ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

বাংলাদেশ পুলিশ তো বটেই, পৃথিবীর যে কোন দেশের পুলিশ সম্পর্কে লেখা পেলেই আমি অন্য যে কোন লেখার চেয়ে বেশি মনোযোগ সহকারে পড়ি। বর্তমানে পুলিশ নিয়ে পুলিশ অফিসারদের লেখা বই পড়াতে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছি। কিছু দিন ধরে পড়লাম মরহুম সা’দত আলি আখন্দের রচনাবলী।

ব্রিটিশ ভারতের পুলিশের ভিতরের খবর জানতে হলে আপনাকে সা’দত আলি আখন্দের কাছে আসতে হবে। জনাব সা’দত আলি আখন্দের জন্ম ১৮৯৯ সালে বগুড়া জেলার চিঙ্গাশপুর গ্রামে। তার পিতা সানিউদ্দিন আখন্দ স্থানীয় পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন। সা’দত আলি পড়া শোনা করেছেন বগুড়ার করোনেশন ইন্সটিটিউট, কলিকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজে। ১৯২২ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে তৎকালীন বেঙ্গল পুলিশে যোগদান করেন সা’দত আলি। চাকুরিতে প্রবেশ করেও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালের অধীন রিপন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

অবিশ্বাস্য সততার সাথে প্রায় তেত্রিশ বছর পুলিশের দারোগা পদে চাকরি করেন জনাব সা’দত আলি আখন্দ। ১৯৫৫ সালে তিনি পুলিশের ডিএসপি পদ থেকে অবসরে যান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি বগুড়ার নিভৃত পল্লী পষিনদায় মৃত্যু বরণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আখতার মুকুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নুরুল ইসলাম তার সুযোগ্য দুই পুত্র।

চাকরিতে থাকা অবস্থায় সা’দত আলি আখন্দ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ‘ইতিহাসের শহীদ’ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হলেও তার তার প্রথম বই ‘তরুণ মুসলিম’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। তবে তার পুলিশ-জীবন সম্পর্কে লেখাগুলোর সবই প্রকাশিত হয় তার পুলিশের চাকরি হতে অবসর গ্রহণের পর। পুলিশ সম্পর্কে তার লেখা জীবনীমূলক গ্রন্থ হল ‘তের নম্বরে পাঁচ বছর’, ‘অন্যদিন অন্যজীবন’ ও ‘যখন দারোগা ছিলাম’। তার লেখা সকল বই একত্রিত করে বাংলা্‌ একাডেমি সা’দত আলি আখন্দ রচনাবলী নামে প্রকাশ করে ২০০৯ সালে।

সা’দত আলির নিজ অভিজ্ঞতাজাত সকল লেখাই অত্যন্ত সুখপাঠ্য । কোথাও কোথাও কল্পনার মিশ্রণ থাকলেও তা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। তার ও পুলিশ সহকর্মীদের জীবনই ছিল তার লেখার বিষয় বস্তু। সে সময়ের পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাদা চামড়ার পুলিশের সাথে দেশিয়দের প্রভেদ, অধঃস্তন কর্মকর্তাদের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাল-মন্দ আচরণ ইত্যাদি সব বিষয়েই তার লেখনিতে স্থান পেয়েছে।

পুলিশের জীবন ও পরিবেশ নিয়ে লেখা সা’দত আলি আখন্দের লেখনির সাথে যদি আপনার পরিচয় না থাকে তাহলে, আমি মনে করি, ব্রিটিশ-বঙ্গ পুলিশ সম্পর্কে আপনার জানার যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। তাই আজই পড়তে শুরু করুন।