ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গণতান্ত্রিক দেশে আইন সরকার ও আইন মান্যকারী নাগরিকদের হাতে আত্মরক্ষার একটি উত্তম হাতিয়ার। কিন্তু যে হাতিয়ারে আত্মরক্ষা করা যায়, সেই হাতিয়ার দিয়ে আত্মহত্যা কিংবা মানুষ হত্যাও করা যায়। তাই যারা আইন প্রয়োগ করেন তাদের এ ক্ষেত্রে সর্বদাই সচেতন থাকতে হয়।

এক শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে অভ্যস্ত। পেশি শক্তির জোরে মানুষকে হয়রানি বা নির্যাতনের ফলে যখন নিজেদের ফৌজদারি মামলার আসামী হতে হয় তখন তারা আইনকে ব্যবহার করে তাদের প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করেন। আইন যেখানে মানুষকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করার কথা সেখানে আইনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে ঘায়েল করা হয়।

কোন রাষ্ট্রের ফৌজদারি অপরাধ হল মূলত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই কৃত অপরাধ। সামান্য কিছু ব্যতীক্রম ছাড়া ফৌজদারি মামলার বাদী রাষ্ট্রই। এজাহারে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের কোন কর্মচারী বাদী না হলেও ফৌজদারি মামলার পক্ষ হল রাষ্ট্রই। রাষ্ট্রের পক্ষ্যে কোন বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। ফৌজদারি মামলায় সরকার একটি পক্ষ ও আসামীরা অন্য একটি পক্ষের হয়ে থাকে। উচ্চতর আদালতে ফৌজদারি মামলার নামকরণও এমনই হয়ে থাকে।

যাহোক, এক শ্রেণির মানুষের মিথ্যা মামলা করা কিংবা মিথ্যা সংবাদ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিভ্রান্ত করা কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা এক প্রকার ফৌজদারি অপরাধ। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুবিচার দেয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা বা হয়রানি থেকে বাঁচাবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের ১৮৬১ সালের দণ্ড বিধিতে পুলিশ বা রাষ্ট্রযন্ত্রকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া ও মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে শাস্তির ধারা রয়েছে।

১৮২ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে (সরকারি কর্মচারী) মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিভ্রান্ত করে কিংবা কোন সরকারি কর্মচারিকে দিয়ে কারো ক্ষতি বা বিরক্তি উৎপাদন করে, তাহলে সে ব্যক্তি ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় বিধ দে- দণ্ডিত হবেন । ১৮২ ধারার কার্যক্রম পুলিশকে মিথ্যা খবর প্রদান, তার ফলে পুলিশে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ এবং তার পর যদি সে খবর মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় তা হলেই প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে কার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু না করেও শুধু মিথ্যা খবর পরিবেশন করে পুলিশকে কোন কর্তব্য পালন করা বা করা থেকে বিরত থাকা কিংবা কোন ব্যক্তিকে হয়রানি করা হলেই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে।

অন্যদিকে, দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তি যদি কারো বিরুদ্ধে, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা রুজু করান আর সে মামলা যদি তদন্তে বা বিচারে মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধটি সংঘটিত করেছেন বলে ধরে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে যদি অভিযোগটি সাধারণ প্রকৃতির হয় তবে বাদীর দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম জেল ও জরিমানা কিংবা উভয়বিধ সাজা হতে পারে। কিন্তু যে মিথ্যা অপরাধে তাকে হয়রানি করা হয়েছে তা যদি যাবজ্জীবন কিংবা সাত বছর পর্যন্ত জেলের শাস্তিযোগ্য হয়, তাহলে বাদীর সাত বছর পর্যন্ত জেল কিংবা জরিমানাসহ জেল হতে পারে।

১৮২ ধারা ও ২১১ ধারার মধ্যে পার্থক্য হল, ১৮২ ধারায় মিথ্যা খবর দেয়ার মধ্যে অপরাধটি সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ পুলিশকে মিথ্যা খবর দিলেই অপরাধটি সংঘটিত হয়ে যাবে। কিন্তু ২১১ ধারায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করার পরে তা তদন্তে বা বিচারে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পরেই অপরাধটি এ ধারায় শাস্তিযোগ্য হবে।

