ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

অবশেষে জিনজায়
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আমরা জিনজা শহরে উপনিত হলাম। শহরে ঢোকার পূর্বেই পড়ে ওয়েন ফলস ড্যাম পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প। বাঁধের উপর দিয়ে গাড়ি চলে। বাঁধের রাস্তাটি বক্রাকার। হাতের ডানে পশ্চিম দিকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের পানির রিজার্ভ। সাগরের পানির মতো ঘন নীল পানি। বাঁধের দুই ধারেই পুলিশ পাহারা। এখানে ছবি তোলা নিষেধ। তাই হবার কথাই। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সব দেশেই অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মর্যাদা পায়। তবে আমি মনে করি, আমাদের দেশের চেয়ে এখানে কেপিআই রক্ষণাবেক্ষণে বেশ শিথীলতা রেয়েছে। আমাদের কাপ্তাই পানি বিদ্যুত প্রকল্পের বাঁধটিতে রীতিমত ‘নো গো জোন’ । কিন্তু এখানে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ অনেকটাই পাবলিক প্রেস।

হোটেল আসওয়াদ ইভারগ্রিন
দুপুরের খাবারের সময় প্রায় পেরিয়ে যাচ্ছে। সবাই ক্ষুধার্ত। তাই একটা হোটেলে বসে কিছু না খেলেই নয়। ড্রাইভার কাম গাইড জন শহরের মাঝখানের একটি ভারতীয় হোটেলে আমাদের নিল। হোটেলের নাম আসওয়াদ ফরইভার হোটেল। হোটেলের বাহ্যিক চেহারা ভাল নয়। তবে ভিতরে কিছুটা ভাল বলে মনে হয়। হোটেলে বসতেই কালো কালো চেহারার হোটেল বালারা অর্ডার নেয়ার জন্য ছুটে এল। কিন্তু আফ্রিকায় কি খাব আর কি খাব না, সেটা ঠিক করতেই বেশ সময় চলে যায়। যদিও ভারতীয় হোটেল তবুও এদের সব রান্না ভক্ষণযোগ্য নয়। তাই খাবারের নাম শুনে তার চেহারাগুলো অর্ডারের পূর্বেই দেখে নিতে চাইলাম। কিন্তু এদের কাছে অর্ডার দেয়ার আগের কোন রেডিমেড খাবার পাওয়া গেল না।তাই ভাগ্যের উপর ভর করে অর্ডার দেয়া হল ব্রিয়ানি।

ব্রিয়ানি আবার মুরগীরও হয়, সবজিরও হয়। আমি অনুমান করলাম, এদের নিরামিস খাদ্যগুলোই সবচেয়ে ভাল হবে। তাই আমি অর্ডার দিলাম সবজি ব্রিয়ানি। অন্যারা দিল চিকেন ব্রিয়ানির। সাথে থাকল কোল্ড ড্রিংক্স। খোলামেলা করে বললাম, এখানে কেউ চাইলে কোকা কোলার মতো পানীয়ের বাইরেও কিছু মাঝারি ধরনের শক্ত পানীয় খেতে পারে।

এন্টাসিড কিনতে বিড়ম্বনা
খাবার তৈরিতে কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে আমার পেটে হালকা এসিডিটি দেখা দিয়েছে। তাই অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে খুঁজতে গেলাম ঔষধের দোকান। সবাই বলল, ঐ, সামনে। কিন্তু সামনে যেতে যেতে বেশ দূরে গিয়ে একটা ঔষধের দোকান পেলাম। এন্টাসিড চাইলে দোকানবালারা সবাই ঔষধ খুঁজতে লাগল। কিন্তু যা নিতে চাই তার দামই পাঁচ হাজার শিলিং। একটার দাম যা, এক পাতার দামও তাই।

