ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

এনটেবে বিমান বন্দর, উগান্ডা
নাইরোবি থেকে একটা অপেক্ষাকৃত ছোট বিমানে রাত সাড়ে এগারটার দিকে এনটেবের দিকে রওয়ানা হলাম। এবার সাথের ট্রলি ব্যাগটাও বেল্টে দিতে হল। উড়াল টাইম মাত্র এক ঘন্টা পনের মিনিট। ছোট বিমান বলে বেশি উপরে উঠতে পারে না। অনেক সময় মেঘের উপর দিয়ে কখনও বা মেঘের ভিতর দিয়ে চলছিল আমাদের বিমানটি। রাতের বেলা মেঘ দেখা যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু নিচের শহরের বিজলী বাতিগুলো মেঘ ভেদ করে আকাশে উঠছিল বলে সবই বোঝা যাচ্ছিল।

এনটেবে বিমান বন্দরে নেমে ভিতরে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কোন লোক পেলাম না। মনটা খারাপ হল। এত রাতে কোথায় যাব, কিভাবে যাব, কার সাথে যোগাযোগ করব? আমরা ইমিগ্রেশন পার হয়েই রিসিপশন থেকে ইউএন বেইজে ফোন করতে চাইলাম। রিসিপশনিস্ট মহিলাটি সাদরেই রাজি হল। কিন্তু দু একজন বাইরে বেরুতেই পাওয়া গেল আমাদের অভ্যর্থনাকারীদের।

অভ্যর্থনাকারীদের দলনেতা ছিলেন নরওয়ের পুলিশ অফিসার রনি আদালেভ। ওরা দুটি গাড়ি নিয়ে এসেছিল।একটি হোটেলের, অন্যটি ইউএনএর। কোন রকমে গাদাগাদি করে আমাদের মালপত্রসহ গাড়িতে উঠে পড়লাম।

‘এনটেবে ফ্লাইট মোটেল’

হোটেলে পৌঁছিলাম রাত দুটার দিকে। হোটেলের নাম ‘এনটেবে ফ্লাইট মোটেল’। প্রতি রুমের ভাড়া ৪০ ডলার। আমরা দুজন করে ভাগভাগি করলাম।আমার সাথে পড়ল ইন্সপেক্টর আবুল মঞ্জুর। অগ্রিম ৪০ ডলার পরিশোধ করতে হল। অগ্রিমটা ইন্সপেক্টর মঞ্জুরই পরিশোধ করলেন।

হোটেলের রুমে গিয়েই মনটা খারাপ হয়ে গেল। তিনটি ছোট ছোট বেড পরপর সাজান। ইচ্ছে করলে আমরা একরুমে তিনজনও থাকতে পারতাম। তবে সেক্ষেত্রে তারা ৪০ ডলারে হয়তো রাজি হত না। যাহোক, রুমের অবস্থাও ভাল না। জিনিসপত্র রুমে নিয়েই আমি গেলাম গোসলে। গরম পানিতে গোসল করে ভালই লাগল। ঘুমানোর সময় দুটো জিনিসে বেশ বিরক্ত লাগল। বিশেষভাবে তৈরি মশারিটায় কোন কোণ চিহ্নিত নেই। তাই এটা খাটাতে বেশ কষ্ট হল। বুঝলাম না, তারা মশারির কোণায় কোণায় রশি না লাগিয়ে রসি ও কোণাবিহীন করে আমাদের এ গভীর রাতে কষ্ট দিল কেন। আর মশারি ছাড়া ঘুমানোর মতো বোকামী করতে চাইলাম না। কারণ, আফ্রিকা মানেই ম্যালেরিয়া- তা সুদান হোক আর উগান্ডা হোক।

রুমে পানিও দেয়নি
ঘুমাতে গিয়ে তৃঞ্চার্তবোধ করলে পানির বোতল খুঁজলাম। কিন্তু তারা রুমে কোন পনির বোতল দেয়নি। এটা এক আজব হোটেলরে বাবা! পানি নাকি আলাদাভাবে কিনতে হয়। সেটা বুঝলাম। কিন্তু রুমে পানি দিয়ে তো তার দাম চাইলেই তো পারে।

রুমের টেবিলে কোনও ফোনও দেখলাম না। তবে বাথ রুমের মধ্যে একটা ফোন/ইন্টারকম লাগান। হয়তো পাঁচ তারা হোটেলগুলোর বাথরুমের ফোনের মতো অবস্থা। কিন্তু রুমে যখন ফোন নেই তখন বাথরুমের ফোনটা বড় বেখাপ্পা লাগল। তবু বোতাম টিপে রিসিপশনে লোক পেলাম। পানিসহ কাউকে মশারি খাটাতে সাহায্যের জন্য পাঠাতে বললাম। কিছু পরে এক মহিলা কিছু মশারি নিয়ে এল। সাথে পানি নেই। ওরে জ্বালা যে মশারী আছে তাই খাটাতে পারছি না। এদিকে মরে যাই তৃঞ্চায়। আর ওরা বুঝতেই পারেনি যে আমাদের মশারীর দরকার নেই, দরকার পানির।

পানির দামে লুকোচুরি
পানি কেন আনলেন না? জিজ্ঞাসা করলাম মহিলাকে। মহিলা বললেন, একটি ছোট বোতলের দাম এক ডলার। মানে বাংলাদেশি টাকায় ৮০ টাকা। দুটো বোতল কিংবা এক লিটারের বড় বোতল কিনলে লাগবে দুই ডলার। আর এক যন্ত্রণা! এখানে পানির দাম এত বেশি? বিরক্ত হয়ে কিছু ট্যাপের পানি দিয়ে তৃঞ্চা নিবারণ করলাম। কিন্তু তাতেও স্বস্তিবোধ করলাম না। অবিরত ১৫ ঘন্টার যাত্রায় দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। গলা শুকিয়ে আসছে। ইন্সপেক্টর আবুল মঞ্জুর গিয়ে দুই ডলার দিয়ে দেড় লিটারের একটি পানির বোতল নিয়ে এলেন নিচ থেকে। জানা গেল, হোটেল কর্মচারীগণ অযথাই দাম বাড়ায় জিনিসপত্রের। আর হোটেলের বাইরে পানি দাম আসলে এত বেশি নয়। কারণ এনটেবে শহরটি ভিক্টোরিয়া লেকের উপর। তাই এখানে পানির অত ক্রাইসিস নেই। প্রাণভরে পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম।

5. Daily Account of a Peacekeeper, Episode-5
9 November, 2015