছে সংকীর্ণ শ্রেণীস্বার্থ ৷ তদন্ত সংক্রান্ত এ জটিল ও পেশাদারী পুলিশ-কর্মযজ্ঞের আদ্যোপান্ত একটু তলিয়ে দেখলেই যে কেউ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন ৷

পুলিশের তদন্ত নিয়ে যারা অসন্তুষ্ট তারা হয়তো স্বাভাবিক ভাবেই চাবেন পুলিশ ভিন্ন এমন কোন সংস্থাকে দিয়ে তাদের মামলার বা গড়পড়তা সব মামলার তদন্ত করাতে যাতে বর্তমানে পুলিশ যা করছে তদন্ত যেন তার চেয়েও ভাল হয় ৷ আমি মনে করি, ভুক্তভোগী বা কর প্রদানকারী নাগরিকদের এ প্রত্যাশা নেহায়েত অমূলক কিংবা নিছক উচ্চাশাপ্রসূত নয় ৷ যারা রাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রকাশ করে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করেন, রাষ্ট্রকে সচল রাখার জন্য কর দেন, রাষ্ট্রের আইন কানুন মেনে চলেন, নিজেদের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের কাছে সমর্পণ করেন, সেই নাগরিকগণ কোন অপরাধের শিকার হলে অপরাধীদের গ্রেফতার, অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচার রাষ্ট্রের কাছ থেকে মৌলিক অধিকার হিসেবেই দাবি করতে পারেন ৷ আর রাষ্ট্র এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷ এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে রাষ্ট্র জনগণের কাছে ছোট হয়ে যায় ৷ তাই রাষ্ট্র নিশ্চয়ই এমন কোন গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজবে যার ফলে ফৌজদারি অপরাধ সংশ্লিষ্ট জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সূচারুরূপে পালন করা যায়৷

পৃথিবীতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দুইটি ধারা লক্ষণীয়৷ একটি হল ‘কমন ল’ অন্যটি ‘সিভিল ল’৷ কমন ল এর ধ্বজাধারি হচ্ছে যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেন ও তার কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো৷ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র কমন ল এর অধীভুক্ত ৷ এসব দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ধর্তব্য অপরাধের তদন্ত প্রাথমিকভাবে পুলিশকে দিয়ে করানো হয় ৷ মামলা তদন্তের সাধারণ ক্ষমতা এসব দেশে সাধারণতঃ পুলিশই ভোগ করে৷ কিছু কিছু বিশেষায়িত বিষয়ে পুলিশ ভিন্ন অন্যরাও তদন্ত করে৷ তবে সে তদন্ত এমন কিছু নয় যা পুলিশকে দিয়ে করানো সম্ভব না ৷ তবে আলাদা বিশেষায়ন ও দ্রুততার জন্য এ সব বিশেষ তদন্ত বিভাগ গঠন করা হয়৷ বাংলদেশে দুদক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান এ সব বিশেষায়িত কাজ করে থাকে৷ তবে এ সব প্রতিষ্ঠান আর পুলিশের মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য হল, তদন্তের ক্ষেত্রে গ্রেফতার, উদ্ধার, তল্লাসি ইত্যাদির জন্য এ সব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে পুলিশের উপর নির্ভরশীল ৷ কিন্তু ফৌজদারি মামলার তদন্তকার্য সম্পাদনে পুলিশ মূলত কারিগরী বা অভিযান পরিচালনার জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল নয় ৷ তাই অন্যান্য বিশেষায়িত তদন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বকীয় সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে পুলিশের সহযোগিতার উপর নির্ভর করতে হয় ৷

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অন্য ধারাটি হল ‘সিভিল ল’৷ এখানে পুলিশ আর প্রসিকিউসনকে অনেকটাই পৃথক করা হয়েছে৷ নেপোলিয়নের কোডভুক্ত ইউরোপের কিছু দেশ যেমন ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, জার্মানী এ ধারায় চলে৷ এখন আমরা যদি প্রসিকিউসনের সাথে ফৌজদারি মামলা তদন্তকেও পুলিশ থেকে ভিন্ন করতে চাই, তবে আমাদের গোটা ফৌজদারি ব্যাবস্থাটিই কমন ল ঐতিহ্য থেকে বের করে সিভিল ল তে নিতে হবে৷ আমাদের তদন্ত, প্রসিকিউসন আর ফৌজদারি বিচার ব্যাবস্থায় ‘অল্প বিদ্যার অধিকারী বুদ্ধিজীবীগণ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে যেহেতু অন্ধের হাতি দেখার আদলে দেখেন, তাই তারা হাতির কানটাকে কুলোর মতো মনে করে হাতির কান নিয়ে হাতিকে কলা গাছের পরিবর্তে তুষ-পাতান দিয়ে ভোলাতে চান৷