আমাদের দণ্ড বিধির ১৮২ ও ২১১ ধারা দুইটি অধর্তব্য। অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি ছাড়া এ দুই ধারায় মামলা রুজুও হবে না, পুলিশ তা তদন্তও করতে কিংবা আসামী গ্রেফতার করতে পারবে না। ১৮২ ধারার প্রয়োগটি খুবই সীমিত। তবে ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ঠ নজির রয়েছে।

পুলিশ তদন্তের ঐতিহ্য অনুসারে কোন মামলায় যখন তদন্তকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিথ্যা প্রদান করেন, তখনই বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গটি আসে। এ ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে আবেদন করেন। (তবে বিআরবির ২৭৯ প্রবিধির আদেশ অনুসারে এ জন্য একটি পৃথক অভিযোগ আদালতে প্রেরণ করতে হবে)। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ২১১ ধারায় বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেটের। এক্ষেত্রে সরকার পক্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক ২১১ ধারার প্রসিকিউশন শুরু করা তথা পুলিশকে অনুসন্ধান পুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা কামনা করতে পারেন। অধিকন্তু আদালত নিজ উদ্যোগেই পুলিশ প্রতিবেদন ছাড়াই মূল মামলার বাদী তথা মিথ্যা মামলা করার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ আমলে নিতে পারেন।

মিথ্যা মামলাকারী বা মিথ্যা সংবাদদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশেস্নষণের দাবী রাখে। যেখানে মানুষ অপরাধের শিকার হওয়ার পরেও আদালতে বা পুলিশের কাছে যেতে আনীহা প্রকাশ করে, সেখানে মামলা করার কারণে বাদীকেই যদি উল্টো হাজতে যেতে হয়, তাহলে মানুষ হয়তো সহজে পুলিশমুখী হতে চাবে না। তাই মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে পিআরবিতে বলা হয়েছে, ঘটনায় রঙ-চঙ দেয়া বা বাড়িয়ে বলা ইত্যাদির কারণে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। কিন্তু বাদীর অভিযোগ যদি উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে বা প্রকৃত ক্ষতি করার মানসে মিথ্যাভাবে রুজু করা হয়, তাহলেই বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে । পিআরবির নির্দেশ অনুসারে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগটি হতে হবে deliberately and maliciously false.

কিন্তু এ পদ্ধতি প্রযোজ্য শুধু দণ্ডবিধি কিংবা কিছু বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে। কালের পরিক্রমায় আমাদের দেশে বিশেষ বিশেষ অপরাধ ও লোকের মোকাবেরার জন্য বিশেষ কিছু আইন তৈরি করা হয়েছে। এ সব আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করার ব্যবস্থা এসব আইনেই আলাদা ধারার মাধ্যমে করা হয়েছে। যেমন- নারী ও শিশু অপরাধ দমন আইনের ২২ ধারায় কিংবা এসিড অপরাধ দমন আইনের ৮ ধারায় সংশ্লিষ্ট আইনগুলো ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে।

স্মর্তব্য, দন্ড বিধির ১৮২ ও ২১১ ধারা দুটি অধর্তব্য। মানে হল, এসব ধারায় মামলা পুলিশ স্টেশনে দায়ের হয় না। দায়ের করতে হয় আদালতে কিংবা এর কার্যক্রম শুরু হয় আদালতে। কিন্তু এসব ধারায় সুবিধা হল, পুলিশ নিজেই এসব মামলায় বাদী হতে পারে বা আদালতে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির পক্ষে আর্জি দাখিল করতে পারে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা বা অ্যসিড অপরাধ দমন আইনের ৮ ধারায় সে সুযোগ রাখা হয়নি। এসব আইনে রুজুকৃত মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলেই পুলিশ আসামীদের পক্ষ হয়ে আদালতে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করতে পারে না। কারণ এ সব ধারায় বলা হয়েছে ট্রাইবুনাল শুধু সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পেলেই বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন । তাই এসব ধারার অপরাধ ধর্তব্য হলেও সরাসরি থানায় মামলা করা সম্ভব নয়। বাদীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গ্রহণ ও তার বিচারের দায়িত্ব সম্পুর্ণ ট্রাইবুনালের। তাই এক্ষেত্রে পুলিশের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার কোন সুযোগ সীমিত।

