ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দেশের প্রচার মাধ্যমে বিশেষ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পত্রিকায় বারংবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে যে পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিবেদকগণ তাদের যুক্তির সপক্ষে কিছু সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ঘটনাগুলোর কিছু প্রমাণিত সত্য, কিছু কিছু অবশ্য ভিন্নতর ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বর্তমান নিবন্ধে আমরা এ বিষয়েই আলোকপাত করব।

চেইন-অব-কমান্ড বলতে বোঝায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশের প্রতি অধীনস্তদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক তা পালন করা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত সকল আদেশ-নিষেধ মান্য করা। চেইন-অব-কমান্ডের মধ্যে এটাও পড়ে যে যখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অধীনস্তরা মান্য করেন না, তখন অবাধ্য অধীনস্তদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। চেইন-অব-কমান্ডের মধ্যে এটাও পড়ে যে যে কর্তৃপক্ষ যেসব আদেশ জারি করবেন, বা যে নির্দেশনা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা হবে, সকল কর্তৃপক্ষই তা মেনে চলবেন বা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন।

পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড থেকে বহুলাংশে পৃথক। আবার অন্যান্য বেসামরিক সার্ভিসের সাথেও পুলিশের চেইন-অব-কমান্ডের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যেমন, কমান্ড-কনেট্রোলের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর অধীনস্ত কর্মচারীগণ বিনা বাক্য ব্যয়ে ঊর্ধ্বতনদের আদেশ পালনে বাধ্য। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে যে কোন আদেশের ক্ষেত্রেই আইনগত ও বৈধ শব্দগুলো জুড়ে দেয়া হয়। কেননা পুলিশের কাজ শুধু তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশেই সম্পাদিত হয় না। পুলিশ কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ শুধু তার চেইন-অব-কমান্ডের মাধ্যমে নিজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেই দায়বদ্ধ নন। তারা আইন ও আইনের মাধ্যমে আদালতের কাছেও দায়বদ্ধ।

তৃতীয় একটি দায়বদ্ধতার স্থান পুলিশের রয়েছে। এটা হল জনগণের কাছে। একটি অস্ত্রধারী বাহিনী হিসেবে পুলিশ ভিন্ন অন্য কেউ জনগণের সাথে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত বা সম্পর্কিত নয়। সেবা গ্রহণের জন্য জনগণ যেমন পুলিশের কাছে আসে,তেমনি সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্যও পুলিশকে জনগণের কাছে যেতে হয়। পুলিশ জনগণের জান-মাল যেমন পাহারা দেয়, তেমনি জান-মালের নিরাপত্তার জন্য কারো কারো জান কবজের মতো কাজেও লিপ্ত হতে হয়। যেমন, অবৈধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাবধানবাণী উচ্চারণ থেকে শুরু করে গুলি পর্যন্ত চালাতে পারে। এক্ষেত্রে বৈধভাবেই তারা কোন নাগরিকের পথরোধ করা থেকে শুরু করে তাকে গ্রেফতার করে থানা-হাজতে আনতে পারে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতেও পাঠাতে পারে।

তাই জনগণের সাথে পুলিশের সম্পর্ক কখনই নিরবিচ্ছিন্ন মাধুর্যের নয়, এটা নিয়ত পরিবর্তনশীল; কখনও অম্ল, কখনও মধুর কখনো বা এ দুইয়ের মিশ্রিতরূপ কিংবা মাঝামাঝি একটা কিছু। কিন্তু সব কিছুর উপরের কথা হল, পুলিশ তার দায়িত্ব পালনে জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মূল্য না দিয়ে পারে না। তাই পুলিশের চেইন-অব-কমান্ডের মধ্যে জনগণও একটা অন্যতম অনুসঙ্গ।

