ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
20_Bangladesh+vs+India_190615__0011

খেলাধুলায় আমার আগ্রহ সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে ক্রিকেট খেলা বুঝতাম না। হলে এসে যখন দেখি সবাই ক্রিকেট নিয়ে হৈচৈ করছে, আমি তখন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। পরে এক ছোট ভাই আমাকে খাতার মধ্যে উইকেট এঁকে দেখিয়ে দিলেন কিভাবে কি করলে কত রান হয়, কোনটা ইউকেট, কোনটা দলীয় রান আর কোনটা ব্যক্তিগত রান। এরপর খেলা দেখতে দেখতে শিখলাম, ওয়াইড বল কি, নো বলকি, রান আউট কাকে বলে ইত্যাদি। তখন কিন্তু ১৯৯১ সাল।

গত কয়েক দিন থেকে বাংলা ভারত ক্রিকেট নিয়ে বেশ হৈচৈ হচেছ। ভারতীয় দলের ঢাকা সফর ও সেই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের অসম্ভব ভাল পারফরমেন্স। কিছুদিন পূর্বে পাকিস্তান বাংলাদেশ সফর করেছিল। তারা গো হারা হেরেছিল। এবার নাকি ভারতের পালা। একটি টেস্টে ওরা ড্র করেছে। আর তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে ইতোমধ্যেই দুটিতে ভারত হেরেছে।

 

এ ভারত বধের মূল নায়ক হল ১৯ বছর বয়সী প্রথম টেস্ট খেলায় অভিষেক প্রাপ্ত মোস্তাফিজ। বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার তেতুলিয়া  গ্রামে। আমি গ্রামের নামটা শুনে ভেবেছিলাম, এটা হয়তো পঞ্চগড়ে হবে। কিন্তু না। তেতুলিয়া নামটি বাংলাদেশের বহুস্থানে জড়িয়ে আছে। এখানে যেমন থানার নাম তেতুলিয়া, গ্রামের নাম তেতুলিয়া, তেমনি নদীর নামও তেতুলিয়া হয়।

 

সেই তেতুলিয়া গ্রামের কৃষকের ছেলে মোস্তাফিজ। প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকে সাতক্ষীরা শহরে এসে নাকি সে অনুশীলনে অংশ নিত। কী এক দারুণ খেলার নেশা ও বড় হওয়ার বাসনাই না ছিল তার। সেই সাথে কী পরিশ্রমী ও স্নেহময় অগ্রজ মোখলেসুর রহমান। প্রতিদিন সকালে মোটর সাইকেলে করে তাকে বাড়ি থেকে শহরে নিয়ে আসত অনুশীলনের জন্য।

 

প্রথম ওয়ানডে তে মোস্তাফিজ একাই ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন। তার বোলিং নৈপূন্যেই ধ্বস নেমেছিল ভারতীয় বেটিং লাইনে। দ্বিতীয় ওয়ানডে তেও তাই। এবার আরো বেশি উজ্জ্বল মোস্তাফিজ। এবার নিয়েছেন, ৬ ইউকেট,দিয়েছেন মাত্র ৪৩টি রান।

 

আমি মাত্র কয়েকটি ওভার খেলা দেখেছি। বোলিং তেমন বুঝিনা। তারপরও দেখছি ভিরাট কোহলির মতো ঝানু ব্যাটসম্যানরা মোস্তাফিজের বলে বিভ্রান্ত হচ্ছে। অনেকে খেলতেই পারছেন না। কি যেন স্লোয়ার, না কাটার। এসব শব্দ এই মাত্র শিখছি। টিভির রিপ্লেতে স্লো মোশনে দেখাচ্ছে মোস্তাফিজের বোলিং এর নৈপুন্য। আমিও অবাক! কিভাবে বলটি তার হাতের আঙ্গুলের মধ্যেই ঘুরছে!। মনে হচ্ছে যেন কোন একটি ক্ষুদ্র নক্ষত্র নিজ অক্ষের উপর একটি অজানা পাকে অনিয়মিত গতিতে ঘুরছে। হয়তো এ নক্ষত্র নিয়ে এখনও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পূর্ণ ধারণা পায়নি, হয়তো এখনও মোস্তাফিজ নামের নক্ষত্রটিকে ক্রিকেট বিজ্ঞানীরা ভালভাবে আবিষ্কারই করতে পারেনি।