ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেইটে মহিলাদের যৌন হয়রানির অভিযোগটি এখন সারা দেশে একটি জলজ্যান্ত বিতর্কিত বিষয়। পুলিশ সদস্যদের নিজেরা কেউ কিংবা কোন পুলিশ সদস্যের আত্মীয়-স্বজনদেরও কেউ এ ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ নেই। কিন্তু তারপরও অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে এর সকল দায়ভার পুলিশকেই নিতে হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে কে ঘটিয়েছে তা যখন খুঁজেই পাওয়া গেল না, তাহলে কামটা পুলিশেই ঘটিয়েছে। এধরনের দোষারোপের ঘটনা পুলিশ-পেশার অপরিহার্য বাস্তবতা। কোন আইনগত কাজ শতভাগ আইনগতভাবে পালন করার পরেও পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই সমালোচিত হয়। বিষয়টি এমন যে, করলেও দোষ, না করলেও দোষ। পুলিশের নিয়তিই যেন, ‘You will be damned if you do, and,  you will damned if you do not do’.

এ সংক্রন্তে দেবতা-অসুরের সম্মিলিতি প্রচেষ্টায় সমুদ্র মন্থনে অমৃতের পাশাপাশি গরল উৎপাদন ও তার পরবর্তী উপাখ্যান বর্ণনা করা প্রাসঙ্গিক মনে করি। দেবতা অসুরের সমুদ্র মন্থনে অমৃত তৈরির পাশাপাশি গরলও উৎপাদিত হয়। কিন্তু অমৃতটুকু সবাই মিলে পান করলে অবশিষ্ট থাকল গরলটুকু। গরলের ভারে তখন গোটা পৃথিবী ভেসে যাবার উপক্রম। কিন্তু গরল খেয়ে পৃথিবীকে কোন দেবতাই রক্ষা করার ঝুঁকি নিল না। তখন দেবতা মহাদেব নিজেই খেয়ে নিলেন জগতের সকল বিষ। এতে  তার শরীর বিষে নীল হয়ে গেল। তিনি গোটা পৃথিবীর গরল খেয়ে পৃথিবীকে উদ্ধার করে হলেন ‘নীলকণ্ঠ’। এ সমাজের ভালোর সবটুকু তড়িৎ গতিতে ভাগাভাগি করার গোষ্ঠী ও ব্যক্তির অভাব নেই। কিন্তু অনিষ্টের দায়িত্ব কেউ নেয়না। এদায়িত্ব সবাই ঠেলে দেয় পুলিশের উপর। পুলিশ এ সমাজের অনিষ্টের দায়ভার মাথায় নিয়ে মহাদেবের মতো ‘অনিষ্ট-কণ্ঠ’ রয়ে গেল।

 

পহেলা বৈশাখের ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করার উপায় নেই, ভিকটিমদেরও টিকিটি নেই। পুলিশ হয়তো দুচারজন বখাটেকে শনাক্ত করে গ্রেফতারে সক্ষম হবে। কিন্তু এ ঘটনার ভিকটিমগুলোকে শনাক্ত করে একটি মামলা প্রমাণের মতো অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবে বলে দারুণ সন্দেহ হয়। বহুল আলোচিত এ ঘটনার শিকার যারা হয়েছেন তারা এ সমাজের কাঠামো ও নারী-বিদ্বেষী সংস্কৃতির জন্য প্রকাশিত হতে চাইবেন না। কেননা চূড়ান্ত বিচারে তাদের পাবার চেয়ে হারানোর পাল্লাই থাকবে ভারি। এ সমাজ বীরাঙ্গণাদের পূজা করে, কিন্তু সমাজে তাদের স্থান দেয়না। লক্ষ্মীর পূজা করে, কিন্তু ঘরের লক্ষ্ণী বউ-মেয়েদের নির্যাতনে কার্পণ্য করে না।

 

