ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

জুবা-এনটেবে
২০ নভেম্বর, ২০১৬, রবিবার। সকালে উঠে দৌড় দিলাম বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে। বেড়াতে যাচ্ছি ডিআর (ডেমোক্রাটিক রিপাবলিক) কঙ্গোতে। এটা কঙ্গো যবার দ্বিতীয় উদ্যোগ। প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিলাম গত মাসের শেষ দিকে। কিন্তু এনটেবে থেকে কঙ্গোতে যাবার ইউএন ফ্লাইটে আমাদের নেয়া হবে কি না সে বিষয়ে নানা সন্দেহ ছিল। তাই শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করতে হয়েছিল।

আজ জুবা থেকে এনটেবেতে দুটো ফ্লাইট ছিল। প্রথমটি ৮:৪৫ মিনিটে। তাই আমাদের সকাল সাতটার মধ্যেই মুভকনে (Movement Corner) আসতে হয়েছিল। মুভকন হল কোন শান্তিরক্ষা মিশনের যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। কোথাও যাবার আগে এখানেই দরখাস্ত করতে হয়। মুভকনের আয়োজন ও অনুমোদন ভিন্ন কেউ ইউএন ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবে না। আবার মুভকনই ইউএন শান্তিরক্ষীদের এমওপি (Movement of Personnel) অনুমোদন করে। এ এমওপিই হল ভ্রমণের লিখিত নির্দেশনা। অবশ্য এমওপি পাওয়ার আগে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। যে কোন ভ্রমণের পূর্বে তা ইউএন ফ্লাইটে হোক বা কমার্শিয়াল ফ্লাইটেই হোক প্রত্যেক ইউএন কর্মচারীকে ইউএনডিএসএস( United Nations Department of Safety and Security ) এর কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।

১৫ সিটের বিচ ক্রাফ্ট। ১৫ যাত্রীর সাত জনই বাংলাদেশি

যথা সময়ে বিমানে উঠলাম। মাত্র ১৫ সিটের বিমান। এ ধরনের বিমানকে নাকি বলে বিচ ক্রাফ্ট। অনেকটা হেলিকপ্টারের আদলে আমাদের মালপত্রগুলো নিয়ে একটি বিশেষ স্থানে রাখল। ১৫ জন যাত্রীর মধ্যে আমরা বাংলাদেশিই ৭ জন। পুলিশের দুজন আর নৌবাহিনীর পাঁচজন। প্রায় দুই ঘন্টার যাত্রা। মাত্র ১০ হাজার ফুট উঁচুতে দিয়ে উড়ে চলল বিমানটি। বিমানের ভিতরে বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাই সারাক্ষণ কানের পর্দায় চাপ অনুভব করলাম। অনেক নিচুতে উড়তে থাকায় নিচের সব কিছু সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছিল। জানালার কাছে বসে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন একটার পর একটা ছবি তুলছিল। আমি কঙ্গোর উপর কিছু রচনা পড়ছিলাম।

প্রায় সাড়ে দশটায় এনটেবে বিমান বন্দরে অবতরণ করলাম। ইউএন এর বিমানগুলোর জন্য একটি আলাদা কর্নার আছে এখানে। এনটেবে বর্তমানে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও আবেই(দক্ষিণ সুদান) এই চারটি শান্তিরক্ষা মিশনের পশ্চাৎভূমি। প্রতিদিনই অন্ত শতাধিক ইউএন ফ্লাইট এ বিমান বন্দর ব্যবহার করে।

বিমানবন্দরের বাইরে এসে টেক্সি ভাড়ার চেষ্টা করছি। আমরা যাব বাংলা হাউজে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এনটেবেতে একটি বড় সড় বাসা নির্বাহ করা হয়। এর নাম দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ মিশস সাপোর্ট ক্যাম্প। কিন্তু এর ব্যবহারিক নাম হল বাংলা হাউজ। আমরা ৭ বাঙালি মিলে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করলাম। প্রথমে আমাদের কাছ থেকে প্রতিজন দুই ডলার করে ১৪ ডলার চাওয়া হল। কিন্তু পরে তা মাত্র ১০ ডলারে ফয়সালা হল। এখানে । টেক্সিভাড়াটা ওরা বেশিই দাবি করে। বাংলা দেশের হিসেবে আটশ টাকা খুব বেশি না হলেও উগান্ডার প্রেক্ষিতে এটা বেশি। আসলে বিদেশিদের কাছ থেকে ওরা একটু বেশিই পেতে চায়। ৭ জন মিলে ১০ ডলার দিলে প্রতিজন দেড় ডলারেরও কম পরিশোধ করতে হয়। আমি আর মহিউদ্দিন মিলে তিন ডলার দিলাম।
bang
বাংলা হাউজে আজ দ্বিতীয় বার এলাম। পূর্বে এসেছিলাম আগস্টের প্রথম দিকে। এ সময় আমি আর এসপি মাহবুব হাসান রুয়ান্ডা ভ্রমণে গিয়েছিলাম। জুবা ফেরার পথে এখানে তখন এক রাত ছিলাম। অল্প খরচে এখান এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়। একটি ক্যাম্পাসে চারটি পৃথক ভবনে থাকার ব্যবস্থা। বহির্গেইটে দারোয়ান আছে। নামাজের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা আছে। এখানে যারা থাকেন বা আতিথ্য গ্রহণ করেন তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এ বাসার বিদ্যুৎ বিলটাও হয়তো হয় না। তাই সেনা কর্তৃপক্ষই এর আর্থিক বিষয়টি মিটমাট করে। প্রত্যেকটা সুটের আলাদা আলাদা নাম আছে। এগুলো আবার বাংলাদেশের নদীগুলোর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এবার আমাদের থাকতে দেয়া হল মেঘনা-২ সুটে।

