ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কমিউনিটি পুলিশিং এর ধরণা বিস্তার, অপরাধ প্রতিরোধের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সাধারণভাবে কমিউনিটি মুবিলাইজের জন্য কোন কমিউনিটিতে বিদ্যমান সামাজিক সংগঠনগুলোকে কাজে লাগান যেতে পারে। এসব সংগঠনের মধ্যে থাকতে পারে নানা প্রকারের ক্লাব, সাহিত্য সংগঠন, সমাজ সেবামূলক সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। এসব সংগঠন পুলিশের জন্য রেডি ফোরাম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কমিউনিটি পুলিশিং প্রোগ্রামের মধ্যে একটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল হল ‘সাইজ দি রেডি স্টেজ’(Seize the Ready Stage) । বাংলায় এটাকে ‘তৈরি মঞ্চে উঠে পড়ুন’ এভাবে অনুবাদ করা যেতে পারে।

তৈরি মঞ্চে উঠে পড়া কৌশলের অংশ হিসেবে আমি কোন কমিউনিটিতে বিদ্যমান ক্লাবগুলোকে নিয়ে একটি ফোরাম তৈরি করার প্রস্তাব করছি। এ ফোরামকে ‘ক্লাব আব দ্যা ক্লাবস ফোরাম’ (Club of the Clubs Forum) বা সিসিএফ নামে অবহিত করা যেতে পারে।

ক্লাব অব দ্যা ক্লাবস ফোরামের (সিসিএফ) এর প্রধান লক্ষ্য হবে ক্লাবগুলোর মূল লক্ষ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে অপরাধ প্রতিরোধে অবদান রাখা। এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং এর চলমান কার্যক্রমে একটি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম বা সিপিএফ যে সকল কাজ করে তারা সে জাতীয় কাজই করবেন। তবে তাদের কাজের মধ্যে অপরাধ প্রতিরোধে অনুপ্রেরণা দান, সচেনতা তৈরি ও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের ঝোঁক থাকবে।

সিসিএফ গঠন প্রক্রিয়া এবং এর সম্ভাব্য কার্যক্রম সম্পর্কে নিম্নলিখিতি বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-

১. ফোরামগুলো থানা ভিত্তিক হবে। তবে একটি জেলা এলাকার জন্যও একটি ফোরাম তৈরি করা যেতে পারে।

২. একটি থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ক্লাব থাকতে পারে। যেমন, ফুটবল ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব, গ্রন্থাগার কমিটি এমনকি মসজিদ কমিটিও থাকতে পারে। ক্লাব তৈরির সময় সকল শ্রেণি বা ধরনের ক্লাবগুলোকে বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

৩. প্রথমে থানা এলাকায় অবস্থিত সকল ক্লাবের তালিকা তৈরি করতে হবে। অনেক ক্লাব নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে। তালিকায় সেগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

৪. থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর, বিশেষত কমিউনিটি পুলিশিং অফিসারকে এ তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। তালিকা তৈরির বিষয়টি সার্কেল এএসপি সমন্বয় করবেন।

৫. তালিকাভুক্ত ক্লাবগুলোর কর্মকাণ্ড প্রকাশ্য ও গোপনে খতিয়ে দেখতে হবে। কর্মকাণ্ড অসন্তোষজনক হলে তাদের ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

৬. তালিকাভুক্ত ক্লাবগুলোর শীর্ষ ব্যক্তি, যেমন- সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে থানায় একটি মিটিং এর আয়োজন করা যেতে পারে।

৭. ক্লাব কর্মকর্তাদের মিটিং এ ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে হবে।

৮.ফোরামের উদ্দেশ্য হবে ক্লাবগুলোর নিজস্ব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে অবদান রাখা।

৯. থানায় ক্লাব কর্মকর্তাদের প্র্রথম বৈঠকে ফোরাম গঠন করা না গেলে এর জন্য দ্বিতীয় বৈঠক আহব্বান করা যেতে পারে।

১০. ক্লাবগুলোর ফোরামে সর্বোচ্চ ২১ সদ্যের একটি কমিটি তৈরি করা যেতে পারে।

১১. ক্লাবগুলো অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কি কি কাজ করতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করা যেতে পারে।

১২. ক্লাব অব দ্যা ক্লাবস ফোরাম তৈরি হওয়ার পর প্রতেক্য ফোরামকে নিয়ে পৃথক পৃথক বৈঠক করা যেতে পারে। এসব বৈঠক মূলত অপরাধ বিরোধী সভার মতো হবে এবং তা ক্লাবগুলোতে কিংবা এদের কাছাকাছি স্থানে করতে হবে।

১৩. ক্লাবগুলোতে আয়োজিত মিটিং এ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সার্কেল এএসপি উপস্থিত থাকবেন।

১৪. ক্লাবগুলোকে অপরাধ প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের অনুপ্রেরণা/প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে।

১৫.মাসিক ওপেন হাউজ ডে তে ক্লাব অব দা ক্লাবস সদস্য ও ক্লাবগুলোর সদস্যদের আহব্বান জানান যেতে পারে।

সিসিএফ কার্যক্রমের প্রধানতম সুবিধা হল এগুলো পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত ফোরাম। এগুলো বিশেষ কিছু কাজের জন্য তৈরি হয়েছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ কর্তৃক তাদের কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের আওতায় আনা তাই অত্যন্ত সহজ হবে। তারা তাদের নিজস্ব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখবে। ক্লাবগুলোর সদস্যগণ সাধারণত যুবক শ্রেণির নাগরিকগণ হয়ে থাকে। তাই তারা অফুরন্ত উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারে। তাছাড়া এসব ক্লাব মূলত অরাজনৈতিক। তাই ওয়ার্ড পর্যায়ের ফোরামগুলোতে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়, সিসিএফ তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। (১৩ অক্টোবর,২০১৫)