ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পড়া শুরু করেছিলাম Psychology of Criminal Behavior নিয়ে। এর বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘অপরাধ-আচরণের মনস্তত্ত্ব’। কিন্তু বিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে এটা বেশ বড় বা লম্বা হয়ে যায়। তাই আমি একটাকে নামকরণ করলাম ‘অপরাধ মনস্তত্ত্ব’। তাহলে অপরাধ মনস্তত্ত্ব কি? কোন অপরাধীর মানসিক অবস্থা তথা সে কেন অপরাধ করে কিংবা অপরাধপূর্ব, অপরাধ করাকালীন ও অপরধ পরবর্তী তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা জানতে চেষ্টা করাই হলো ‘অপরাধ মনস্তত্ত্বের’ কাজ।

মানুষ কেন অপরাধ করে, তার ব্যাখ্যা প্রাচীন যুগ থেকেই খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রাচীন যুগে এ চেষ্টা ছিল নিতান্তই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সে সময় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো মনোবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানও ছিল সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসে আবদ্ধ। এরপর মধ্যযুগের পর তা ধর্মীয় তথা অপবিজ্ঞানের অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে।

এক সময় মনে করা হতো মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য পুরোপুরি দোষী। তার স্বাধীন চিন্তা-চেতনা রয়েছে। সে যা করে তার পরিণাম তার অবশ্যই জানা আছে। এখানে সমাজ, পরিবার, পরিবেশ ইত্যাদির কোন ভূমিকা ছিল না। এমনকি সে সময় মানুষের অসুস্থ্যতা কিংবা বয়সের অপরিপক্কতাও বিবেচনা করা হত না। অতএব মানুষকে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হত। কর্মের ফল ভাল-মন্দ উভয়েই হতে পারে। ভাল কাজের জন্য পুরস্কার ও খারাপ কাজের জন্য সে শাস্তি পাবে। তবে শাস্তি হত কষ্টকর, নির্যাতনমূলক ও অমানবিক। শাস্তি হত অপরাধ বা কৃতকর্মের সমানুপাতিক হারে, দ্রুত ও অনিবার্য। মনে করা হত, এটা হলেই সমাজ ঠিক থাকবে, শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে।

এর পরবর্তীতে এক শ্রেণীর সমাজ বিজ্ঞানী মনে করা শুরু করলেন, না, মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য পুরোপুরি দায়ী নয়। মানুষের শারীরিক বৈকল্যের জন্যই সে অপরাধ করতে পারে। এক অপরাধবিজ্ঞানী বললেন, বিবর্তনের ক্রমধারায় যেসব মানুষ প্রাথমিক স্তরে রয়ে গেছে কিংবা যাদের শারীরিক গঠনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা তাদের আদিম স্তরের অবস্থাকে বর্ণনা করে, তারাই অপরাধী । তা জৈবিক কারণেই অপরাধ করা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তাদের শাস্তি দেন কিংবা পুরস্কৃত করেন, তারা অপরাধ না করে থাকতেই পারবে না। কেউ কেউ বললেন, এরাই হলো জাত অপরাধী। অনেক বিজ্ঞানী আবার শরীরের গঠনের তারতম্যকেই অপরাধের কারণ বলতে শুরু করলেন। তারা বলতে থাকলেন, কিছু কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যই মানুষকে অপরাধী করে তোলে। তারা অপরাধের সাথে খাদ্যাভাস, মেধা-বুদ্ধি ইত্যাদিকে অবিচ্ছেদ্য করে দেখলেন। এরপর আসলেন আরেক দল বিজ্ঞানী। তারা বললেন, না, মানসিক, শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিক কোন কারণই নয়। মানুষকে অপরাধী করে তোলে সমাজ। তারা সামাজিক চাহিদা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, সামাজিক দ্বন্দ্ব ইত্যাদি নানা প্রকার কারণ উল্লেখ করে অপরাধকে বিশ্লেষণের চেষ্টা করলেন।

অতি সম্প্রতি অপরাধীর মনস্তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের গবেষণার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তারা মনে করছেন অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শারীরিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক বৈকল্যের জন্য মানুষ অপরাধ করলেও এমন কিছু অপরাধী রয়েছে যারা এসবের কোন ব্যাখ্যারই অধীন নয়। তাদের আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্য ভিন্নতর গবেষণা বা তত্ত্বের আবিষ্কার জরুরি।