পহেলা বৈশাখের ঘটনাকে নিয়ে এখন চলছে নানামুখি আন্দোলন। একটি নিছক ফৌজদারি অপরাধের ঘটনার পরম্পরা এখন রীতি মতো রাস্তার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। পুলিশকে সহযোগিতামূল চাপ প্রয়োগের বিষয়টি এখন হরতাল-ধর্ঘটের দিকে মোড় নিচ্ছে। ছাত্রসংগঠনগুলো থেকে শুরু করে শ্রমিক সংগঠনগুলো পর্যন্ত এখন অংক কষে নিজেদের সমীকরণ মেলাচ্ছেন।

 

গত ১০ মে, ২০১৫ তারিখে ছাত্র-ইউনিয়ন এমনি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে। তারা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাও করার কর্চসূচি দেয়। বলা বাহুল্য, ঘেরা জাতীয় কর্মসূচিগুলোর সূতিকাগার হল আদমজি জুটমিল। কিন্তু এটা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতরাও গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের অভিনবত্বের মূল্যায়ন করেছে। কারণ, তারা নিজেরা ততোটা অভিনব বা ইনোভেটিভ নয়।

যাহোক, এ ঘেরাও কমূসূচির পরবর্তী উপাখ্যান এখন আমাদের জ্বলন্ত জাতীয় উপাখ্যানে পরিণত হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির এক পর্যায়ে পুলিশ ঘেরাওকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য বল প্রয়োগ করে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ ছাত্র-ছাত্রীদের বেধড়ক পেটাচ্ছে। (বিডনিউজ২৪.কম)। তবে আমাদের সংবাদপত্রগুলো একচোখা বলে খবরের শিরোনাম ও ছবির সমারোহ শুধু পুলিশের নির্যাতনের চিত্রই থাকে। কি অবস্থার প্রেক্ষিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছিল তার কোন ব্যাখ্যা বাংলাদেশের কোন সংবাদপত্রের পাতায় পাওয়া যাবে না।

ঙঙঙঙঙঙঙঙঙঙঙঙঙঙসাধারণত পুলিশ আক্রমণের শিকার হলে এ ধরনের অ্যাকশনে যায়। কিন্তু কোন সূত্র থেকেই জানা যাচ্ছেনা যে ছাত্র-ইউনিয়ন পুলিশের উপর আক্রমণাত্মতভাবে চড়াও হয়েছিল কিংবা রাস্তায় ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটিয়েছিল। এমন কোন প্রমাণও পত্রিকায় পাতায় পাওয়া যাবে না যে এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ অফিসার আহত হয়েছে। তবে সংবাদপত্রের পাতায় না পাওয়া গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে যে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীগণ গাড়ি ভাঙ্গচুরের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছিল। তাছাড়া ভরা দুপুরে ভিআইপি এলাকায় অবরোধ করা রাস্তাটি পরিষ্কার করা নাগরিক প্রত্যাশার অংশ ছিল। তাই পুলিশের জন্যও বল প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য ছিল। তারা রাস্তা অবরোধকারী জনতার উপর বল প্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছিল। রাস্তা পরিষ্কার করে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ বৈধভাবেই  বিক্ষোভকারীদের প্রতি বল প্রয়োগ করতে পারে। তবে এ বল প্রয়োজনের চেয়ে কতটুকু বেশি বা কতটুকু কম, সে নিয়ে প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক।

