ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কমিউনিটি পুলিশিং অনুশীলন ও এ দর্শন প্রচার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার সুবাদে আমাকে প্রায়সই একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। পুলিশ অফিসারদের চেয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি বার আমাকে এ প্রশ্নটি করেছে। প্রশ্নটি হল, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যগণ কি গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে পারবে?

 

বলা বাহুল্য, কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় অনেক পুলিশ অফিসার কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিয়ে বসেন। কেউ কেউ আবার ‘না’ উত্তর দেন। এটা নির্ভর করে তিনটি অবস্থার উপর। সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারটি যদি নীতিগতভাবে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নে নিবেদিত প্রাণ হন, তাহলে তিনি এর উত্তর ‘হ্যাঁ’  দিয়ে বসবেন। যদি অফিসারটি কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনকে মনে প্রাণে গ্রহণ না করেন, তাহলে তিনি সরাসরি ‘না’ বলবেন।

 

কিন্তু আমার মতো কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ ও তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনে ব্রতী পুলিশ অফিসারগণ অবশ্য এত সহজে ‘হা’ বা ‘না’ উত্তর দিতে পারবেন না। তাকে ভাবতে হবে অনেকদূর পর্যন্ত। তাকে যেমন দেখতে হবে প্রচলিত আইনের বিধানগুলোর কথা, তেমনি আমলে আনতে হবে কমিউনিটি পুলিশিং এর মূলনীতিগুলোর কথাও। তাকে যেমন পুলিশি কাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা ভাবতে হবে, তেমনি ভাবতে হবে এ অংশগ্রহণ যেন আইনসিদ্ধ হয়। এর বাইরেও একটি কথা তাকে চিন্তা করতে হবে, তা হল, পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে গিয়ে জনগণ যেন আইন নিজেরে হাতে তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার মত কোন কাজ না করে বসে।

 

এখন আসুন আমরা প্রশ্নটির ‍উত্তর দেবার চেষ্টা করি। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও তা কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির ষষ্ঠ অধ্যায়ের খ-উপঅধ্যায়ে (ধারা ৭৫-৮৬) দেয়া রয়েছে। সিআরপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠান হয়।  যে অফিসারের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের জন্য আদালত প্রেরণ করবে, হয় তিনি তা তামিল করবেন কিংবা তার অধীনস্ত অফিসারদের দিয়ে তা তামিল করাবেন। আদালত কোন বেসরকারি ব্যক্তিকেও কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দিতে পারেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা বলে আদিষ্ট হলে, যে কেউ সিআরপিসিতে নির্দেশিত ক্ষমতাগুলো নির্দেশিত উপায়ে ভোগ কর পরোয়ানা তামিল করতে পারবেন।

 

যখন কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির কাছে পাঠান হয়, তখন সেই কর্তাব্যক্তি তার অধীনস্তদের দিয়ে তা কার্যকর করাতে পারেন। যেমন, পুলিশ সুপারের কাছে প্রেরিত গ্রেফতারি পরোয়ানা পুলিশ সুপার নিজে তামিল না করে তা থানার অফিসার-ইন-চার্জের তা পাঠাতে পারেন ( এটাই সাধারণত প্রচলিত পদ্ধতি) । অফিসার ইন-চার্জের কাছে পাঠানো হলে অফিসার ইন-চার্জ তার অধীন অফিসারদের নামে তা হাওলা করতে পারেন। তবে হাওলাকৃত কোন অফিসার সেটা আবার অন্য কাউকে হাওলা করতে পারেন না। তিনি নির্দিষ্ট সময়ে তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে সেটা  অফিসার ইন-চার্জকে ফেরত দিবেন।  অফিসার ইন-চার্জ চাইলে পূর্বের অফিসারের নামে তা পুনরায় হাওলা করতে পারেন, কিংবা নতুন কোন অফিসারকে কার্যকর করার জন্য দিতে পারেন। বলাবহুল্য, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের ব্যাপারে পুলিশ অফিসারদের শ্রেণির কোন বালাই নেই। অর্থাৎ গ্রেফতারি পরোয়ানা পুলিশের একজন কনস্টেবলের নামেও হাওলা করা যেতে পারে।

 

পরোয়ানা তামিলের ব্যাপারে নির্দেশিত না হলে কিংবা নিজ নামে হাওলা না করা হলে কোন অফিসার সাধারণত তা কার্যকর করবেন না। যদি একজনের নামে হাওলা করা গ্রেফতারি পরোয়ানা অন্য কোন অফিসার তামিল করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি ঐ ব্যক্তিকে পরোয়ানামূলে নয়; সিআরপিসির ৫৪ ধারার বিধান মতেই তাকে গ্রেফতার করবেন। পরবর্তী সেই গ্রেফতার ৫৪ ধারা থেকে খারিজ করে পরোয়ানামূলে দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে হয় পরোনা হাওলাকৃত অফিসার কিংবা অফিসার ইন-চার্জ নিজের নামেই সেই গ্রেফতারটি দেখাবেন।

 

