ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
Chandina-tanu-news-pic-1

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডটি। দেশে প্রতিনিয়তই  কোন না কোন প্রকারের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে শুরু করে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুলিশ পরিসংখ্যানে হত্যামামলাগুলোর গড়ি নিলে দেখা যাবে প্রতি বছর গড়ে দেশে ৩,৯৮৭টি করে হত্যা মামলা হয়। কোন কোন মাহলায় একাধিক ভিকটিম থাকে। তাই এ মামলার সংখ্যা থেকে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা যে বেশি হবে সেটা বলাই বাহুল্য। তাই আমার মতে প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশে কম বেশি পাঁচ হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের সিংহভাগই থাকে আমাদের আলোচনার বাইরে। তবে মাঝে মাঝে দু একটি হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকেই কাঁপিয়ে তোলে। কুমিল্লার সরকারি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডটি ঠিক এমনি একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড।

সোহাগী জাহান তনু নিহত হন ২০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত এ কলেজ ছাত্রীটি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই দুজন সেনা সদস্যের বাসায় টিউশনি করত। কিন্তু ঘটনার দিন টিউশনি করতে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরত আসেনি। তার পরিবার তাকে খোঁজ করতে গেলে তাদের বাড়ির সামান্য দূরে একটি কালভার্টের কাছে ঝোঁপের মধ্যে তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেনানিবাসের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে কিভাবে একটি জলজ্যান্ত যুবতী খুন হল, কিংবা বাইরে খুন হলেও কিভাবে তার লাশ এ সুরক্ষিত এলাকায় ফেলে রাখা হল, সেটাই হল এ হত্যা মামলার মূল রহস্য।

তনু হত্যা মামলাটি জেলার থানা, ডিবি ঘুরে বর্তমানে তদন্তের জন্য আছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডির কাছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে এ মামলার সন্দিগ্ধ হিসেবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু মূল অপরাধীদের তারা এখন পর্যন্ত শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে সমর্থ্য হয়নি। তনু হত্যা মামলার তদন্ত তথা অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে না পারার পুলিশি ব্যর্থতার জন্য দেশে অনেক কিছুই হয়ে গেছে। এ জন্য যেমন হয়েছে সোসাল মিডিয়ায় মন্তব্য, প্রতিমন্তব্য, দোষারোপ-দোষস্খলনের ঝাড়, তেমনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারীসংগঠনগুলোও নানা প্রকার কর্মসূচি পালন করেছে। এজন্য কয়েকটি ভূঁইফোড় সংগঠন সারা দেশে হরতালও পালন করেছে। কিন্তু কাজের কাজ এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি।

 

তনু হত্যা ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হচ্ছে এর ময়না তদন্তের প্রতিবেদন।  কুমিল্লার মেডিকেল হাসপাতাল থেকে দেয়া প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা হল, তনুকে হত্যার পূর্বে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে সেটা ধরা পড়েনি। অর্থাৎ প্রথম প্রতিবেদনে তনু হত্যার কারণ যেমন নির্ণীত হয়নি, তেমনি ডাক্তার বিশেষজ্ঞরা বলতে পারেননি যে তনু নিহত হওয়ার আগে ধর্ষিতা হয়েছিলেন কিনা।

 

কিন্তু পত্রপত্রিকার খবর, সোসাল মিডিয়ার অতি উৎসাহপূর্ণ মতামত ইত্যাদি মিলে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে যে তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তার শরীরে ধস্তাধস্তিসহ অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন ছিল যা এসেছিল পুলিশের সুরুতহাল প্রতিবেদনে। তদন্তকারীগণও প্রথম থেকেই সন্দেহ করছিলেন যে তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তাই তনুর শরীর ও কাপড়চোপড়গুলো অতি যত্নসহকারে তারা সংরক্ষণ করেছিল রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। এর সুফলও তারা পেয়েছিল। পুলিশের সিআইডি কর্তৃক পরিচালিত ডিএনএ গবেষণাগারের প্রতিবেদনে তনুর শরীরে ভিন্ন ভিন্ন তিনজন মানুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অবশ্যই এসব প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে তার কাপড় চোপড়, অন্তর্বাসে বা শরীরে প্রাপ্ত শুক্রাণু থেকে। যদি কোন নারীর শরীরে অন্য  কোন মানুষের সংস্পর্সের নমুনা যেমন, চুল, শরীরের কোন কোষ, যেমন লালা,থুতু, কামড়ের দাগের তরল থেকে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে নারীটি ধর্ষিত হয়েছিল কি না, সেটা সন্দেহ করা যায়। কিন্তু কোন নারীর শরীরে যদি শুক্রাণু পাওয়া যায় এবং সেই শুক্রাণু থেকেই প্রোফাইল তৈরি করা হয়, তাহলে এটা সন্দেহ করার কোন কারণ নেই যে নারীটির সাথে কোন না কোন পুরুষ যৌনমিলন করেছে। আর যদি সেই নারীর শরীরে পৃথক পৃথক তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যায়, তবে সে যে দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছিল,  এটা সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ মাত্রই অনুমান করতে পারে। তাই সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদন কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদনকে আরো একধাপ সন্দেহের তালিকায় আনা ছাড়া দেশবাসির কোন উপায় থাকে না।