অনেকে মনে করেন, আমেরিকার যুক্ত রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় পুলিশ আদালতের অধীন৷ তারা মনে করেন, যেহেতু এফবিআই ডিপার্টমেন্ট অব জাষ্টিসের অধীন, তাই সে দেশের পুলিশ হল আদালতের অধীন৷ কিন্তু আমেরিকার বিচার ব্যবস্থার সম্পর্কে কত অগভীর এদের জ্ঞান! তারা মনে করেন ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস হল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট৷ কতবড় অজ্ঞ তারা! তারা বলেন, আমেরিকার আ্যটর্নী জেনারেল এফবিআই নিয়ন্ত্রণ করে ৷ তাই আমাদের দেশের পুলিশও সুপ্রিম কোর্ট না হলেও এটর্নী জেনারেলের অধীনে পরিচালিত হতে পারে৷

কিন্তু এ স্বল্প বুদ্ধির বুদ্ধিজীবীগণ আদৌ জানেন না যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নী জেনারেল ফেডারেল সরকারের পররাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতোই একজন মন্ত্রী৷ আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আর আইন মন্ত্রীর সংমিশ্রণে একটি বিশেষ পোর্টফলিওর অধিকারী হল আমেরিকার অ্যাটর্নী জেনারেল ৷

এবার আসা যাক পৃথক তদন্তকারী সংস্থার সীমাবদ্ধতার দিকগুলোতে ৷ পুলিশের বাইরে পৃথক তদন্তকারী সংস্থা গঠনের প্রথমেই আসবে সরকারি বাজেটের বিষয়৷ পুলিশের বাইরে একটি তদন্ত সংস্থা তৈরি করে তাকে দিয়ে যদি প্রতি বছর পুলিশের কাছে রুজু হওয়া মামলাগুলো তদন্ত করাতে চাই, তাহলে সে সংস্থার জনবল কত লাগবে, তা কি আমাদের বুদ্ধিদাতারা ভেবে দেখেছেন?

বাংলাদেশের পুলিশ থানাগুলোতে প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফৌজদারি মামলা রুজু হয়৷ আমি যদি ধরেও নেই একজন অফিসার প্রতি বছর ৫০টি মামলার তদন্ত করবেন, তা হলেও কেবল তদন্তকারীর সংখ্যায় হবে ৩,০০০/- এ তিন হাজার লোকের সহকারী, তাদের তত্ত্বাবধান, প্রশাসন, বেতন ভাতা, শৃংখলা, গাড়ি-ঘোড়া, যোগাযোগ, স্থাপনা পাহারা ইত্যাদির জন্য সরকারকে কমপক্ষে প্রায় ১৫-২০ হাজার লোকবলের একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তুলতে হবে৷

সাধারণ পুলিশের মতোই যদি এ তদন্তকারী পৃথক সংস্থার সদস্যদের সুযোগ সুবিধা দিতে চাই, তা হলে রীতিমত ছোট খাট কোন দেশের পুলিশ বাহিনীর মতোই বড় ও ব্যয়বহুল হবে এ পৃথক তদন্ত সংস্থা৷ অন্যদিকে এ তদন্ত সংস্থাকে শুধু দেশের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না৷ কারণ ফৌজদারি অপরাধের মতো ফৌজদারি মামলার তদন্তও আগাগোড়া একটি স্থানীয় বিষয়৷ ঘটনাস্থল বা অপরাধস্থলের কাছাকাছি না থাকলে অপরাধের গতিবিধি-প্রকৃতি বোঝা যাবে না৷ আর অপরাধের গাতিবিধি না বুঝলে সে অপরাধ সংগঠনকারীদের খুঁজেও বের করা যাবে না৷ অন্যদিকে অপরাধের শিকার মানুষ বা তাদের সাথে সংশিস্নষ্টরা নিশ্চয় চাবে না তাদের স্থানীয় থানা এলাকায় সংঘটিত কোন অপরাধের তদন্তকার্য ঢাকায় বসে, এমন কি জেলা সদরে বসে সম্পন্ন হোক৷ এমতাবস্থায়, দেশের প্রত্যেক থানা এলাকায় সে তদন্ত সংস্থার শাখা স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়বে৷ বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পরেও দেশের সব থানার জন্য নিজস্ব ভবন স্থাপন করা সম্ভবপর হয়নি ৷ এখন এ নতুন তদন্ত সংস্থার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলসহ দেশের প্রত্যেক থানা এলাকায় অফিস স্থাপনের জন্য বিশাল অংকের অর্থ খরচের সংগতি কি আমাদের আছে?