কতিপয় অপরাধী কোন প্রকার বৈষয়িক বা আর্থিক লাভের বশবর্তী হয়ে নয়, তাদের যৌনাকাঙ্খা চরিতাথ্য করার জন্য অপরাধ করে বেড়ায়। এরা বুদ্ধি-শুদ্ধিতে বেশ অগ্রসর। আইকিউ বা বৌদ্ধাঙ্কের হিসেবে তারা গড়ের চেয়ে শুধু বেশিই নয়, অনেকে অসাধারণ পর্যায়েও পড়ে। এসব মানুষের অপরাধ কৌশল বা মোডাস অপারেন্ডি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক, নৃশংস ও পশ্বাবৎ। এসব ব্যক্তির অপরাধের শিকার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী, শিশু কিংবা বৃদ্ধরা। ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, খুন, গুরুতর আঘাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা বিষয়ে ধরনের নৃশংসতা প্রকাশ করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এই ভিকটিমকে ধর্ষণ করে, তাকে হত্যা করে এমনকি নিহত হওয়ার পর লাশের সাথেও য়ৌনকর্মে লিপ্ত হয়।

একবার নয়, দুইবার নয়, তিনবারও নয়, অনেক অপরাধী একই ধরনের অপরাধ একই ধরনের উপায় অবলম্বন করে বারংবার সংঘটিত করে। এসব অপরাধীর নাম দেয়া হয়েছে ‘ধারাবাহিক অপরাধী’ বা ‘সিরিয়াল কিলার’। যারা খুন করেন না কিন্তু সহিংস অপরাধের মাধ্যমে নিজেদের অনিয়ন্ত্রিত ভাবাবেগকে জনগণকে জানান দেয়, তাদের বলা হয় Predator. এর বাংলা প্রতিশব্দ বের করা কঠিন। তবে একে ‘নৃশংস আক্রমণকারী’ বলে অনুবাদ করা যায়।

‘ধারাবাহিক হত্যাকারীদের’ অপরাধ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ, ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী ও মনো চিকিৎসকগণ সম্মিলিতভাবে একটি নতুন তদন্ত কৌশলের জন্ম দিয়েছেন। এর নাম হল ‘Offender Profiling’ বা অপরাধী-প্রোফাইলিং। বাংলায় মাধুর্যপূর্ণ করার জন্য আমি এটার নাম দিলাম, ‘অপরাধ-প্রোফাইলিং’। রবীন্দ্রনাথ যেমন তালা বোঝাতে গিয়ে চাবি বলেছেন, আমিও তেমনি অপরাধী বোঝাতে গিয়ে অপরাধ বললাম।

অপরাধমূলক ঘটনা তদন্তের জন্য প্রথম দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলের অবস্থা, অপরাধীদের ফেলে যাওয়া বস্তু, সন্দিগ্ধদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ইত্যাদির যোগসূত্র খোঁজার মধ্য দিয়ে অপরাধী সনাক্ত করাত। এরপর শুরু হলো অপরাধ পর্যালোচনা। সংঘটিত অপরাধগুলোর সামঞ্জস্য, বৈসাদৃশ্য, অপরাধ সংঘটনসংখ্যা ইত্যাদি বিবেচনা করে অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করা হত। কিন্তু সিরিয়াল কিলিং ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে যাত্রা শুরু হয় অপরাধ প্রোফাইলিং নামক তদন্ত কৌশলের। এ কৌশলে অপরাধস্থল, অপরাধ অনুষ্ঠানের কৌশল, সহিংসতার প্রকৃতি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে অপরাধীর মনস্তত্ত্ব যাচাই করা হয়। বলার চেষ্টা করা হয়, অপরাধী কোন প্রকারের ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার শারীরিক, মানসিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান কেমন। সে কি কারণে অপরাধটি সংঘটিত করে। যখন একজন অপরাধী দিনের পর দিন একই কৌশলে একের পর এক খুন বা ধর্ষণ করে বেড়ায় অথচ ঘটনাস্থলে তাকে শনাক্ত করার মতো কোন প্রামাণ্য বস্তু পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় না প্রতক্ষদর্শীর বর্ণনা তখন অপরাধ প্রোফাইলিং এর সাহায্য গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

