ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঢাকার আসুলিয়াতে একটি চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা একজন পুলিশ কনস্টেবলকে নিহত করেছে। আর একজন গুরুতর আহত। নন্দন পার্কের কাছে এ চৌকিটিতে শিল্প পুলিশ-১ থেকে কনস্টেবল সরবরাহ করা হত। কিন্তু দায়িত্বে থাকেন আসুলিয়া থানার পুলিশ অফিসারগণ। সকলা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ডিউটি শুরু করার পর পরই একটি মোটর সাইকেলে তিন যুবক এসে তাদের উপর হামলা চালায়।

তবে এনিয়ে পরষ্পর বিরোধী খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম আলোতে লিখেছে যে ঐ পুলিশ দলের মধ্যে দু’জন সদস্য রাস্তার পাশে একটি ছোট খুপরি ঘরে অবস্থান করছিল। হামলাকারী গণ তাদের কাছে গিয়ে আলাপ জমিয়ে এক সময় তাদের ছুরি-চাপাতি দিয়ে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মধ্যে কোপ খেয়ে আহত হয়ে কনস্টেবল মুকুল পাশের একটি হোটেলে ছুটে গিয়ে আহত হয়ে পড়ে । অন্যকনস্টেবল দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। অন্য দিন কনস্টেবল দৌড়ে পালিয়ে পাশের শালবনে প্রবেশ করে। সহকর্মীগণ আহত হলেও তারা কোন প্রতিরোধ করেনি। বরং ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

অন্য এক সূত্রে, বিশেষ করে বিডি নিউজ ২৪ ডট কমে বলা হচেছ, হামলাকারীগণ মোটর সাইকেলে যাওয়ার সময় চেকপোস্টে চেকিং এর সময় পুলিশ সদস্যদের হামলা করে। তিন পুলিশ পালিয়ে যায় ও অন্য দুজন আহত হয়ে পাশের হোটেলে আশ্রয় নেয়।

কিন্তু ঘটনার পুঙখানুপুঙ্খ বিবরণ যাই হোক না কেন এ হামলা ছিল পরিকল্পিত। মাত্র তের দিন পূর্বে ঢাকা মেট্রোপলিটনের গাবতলীতে চেকিং এর সময় এমন হামলায় এক এএসআই নিহত হয়েছিল। এ হামলার ধরনও ছিল একই। একটি গোষ্ঠী যে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ হত্যার মিশনে নেমেছে এ ধরনের হামলা তারই প্রমাণ বহন করে। তারা যে পুলিশ হত্যা করেই তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে তা নয়। কিন্তু পুলিশ হত্যা করে তারা সরকার ও জনগণকে এটা বার্তা দিতে চায়, তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়।

অনেকে সমালোচনা করছেন, তিনজন হামলাকারী কিভাবে পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশকে পরাস্ত করল। বিষয়টি যে এক দম দোষারোপের মতো নয়, তাও বলা যাবে না। কারণ দুর্বৃত্তদের আচরণই আলাদা ধরনের থাকে। তারা ভিকটিমদের অসতর্ক মুহূর্তেই আক্রমণ করে। আর একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের অসতর্ক মুহূর্তের সুযোগ দুর্বৃত্তদের দিবেন না—এটাই সাধারণের প্রত্যাশা। তাই তিন দুর্বৃত্ত কর্তৃক পাঁচজন সশসত্র পুলিশের কুপোকাত হওয়া এবং সহকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ায় অন্য তিন সহকর্মীর অস্ত্রসহ বনে পলিয়ে যায়ওয়াটা জনগণকে অবশ্যই পীড়া দিবে। কারণ জনগণ পুলিশকে মার খেতে নয়, প্রতিরোধ করতে ও মার দিতে দেখেই অভ্যস্ত।

পুলিশের প্রতি হামলাসহ সাম্প্রতিককালের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর সাথে একটি দলের বর্তমান বা প্রাক্তন নেতা কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ দলটি মডারেট দল হিসেবে পূর্বে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে নানা ঘটনায় হার্ড লাইনে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদি এ ধরনের প্রবণতা অব্যহত থাকে তবে সেটা হবে বেশ উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক বা আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনে সন্ত্রাসী কায়দা অবলম্বন করা একটি বহুলক্ষণীয় প্রবণতা হলেও এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী কায়দায় কোন মহান আদর্শ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আজকের বিশ্বে ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থান ও প্রসারে যারা জড়িত আছেন তারা তাদের লক্ষ্য অজনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই বাংলাদেশে যারাই যেভাবে আদর্শ পূরণে সন্ত্রাসী কায়দার আশ্রয় নিচেছন তারাও সফল হতে পারবেন না।

পুলিশের উপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশে খুবই কম। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এ ধরনের হামলা বাড়তে থাকলে পুলিশকেও তার পাল্টা সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। উদ্ধার তল্লাশি, গ্রেফতার প্রভৃতিকর্মে পলিশকে পূর্বের চেয়ে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তার চেয়েও বড় কথা, যদি একের পর এক অতর্কিত হামলা চলতেই থাকে, তাহলে পুলিশকে শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষাকারী থেকে আক্রমণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে। কারণ আত্মরক্ষার কৌশলই বলে, অনেক সময় ‘Offensive is the best deffensive.

উদাহরণ হিসেব মার্কিন পুলিশেরমার্কিন অফেনসিভ কৌশলটি তুলে ধরা যায়। যুক্তরাষ্ট্র একটি সহিংস সমাজ হওয়ায় সেখানে এ ধরনের চেকপোস্ট বা তল্লাসি চৌকিতে পুলিশ হতাহতের ঘটনা বেশি। তাই পুলিশ তল্লাসিকালে প্রায় আত্মরক্ষামূলক গুলি ছোড়ে। যেহেতু নিজেরা আক্রমণের শিকার হওয়ারপূর্বেই সেদেশের পুলিশ আক্রমণ শুরু করে, তাই তাদের প্রায় ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষকে, যাদের কাছে কোন আগ্নেয়াস্ত্র থাকে না, হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।

যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকেও প্রবেশ করতে হয়, তাহলেও পুলিশ ভিন্নরূপে চিত্রিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তবে আমরা চাই না বাংলাদেশ পুলিশকে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হোক।

 

(০৫ নভেম্বর, ২০১৫)