আমেরিকান পুলিশ গবেষক ডেভিড এইচ. বেইলী, যিনি সারা পৃথিবীর কমপৰে এক ডজন পুলিশের উপর গবেষণা করেছেন, তিনিও পুলিশ থেকে পৃথক তদন্ত ইউনিট নিয়ে বিরূপ মতামত পোষণ করেছেন৷ (Bailey, 1994) তার মাতে,

যদি অপুলিশ তদন্তকারীদের প্রত্যাশিত মাত্রায় অভিজ্ঞ করে তুলতে হয়, সেটা উর্দিধারী পুলিশ তদন্তকারীদের মতোই ব্যয়বহুল হবে৷ যদিও আশা করা যায়, ইউনিফর্মের বাইরের লোককে তদন্তকাজে নিযুক্ত করলে তা ইউনিফর্মধারীদের অপরাধ প্রতিদেরাধ কাজে অধিকতর আত্মনিয়োগের জন্য সময় সাশ্রয়ী হবে, কিন্তু তাই বলে এটা অর্থসাশ্রয়ীয় হবে না৷ এতে কর্মের বিভাগ পরিবর্তন হবে কিন্তু সামগ্রিক ব্যয়ে কোন পরিবর্তন আসবে না ৷

এরপরও যদি বলি কোন থানা এলাকায় পুলিশের বাইরে একটি পৃথক তদন্ত সংস্থা একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করছেন, তা হলে ডাকাতদের গ্রেফতার, মালামাল উদ্ধার, আলামত সংগ্রহ, আসামী হেফাজতে নেওয়া, রিমান্ড চাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে তারা কি চার পাঁচজন লোক দিয়ে অভিযান চালিয়ে সফল হবেন ৷ এক্ষেত্রে তাদের ভিন্ন কমান্ডই শুধু নয়, ভিন্ন সংস্থার স্থানীয় পুলিশের উপরই নির্ভর করতে হবে৷ আর এ নির্ভরশীলতা তাদের দায়িত্ব পালনে কতটা সফল করবে সেটাই ভাববার বিষয় ৷

একই পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি শুধু মাত্র ভিন্ন কমান্ডের কারণেই বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হয়৷ সারাদেশে সিআইডিকে স্থানীয় পুলিশের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়৷ তাদের যানবাহন, অফিস, আসবাবপত্র ইত্যাদি অনেক কিছুই জন্যই জেলা পুলিশের সাথে ভাগাভাগি বা সমন্বয় করতে হয়৷ একই ইন্সপেক্টর জেনারেলের অধীন পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন কমান্ডের হওয়ার ফলে এ সহযোগীতা সম্ভব হয়৷ কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্থা ও ভিন্ন কমান্ডের হলে এ পৃথক সংস্থা যে অচিরেই অকার্যকর হয়ে পড়বে তা বলাই বাহুল্য ৷

পুলিশের তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন করা যায়৷ পুলিশের তদন্ত এখনও আধুনিক মানের নয়৷ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে তদন্তের নিরপেক্ষতা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে৷ কিন্তু তাই বলে পুলিশের সাফল্যের পাল্লাও শূন্য নয়৷ অতীতে হাজার হাজার ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত থেকে শুরু করে হাল আমলের ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা, দুঃখজনক বিডিআর হত্যা ঘটনা, ১৭ আগস্টের দেশব্যাপী জেএমবির বোমা হামলা থেকে শুরু করে জেএমবির সকল মামলা, রমনা বটমূলের বোমাহামলা ২১ আগস্ট তত্কা লীন বিরোধী দলীয় নেত্রীর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি সহস্র মামলার তদন্ত করেছে আমাদের পুলিশই৷

অনেকেই প্রশ্ন করবেন, আমাদের দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সাজার হার খুবই কম৷ প্রায় ৮০-৯০ ভাগ মামলায় আসামীরা ছাড়া পায়৷ এ জন্য পুলিশের দুর্বল তদন্ত ব্যবস্থাই দায়ী৷ কিন্তু কোন মামলার বিচারে আসামীর চূড়ান্ত সাজা শুধু পুলিশের তদন্তের মানের উপর নির্ভর করে না৷ তদন্তের পরে যখন কোন মামলা বিচারের খাতায় চলে যায় তখন পুলিশের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে৷ সময় মত সাক্ষী হাজিরার বাইরে পুলিশের বিশেষ কোন অবদান রাখার সুযোগ নেই৷ পূর্বে নিম্ন আদালতে মামলা পরিচালনা পুলিশের সিএসআইগণ করলেও ২০০৮ সাল থেকে নিম্ন-উচ্চ সব আদালতেই মামলা পরিচালনা করেন সরকার কর্তৃক অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত এপিপি/পিপিগণ৷ আর্থিক প্রলোভনে হোক কিংবা বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই হোক অসংখ্য মামলার বাদী-বিবাদী আপোস করে বসে৷ যারা পুলিশের তদন্তকৃত মামলায় আসামীর সাজা না হওয়ার কারণে বিতশ্রদ্ধ তারা যদি পুলিশ ভিন্ন অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা কর্তৃক দন্তকৃত মামলার বিচারের সাজার হার তলিয়ে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন সাজার হারের ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য কত বেশি৷ এমতাবস্থায়, পুলিশের বাইরে নতুন কোন সংস্থা গঠন নয়, বরং পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী বা মান সম্মত করাই হবে অধিক যুক্তিযুক্ত৷ সবচেয়ে বড় কথা হল, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান/সংস্থারই দক্ষতা বাড়াতে হব৷ এজন্য প্রয়োজন সবক্ষেত্রেই কাঙ্খিত সংস্কার৷