ঔষধের দোকানের মেয়ে তিনটি বুঝতে পারল আমি এখানে পর্যটক। তাই আমার সাথে আলাপ জুড়ে দিল। আমি যদিও আলাপে আগ্রহ বোধ করলাম তবুও সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং হোটেলে খাবারের অর্ডার মূলতবি রেখে তা করতে চাইলাম না।

একটি পাতলা মেয়ে বলল, আমাদের বেড়াতে নিয়ে চল। তোমার সাথে আমরা সোডা খেতে চাই। আমি এক প্রকার বিপদেই পড়লাম। নাইলের উৎসমূখ দেখতে এসে আবার কিসের না কিসের মুখে পড়লাম। মনে মনে ভাবলাম, পর্যটন এলাকার উপর আবার এটা উগান্ডা। এখানে অনেক কিছুই বিকি কিনি হয়। তাই কোন রকমে মেয়ে তিনটির সাথে একটি সেলফি নিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

সুন্দর খাবর, দামও কম
ইতোমধ্যেই খাবার তৈরি হয়ে গেছে। না, খাবারে সত্যিাকারের ভারতীয় ঝাঁঝ আছে। তবে মুরগীর চেয়ে সবজির ব্রিয়ানিটিই বেশি সুস্বাদু ছিল। খাবারের দাম দেয়া হল এ যাত্রায় শুরুতেই গঠন করা যৌথ তহবিল থেকে। আমরা ১০ জন খেয়েছি ব্রিয়ানি। ড্রাইভার ও তার সহকারী খেয়েছে উগান্ডার প্রচলিত আইটেম। আমাদের ১২ জনের খাবারের বিল এলো ১,৬১,০০০/- শিলিং। বাংলাদেশি মুদ্রার সাথে তুলনা করলে খাবারের মোট দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি পড়ে। আরো একটু আঁক কষে দেখলাম একজনের ভাগে পড়েলে ৩৩৫/- টাকার মতো। আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে তাকালে এটা খুবই সস্তা।আমাদের দেশের কোন পর্যটন এলাকায় ব্রিয়ানি তো দূরের কথা কাঁচকী মাছ আর ভাজি খেলেও একজনের সাড়ে তিনশ টাকায় পেট ভরবে না।

নাইলের উৎসে প্রবেশ মূল্য
পেটে কিছু দানাপানি পড়ায় শরীরের মনে যেমন শান্তি এল, তেমনি শরীরের শক্তিও বহুলাংশে বেড়ে গেল। এবার যাত্রা নাইলের উৎসের দিকে। উৎসের স্থানটি বেশ যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিনোদন পার্ক, পর্যটন মোটেল, বাংলো এবং পিকনিক স্পট। পৃথিবীর সব দর্শনীয় স্থানেই অর্থের বিনিময়ে ঢুকতে হয়। প্রবেশ পথ দিয়ে গাড়ি ছাড়া, গাড়িসহ, দেশি ও বিদেশিদের জন্য পৃথক পৃথক প্রবেশ মূল্য রয়েছে। জিনজা মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল, থেকে নির্ধারণ করে দেয়া প্রবেশ মূল্যটি সাইন বোর্ডে দেয়া আছে।

প্রকারভেদ শিলিং
প্রাপ্ত বয়স্ক দেশি নাগরিকদের জন্য জন প্রতি ২,০০০/-
প্রাপ্ত বয়স্ক বিদেশিদের জন্য ১,০০০ /-
ইউনিফরম পরিহিত ছাত্রদের জন্য ১,০০০ /-
শিশুদের জন্য ১,০০০ /-
বাস/লরি পার্কিং ফি ২০,০০০ /-
মিনি বাস ১০,০০০ /-
প্রাইভেট কার ৫,০০০ /-
মোটর সাইকেল ১,০০০ /-

আমাদের সাথে ছিল মাইক্রোবাস, দুজন উগান্ডার নাগরিক ও দশ জন বিদেশি। তাই আমাদের সবকিছু মিলে পরিশোধ করতে হল ১,১৪,০০০/-শিলিং। মানে বাংলাদেশি তিন হাজার টাকারও কম।

