ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশ সম্পর্কে দু’চার কথা বলেন না, এমন মানুষ পাওয়া ভার। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ কিংবা কোন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থায় চাকরি করা তো দূরের কথা, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কোন অংশের সাথেই সম্পর্কিত নন কিংবা কখনো ছিলেন না- এমন ব্যক্তিকেও প্রচার মাধ্যমের সামনে দাঁড় করানো হলে, তিনি আর যাই পারুন বা না পারুন, পুলিশকে দোষারোপ করে দু’চার কথা বলতে তার কোন কষ্টই হবে না। তিনি অজ্ঞতার সংকোচবোধ করবেন না। বিষয়টি এমন যে ‘ও পুলিশিং- এ আর কি! সুযোগ দিলে সবাই এ কাজ করতে পারে। তবে যারা পারে না, তারাই পুলিশের বড় বড় পদগুলো দখল করে আছেন।’ যিনি পুলিশের পদ-পদবী এমনকি দৃশ্যমান র‌্যাংক ব্যাজ পর্যণ্ত চেনেন না তিনিও একটা বিজ্ঞতাপূর্ণ মতামত দিয়ে বসবেন, পুলিশ মানেই অদক্ষ, পুলিশ মানেই ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, পুলিশ মানেই আইনে অজ্ঞ। রাস্তায় মাস্তানটির বিজ্ঞতা থাকলেও পুলিশের কোন বিজ্ঞতা নেই। এমতাবস্থায়, পুলিশের বিরুদ্ধে লেখক অনেক, কলামিষস্টও অনেক। আর টিভির ‘টকারদের’ তো ইয়ত্তাই নেই।

পুলিশ সম্পর্কে যারা নিয়মিত কলাম লিখেন, তাদের মধ্যে প্রাক্তন আইজিপি জনাব মোহাম্মদ নূরুল হুদাই সম্ভবত একমাত্র পুলিশ অফিসার। মাঝে মাঝে অন্যান্য অবসর প্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের লেখা দু’একটা কলাম বা বই চোখে পড়লেও সে গুলোর সিংহভাগই কোন কোন লেখার প্রতিক্রিয়া মাত্র। আমার কাছে এটা আশ্চর্য লাগে যে, বিডিআর ঘটনার মতো পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে যে পুলিশ অফিসারগণ কয়েক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র (সংশোধনীসহ) দাখিল করেন, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের মতো আন্তর্জাতিক ঘটনার তদন্ত করেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত করেন, সেই পুলিশ অফিসারগণ হাজার দেড়েক শব্দের একটা কলাম লিখতে পারেন না। অথচ তারা দীর্ঘদিন পুলিশের চাকরি করে এএসপি থেকে আইজি হয়ে অবসরে গিয়ে সক্ষম জীবন যাপন করেন। ইদানীং কেউ কেউ আবার বহুজাতিক কোম্পানি কিংবা দেশিয় সিকিউরিটি কোম্পানিতে লাখ টাকা বেতনে চাকরিও করছেন। কেউ কেউ আবার রাজনীতিও করেন। নির্বাচিত হন । কিন্তু দেশের অপরাধ নিবারণ, পুলিশের উন্নয়ন, সংস্কার ইত্যাদি নিয়ে একটি লাইনও লিখতে পারেন না কিংবা লিখেন না। ২৫/৩০ বছরের পুলিশি অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ পুলিশিং সম্পর্কে দু’চার কথাও বলবেন না, লিখবেন না, তা মনে নেয়া যায়, হজম করা যায় না।

যাহোক, পুলিশিং নিয়ে বর্তমানের কলাম লেখকদের মধ্যে অন্যতম হলেন, জনাব এ এস এম শওকত আলী। ইনি সরকারের সাবেক সচিব এবং অধুনালুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কোন এক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন। তিনি একজন আমলা, প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক সদস্য, এবং সে সুবাদে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। যখন নিম্ন আদালতের ফৌজদারি অংশ নির্বাহী বিভাগের সাথে ছিল, তখন তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেসির শীর্ষ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমতাবস্থায় পুলিশ, পুলিশিং ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহারিক জ্ঞান তার অবশ্যই উচ্চমার্গের। ইদানীং তিনি পুলিশিং নিয়ে মাঝে মধ্যেই লিখছেন। যদিও তার পুলিশিং মতের সাথে কিছু কিছু পূর্ব সংস্কার জড়িত রয়েছে, তবুও তার মতামত ও বিশ্লেষণগুলো আমি মূল্যবান বলেই মনে করি।

গত ১৭ আগস্ট ২০১৪ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠের উপ-সম্পাদকীয়তে ‘পুলিশের ভাবমূর্তি’ শিরোনামে জনাব শওকত আলীর একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটি অবশ্য সুখপাঠ্য, বিশ্লেষণধর্মী। কিন্তু তিনি তার কলামে যা লিখেছেন তার প্রথম বাক্যটিতে প্রদত্ত তথ্যটিই ছিল ভুল। তিনি লিখেছেনঃ

