ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল রওয়ানা হয়ে পরদিন পৌঁচেছিলাম সুদান। এটা ছিল আমার শান্তিরক্ষার প্রথম মিশন। ঐ সময় ধারাবাহিকভাবে একই শিরোনামে একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি কলাম লিখতাম। আমার কাব্যগুরু ড. সরকার আমিন সেই পাতাটা সম্পাদনা করতেন। দু তিন কিস্তি প্রকাশের পর যখন বন্ধ করলাম, আমিন ভাই মেইলে জানাল, রাজা, আরো পাঠাও। পাঠক তোমার লেখা পছন্দ করছে। আমি এখনও বুঝিনা। পাঠক কোন লেখা পছন্দ করছে, আর কোনটা অপছন্দ করছেন, তা পত্রিকার সম্পাদকগণ কিভাবে বোঝেন বা জানতে পারেন।

যা হোক ঐ মিশনের সব লেখা আমি প্রকাশ করিনি। এর কারণ যতটা না আমার জ্ঞান বা জানার দুর্বলতা ছিল, তারচেয়েও বেশি ছিল আমার অলসতা। আমি মিশন থেকে ফেরার পরেও আমিন ভাই বলেছিলেন, রাজা তোমার মিশন অভিজ্ঞতার বইটি প্রকাশ কর। কিন্তু আমি সেটা পারিনি।

চলতি বছরের ৮ নভেম্বর দেশ থেকে পাড়ি জমিয়েছিলাম আমার শান্তিরক্ষার দ্বিতীয় মিশনে। গন্তব্য কিন্তু পূর্বের মতোই সুদান। তবে এটা হল দক্ষিণ সুদান। এ দেশেটির স্বাধীনতার প্রক্রিয়ার অংশ ছিল আমার প্রথম মিশন। ছয় বছর পর আবার যখন এখানে এলাম, তখন দক্ষিণ সুদান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ২০১১ সালের ৪ঠা জুলাই পৃথিবীর বুকে এ দেশের ছয় রঙের পতাকা ওড়ে। তখন আমি ছিলাম, আমার দেশে, ঢাকাায়। তখন আমিও মনে মনে তাদের আনন্দের অংশ ছিলাম। কারণ এ কালো মানুষগুলোর স্বাধীকার আন্দোলনের অন্তত একটি পর্যায়ে আমি যুক্ত ছিলাম।

এবার আমি একটি স্বাধীন দেশে। যদিও আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন এবং মিশনের ম্যান্ডেটও ভিন্ন, তবুও আমি পূর্বের দক্ষিণ সুদানে নিজেকে একদম নতুন ভাবছি না। আমি এখানে পুরাতন।

দক্ষিণ সুদানাকে দ্বিতীয়বার নিজ চোখে দেখে, তাদের সাথে মিশে যতটুকু জানছি, আমি পাঠকদের কাছে ততোটুকুই তুলে ধরতে চাই। আমি মনে করি ছয় বছর আগে এ দেশে সম্পর্কে যা লিখেছিলাম এখন তার চেয়ে অনেক বেশি বস্তুনিষ্ঠতা ও দক্ষতার সাথে লিখতে পারব। তবে জাতিসংঘের একজন শান্তিরক্ষী স্টাফ হিসেবে আমাকে এই সংগঠনের নীতির প্রতি অবিচল থাকতে হবে। তাই চাইলেও এখন সব কিছু লিখতে পারব না; আমার সব মত প্রকাশ করতে পারব না।

আর হ্যাঁ, আমার এই লেখা শুধু সুদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমার দীর্ঘ এক বছরের সকল অনুভূতিই আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করব। এক দেশ থেকে অন্য দেশে বেড়াতে গেলে সেই ভ্রমণকাহিনীও আপনাদের সামনে উপস্থিত করব। সেই সাথে উপস্থিত করব আমার কিছু কিছু একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

মোট কত কিস্তি হবে এ লেখা সেটা এখনই বলা যাবে না। তবে এর কলেবর হবে অনেকব বড়, অনেক ব্যাপক। পাঠক বন্ধুরা, আসুন একজন শান্তিরক্ষীর প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড ও অনুভূতি, সুখানুভূতি, কষ্টের কথা জানি।

1.এক শান্তিরক্ষীর দিনলিপি- কিস্তি-১(প্রতিশ্রুতি) Diary of a Peacekeeper-Episode-1, The Promise