ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ইতিহাসের দ্বিতীয় অপরাধ-প্রোফাইলিং

তদন্ত জগতে দ্বিতীয় প্রোফাইলটি তৈরি করেছিলেন ১৯৪৩ সালে ড. ওয়াল্টার সি. ল্যাঙার। তবে এ প্রোফাইল চিরায়ত কোন অপরাধে জড়িত ধারাবাহিক অপরাধী বা সিরিয়াল কিলারের প্রোফাইলের ছিল না। এ প্রোফাইল ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তির সর্বাধিনায়ক জার্মানির চ্যাঞ্চেলর এডলফ হিটলারের । যদিও কোটি কোটি মানব সন্তানের হত্যা, মৃত্যু ও অমানবিক নির্যাতনের দায়ে হিটলারকে দোষী করা হয়, তথাপীও বলতে হয়, হিটলার কোন সিরিয়াল কিলার বা চিরায়ত অপরাধী ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক নেতা ও বড় জোর যুদ্ধাপরাধী। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব স্ট্রাটেজিক সার্ভিসেস (OSS) এর পক্ষ থেকে ড. ওয়াল্টার লেঙারকে হিটলারের ব্যক্তিত্বের একটি প্রোফাইল তৈরি করতে দেয়া হয়। ওএসএস ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা শাখা। প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে চাইছিলেন যে হিটলার ধরা পড়লে কেমন আচরণ করবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা বা কৌশল গ্রহণ করা সমীচীন হবে। সবচেয়ে বড় কথা ছিল, মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হতে চেয়েছিল যুদ্ধে পরাজিত হলে হিটলার কেমন আচারণ করবেন? তিনি কি আত্মহত্যা করবেন, নাকি অন্যকোন দেশে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করবেন। জীবিত অবস্থায় হিটলারকে গ্রেফতার করা হলে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কৌশল কি হবে।

ড. ল্যাঙ্গার হিটলারের প্রকাশিক পুস্তক ‘মাইন ক্যাম্প’ অভিনিবেশসহকারে পড়েন, হিটলারের বিভিন্ন সময়ে দেয়া ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকার ও ভাষণগুলো পর্যালোচনা করেন, হিটলারের সাথে সামনাসামনি দেখা হয়েছে বা তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এমন সব ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন। সবকিছু মিলে ড. ল্যাঙ্গার হিটলারের একটি মনো-বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্বের ধারণা তৈরি করেন যা ছিল বাস্তব হিটলারের সাথে দারুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ড. ল্যাঙ্গারের প্রোফাইল অনুুসারে সামান্য পাকস্থলীর ব্যথা ভিন্ন হিটলারের শরীরিক কোন সমস্যা নেই। তাই যুদ্ধাবসানকালে তার স্বাভাবিক মৃত্যুর সম্ভাবনা কম। পরাজিত হলে হিটলার কোনমতেই অন্য কোন দেশে আশ্রয় নিবেন না। কারণ এ ঘটনা তার উত্তমর্ণ আচরণ ও শ্রেষ্ঠত্বের উপর কালিমা লেপন করবে। হিটলার যুদ্ধে প্রাণ ত্যাগও করতে পারেন। কারণ যুদ্ধে প্রাণত্যাগ করার ঘটনা তার ব্যক্তিত্বকে আরো বেশি মহিমান্বিত করবে এবং যুদ্ধে তার আত্মোৎসর্গ জার্মান জাতির সংহতিকে আরো বেশি জোরদার করবে। হিটলার গুপ্ত হত্যার শিকারও হতে পারেন যার আশঙ্কা তিনি নিজেও ইতোপূর্বে অনেকবার করেছেন। হিটলার আগাগোড়া দ্বৈতব্যক্তিত্বের অধিকারী । তার চরিত্রের অনেক দিক সীমান্তবর্তী ব্যক্তিত্বের লক্ষণ আছে। তাই যুদ্ধে পরাজিত হলে তিনি অপ্রকৃতিস্তও হয়ে যেতে পারেন।

হিটলারের জামানীতে অনন্য অবস্থান ও জনপ্রিয়তার কারণে জার্মান জনগণ তার বিরুদ্ধে কোন দিন বিদ্রোহ করবে না। হিটলার কখনো মিত্র বাহিনীর হাতে ধরা পড়বেন না। হিটলার কি আত্নহত্যা করবেন? হিটলার অনেককবার এ ধরনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেনণ্ড ‘হ্যা, চূড়ান্ত প্রয়োজন এলে আমি জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব’।
হিটলার সম্পর্কে ড. ল্যাঙ্গারের ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক ছিল। হিটলারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি মিত্রবাহিনীর কাছে গ্রেফতার হননি এবং তৃতীয় কোন দেশে পালিয়েও যাননি। ল্যাঙ্গারের প্রোফাইল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নীতি নির্ধারকদের কাছে বেশ প্রয়োজনীয় বলে মনে হেয়েছিল।