এখানে আমি এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মামলাগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরব। গত সাত বছরে এ আইনের আওতায় মোট ৮৬০টি মামলা রুজু হয়েছিল। কিন্ত তদন্তে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে ৪৭৯ টিতে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে ৩৮১টি মামলায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন সত্য ১২৬টি। অর্থাৎ ঘটনা সত্য হলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এসব ঘটনা। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তথ্যগত ভুল দেয়া হয়েছে ৫৮ টিতে। অর্থাৎ এসিডের ঘটনার ক্ষেত্রে তথ্যে বিভ্রাট রয়েছে। হয়তো এসিডে ঝলসানো হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে এটা ছিল নিছক দুর্ঘটনা। অথবা ঝলসানোর কথা বলা হলেও তা এসিড জাতীয় দ্রব্য ছিল না ।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিথ্যা দেয়া হয়েছে ১৮২টিতে। এর অর্থ হল এসিড নিক্ষেপ তো নয়ই, এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি যাতে আসামীরা দোষী হতে পারে। এসব ঘটনায় বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মামলা করে পুলিশ ও আদালতকে অপব্যবহার করেছে।
এসিড নিক্ষেপ মামলার তদন্তের পরিসংখ্যান
যদি মোট মামলার সাথে চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিথ্যার তলনা করি তাহলে দেখা যাবে এসিড অপরাধ দমন আইন-২০০২ এর অধীন রুজুকৃত মামলাগুলোর ২১% ই নির্জ্বলা মিথ্যা।এসব ঘটনার ক্ষেত্রেই বাদী একটি নিয়মিত ফৌজদারি অপরাধ করেছে যার ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ক্ষেত্রে বাদীর সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজাসহ অর্থদণ্ড এবং এসিড অপরাধ দমন আইনের ৮ ধারা অনুসারে বাদীর সাত বছর পর্যন্ত সাজাসহ অর্থ দণ্ড হওযার কথা। দণ্ড বিধির মামলার অনুরূপে তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ সাধারণত এসব ক্ষেত্রে বাদীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা লিখে থাকেন। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ক্ষেত্রে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা রুজুর কিছু নজির থাকলেও এসিড অপরাধ দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য বাদীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই।

নাগরিকদের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রকে যেমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের পথটি সহজতর করতে হবে, তেমনি মিথ্যা মামলা রুজুকারীদের শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনগুলোতে উভয় বিষয়েই বিধান রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা মামলার হাত থেকে নিরীহ নাগরিকদের বাঁচানোর জন্য আইনী সুরক্ষা পর্যাপ্ত নয়। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ সহজতর নয়। কেননা বিধি বা পদ্ধতির জালে মিথ্যা মামলার ভিকটিমগণ আটকা পড়ে থাকেন। অন্যদিকে যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর তালে থাকেন, তারা আইনের মারপ্যাঁচ সম্পর্কে ভাল জানেন। তাই তারা আইনের দুর্বলতা দিয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষকে হয়রানী করেই যাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, মিথ্যা মামলার বাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথা পুলিশকে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশকে অভিযোগকারীর অভিযোগ প্রমাণের জন্য যেমন পর্যাপ্ত তৎপরতা চালাতে হবে, তেমনি মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও আইনে প্রদত্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকটি বিবেচনা করতে হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের শুধু চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শেষে বাদীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিস করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। পিআরবির ২৭৯ প্রবিধানের নির্দেশ অনুসারে মিথ্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সাথে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সম্বলিত পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সার্কেল এএসপি/ জোনাল এসিগণ তাদের অধীক্ষেত্রে রুজুকৃত প্রত্যেকটি মামলারই তদন্ত তদারককারী অফিসার। তাদের মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই অন্তে আদালতে প্রেরিত হয়। যদি কোন মামলা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়, তবে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগনামা আদালতে অগ্রগামী করাও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাদের উচিৎ হবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সাথে সাথে মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে বাদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ নামা গ্রহণ করা এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ একই সাথে আদালতে অগ্রগামী করা। অধিকন্তু যে সব বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই সেখানে সংশ্লিষ্ট/বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের ট্রাইবুনালে মামলা করতে উৎসাহিত করা ও সহযোগিতা করা।

(মূল রচনা মার্চ, পরিমার্জন সেপ্টেম্বর/২০১৪)