নৌকার মাঝির পকেট কাটার সুযোগ মিস

নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করে আমরা নাইলের উৎস মুখের দিকে ধাবিত হলাম। অনুচ্চ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামছি আমরা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলান দিয়েছে। দেরি করলে শুধু দেখা হবে। কিন্তু পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীর এই উৎসমুখের পদার্পণ বা ভ্রমণের যুৎসই কোন ছবিই তোলা হবে না। তাই সবাইকে দ্রুত নামার তাড়া দিলাম।

কিন্তু নৌকা ভাড়া করার সময় বাঁধল বিপত্তি। আমাদের গাইড কাম ড্রাইভার তার এক সুহৃদকে পূর্বেই ফোন করে এনেছিল। সে আমাদের গাড়ির কাছে এসে আমাদের তাড়াও দিতে থাকল।

একটি পৃথম ঘাটে নিয়ে যাবার চেষ্টা করল। এটা ছিল কিছুটা উজানে। আসে পাশে কোন নৌকা নেই কেবল তার নৌকা ছাড়া। আমরা তাড়া হুড়ার তোড়ে তার নৌকার দিকেই ছুটছিলাম। কিন্তু আমাদের সম্বিৎ ফিরে আনলেন ইন্সপেক্টর শিমুল দাস। তিনি নাইলের উৎসে এবার সেকেন্ড টাইম। আর স্বভাবেও বেশ হিসেবি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আমাদের ড্রাইভার নৌকার মাঝির কাছ থেকে বখরা নিয়ে আমাদের পকেট কাটবে। তাই শিমুল মাঝিকে নৌকার ভাড়া জিজ্ঞেস করল। সে অনুমান মতোই দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে বসল। প্রতি জনের জন্য সে ২০ হাজার শিলিং দাবি করল। আমাদের কোন অনুরোধই কাজ দিল না। আমরাও কম বারগেইন করা বাঙালি নই। আমরা সোজা মূল ঘাটে গেলাম। সেখানে দেখি অনেক নৌকা কিন্তু এসব নৌকার মাঝিরা সবাই পর্যটক চোষা বান্দা। ইন্সপেক্টর শিমুল এমন ভাব করলেন যে আমরা আর নাইলের উৎসে যাব না। কিন্তু এ দিকে সময় ও চলে যায়। কি আর করা। শেষ পর্যন্ত প্রতিজন ১৫ হাজার শিলিং করে রফা হল।

নৌকায় করে নাইলে উৎসে রওয়ানা

নৌকায় ওঠার আগে সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম। বলা যায় না। এটা নাইলের উৎসমুখ। না জানি এ স্থান কত গভীর। আর উৎসের স্রোতের টানই বা কত। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় এসে রথ দেখতে দেখতে কলা বিক্রয় করছি আমরা। যদি এখানে ডুবে মরি তাহলে একদম অঘাটের মরা হব।এখনে আমরা যথাবথ বিধি মতো আসিনি। তাই দুর্ঘটনায় পড়লে জাতিসংঘের বিমার আওতায় পড়ব না।