 

পুলিশের প্রবল সন্দেহের মুখে আদালত তনুর দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রায় ১০ দিন পর তার লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্ত করা হয়। কিন্তু এ ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দিতেও অস্বাভাবিক কালক্ষেপণ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তারা পুলিশের সিআইডি থেকে ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। কিন্তু আদালতের নির্দেশেকৃত ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশভিন্ন অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেবার সুযোগ সীমীত। তাই পুলিশ বিষয়টি আদালতের অনুমতিসহ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করে।

 

কিন্তু এ ডিএনএ প্রতিবেদন যে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকাই পালন করে না, সেটা অভিজ্ঞমহল ভাল করেই জানেন। তাই ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পরও ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদের পূর্বের প্রতিবেদনে যে ব্যর্থতা ছিল, পরবর্তী প্রতিবেদনে সেই ব্যর্থতাই ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। পূর্বের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল তনুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল – এমন কোন আলামত তো দূরে থাক তাকে যে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিংবা অন্তত তার শরীরে যৌন মিলনের কোন আলামত যে ডাক্তারগণ পেয়েছিলেন, এমন কোন  কথাও উল্লেখ ছিল না।

 

সিআইডি থেকে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞগণ যে মতামত দিয়েছেন তা পূর্বের প্রতিবেদনের চেয়েও দায়সারা গোছের। পূর্বের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে তার শরীরে ধর্ষণ কিংবা যৌন মিলনের কোন প্রমাণ ছিল না। আর দ্বিতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল মৃত্যুর পূর্বে তনুর যৌন সংসর্গ বা  Sexual Contract হয়েছিল। আবার একই সাথে বলা হয়েছে মৃত্যুর ১০ দিন পর গলিত লাশ তুলে ময়না তদন্ত করার ফলে ডাক্তারগণ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে উপস্থিত হতে পারছেন না। আর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য তারা পুলিশকে ‘ক্লিন চিট’ দিলেন। পারিপার্শ্বিক  অবস্থা বিবেচনা করে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নাকি হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যাবে।

 

বিষয়টি বড়ই ভাবনাপূর্ণ। পূর্বে জানতাম একজন পুলিশ অফিসার নাকি কোন প্রকার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই একই সাথে ডাক্তার, আইনজীবী, বিচারক, সমাজ বিজ্ঞানী এমনকি একজন ধর্মযাজকও বটে। কিন্তু কোন প্রকারশ প্রশিক্ষণ ছাড়াই যে তাদের তনু হত্যার কারণ নির্ধারণ করে দিয়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হতে হবে, সেটা আমাদের শিখিয়ে দিলেন ‘কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের তনুর দ্বিতীয় ময়না তদন্তের প্রতিবেদনদানকারী’ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদলটি। ভাবতে অবাকও লাগে, আনন্দও হয়, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞগণ এর মাধ্যমে এক দিক দিয়ে তাদের ব্যর্থতার ভার পুলিশের উপর অর্পণ করলেন। অন্য দিক দিয়ে পুলিশকে তাদের চেয়ে বড় সড় বিশেষজ্ঞ হিসেবে মেনে নিলেন। আমি জানি না, তনু হত্যার এ দ্বিতীয় প্রতিবেদন অদূর ও দূর ভবিষ্যতে কি জাতীয় ফলাফল প্রসব করবে। তবে এ প্রতিবেদন যে আসামীদের একটা ভাল সন্দেহের সুফল দান করবে, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। হতে পারে যে আদালত এ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে তনুর লাশের তৃতীয় ময়না তদন্তের নির্দেশ দিবেন। আর দূর ভবিষ্যতে আসামী পক্ষের জেরার মধ্যে এই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞগণ কেবল নাকানি চুবানিই খাবেন না, সুবিচারের বারটাও বাজাবেন।

 

পুলিশের ডিএনএ প্রতিবেদন আমাদের এ মুহূর্তে নিশ্চিত করেছে যে হত্যার পূর্বে তনু গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল।  কমপক্ষে তিনজন পুরুষ যে এ ধর্ষণ ও পরে হত্যার জন্য দায়ি তা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ প্রতিবেদন যে পুলিশের সামগ্রিক তদন্তকে আরো কত বেশি জটিল করে তুলেছে, সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছি না। পুলিশ এখন তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের স্বীকারোক্তি আদায় করলেও তাদের শুক্রাণুর ডিএনএ প্রোফাইল যদি প্রাপ্ত ঐ তিন পুরুষের প্রোফাইলের  কোনটির সাথেই না মিলে তবে সেই সন্দিগ্ধ বা স্বীকারোক্তিকারীকে বড় জোর তনু হত্যায় সহায়তাকারী হিসেবে প্রমাণ করা যেতে পারে, তাকে ধর্ষণের জন্য দায়ি করা যাবে না। আর যতই অকাট্য প্রমাণ হাজির করা হোক না কেন, এই ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে অন্তত একজন পুরুষের প্রোফাইল মেলাতে না পারলে পুলিশের তদন্ত কোনভাবেই শেষ হবে না। তার মানে হল, এ মামলার তদন্তে যত বছর, যত যুগই লাগুক, এটার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার কোন সুযোগ যেমন নেই, তেমনি যেনতেন ভাবে একটা অভিযোগপত্র দেয়ারও কোন সুযোগ নেই। ডিএনএ প্রোফাইল তাই পুলিশকে তনু হত্যার তদন্তে ব্যর্থ হবার সকল পথই রুদ্ধ করে দিয়েছে।