কিন্তু পুলিশের এ জরুরি অ্যাকশনটির সাথে অন্তত একটি দৃশ্যের কোন অংশেই মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। ইউ টিউবে দেয়া একটি ভিডিওর যে অংশ দেখলাম, তাতে মনে হল একটি সাঁজোয়া যান বা এপিসি ছাত্রছাত্রীদের সরিয়ে দিচ্ছে। তারা দৌড়ে পালাচ্ছে। কেউ কেউ এপিসিতে ঢিল ছুড়ছে। এপিসির সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে কয়েকজন পুলিশ সদস্য। কতিপয় সাংবাদিকের কাছে থাকা একটি মেয়েকে এক পুলিশ সদস্য গলাধাক্কা দিয়ে ফুটপাতের উপর সজোরে ফেলে দিল। মেয়েটি যেভাবে ফুটপাতে পড়ে গেল, তাতে তার মাথাই ফেটে যেতে পারত। কিন্তু আল্লাহ মালুম! তা হয়নি। মেয়েটি উঠে দিল দৌড়। পুলিশ সদস্যরা তার পিছে পিছে দৌড়াতে শুরু করল। এর পর এক স্থানে গিয়ে মেয়েটি এক ফটো সাংবাদিকের পাশে লুকালো। তার হাত ধরল। কিন্তু সাংবাদিকের কাছ থেকে মেয়েটিকে পুলিশ ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করল। অবস্থা বেগতিক দেখে মেয়েটি আবার ছুটল। কিন্তু পুলিশ আবার তার পিছু নিল।

অ্যাকশনের এ অংশটি পুলিশের মূল প্রয়োজনের সাথে কোন অংশেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি মহিলাকে টার্গেট করার কোন কারণই নেই। আমি মনে করি, এ মেয়েটিকে ধাওয়া করতে গিয়ে জনতা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ নীতিটুকুও এ পুলিশ সদস্যরা পালন করেনি। যে মেয়েটিকে ছবিতে দেখছি সে পালাতে চেয়েছিল। নিয়ম অনুসারে এক্ষেত্রে পুলিশের প্রথম লক্ষই থাকার কথা বিক্ষোভকারী অবৈধ জনতাকে নিরাপদে পলায়নে সহায়তা করা। যথাসম্ভব কম বল প্রয়োগে কার্যসিদ্ধির জন্য জনতাকে পলায়নের পর্যাপ্ত পথও দিতে হবে। কিন্তু পালাতে দেয়ার পরিবর্তে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মেয়েটিকে ধাওয়া করে ধরার চেষ্টা করেছে, তাকে হেস্তনেস্ত বা নির্যাতন করেছে। নিরস্ত্র নীরিহ এক নারী বিক্ষোভকারীর প্রতি এসব পুলিশ সদস্যের এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে, এ পুলিশ সদস্যরা বিষয়টিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নয়; সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ নিবৃত্তির উপায় হিসেবে নিয়েছিলেন যা গণতান্ত্রিক পুলিশিং নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

পুলিশসহ অনেকে বলবেন, ইঁটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। কারণ, এ মেয়েটিই পুলিশের সাঁজোয়া যানে ইঁট মারছিল। রাস্তার পাশে রাখা ফুলের টবগুলো তছনছ করছিল। রাস্তার যানবাহন ভাঙ্গচুরের সহযোগী ছিল। এসবই পুলিশকে উত্তেজিত করা ও উসকানি দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে বিষয়টির ব্যাখ্যা ভিন্নতর।

পুলিশিং এর নীতি অনুসারেই পুলিশ ইঁট খাবে, কিন্তু পাটকেল মারবে না। ইঁট খাওয়া পুলিশের ধর্ম নয়—এটা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যিই হল, পুলিশ ইঁটের আঘাত থেকে আত্মরক্ষা করবে। এজন্য পুলিশের শরীরের দাঙ্গাদমন ও আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পর্যাপ্ত উপকরণ, যেমন লেগগার্ড, হেলমেট, ঢাল, ঘাতসহ বা বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট দেয়া হয়। তাই ইঁট পাটকেলের মুখে পুলিশের আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে হবে; আক্রমণাত্মক ভূমিকা নয়। অবৈধ জনতার বিশৃঙ্খল আচরণের মোকাবেলায় পুলিশের ধৈর্য ধারণ শুধু কর্তব্যই নয়, পেশাগত বাধ্যবাধকতাও বটে। ইঁট খেয়ে আহত হব, নিহত হব– এ ঝুঁকি পুলিশের আছে জন্যই তো পুলিশকে ঝুঁকি ভাতা দেয়া হয়। র্ঝুঁকি নিব না, অথচ ঝুঁকি ভাতা নিব – এটাতো যুক্তির কথা নয়। একজন মানুষের সকল হিংসা-দ্বেষ-উত্তেজনা-অবমাননা নিয়েও জনতার আক্রমণের মুখে পুলিশকে ঝুঁকি নিতে হবে এবং ঝুঁকির বিপরীতে আক্রমণাত্মক নয়; প্রতিরোধাত্মক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