প্রচার মাধ্যমে প্রায়সই খবর প্রচারিত হয়, পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। এ নিয়ে দেশের সবজান্তা বিশ্লেষকগণ যাচ্ছেতাই মতামতও ব্যক্ত করে যান। কেউ কেউ শুধু উপদেশ দিয়েই খান্ত থাকেন না। তারা তাদের স্বভাবসুলভ বালখিল্যপনা দিয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষের জন্য আশু করণীয় একগাদা নির্দেশনাও দিয়ে বসেন। আর বাস্তবতা হল সেই সব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য তাদেরই যদি দায়িত্ব দেয়া হয়, তারা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ বলে প্রেয়সীদের আঁচলে মুখ লুকাবেন।

একবার এক রাজনীতিবিদ তো বলেই বসলেন, দেশে অপরাধ নির্মূল করতে হলে পুলিশ বাহিনীকে বিলুপ্ত করতে হবে। পুলিশকে আজই অপরাধ দমনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দেশে অপরাধ শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। কিন্তু আমি কেন, সভ্য সমাজের এমন কোন সুস্থ মানুষ নেই যে তার এ পরামর্শটা গ্রহণ করবেন।

চেইন-অব-কমান্ডের বিষয়টি প্রায়সই সামনে নিয়ে আসা হয় যখন পুলিশের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিশেষ কোন অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ে,তা উদ্ঘাতিট হয় এবং এর জন্য তাকে শাস্তিদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পাঁচলাইশ  থানা অধীক্ষেত্রে কয়েক জন পুলিশ অফিসারের কৃতকর্মের ফলে একজন  ধর্ষণ মামলার আসামীকে গ্রেফতারকালে নির্যাতনের ফলে মৃত্যু, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর থানা হেফাজতে একজন আসামীর মৃত্যু এবং সর্বশেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শের-ই-বাংলা নগর থানার একজন এসআইয়ের পরকীয়া প্রেমের উগ্রতায় পুলিশি ক্ষমতার অবব্যবহার করে তার প্রেমিকার স্বামীকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করার ঘটনা এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ কয়েকটি ঘটনার বাইরেও কতিপয় ঘটনা রয়েছে যেগুলোর সত্যতা এখনও প্রশ্ন সাপেক্ষ। অধিকন্তু এসব ঘটনা বা অসদাচরণ পুলিশের বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি হলেও ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না।

প্রতিনিয়তই পুলিশ সম্পর্কে পত্রিকায় যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়, সেগুলোর সবই সত্য নয়। এসব ঘটনার একটি বড় অংশ থাকে অতিরঞ্জিত, একটি অংশ থাকে ভুলভাবে উপস্থাপিত ও ক্ষুদ্রতর পরিসরে ব্যাখ্যায়িত। কিছু কিছু ঘটনা থাকে ব্যক্তি পুলিশ অফিসারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছাপানো। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে বখরা আদায়ে ব্যর্থতা এমনকি পত্রিকার মালিকদের ব্যবসায়ীক লাভালাভের দিক বিবেচনা থেকেও ব্যক্তি পুলিশ অফিসার বা কোন নির্দিষ্ট অধীক্ষেত্রের পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে এসব খবর প্রচারিত হয়। অনেক খবর পাঠকের উপলব্ধির সুবিধার্তে আমি এখানে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করব।

ঢাকা আদালত পাড়ায় তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

২৯ মে, ২০১২ তারিখে দুপুর থেকে দেশের কেবল টিভিগুলো প্রচার করতে থাকে যে এক তরুণী তার বাবার সাথে পুরাতন ঢাকার আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এলে পুলিশ তাকে পাশ্ববর্তী পুলিশ ক্লাবে( মেসে) নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে প্রকাশ্য হেস্তনেস্ত করে। এনিয়ে পত্রপত্রিকায়, কেবল টিভির পর্দায় বড় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নারী নেত্রীগণ ডিএমপির কোতাওয়ালী থানায় গিয়ে পুলিশকে ভুল স্বীকার করে মাফ চাইতে যারপর নেই চাপ প্রয়োগ করে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু না হলে দেশের এক স্বনামধন্য নারী নেত্রী থানা থেকে বেরই হতে চান না। পুলিশ চাপে পড়ে তাদের সন্তুষ্ট করে।( প্রথম আলো, ২৯ মে, ২০১২)

