ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

ছোটকাল থেকেই পড়ে আসছি; শুনে আসছি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ূব খান একটি সরকার উৎখাত ও পাকিস্তানের এক অংশ তথা বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রের জন্য যে মামলা করেছিলেন সেটা ছিল মিথ্যা। কিন্তু ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জানতে পেরেছিলাম যে সেই মামলাটি আসলে সত্যি ছিল। সেই অনুষ্ঠানটি ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ত্রিশ বছর পুর্তিতে মামলার তৎকালে বেঁচে থাকা অভিযুক্তদের সংবর্ধনার অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের ভাষণেই প্রথম আমি বিষয়টি জানতে পারি। ফয়েজ আহমদের ভাষায়ঃ
আমাদের জাতীয় স্বার্থেই আমরা শিশুদের কিছু কিছু ভুল বা অসত্য তথ্য শেখাই। আগর তলা ষড়যন্ত্র মামলা হল সেরকমই একটি সত্য মামলা যা শিশুতোষ বইতে মিথ্যা বলে প্রকাশ করা হয়। তিনি বললেন, সেই সময় সংবাদ সংগ্রহের সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাস করেছিলেন, ষড়যন্ত্রটি আদতেই কি সঠিক ছিল? বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন, ষড়যন্ত্রটি সঠিক ছিল।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হকের বড় ভাই আমিনুল হক। তিনি অনুষ্ঠানটির সময় বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনিও নাকি তার ভাইকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছিলেন, ঘটনা সঠিক ছিল।
কিন্তু সকল ঘটনার জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সেই সময়ের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও বর্তমানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার জনাব শওকত আলী আমাদের মহান সংসদেই ঘোষণা করেছিলেন, এ ঘটনা পুরোপুরি সত্য ছিল। শুধু তাই নয়, ২০১১ সালে তার লেখা ‘সত্য মামলা আগরতলা’ বইয়ের ভূমিকাতেই তিনি বলেন,
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আমরা যাঁরা মামলাটিতে অভিযুক্ত ছিলাম, ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি তাদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক। কারণ আমরা ষড়যন্ত্রকারী ছিলাম না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র পন্থায় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুর সম্মতি নিয়ে একটি বিপ্লবী সংস্থা গঠন করেছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, একটি নির্দিষ্ট রাতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমরা বাঙালিরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব কটি ক্যান্টনমেন্টে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অস্ত্র কেড়ে নেব, তাদের বন্দী করব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করব।

কয়েকদিন আগে জনাব শওকত আলীর লেখা বইটি পড়লাম। প্রথমা প্রকাশন থেকে ২০১১ সালে প্রকাশিত বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৭। তবে পঞ্চাশ পৃষ্ঠারও বেশি হল সংযোজনী ও পরিশিষ্ট। বইটির প্রথম ৮৪ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানুষের উপর পাকিস্তানিদের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এসব পৃষ্ঠায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পটভূমিকার আভাষ পাওয়া যাবে। কিন্তু ১১২ পৃষ্ঠায় গেলে পাওয়া যাবে ঘটনার মূল অংশ। এর পর ১৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়লে মামলার তদন্ত, বিচার ও বিচার প্রক্রিয়ার পরিণতির কথা জানা যাবে।

সরকারি কাগজপত্রে ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যরা’ নাম থাকলেও পরিকল্পিতভাবে মামলাটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে প্রচার করে পাকিস্তানি শাসকগণ বাঙালিদের ভারত বিরোধী মনোভাবকে উসকে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হয়েছিল যে আইয়ূব শাহি শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, অভিযুক্ত ৩৫ জনকেই ছেড়ে দিতে ও মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। আর এর পরপরই যে গণঅভ্যূত্থান সংঘটিত হয়েছিল, স্বৈরাচারী আইয়ুব খানকেই সে অভ্যূত্থান ক্ষমতাচ্যূতই শুধু নয়, পাকিস্তানচ্যূত পর্যন্ত করেছিল।

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা, সেই ১৯৬১ সাল থেকেই কতিপয় দেশ প্রেমিক বাঙালি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসার বাংলাদেশকে সশস্ত্র পন্থায় স্বাধীন করার জন্য রীতিমত গোপন সংস্থা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছিল। এ জাতীয় কাজের অগ্রভাগে ছিলেন নৌবাহিনীর কয়েকজন সিনিয়র বাঙালি অফিসার যাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন ডা. খুরশীদ উদ্দীন আহম্মদ যিনি প্রেষণে নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন ও লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (পৃষ্ঠা-৯৮)।