তদন্তের অন্যান্য কৌশলের ব্যবহৃত বিষয়গুলো থাকত বস্তুগত। তাই এখানে বৈজ্ঞানিক তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে ময়না তদন্তকারী ডাক্তার, ভিসেরা বা রাসায়নিক বস্তু পরীক্ষাককগণ তদন্তের অংশ হতে পারতেন। কিন্তু অপরাধ প্রোফাইলিং মূলত অপরাধীর ব্যক্তিত্বের সন্ধান করা যা রীতিমত মনোবিজ্ঞানের কাজ। আর অপরাধ যেহেতু মানুষের অস্বাভাবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তাই অপরাধ প্রোফাইল তৈরির জন্য পুলিশ, ডাক্তার, রাষায়নিক পরীক্ষকের বাইরেও মনোবিজ্ঞানী বা মনোচিকিৎসকের প্রয়োজন পড়ে। তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে উপস্থাপিত তথ্য ও আলামত পর্যালোচনা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মনোচিকিৎসকগণ অজানা অপরাধীর একটি বর্ণনা তৈরি করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সেই প্রোফাইল বা বর্ণনাকে ভিত্তি ধরে তদন্তকাজে অগ্রসর হন।

অপরাধ প্রোফাইলিং পড়তে গেলে আপনাকে ধারাবাহিক অপরাধী বা খুনিদের সম্পর্কে জানতে হবে। আমিও তাই ক্রমান্বয়ে চলে গেলাম ধারাবাহিক অপরাধীদের দিকে। অপরাধ প্রোফাইলিং এর বাস্তব উদাহরণ জানতে গেলে যে কাউকে ধারাবাহিক অপরাধীর জীবনবৃত্তান্ত, তার অপরাধ কৌশল, তদন্ত, গ্রেফতার, বিচার ও সাজার ইতিহাস পড়তে হবে।

ধারাবাহিক হন্তারকদের সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখলাম এ সম্পর্কে ওয়েব সাইট ও গ্রন্থাগারে সাহিত্য, ইতিহাস আর অপরাধ প্রতিবেদনের অভাব নেই। সাহিত্য পড়তে গিয়ে দেখলাম শুধু বর্তমানের উত্তরাধুনিক যুগেই নয়, অতীতেও ধারাবাহিক খুনের ঘটনা ঘটতো। সে সময় এগুলোকে ডাইনীদের কাজ মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে মানুষের মানসিক বৈকল্যের জন্য এ ধরনের অবস্থা হয় বলে মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা। তবে এ ধারাবাহিক হন্তারকদের মানসিক বৈকল্য যাই থাকুক, তারা কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে মানসিক রোগী নয়। তারা সহিংসতা, যৌনতা, ধ্বংস তথা খুন করে এক প্রকার মানসিক স্বস্তি বোধ করে। কেউ কেউ তাদের সহজাত সীমাবদ্ধতাকে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্য বেছে নেয় জঘন্যতম কর্মপন্থা। এসব অপরাধীদের অনেককে বলা হয় সাইকোপ্যাথ, কাউকে কাউকে সোসিওপ্যাথ, কাউকে আবার ‘সীমান্তবর্তী ব্যক্তিত্বের অধিকারী’ বলেও মনে করা হয়।

যেহেতু এসব অপরাধী হয়ে থাকে অসম্ভব চতুর, অপরাধ সংঘটনের পর তারা মানসিক অস্বস্তি নয় বরং এক প্রকার সুখ ভোগ করে। অপরাধ সংঘটনের পূর্বে পরিকল্পনা কিংবা সংঘটনের অব্যবহিত পরেও তারা রীতিমত সামাজিক ও অর্থনৈতিক এমনকি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করে। এক দিকে সুচতুর কৌশলে অপরাধ গোপন অন্যদিকে প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিক অংশগ্রহণ এ দুইয়ের সম্মিলনের ফলে ধারাবাহিক হন্তারকদের শনাক্ত করা পুলিশের জন্য জটিল হয়ে ওঠে। হয়তো তারা পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের সন্দেহবশত গ্রেফতারও করছে। জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাদের চলাফেরার উপর শর্ত আরোপ করছে। কিন্তু তারপরও তাদের অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করা যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে তাদের গ্রেফতার করেও ধরে রাখতে পারছে না পুলিশ। আপাতত হওলও সসম্মানে তাদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