পুলিশের সাঁজোয়া যান (আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার বা এপিসি) এর উপর দুচার খানা ইঁট পাটকেল মারলে ‘মাইন্ড’ করার কিছু নেই। কেননা  ইঁট পাটকেলের মধ্য দিয়ে বিচরণ করার জন্যই এ যানের জন্ম। সাধারণত মারমুখি জনতা বেষ্ঠিত অসহায় পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করার জন্যই এ যান ব্যবহার করা হয়। জনতার অভ্যন্তরে গিয়ে  সাধারণ বল প্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। তাই এপিসির গায়ে ইঁট পড়বে, পাটকেল পড়বে এমনকি গুলিও ছোড়া হবে। এ গাড়ি সাধারণ গাড়ির মতো নয়। এর দাম একটি পাজেরো গাড়ির চেয়ে অনেকগুণ বেশি। এপিসির গায়ে যদি ইঁট না পড়ে, তবে এপিসির জন্মই বৃথা। এর গায়ে ইঁট পাটকেল পড়ে, দু চারটা কাঁচ ভাঙ্গলে (সহজে ভাঙ্গবে না) প্রমাণিত হত যে এটার প্রয়োজন ছিল।

তবে এ হেন হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতির বিপরীতেও এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু আশাব্যাঞ্জক খবর রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ অবৈধ জনতার অংশীদার ঐ নারীটিকে অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে নির্যাতনকারী বিচ্ছিন্ন পুলিশ দলের হোতাকে ইতোমধ্যেই বরখাস্ত করে ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণ ও দায়ি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ডিএমপিতে এজন্য দুটি পৃথক কমিটিও গঠিত হয়েছে। আশা করা যায়, এ বিচ্ছিন্ন ঘটনাটির সংঘটকদের উচিৎ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

ঘটনা ঘটে, ঘটনা ঘটবে। পৃথিবীর কোন দেশেই পুলিশ ফিরিস্তাতুল্য কোন সরকারি কর্মকুশলী নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন সময় ছিলনা এবং ভবিষ্যতে এমন কোন সময় হয়তো আসবেও না যখন সমাজের সকল মানুষ, সকল সময়ে তাদের পুলিশের উপর সন্তুষ্ট থাকবে। কিন্তু তাই বলে পুলিশিং এর মূলসূত্র থেকে কোনভাবেই বিচ্যূত হওয়া চলবে না। জনগণের চির অসন্তুষ্টির মাঝেও জনগণের সন্তুষ্টি বিধানের চেষ্টা করা হবে পুলিশের চূড়ান্ত ব্রত।  সর্বস্তরের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালে তাই মনে রাখতে হবে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জনতার উসকানি ও উত্তেজনার মাঝে পেশাদারিত্বপুর্ণ সহনশীলতাই হল জনতা নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র। রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক জরুরি সেবাদানকারী একমাত্র সংস্থা হিসেবে পুলিশকে তাই জনগণকে পরাস্ত করার মাননিসকতা পোষণ করলে চলবে না। জনগণের কাছে পরাজিত হয়ে জনসন্তুষ্টি অর্জন করাই জনগণের সাথে জয়লাভ করার একমাত্র উপায়। ‘The real art of policing a free society or a democracy is to win by appearing to lose, or at least to win by not appearing to win’

 

Sources

1.Sir Robert Mark, former Commissioner, London Metropolitan Police