চিরায়ত বঞ্চনার ফলেই পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনীতে বাঙালি অফিসার ও সৈনিকের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে মাত্র দুটি ব্যাটালিয়ন ছিল। সম্ভবত তখন পাঞ্জাব ও বেলুচ রেজিমেন্টে ৩০টি করে ব্যাটালিয়ন এবং সম্ভবত ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টে ২০টি ব্যাটালিয়ন ছিল। বাঙালির জন্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যে দুটি ব্যাটালিয়ন ছিল, সেখানেও শতকরা ৫০ ভাগ পাঞ্জাবি ছিল। প্রকৃতপক্ষে গোটা পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীতে পাঞ্জাবিদের সংখ্যা ছিল শতকরা ৮০ ভাগের বেশি এবং বাঙালির সংখ্যা ছিল শতকরা দুই ভাগের কাছাকাছি।(পৃষ্ঠা-৫২) সিনিয়র বাঙালি অফিসারদের মধ্যে জৈষ্ঠ্যতম বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ছিলেন জনাব আতাউল গনি ওসমানী। তবে কেবল বাঙালি হওয়ার জন্যই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাকে পরবর্তী পদোন্নতি দেয়া হয়নি।

সশস্ত্র পন্থায় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার সর্বপ্রথম যে পরিকল্পনা বা সংগঠনটি তৈরি হয়েছিল তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি সেনাবাহিনীর মেজর পদতুল্য নৌ কর্মকর্তা ছিলেন। জনাব শওকত আলী ১৯৬৬ সালের জুন মাসে কুমিল্লায় কর্মরত থাকাকালীন আর্মি রিক্রুটিং মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা. সামসুল আলমের কাছ থেকে এ পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন (পৃষ্ঠা-৯৩)। লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উদগ্রীব থাকলেও একটি সফল অভ্যূত্থান করার মতো মেধাজ্ঞান ও সাংগঠনিক দক্ষতা কিংবা যোগাযোগ পদ্ধতি তার জানা ছিলনা। তার পরিকল্পনার সিংহভাগ সেনাবাহিনীরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি অফিসার ও সৈনিকদের নিয়ে হলেও তিনি তাদের সাথে কার্যত কোন যোগাযোগই করতে পারেননি । তবে তিনি মনে করতেন যে সবাই তার মতো করে কাজ করবে।
পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন শওকত আলী, ডা. ক্যাপ্টেন সামসুল আলম, ক্যাপ্টেন খোন্দকার নাজমুল হুদা ও আলীমসহ চারজন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা কুমিল্লার দাউদকান্দি ডাকবাংলোতে বসে এ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করে ধীরে চলার নীতি অবলম্বন করেন। তারা পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়ার ভয়ে আপাতত তাদের অভ্যূত্থানের পরিকল্পনা বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেন।(পৃষ্ঠা-১০৪)এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিবল্পনার সাথে প্রথম দিকে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন সংযোগই ছিল না। পরিকল্পনাকারীগণ সর্বপ্রথম এর সাথে অবসর প্রাপ্ত কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের বিষয়টিতে উৎসাহিত ছিলেন না। বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের ফলে স্বায়ত্ব শাসন আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন বিপ্লবই রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে ফলপ্রুসূ ও স্থায়ী হতে পারে না। তাই দাউদকান্দির বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গ্রহণ করার হয়েছিল:

রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে আমরা সবাই একমত ছিলাম যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই আমাদের রাজনৈতিক নেতা এবং তার নেতৃত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। যদিও আমাদের মধ্যে কেউই তখন পর্যন্ত মুজিব ভাইকে সামনাসামনি দেখিনি বা তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। তা ছাড়া ওই মুহূর্তে তিনি কারাগারে ছিলেন।(পৃষ্ঠা-১০৬)

ক্যাপ্টেন শওকত আলী ১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচিতে মালির ক্যান্টমেন্টের অর্ডিন্যান্স স্কুলের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে বদলী হয়ে যায়। কিন্তু এর মাঝে অন্যরা কোন না কোন ভাবে তাদের পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেমের অতি আগ্রহের ফলেও অন্যান্যদের ধীরে চলা নীতির জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারছিল না। ইতোমধ্যেই সেনা গোয়েন্দারা বিষয়টি জেনে ফেলেছিল।