নৌকা ছেড়ে দিল। নদীতে স্রোত বেশি বলে মনে হল না। স্রোত না থাকার কারন হল ভিক্টোরিয়া লেইক ও নদী এখানে একাকার হয়ে গেছে। তবে পানির ঘূর্নাবত চোখে পড়েছে। আমাদের নৌকার দুই মাঝির মধ্যে পল হল ধারা ভাষ্যকার। সে সোর্সের কাছে যেতে আমাদের এ উৎসের গল্প বলা শুরু করল। কিন্তু পলের গল্পের চেয়েও আকর্ষণীয় ছিল নদীর দুই ধার ও সামনের স্থির পানির ভিক্টোরিয়া হ্রদ। হাজার হাজার জলজ পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে মৎস্য শিকারে ব্যস্ত। শতশত পানকৌড়ি পূর্ব দিকের ছোট দ্বীপটির উপরে ছোট ছোট গাছে আশ্রয় নিয়েছে। বেশ কিছু পানকৌড়ি পানিতে ডুব দিচ্ছে, আবার পরক্ষণেই ভেসে উঠছে। আমরা নিজেদের ছবি তুলব, না পাখির দৃশ্য তুলব স্থির করতে পারছিলাম না। পশ্চিম দিকের পাহাড় ঘেষা দীপটিতে বেশকিছু ভোঁদড় রোদ পোহাচ্ছে। কিছু কিছু গুই সাপ জাতীয় প্রাণীও চোখে পড়ল।

‘পূর্ব দিকেরটা বার্ডস আইল্যান্ড আর পশ্চিমেরটা রেপটাইলস আইল্যান্ড’ পল উচ্চৈঃস্বরে বলতে থাকল। কিছু দূরে গিয়ে পানির ঘূর্ণাবর্ত বেশি মাত্রায় চোখে পড়ল। কিন্তু তার পরক্ষণেই দেখা যাচ্ছে শান্ত পানির বিস্তীর্ণ জলরাশি। জলরাশির ওপারে অনুচ্চ পাহাড়ের সবুজ ভূমি। কিছু বাড়ি ঘরও আছে সেখানে।পল জানায় ঐখানে উগান্ডার সবচেয়ে বড় ও হাই সিকিউরিটির জেলখানা অবস্থিত। এটা ভিকেটারিয়া হ্রদের ভিতর একটি দ্বীপ।

যে স্থানে পানির সর্বাধিক গুর্ণাবর্ত চোখে পড়ল, আমাদের নৌকার মাঝি পল জানাল, এটাই হচ্ছে নাইলের উৎস। এখান থেকেই উৎপত্তি পৃথিবীর এই বৃহত্তম নদীটি যা এখান থেকে শুরু হয়ে উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও মিশরের উপর দিয়ে প্রায় ৬ হাজার সাড়ে ৮শ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে পড়েছে। ভৌগোলিক পরিমন্ডলে নাইলেই নাকি একমাত্র আন্তর্জাতিক নদী যা দক্ষিণ দিক, থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। পলের মতো এই পানির ঘুর্ণাবর্ত প্রমাণ করে এই স্থানে একটি জলাভ্যন্তরস্থ (Submerged) ঝরনা রয়েছে। এই ঝরনা দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি উপরে উঠে আসছে। এটাই হল নাইলের জলধারার প্রধান উৎস। তার মতো এই ভূগর্ভস্থ ঝরনা থেকেই নাইলের উৎসমুখের ৭০ শতাংশ পানি আসে। বাকি ৩০ শতাংশ পানি আসে ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে। তাই ভিক্টোরিয়া হ্রদ নয়, বরং এই ভূগর্ভস্থ ঝরনাটিই নাইলের প্রধান উৎস।

ভাসমান পন্টুনে সাইনবোর্ড
এই স্থানে একটি ভাসমান পন্টুন আছে। পন্টুনের উপর একটি ভাসমান কাটেজও নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নেমে কিছুক্ষণ সময় কাটান যায়, কেনাকাটাও করা যায় স্থানীয় কারুকার্যখচিত জিনিসপত্র।

কিন্তু আমাদের হাতে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তাই এ ভাসমান কটেজে নেমে কিছু সময় ব্যয় করতে পারলাম না। আমরা কয়েকজন মাত্র পন্টুনে নামলাম। কিন্তু তা শুধুই ছবি তোলার জন্য।