এদিকে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে এ ঘটনার অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পুলিশ অনুবিভাগ) কাজল ইসলাম ও আইন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মিজানুর রহমানকে দিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। উল্লেখ্য এ কমিটিতে পুলিশে থেকে কোন প্রতিনিধি ছিল না। যাহোক এ কমিটি বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিলেন যে ঘটনাটিতে পুলিশের কিছুটা বাড়াবাড়ি অপেশাদারিত্ব থাকলেও তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টা, শ্লীলতাহানী বা অলংকার হরণের ঘটনাগুলো সত্য নয়( প্রথম আলো, ২০ জুলাই, ২০১২)। কিন্তু ঘটনা অসত্য হলেও এর মাঝে পুলিশের যে বারোটা বাজার কথা তা কিন্তু বেজেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসার-ইন-চার্জ বদলি হয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রত্যাহৃত হয়েছেন এবং নিরীহ কিছু অধঃস্তন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু হয়ে তারা বরখাস্ত পর্যন্ত হয়েছেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ,

গত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখ রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি ঠিকানাবিহীন মেয়েকে স্থান দেয়া হয়। মেয়েটি তার ঠিকানা ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভায় বলে জানায়। তার অভিভাবক না থাকায় পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য গাইবান্ধা জেল খানায় পাঠায়।  কিন্তু তিন দিন পরে মেয়েটি অভিযোগ করে যে তাকে থানা হেফাজতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। আদালত অভিযোগটি পেয়ে নিজেই অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তারপরও আদালত পুলিশকে নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেয়। (দৈনিক জনতা, ৫ অক্টোবর, ২০১৩) পুলিশ আদালতের নির্দেশ পালন করে এবং মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দ্বারা তদন্ত করা হয়। ( সমকাল, ৬ অক্টোবর, ২০১৩)। কিন্তু এত কিছুর পরেও নারী নেত্রীগণ সন্তুষ্ট হলেন না তারা পুলিশের বিরুদ্ধে বিখক্ষোব করেন। পুলিশকে ধর্ষক কলে শ্লোগান দেন। ( সমকাল, ১০ অক্টোবর, ২০১৩)।তদন্তের স্বচ্ছতার জন্য পুলিশের সাথে স্থানীয় নারী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়। কিন্তু পরে দেখা গেল, মেয়েটির শুধু ধর্ষণের অভিযোগটিই মিথ্যা নয়, তার দেয়া তার নাম, ঠিকানা, পরিচয় সবগুলোই ভুয়া।

কিন্তু এ মিথ্যা অভিযোগের ফলে পুলিশের যা ক্ষতি হবার তাই হয়েছে। পত্রপত্রিকায় পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড থেকে শুরু করে পুলিশের ধর্ষকামিতার ধারাবাহিক গল্পও লেখা হয়েছে। গোটা পুলিশ সংগঠনকেই প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ধর্ষকদের আখড়া হিসেবে।

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর চুল কেটে দিল পুলিশ স্বামী

২১ এপ্রিল, ২০১৪ তারিখের দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ও পরদিন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,  রাজধানীর গুলশান থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মহিউদ্দিন যৌতুকের জন্য তার স্ত্রী  শিল্পী বেগমকে মার ধর করে  মাথার চুল কেটে দিয়েছেন। এরপর আসুলিয়া এলাকায় টেম্পুতে যাত্রাকালে মহিউদ্দিন তার স্ত্রীকে মারধর করে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে টেম্পু থেকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। পুলিশ সদস্য মহিউদ্দিন ঢাকার ধামরাই থানার বাথুলী গ্রামের তারু মিয়ার ছেলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে তার স্ত্রী শিল্পীর বাড়ি বগুড়ার গাবতলী থানায় বলে উল্লেখ করা হয়।