আইএসআই ১৯৬৬ সালের শুরুতে বিপ্লবী সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়েছিল। আইএআই সঙ্গে সঙ্গে মোয়াজ্জেম গ্রুপের মধ্যে চর ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং সেই চর বিপ্লবীদের একজন হিসেবে ১৯৬৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোয়াজ্জেমের সঙ্গে কাজ করেছিল। চর কর্তৃক সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার পরই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের গ্রেফতার কার্যক্রম শুরু করেছিল।(পৃষ্ঠা-১০৪)

পরবর্তী কার্যক্রমগুলো সবার জানা। বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জন অভিযুক্তের বিচার শুরু হয় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের একটি অফিসার্স মেসে। অভিযুক্তদের সেনা আইনে বিচারের পায়তারা চললেও পরে দণ্ড বিধির দেশদ্রোহীতার অপরাধে বিচার করা হয়। গঠন করা হয বিশেষ ট্রাইবুনাল। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জাস্টিস এস এ রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের ট্রাইবুনাল। বেসামরিক আদালত হলেও তার নিরাপত্তা ও পদ্ধতি ছিল সামরিক ধাঁচের।

বিচার চলাকালে দুই জন অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গার্ড কমান্ডার হাবিলদার মঞ্জুর হোসেন গুলি করে হত্যা করেন। এক দিকে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে দেশদ্রোহীতার জন্য ফাঁসিতে ঝোলানোর পায়তারা অন্যদিকে অভিযুক্তদের বিনা বিচারে হত্যা করা – সব কিছু মিলে সারা বাংলা ফুসে উঠল। ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান গণরোষে পড়ে ঢাকা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের বাসা থেকে নাইট ড্রেস পরা অবস্থায় পালিয়ে তেজগাঁ বিমান বন্দরে আশ্রয় নেন। লাহোরগামী প্রথম বিমানটি ধরে তিনি সেই যে প্রাণ নিয়ে পাকিস্তান পলায়ন করেন, বিচার তো দূরের কথা ঢাকাভিমুখী হওয়ার চিন্তাও আর কোন দিন করেননি।(পৃষ্ঠা-১৪৬)তবে বিচারের শুরু থেকেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু তার দূরদর্শিতায় সব কিছুই আঁচ করতে পেরেছিলেন। পাকিস্তানি শাসককূল যে বাঙালি নেতৃত্বের বিচার করার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ইতোমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অবস্থা তলে তলে ছিল ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির’ অনুরূপ- তা বঙ্গবন্ধু সহজেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাই বিচারের ফলাফল নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথাই ছিল না। বরং তিনি এই মামলায় পাকিস্তানিদের ভরাডুবির পর কি হবে সে নিয়েই পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়ঃ

এখান থেকে বের হয়ে আমি জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়ার জন্য একটা নির্বাচন করব। সেই নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের হাতে ক্ষমতা দেবে না। তাখন িএকটা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে। সেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থেকো।(পৃষ্ঠা-১৩৩)

বলাবাহুল্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মাত্র দু বছরেরও কম সময়ের মধ্যে। সেই মুক্তিযুদ্ধের পূর্বের উপাখ্যানই ছিল আগরতলা নামের সেই সত্য মামলা যেখানে কতিপয় বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার ও সৈনিক বেসামরিক ও কিছু রাজনৈতিক নেতাকে সাথে নিয়ে সহিংস অভ্যূত্থানের মাধ্যমে স্বাধীন করতে চেয়েছিল আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু তাতে কি?
আমরা গর্ব অনুভব করতে পারি এ ভেবে যে, আমাদের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেলেও বাঙালি জাতি আমাদেরগোপন তৎপরতার কথা জেনে উৎসাহিত হয়েছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছিল।(পৃষ্ঠা-৯৯)

আসুন আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র নামের সেই সত্য মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি ও আমাদের শিশুদের প্রকৃত সত্যটি জানাই। আগরতলা মামলাকে ষড়যন্ত্র নয়, স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র পরিকল্পনা বলে স্বীকৃতি দেই; গর্ববোধ করি।( ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪)