ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

১৫ টি দেশের ২৭ জন অফিসার আজ ইন্ডাকশন ট্রেনিং এ অংশ নিলাম। এদের মধ্যে বাংলাদেশিই ১৩ জন। আমরা ১০ জন পুলিশ অফিসার, একজন সেনা অফিসার , একজন ভলান্টিয়ার ও একজন সিভিলিয়ান। তবে এ সিভিলিয়ান পূর্বে সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল ছিলেন। অন্যান্য দেশের মধ্যে মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া,ক্যামেরুন, জার্মানি, ডেনমার্ক, রুয়ান্ডা, ঘানা, ইন্ডিয়ার নাগরিক রয়েছে।

৩ হাজার ডলার অগ্রিম
আজ তিন হাজার ডলার অগ্রিম পেলাম। আমাদের প্রতিনিদের জন্য দেয়া হবে ১৩৬ ডলার। সে হিসেবে প্রতি মাসের পাওনা হবে ৪,০৮০ ডলার। তবে তিন হাজার ডলার অগ্রিম পাওয়ার ফলে এ মাস শেষে পাব মাত্র একহজার আশি ডলার। ইতোপূর্বে প্রথম পনের দিন ১৮৮ ডলার করে দিত। নতুনভাবে কাজ শুরু করা অফিসারদের জন্য তাতে বেশ সুবিধা হত। কিন্তু মিশনটি সুদান থেকে সাউথ সুদানে আসার পর এ বাড়তি সুবিধাটুকু তুলে দেয়া হয়েছ । এখন সব সময়ের জন্যই ১৩৬ ডলার করে পাওয়া যাবে।

সিকিউরিটি ব্রিফিং এ ভীতি
দক্ষিণ সুদানের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল হয়ে পড়ছে। স্বাধীনতার পূর্বে অন্তবর্তীকালীন সময়ে যেমনটি ছিল বর্তমান অবস্থা তার চেয়ে বহুগুণে অবনতি ঘটেছে। প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে চলা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিণতি হিসেব এ দেশটি স্বাধীন হয়েছে মাত্র ২০১১ সালে। কিন্তু দু বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। গৃহযুদ্ধ চলছে প্রেসিডেন্ট সালভাকির ও তার প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ড রিয়াক মেচারের সাথে। গত বছর ১৫ ডিসেম্বরে জুবায় প্রেসিডেন্ট সালভাকিরের বিরুদ্ধে একটি অভ্যূত্থান চেষ্টা হওয়ার গুজুবে সামকির বাহিনীর দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ দু গ্রুপ হল, প্রেসিডেন্ট সমর্থিত ডিংকা সম্প্রদায় ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর্থিত নুয়ের সম্প্রদায়ের সৈন্যগণ। অভ্যূত্থান প্রচেষ্টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াক মাচার জড়িত বলে সালভাকির দাবি করেন।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জুবায় অবস্থানরত নুয়ের সম্প্রদায়ের লোকজদের উপর ডিংকাগণ হামলা করে। এ হামলা ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি রাজ্যে। ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াক মাচারের অনুগত সৈন্যরা শেষ পর্যন্ত আলাদা হয়ে ইথিওপিয়া সিমান্তে চলে যায়।

এখানে যুদ্ধের সময় লুটতরাজ, ধর্ষণ চলে। চলে অগ্নিসংযোগ। শত্রু পক্ষের বেসামরিক লোকজনকে পাইকারী হারে হত্যা করা হয়। এ গ্রুপ হত্যার শিকার হলে পরবর্তীতে তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করে অন্যপক্ষের নিরীহ নারীপুরুষদের হত্যা করে।

রাজধানী শহর জুবা নাকি এতটাই আইন-শৃঙখলাহীন হয়ে পড়েছে এখানে ইউএন কর্মচারীগণ রাত নয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ইউএন ক্যাম্পাসেই অবস্থানে বাধ্য হন। এ সময়ের জন্য ইউএন নিজ কর্মচারীদের জন্য কার্ফিউ জারি করে।

ইউএন কর্মচারীগণ সশস্ত্র ডাকাদল থেকে শুরু করে রাস্তার ট্রাফিক পুলিশ পর্যন্ত সবার দারা নিগৃহীত হয়। পুলিশ মিলিটারি এমনকি ইউএনএর সাথে কাজ করে এমন বেশামরিক লোকজনও বর্তমানে ইউএন বিরোধী হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুসারে কোন ইউএন কর্মচারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে না, তাদের গাড়ি বা বাসস্থান তল্লাসি করতে পারে না্ । কিন্তু পুলিশ সে কথায় কান দেয় না । এদেশে রাস্তার ট্রাফিক সিগনাল কেউ মানে না। কিন্তু ইউএন কর্মচারীগণ না মানলে তাদের গ্রেফতার কর হচ্ছ্। এ ধরনের ব্রিফিং শুনে মনটা খারাপই হয়ে গেল।

১০ নভেম্বর, ২০১৫
মঙ্গলবার
Daily Account of a Peacekeeper, Episode-7