এখানে একটি পাথরের উপর গোলাকার স্টিলের পাতে সাইনবোর্ড লেখা আছে—The Source of the Nile. অর্থাৎ নাইলের উৎসমুখ।শুধু আমরাই না, পৃথিবীর সকল পর্যটকই এই সাইনবোর্ডটিকে ঘিরে ছবি তোলে। আমরাও নানা ভঙ্গিতে এখানে অগণিত ছবি তুললনাম। আর মনে মনে ভাবলাম, কোন ভাগ্য বলে যে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছিলাম, আর কোন পূণ্য বলে যে পুলিশের চাকরি পেয়েছিলাম! পুলিশ বিভাগ থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে আসার ছুতো না পেলে আমাদের মতো আম জনতারা কি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নাইলের উৎসে আসার স্বপ্ন দেখতে পারত। সাইনবোর্ডের দক্ষিণ দিকে আছে ভিক্টোরিয়া হ্রদ। আর উত্তর দিকে নাইল নদী। হ্রদ ও নদীর মধ্যকার বিভাজন রেখাটি অত্যন্ত স্পষ্ট।

হ্রদ আর নদীর পার্থক্য
এবার পল আমাদের নৌকায় ওঠার জন্য তাড়া দিতে লাগল। আমরা নৌকায় উঠলে সে বৈঠা বেয়ে আমাদের আরো দক্ষিণ দিকে নিয়ে গেল। বর্ণনা শুরু করল, ‘ভদ্রলোকগণ এবার আমরা পৃথিবীল দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির হ্রদ ভিক্টোরিয়ায় অবস্থান করছি। এবার আমি নৌকা চালান বন্ধ করব। আপনার লক্ষ করবেন নৌকাটি স্থির থাকবে। এটাই প্রমাণ করে যে এটা একটি হ্রদ। হ্রদে কোন স্রোত নেই। তাই নৌকাও আপনা আপনি চলে না; একে চালাতে হয়। হ্রদে ঢেউ থাকে; স্রোত থাকে না। তাই বৈঠা ছাড়া নৌকার গাতি আসবে না’। পল বলতেই থাকল, ‘ একটু পরেই আমরা সামান্য উত্তর দিকে নদীতে যাব। তখন নৌকা স্রোতের দিকে চলবে। আমাকে বৈঠা বাইতে হবে না।

উৎস থেকে ফেরার পথে নদীতে প্রথমে নেমেই যে ভীতি ছিল সেটার আর নামগন্ধই থাকল না। আমাদের কাছে মনে হল আমরা বাংলাদেশের যে কোন একটি নদীতেই এসে পড়েছি। এবার সবাই তাদের গায়ের লাইফবেল্টগুলো খুলে ফেলল। ছবি তোলা চলল মুহূর্তে মুহূর্তে। কেউ কেউ নাইলের স্বচ্ছতোয়া নীল জলে ইচ্ছে মতো মুখ ধুয়ে নিলাম।

কী গভীর স্বচ্ছ পানিরে বাবা! মনে হচ্ছে প্রকৃতি যে তার সকল প্রাকৃতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পানি বিশুদ্ধ করে এখানে ছেড়েছেন। আবহাওয়াও ছিল নাতিশীতোঞ্চ। বেলা ছিল পড়ন্ত। পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীর এ উৎসমুখে আমাদের আনন্দের মুখও যেন খুলে গেল যার প্রকাশ ঘটল আমাদের স্মার্ট ফোনগুলোর ক্যামেরাগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার দেখে।
আমার মনে হল, এই আনন্দে নাইলের নীরে একবার নেয়ে নেই। কিন্তু তা সম্ভব ছিল না। তাই নৌকার গলুইতে শুয়ে পড়ে পানির সাথে শরীরটাকে সমান্তরাল করার চেষ্টা করলাম। এই অবস্থায় আকাশের দিকে আনমনে তাকিয়ে হাতদুটো সামনে বাড়িয়ে পোজ দিয়ে যে ছবিটি তুললাম, আমার স্ত্রী সোমার মতে এটা আমার পোজ দেয়া এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ ছবি।
Episode-13