সার্বিকভাবে দু’টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচার-আচরণ বর্তমানে দারুনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এক. র‌্যাব। দুই. পুলিশ।

আমি বিনীতভাবে এই কলামিস্টকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দেশে র‌্যাব আর পুলিশ দুটো আলাদা বাহিনী নয়। একটু সরলভাবে বললে বলতে হয়, এরা একটি বাহিনীর দু’টি আলাদা ইউনিটমাত্র। আর পুরোপুরি সঠিকভাবে বললে বলতে হয়, পুলিশ একটি জেনেরিক নাম। যারা সন্দেহবসত বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা রাখেন, তাদের সবাইকে পুলিশ বলা হবে।যদি পুলিশ আইন-১৮৬১ এর কথা বলা হয়, তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশে একই মাত্র পুলিশ বাহিনী থাকবে যা ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের অধীন থাকবে। এখন পুলিশ প্রধানের অধীনে যারা আছেন তারা ভিন্ন ভিন্ন আইনের দ্বারা গঠিত ইউনিটের সদস্য হতে পারেন। কিন্তু তারা আলাদা বাহিনী নয়। র‌্যাব ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্সের ৩ ধারার সংশোধনী মতে গঠিত একটি পুলিশ ইউনিট বা ফর্মেশন মাত্র । যা হোক, লেখক পুলিশ বলতে হয়তো জেলা ও মেট্রো পুলিশসহ অন্যান্য ইউনিটগুলোকে বুঝিয়েছেন। এখানে র‌্যাবকে পুলিশ থেকে আলাদা কোন বাহিনী বলার সুযোগ নেই। আইনে তা বলে না। জনাব শওকত আলী তা জানেন না, এটা বিশ্বাস করা মুশকিল।

কলামের একই প্যারায় লেখব আরো একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবি ক্যান্টিনে কথিত পিএসসি কর্তৃক পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত এক চাকরিপ্রার্থীর কথিত উগ্রতা বিষয়ে। তার দেয়া তথ্য মতে-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবি এর ক্যান্টিনে শিক্ষক ছাত্রদের উপস্থিতিতে ওই কর্মকর্তা সিগারেট খাচ্ছিলেন। একজন শিক্ষক তাকে বাইরে গিয়ে সিগারেট খাওয়ার অনুরোধ জানালে ওই শিক্ষকের প্রতি ওই পুলিশ কর্মকর্তা মারমুখী হন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি গুরুতর না হলেও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বেআইনী আচরণের প্রমাণ বহন করে।

বলাবাহুল্য, লেখকের দেয়া এ তথ্য বহুলাংশে বিকৃত। আসল তথ্যটি ছিল এরূপঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ক্যান্টিন। গতকাল আনুমানিক বেলা ২টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও ছাত্র দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। এ সময় খাবার কক্ষেই সিগারেট ফুঁকছিলেন মো. জাহিদ নামের এক ব্যক্তি। ‘বাইরে গিয়ে সিগারেট খেলে ভালো হয়’- ওই ব্যক্তিকে দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, অপরাধ বিশেষজ্ঞ হাফিজুর রহমান কার্জনের এমন পরামর্শে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তিনি। জাহিদ নামের ওই ব্যক্তি খুব শীঘ্রই পুলিশ বিভাগে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগ দেবেন বলে পরিচয় দিয়ে রীতিমতো একহাত নেন অধ্যাপক কার্জনকে। কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও রীতিমতো ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ভাবী পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ দেখে কয়েকজন বলেই উঠলেন- এ জন্যই তো পুলিশের এমন দশা।

ওই খবরটি ‘বন্ধু নয় ওরা পুলিশ’ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় গত ২৪ জুলাই, ২০১৪ তারিখে প্রকাশিত হয়। খবরটিতে উল্লেখিত ব্যক্তি আসলে কোন পুলিশ অফিসার ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ছাত্র। কথিত আছে, তিনি বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারের জন্য নাকি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঘটনাটা সত্য নাও হতে পারে। কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইদানীং অনেক বাটপার থাকে। তারা নিজের আভিজাত্য বা ক্ষমতা জাহির করার জন্য এ জাতীয় খবর ক্যাম্পাসে ছড়াতে পারেন। আর যদি সত্যও হয় যে, ঐ ছাত্র ভবিষ্যতে পুলিশে যোগ দিবেন, তাহলে তার আচরণকে কোন যুক্তিতে পুলিশের আচরণ বলে চালিয়ে দিবেন? তিনি তো তখন পর্যন্ত পুলিশে নাম লেখাননি, পুলিশের পোশাক গায়ে তোলেননি। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় গিয়ে পুলিশ সংস্কৃতি আত্মস্থ করার মতো কোন প্রশিক্ষণও পাননি তিনি। তাই তার আচরণ পুলিশের সংস্কৃতি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত নয়।