 

এখন একটা বিশেষ অবস্থার কথা কল্পনা করা যাক। মনে করা যাক, পুলিশ তনু হত্যার সাথে জড়িত সেই তিনজন পুরুষকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ধর্ষণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কোন ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি কিংবা অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারছে না। তখন পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনকে সামনে রেখে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে? হ্যাঁ, একটি ব্যবস্থা আছে। সেটা হল সন্দিগ্ধ এলাকায় গণ-ডিএনএ পরীক্ষার মহড়া করা। অর্থাৎ তনুর লাশ প্রাপ্তির স্থান থেকে শুরু করে যে সব স্থানে তনু গমনাগমন করত কিংবা তনুকে ধর্ষণ  ও হত্যার জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানের সেই সময়ে বসবাসকারী অধিবাসীদের মধ্য থেকে সকল সক্ষম পুরুষের ডিএনএ নুমনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রোফাইল তৈরি করে ইতোপূর্বে প্রাপ্ত তিনজন পুরুষের বীর্জের ডিএনএ-এর সাথে মেলাতে হবে।

 

বিষয়টিকে অনেকে হাস্যকর ও অসম্ভব বা অবাস্তবায়নযোগ্য বলে হয়তো উডিয়ে দিবেন। কিন্তু ফৌজদারি মামলার তদন্তের ইতিহাসে এমন গণ-পরীক্ষা ( Mass Screen) এর অনেক নজির আছে। আমরা দুটো মাত্র নজির এখানে উল্লেখ করব।

 

প্রথম ঘটনাটি ছিল ইংল্যান্ডের এন্ডারবারির। পৃথিবীর ফৌজদারি তদন্তের ইতিহাসে এন্ডারবি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেই সর্ব প্রথম ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। [১]। ১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ডের এন্ডারবি গ্রামে লিন্ডা মান নামের এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ভিকটিমের শরীর থেকে সন্দেহভাজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বীর্যের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এই হত্যার রহস্য অনুদ্ঘাটিত রয়ে যায়। প্রায় দুই বছর পরে ডন আসওয়াথ নামের পনের বছর বয়সী আর একজন কিশোরী একই উপায়ে ধর্ষণের পর নিহত হয়। আসওয়াথের শরীর থেকেও সন্দেহভাজনের বীর্য সংগ্রহ করা হয়। এই দুই বীর্যের নমুনা ডিএনএ প্রোফাইলিং করে অভিন্ন পাওয়া যায়। এর অর্থ হল লিন্ডা মান ও ডন আসওয়াথ এর ধর্ষণ ও হত্যাকারী মূলত একই ব্যক্তি।

এরপর পুলিশ এন্ডারবারি এলাকায় বসবাসকারী ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সী সকল পুরুষের ডিএনএ নমুনা প্রোফাইলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা ৫,৪৯৯ জন ব্যক্তির মুখের লালার ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলসের উয়ি-ওয়া নামের একটি ছোট্ট শহরে একজন বৃদ্ধ মহিলাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য এই শহরের প্রায় ৬০০ ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা ( মুখের লালা) পরীক্ষা করা হয়েছিল [২]।

 

এমতাবস্থায়, যদি প্রয়োজন হয় পুুলিশকে ক্যান্টমেন্ট এলাকায় বসবাসকারী সকল না হলেও অন্তত একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল যৌন-সামর্থ্যবান পুরুষদের, এমনকি তনুর সাথে সংশ্লিষ্ট আরো বহুসংখ্যক সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করতে হতে পারে।

২০১২ সালে সিআইডিতে ডিএনএ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটাই, সম্ভবত, পুলিশের সফলতম গবেষণা যেখানে তিনজন পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে অপরাধস্থলটি এমন এক স্থানে যেখানে পুলিশ তার তদন্তকার্য পরিচালনা করতে সামান্য হলেও সীমাবদ্ধতা অনুভব করে। কিন্তু সীমাবদ্ধতার বিপরীতে এ মামলাটিতে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও।মামলাটিকে তাই তদন্ত জগতের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে বিজ্ঞতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। আমার মতে, তনু ধর্ষণ ও হত্যার তদন্ত শুধু বাংলাদেশ পুলিশের নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম মাইলফলকরূপে প্রতিষ্ঠিত হবে। ( ১৪ জুন, ২০১৬, ইউএন হাউজ, জুবা , দক্ষিণ সুদান)

[১] Criminal Investigation (seventh edition) by Charles R. Swanson et al. McGrw-Hill; ISBN: 0-07-228594-X

[২] DNA Identification in the Criminal Justice System Jeremy Gans and Gregor Urbas in crime and criminal justice by Jeremy Gans and Gregor Urbas )