কিছুদিন পরে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন সেলে মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্রিকার কার্টিংসহ বিষয়টির অনুসন্ধানের নির্দেশ পাই। পত্রিকার কার্টিং পর্যায় ক্রমে বগুড়ার গাবতলী থানা, ঢাকার আসুলিয়া থানা ‍ডিএমপির গুলশান থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু কোন স্থান থেকেই বিষয়টির সত্যতা খুঁজে পাওয়া গেল না। এ নামে আসুলিয়া বা গুলশান থানায় কোন পুলিশ সদস্য কর্মরত নেই। ধামরাইয়ের বাথুলী গ্রামে এ নামের কোন মানুষের অস্তিত্ব নেই।

একজন সাধারণ মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পত্রিকার প্রতিবেদক পুলিশ সদস্যের অপকর্ম বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। হয়তো তিনি কাজটি পরিকল্পিতভাবে করেছেন, নয়তো শোনা কথার উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন করেছেন। পুলিশের নামটি ব্যবহার করে তিনি তার প্রতিবেদনের হয়তো কাটতি বাড়িয়েছেন, কিন্তু একটি সংগঠন হিসেবে পুলিশের প্রতি তিনি যে একটা কাল্পনিক কলঙ্ক লেপন করেছেন, তার প্রতিকার কোন দিনই হবে না। কারণ পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষ শুধু অভিযোগ করতে চায়, পুলিশের শাস্তিও চায়। কিন্তু পুলিশের কোন কৈফিয়ত বা ব্যাখ্যা শোনার জন্য জনগণ বা পত্রিকার পাঠকগণ প্রস্তুত নয়।

 

মানুষের মনে পুলিশ সম্পর্কে যত পূর্বসংস্কারই থাক না কেন, ইতোপূর্বে পুলিশ প্রশাসনে যাই ঘটুক না কেন, বর্তমানে পুলিশের বিরুদ্ধে ‍উত্থাপিত  যে কোন অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর সাথে পূর্বের সমজাতীয় ঘটনাগুলো হ্যান্ডেলিং এর ব্যাপারে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের পাঁচলেইশ থানার ধর্ষণ মামলার আসামীর মৃত্যু, ডিএমপির মিরপুর থানা হেফাজতে রিমান্ডের আসামীর মৃত্যু কিংবা শের-ই-বাংলা থানার এসআই আনোয়ারের শাহ আলমকে নিয়ে বন্দুক যুদ্ধের সাজানো ঘটনাগুলোতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনা দ্রুত উদ্ঘাটন করে দোষী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলাই রুজু করে নি, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলাগুলো থানার বাইরে গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের ভার দিয়েছে এবং অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্য বলে অভিযুক্তরা কোন ছাড় পায়নি।

যে সহকর্মীটি একদিন তার সাথে একত্রে কাজ করেছে, এক সাথে মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পন্ন গুরুতর পুলিশি অভিযান চালিয়েছে সেই সহকর্মীগণই অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানে প্রত্যয় হয়েছে। পেশাদারিত্বের খাতিরে তারা তাদের সহকর্মীদের কোন ছাড় দেননি। আর নিজ সংগঠনের বদনাম হবে, কিংবা জনগণ কর্তৃক পুলিশ সমালোচিত হবে কিংবা পত্র পত্রিকায় পুলিশ নিয়ে বিরূপ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এমন ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ কর্তৃপক্ষ যে তাদের বিচ্যূত আচরণের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছে, এটা পুলিশের কাঙ্খিত পথে পরিবর্তনের প্রমাণই বহন করে। তাই পূর্বের চেয়ে পুলিশের চেইন-অব-কমান্ডের অবনতি নয়,বরং বহুলাংশে উন্নতী ঘটেছে।( ২৫ অক্টোবর, ২০১৪)

সূত্রাবলীঃ

১. http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-29/news/261661

২. http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-20/news/275245

৩.http://www.samakal.net/print_edition/details.php?news=16&view=archiev&y=2013&m=10&d=10&action=main&menu_type=&option=single&news_id=371521&pub_no=1553&type=

৪.http://www.samakal.net/2013/10/06/13125

৫. http://djanata.com/index.php?ref=MjBfMTBfMDVfMTNfMV8xXzFfNDI3OTE=

৬.http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2014-04-22&ni=170620