আধুনিককালের অপরাধ প্রোফাইলিং এমন একটি বেজ্ঞানিক কৌশল যার সাহায্য নিয়ে পুলিশ তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের হারিয়ে যাওয়া খেই ধরে ফেলতে পারছে। সম্ভাব্য অপরাধীদের তালিকা সংক্ষিপ্ত করে অল্প খরেচে, অল্প সময়ে তা যোগসূত্র বিহীন অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে সমর্থ হচ্ছে। এমনকি এমনও ঘটনা ঘটছে যে পুলিশ তাদের ২০ বছর পূর্বের সন্দেহভাজনকে পুনরায় গ্রেফতার করে শেষ পর্যন্ত তাদের স্বেচ্ছা স্বীকারোক্তি আদায় করছে। কিন্তু ততো দিনে এই ধারাবাহিক হন্তারকগণ সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলেছে। একজন মাত্র ধারাবাহিক অপরাধী কয়েক ডজন, এমন কি কয়েকশত আদম সন্তানকে বিনা অপরাধে তাদের অস্বাভাবিক কামনা পূরণের জন্য পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।

শ্রবণমাত্রই ধারাবাহিক হত্যার ঘটনাগুলো পাশ্চাত্য তথা আমেরিকান সমাজের বৈশিষ্ট্য বলেই মনে হবে। সিরিয়াল কিলিং এর ক্ষেত্র বলতে আমরা সহজেই আমেরিকান সমাজ বলে সনাক্ত করতে পারি। আমেরিকান সমাজে শত শত সিরিয়াল কিলার জন্ম গ্রহণ করেছে। তাদের সনাক্ত করতে আমেরিকার এফবিআই অপরাধ প্রোফাইলিং নামে নতুন তদন্ত বিজ্ঞানের জন্ম পর্যন্ত দিয়েছে। চার্লস অলব্রাইট, জো বল, ঢেড বান্ডি, গেরি রিজওয়ে, জেফার ধামের, রিচার্ড চেইস, হ্যারড শিপম্যান প্রমূখের মতো যৌন বিকৃত ধারাবাহিক খুনির দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সিরিয়াল কিলারের জন্মস্থান শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়। দক্ষিণ আমেরিকার পেড্রো আলন্স লোপেজ, বৃটেনের আইয়ান ব্র্যাডি, ডেনিস নেলসন, সোভিয়েত রাশিয়ার বিকাটিলোর মতো সিরিয়াল কিলার ইতিহাস গড়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের পাকিস্তানের জাভেদ ইকবালের মতো শিশু হত্যাকারী, ইন্ডিয়ার দশ্যূ বনহুরের মতো হাজারী খুনি এবং বাংলাদেশের রাশু খাঁর মতো লেডি কিলারেরও দেখা পাওয়া যায়। তাই ধারাবাহিক খুন শুধু পাশ্চাত্যের ঘটনা নয়, এটা বিশ্বব্যিাপী অস্বাভাবিক আচরণের প্রক্রিয়া। আর এটা শুধু আধুনিক জগতের ঘটনাও নয়। ষোড়শ শতকের রোমানিয়ান এলিজাবেথ বেট্রোথের মতো মহিলা সিরিয়াল কিলার ও অষ্টম শতকের ভারতের মতো দশ্যূ বনহুরের সহস্র মানু হত্যারও গবেষণার বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সিরিয়াল কিলিং শুরু থেকেই শিল্প সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী, অপরাধের তদন্তকারী ও ভিকটিমদের নিয়ে লেখা হয়েছে কল্পকাহিনী, গোয়েন্দা কাহিনী, গবেষণাধর্মী পুস্তক এবং নির্মিত হয়েছে শত শত ডক্যুমেন্টারি ও পূর্ণদৈর্ঘ্য বিনোদনমূলক বাণিজ্যিক ছবিও। এমনকি এজন সিরিয়াল কিলার আইয়ান ব্রাডি নিজেও এ ব্যাপারে তার মনোভাব, মতামত জানিয়ে বহুল পঠিত পুস্তকও রচনা করেছে। নিষিদ্ধ বস্তু বা বিষয়ের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ যেমন এক শ্রেণির মানুষকে ধারাবাহিক খুনিতে পরিণত করেছে, তেমনি ধারাবাহিক খুনের কাহিনী বা গবেষণাও মানুষকে বিনোদন বা বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান চচ্চাতেও উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই অস্বাভাবিকতা শুধু অপরাধীদের মধ্যে নয়, এটা বুদ্ধিমান গবেষক আর নিছক আনন্দলোভী ভালো মানুষের মধ্যেও দৃশ্যমান।