অন্যদিকে, আদালত কর্তৃক নির্দেশিত না হলে কোন বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার কোন এখতিয়ার নেই। সিআরপিসির ৫৪ ধারার বিধান কোন বেসরকারি ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য নয়। এটা পুলিশ অফিসারকে প্রদত্ত ক্ষমতা। কোন বেসরকারি ব্যক্তি বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের যে ক্ষমতা ভোগ করেন, সেটা সিআরপিসির ৫৯(১) ধারার অধীন। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি পুলিশ অফিসারদের মতো ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন না। সিআরপিসির ৫৪ ধারার প্রথম অবস্থা অনুযায়ী যে কোন পুলিশ অফিসার যদি যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস করেন যে কোন ব্যক্তি ধর্তব্য অপরাধের সাথে জড়িত (a reasonable suspicion exists of his having been so concerned) তাহলে তিনি সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।

 

কিন্তু বেসরকারি ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তখনই বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবেন যদি সেই ব্যক্তি অধর্তব্য অপরাধ করেন এবং ধর্তব্য অপরাধটি যদি সেই বেসরকারি ব্যক্তির সম্মুখে সংঘটিত হয় ( in his view commits a non-bailable) । অবশ্য কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে যদি হুলিয়া থাকে (any proclaimed offender)। তাহলেও বেসরকারি ব্যক্তি তথা সাধারণ জনগণ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ভোগ করতে পারবেন।  উদাহরণস্বরূপ, কোন ব্যক্তি যদি শুধু জানতে পারেন অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, তাহলে শুধু এটুকু জানার বলেই তিনি সেই গ্রেফতারি পরোয়ানাযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের অধিকারী হবেন না। কারণ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে হলে তামিলকারীকে অবশ্যই যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত, ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে হবে। একজন পুলিশ অফিসারের নামে হাওলা করা গ্রেফতারি পরোয়ানা অন্য একজন পুলিশ অফিসার কর্তৃক তামিল করার বিষয়েও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই কোন সাধারণ মানুষ আদালত কর্তৃক আদিষ্ট না হয়ে কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিষয়টিতে অবশ্যই আইনী জটিলতা রয়েছে।

 

কিন্তু আমাদের অনেক পুলিশ অফিসার আইনের এই খুঁটিনাটি বিষয়ে সজাগ নন। তাই অনেকে মাত্রাতিরিক্ত সদিচ্ছায়, কেউ কেউ আবার অজ্ঞতাবসত বেসরকারি ব্যক্তিদের দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে তৎপর হন। কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ের উপর মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজি কর্তৃক জারি করা তথ্য প্রতিবেদন গ্রহণের একটি ভয়ংকর ফরমেটের সন্ধান পেয়েছি। এ ফর্মেটে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি তার অধীন জেলাগুলো থেকে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। ফর্মেটে  কলামগুলোর মধ্যে একটি ছিল কমিউনিটি পুলিশের সদস্যগণ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত আসামীর সংখ্যা। আর একটি ছিল কমিউনিটি পুলিশের সদস্যগণ কর্তৃক তামিলকৃত গ্রেফতারি ওয়ারেন্টের সংখ্যা।

 

ফর্মেটটিতে কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটিকেই ভুলভাবে ‍উপস্থাপন করা হয়েছিল। কারণ, কমিউনিটি পুলিশিং হল একটি পুলিশিং দর্শন। এটা কোন আলাদা পুলিশ বা পুলিশের সহযোগী কোন আলাদা বাহিনী বা এনটিটি সৃষ্টি করে না। তাই ‘কমিউনিটি পুলিশ’ এর কোন সদস্যের অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। হয়তো ডিআইজি ভুলক্রমে কমিউনিটি ‍পুলিশিং ফোরামের সদস্যদেরই কমিউনিটি পুলিশ নামে অবিহিত করেছিলেন।

 

যাহোক ছকটিতে থাকা কলামগুলোর প্রায় প্রত্যেকটির নিচেই কিছু না কিছু কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সাংখ্যিক মান আছে বলে এক জেলার প্রতিবেদন পড়ে বুঝতে পারলাম। মানে প্রতিবেদনে দেখানো হয় সেই সময় পর্যন্ত তাদের সজ্ঞায়িত ‘কমিউনিটি পুলিশ’ কর্তক প্রায় ৭ শরও বেশি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে। আমি গভীরভাবে খোঁজ নিয়ে জানলাম এ ফিগারটির প্রায় পুরোটাই কাল্পনিক। কারণ কোন সাধারণ মানুষ প্রকৃত পক্ষে কোন ওয়ারেন্ট তামিল করেননি। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশ(চৌকিদার/দফাদার) কর্তৃক গ্রেফতার করা কিছু ফিগার এখানে আছে। জেলার পুলিশগণ এ নিয়ে বড় বিপাকেই পড়ে যান। কারণ বেসরকারি ব্যক্তিগণ কর্তৃক ওয়ারেন্টে তামিলটি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে চিহ্নিত সোর্সগণ এ ধরনের কাজ করে থাকলেও তারা মানুষকে জিম্মি করা কিংবা পুলিশের কাছ থেকে সোর্স মানিসহ অন্যান্য সুবিধাদি নিয়ে থাকেন। প্রথম প্রথম কিছু গ্রেফতারের বিবরণ দিলেও পরবর্তীতে কমিউনিটি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ও ওয়ারেন্ট তামিলের বিষয়ে তার মূলত শূন্য প্রতিবেদন প্রেরণ শুরু করেন।