বলাবাহুল্য, পুলিশ অফিসারদের প্রকাশ্য ধূমপান করা নিষেধ। এমনকি দায়িত্বরত অবস্থায় পান চিবালেও তা বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী হয়। এ নিয়ে অনেক পুলিশ অফিসারকে লঘু শাস্তি দেয়া হয়। সারদায় প্রশিক্ষণ শেষ করে কোন এএসপি প্রকাশ্য সিগারেট খাওয়ার মতো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়বেন- এমনটি অবশ্য এখনো ঘটেনি। তাই লেখকের এ তথ্যটি যাচাই বাছাই না করে পূর্বসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তার কলামে ব্যবহার করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস।

তৃতীয় আরো একটি তথ্য ভুল ও বিভ্রান্তিকর। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিসংখ্যান দিতে তিনি মন্তব্য করেছেনঃ

পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা যদি দুই লাখ হয়, তার মধ্যে ৫৮ হাজার বিভিন্ন অপরাধমূলক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত।

বিনয়ের সাথে কলামিস্টকে জানাতে চাই, পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দুই লাখ নয়, এক লক্ষ ৫৪ হাজার ৯৪৪ জন মাত্র। তিনি তার অনুমানকে ৪৬ হাজার বাড়িয়ে দিয়েছেন। বলাবাহুল্য, আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবহিত পূর্ববর্তী আমলে প্রায় ৩০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়। সরকার তার বর্তমান আমলেও আরো ৫০ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। তাই আগামী ৫ বছরেও তার কল্পিত সংখ্যায় বাংলাদেশ পুলিশ উপনিত হতে পারবে বলে মনে হয় না।

অধিকন্তু, তিনি কোন সূত্র থেকে পেলেন যে, ৫৮ হাজার পুলিশ সদস্য গুরুতর বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত? পত্রিকার প্রতিবেদকরা সবই যে সত্য বা বস্তুনিষ্ট লিখেন, তা বলা সমীচীন হবে না। তাই প্রতিকায় প্রকাশিত হলেওই তা সঠিক নাও হতে পারে। বলাবাহুল্য, সারা বাংলাদেশের সার্কেল অফিস থেকে শুরু করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার রীতি রয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পরিসংখ্যান পুলিশের কোন শাখায় প্রস্তুত করাও হয় না, গণমাধ্যমের সামনে তা উপস্থাপন করাও হয় না। একজন সাবেক আমলা হিসেবে এটা কলামিস্টের ভাল করেই জানার কথা। কিন্তু তিনি তার অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে পত্রিকার কল্পিত প্রতিবেদনকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন যা একজন লেখকের বিশ্বাসযোগ্যতা তাকে বহুলাংশে হ্রাস করে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, পুলিশের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে সারা দেশকে নাড়া দিয়েছে। এ দুটো হল, নারায়নগঞ্জের র‌্যাব কর্মকর্তাদের একটি খুনের ঘটনায় আপাতত প্রমাণিতভাবে জড়ানো এবং ডিএমপি ও সিএমপি এর পুলিশ হেফাজতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু। কিন্তু এসব ঘটনা পুলিশের কোন সাংগঠনিক নীতির অংশ নয় কিংবা এসব ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অপরাধ আড়াল করা কিংবা লঘু আকারে উপস্থাপনের কোন সাংগঠনিক প্রচেষ্টার প্রমাণও কেউ দিতে পারবেন না। উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় নিয়মিত মামলা রুজু করে তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে পর্যন্ত আনা হয়েছে। তাই এসব বিষয়ে প্রমাণিত হয় না যে, পুলিশের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হয়েছে। বরং আমি তো মনে করি, এসব ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের প্রতি কোন প্রকার শ্রেণিভিত্তিক অনুকম্পা না দেখিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় পুলিশের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

একজন লেখককে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয় বৈকি। যে সূত্র থেকে তথ্য পাচ্ছি তারও বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি তলিয়ে দেখা লেখকের নৈতিক কর্তব্য। তাই পুলিশ সম্পর্কে আলোচিত তথ্য সমূহ প্রয়োগের ব্যাপারে লেখক আরো সতর্ক হলেও পারতেন। এ সাথে এটাও সঠিক যে পুলিশ সম্পর্কে যাচ্ছে তাই লেখার একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রতিবেদন ফরমায়েসি কিংবা আয়াসী প্রতিবেদনও প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রতিবেদন আর কলামের মধ্যে পার্থক্য থাকা জরুরি। হয়তো কোন এক সময় পত্রিকায় পুলিশ সম্পর্কে যা লেখা হত, তা নিয়ে পুলিশ অফিসারগণ মাথা ঘামাতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্নতর। পুলিশে জানলেওয়ালা অফিসারের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ ও পুলিশিং নিয়ে তারা দেশে বিদেশে পড়াশোনা করছেন, কেউ কেউ এ নিয়ে এমফিল, পিএইচডিও করছেন। তাই পুলিশ সম্পর্কে যাই লিখা হবে, তাই মেনে নেয়া হবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই।

(১৮ আগস্ট,২০১৪)