 

আমার জানা মতে একটি সুনির্দিষ্ট স্বারকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজি তার অধীন জেলাগুলোতে এ ফর্মেটে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য স্বারকের মাধ্যমে এ স্বারকের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়নি। তাই এটি এখনও কার্যকর। ঐ নির্দিষ্ট ডিআইজি উক্ত রেঞ্জ থেকে বদলী হয়ে যাওয়ায় ও পরবর্তী ডিআইজিগণ এ ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহিত না হওয়ায় প্রেরিত ছকে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের প্রতিবেদন প্রেরণে অকেটাই ভাটা পড়ে। তবে মাঝে মাঝে এখনও অনেক জেলা থেকে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসে একই ছকে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।

 

বেসরকারি ব্যক্তি কিংবা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যগণ কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের ব্যাপারে আইনগত নিষেধাজ্ঞার বাইরে অনেক বাস্তব সমস্যা রয়েছে। আমাদের সমাজের মতো সমাজে যেখানে পুলিশের ক্ষমতা অপব্যবহারের যথেষ্ঠ দুর্নাম রয়েছে, সেখানে বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে আইনের অপপ্রয়োগ তথা ক্ষমতার অপব্যবহারের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কোন নাগরিক বা অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়টি সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে গ্রেফতারকারীর শারীরিক নিরাপত্তার হানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। কোন ব্যক্তি আইনী নির্দেশ না থাকার পরেও যদি পুলিশের নির্দেশ বা উৎসাহে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে আহত/নিহত হলে কিংবা অন্যের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হলে তার দায়দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে? অধিকন্তু আইনের নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের নামে সাধারণ ব্যক্তিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিষয়টি সাধারণ মানুষ নয়, খোদ পুলিশ অফিসারদের মধ্যে বিরূপ মনোভাবের জন্ম দিবে। তারা অনেকেই মনে করবেন, কমিউনিটি পুলিশিং কি তাহলে প্রচলিত পুলিশিং এর সমান্তরালে স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য একটি পুলিশ বাহিনী গঠন করার নামান্তর?
এবার একটি প্রশ্ন অনেকেই করতে পারেন, সেটা হল, যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও নিজ নামে হাওলা কিংবা ইসু করা নাহলে যদি সাধারণ মানুষ সে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে না পারে তাহলে, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি/ ফোরামের সদস্যগণ কিংবা সাধারণ মানুষ এক্ষেত্রে পুলিশকে কিভাবে সহায়তা করবে?

 

আমি এ নিবন্ধসহ অনেক নিবন্ধেই উল্লেখ করেছি যে, কমিউনিটি পুলিশিং জনগণকে বাড়তি কোন আইনী ক্ষমতা কিংবা বেআইনী সুবিধা প্রদান করে না। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে যে গ্রেফতার করেই আদালতে হাজির করতে হবে, এমন কোন কথা নেই। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধিতেই রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মুচলেকাসহ কিংবা মুচলেকা ছাড়াই জামিনও দেয়া যায়। তাই ওয়ারেন্ট জামিনযোগ্য ও জামিনের অযোগ্য– এ দুপ্রকারের হতে পারে।

 

তাছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাধারী অনেক ব্যক্তিই সচেতন নন কিংবা নিশ্চিতভাবে জানেন না তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে তাকে কি করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি তাকে যথাযথভাবে খরব পৌঁছানো যায়, কিংবা তার প্রতি চাপ প্রয়োগ করা যায়, তাহলে তিনি হয় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন কিংবা যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাছাড়া যে সব পরোয়ানাধারী ব্যক্তি আত্মগোপন করে আছেন, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মাধ্যমে কিংবা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যাবলীর মাধ্যমে যদি সে খবর চাউর হয়ে যায়, তাহলে তার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। তাছাড়া গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সাধারণ জনগণ প্রয়োজনীয় তথ্য, পথঘাট চেনানোসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারবেন।

 

কমিউনিটি পুলিশিং জনগণকে আইন ভঙ্গ করতে উৎসাহিত করে না। বরং আইনের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে বুঝতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে পুলিশের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন- এমন সব ঘটনার প্রায় শতকরা ৮০ভাগের নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ অফিসার হওয়ার প্রয়োজন নেই। রাস্তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পুলিশের তদন্তের পশ্চাতের সিংহভাগ কাজই জনসাধারণ করতে পারেন। তাই জনগণকে সাথে নিয়ে পুলিশিং করলে পুলিশের সফল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশি, তেমনি জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনাও বেশি। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণ যৌথভাবে অপরাধ সমস্যার সমাধান করবে। এতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করা একটি প্রতিক্রিয়াশীল বা ঘটনাতাড়িত আদালতী নির্দেশনা। তাই এ ক্ষেত্রে জনগণ তথা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের সরাসরি জড়িত করা সংগত নয়।