অনেক দিন পর দুই র‍্যাব-মেইট
বাংলা হাউজে এসেই জানতে পারলাম,আমার পাশের সুটে অবস্থান করছেন লে. কর্নেল ইকবাল। ২০০৪/০৫ সনে র্যব্যাব প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক দিনগুলোতে আমরা র‍্যাব-৪ এ এক সাথে কাজ করেছিলাম। তাই এতদিন পর তার সাথে দেখা হলে ভালই হবে। ছুটে গেলাম তার সু্যটে। কিন্তু সেই সময় তিনি তার বিলম্বিত ঘুমের পরিসমাপ্তি ঘটাননি।

দুপুরের খাবার আগে আমার সুটে এক ফর্সা লোকের সাথে দেখা হল। তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। আমি এসপি রাজ্জাক বলে পরিচিত হতে চাইলাম। আমার মুখের দিকে তাকিয়েই ভদ্রলোক বলে উঠলেন, আরে ভাই? আমাকে চিনলেনই না? আমি বললাম, চিনব কি করে? আপনি তো বেশ মুটিয়ে গেছেন? হ্যাঁ, আমাদের র‍্যাব-৪ এর সেই ক্যাপ্টেন ইকবালই।

iqbal
আমি র্যাব থেকে চলে আসার পর ইকবাল সাহেব আরো অনক দিন র্যাবে ছিলেন। তিনি যখন ভৈরবের ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন তখন তার সাথে আমার একবার ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু দেখা হয়নি। আজ এই বাংলা হাউজে ২০০৫ সালের পর প্রথম দেখে আমি তাকে চিনতেই পারছিলাম না। তার ফর্সা চেহারা অনেকটা মোটা হয়ে গেছে। অনেক দিন পর দেখা হয়ে বেশ খুশিই হলাম। কোলাকুলি হল র্যাব-৪ এর দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে। বিকেলে আমরা দুই র্যাব মেইট অন্যান্যদের নিয়ে ভিক্টোরিয়া হ্রদে ভ্রমণে বের হয়েছিলাম।

ভিক্টোরিয়া হ্রদ ও আইসিস বিচ

আমাদের সাথে আরো কিছু অফিসার-ফোর্স মিলে প্রায় নয়জন ফেরিঘাটে গিয়ে একটি ছোট নৌকা ভাড়া করলাম। দু ঘন্টার জন্য দাম নিল ২৫ হাজার কেনিয়ান শিলিং। টাকার সাথে কেনিয়ান শিলিং এর তুলনা করার জন্য আমরা একটি খসড়া হিসেব করে ফেলেছি। শিলিং এর মূদ্রা মান থেকে দুটো শূন্য বাদ দিয়ে তাকে দুই দিয়ে গুণ করলে যা হয় শিলিং এর সাথে টাকার মান মোটামুটি তেমনই। তাই ২৫,০০০ শিলিং হতে দুই শূন্য বাদ দিয়ে দু্ই দিয়ে গুণ করলে হয় প্রায় ৫০০ টাকা । মানে দুই ঘন্টার ভ্রমণে বেচারা মাঝি মাত্র ৫০০ টাকাতেই রাজি। অবশ্য সঠিক হিসেবে প্রতি টাকার বিপরীতে ৪৩ কেনিয়ান শিলিং পাওয়া যায়। কিন্তু শিলিং এর সাথে টাকার মূদ্রামান যাই হোক, মাত্র ৫০০ টাকায় একটি নৌকা নিয়ে পর্যটন এলাকায় দুই ঘন্টা ভ্রমণ বাংলাদেশে কল্পনাও করা যায় না।
victor
নৌকায় চড়ে অনেক দূর পর্যন্ত গেলাম। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির হ্রদ হল ভিক্টোরিয়া। এই হ্রদ থেকেই পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নাইলের জন্ম হয়েছে। তবে এই উৎস স্থল এখান থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে জিনজা নামক স্থানে। আমরা যে স্থানে ভ্রমণ করছি এটা হ্রদের উত্তর পাড়। পশ্চিমে হেলে পড়ছে সূর্য। হ্রদের পানিতে ভাসতেই আমার বামে পূর্ব দিকে পড়ল এনটেবে শহরটি। অনুচ্চ পাহাড়ের উপর গড়ে ওঠা শহরটি বিকালের নরোম রোদে মনোরম মনে হচ্ছিল। হ্রদের অগভীর স্থানে ও পাড়ের কাছে প্যাপিরাস বন। নলখাগড়ার মতোই এ আধা জলস উদ্ভিদ দিয়ে প্রাচীন যুগে মিশরের মানুষ লেখার উপরকরণ তৈরি করত। প্যাপিরাসের কাণ্ডগুলো পাতলা পাতলা করে কেটে শীতল পাটির মতো তৈরি করে তার উপর লিখত। পরে এটা গোল গোল ভাঁজ করে রেখে দেয়া হত। এই প্যাপিরাসের নাম থেকেই ইংরেজিতে পেইপার বা পেপার নামটি এসেছে।

কিছু দূর গিয়ে একটি দামের উপর জলজ পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। আমরা কাছে গিয়ে ছবি তুললাম। দেখলাম সাদা বক, আফ্রিকান সারস, হটটি টি, কালিম, জলপিপি ইত্যাদি ধরনের পাখি। এখানে ক্ষুদ্রাকৃতির গাঙচিলের সংখ্যা প্রচুর ।হ্রদের মাঝে কিংবা ধারে যেখানেই কোন বসবার স্থান আছে সেখানেই হাজার হাজার গাঙচিল বসে আছে।

আমাদের নৌকাটি এনটেবে শহরের বিপরীত দিকে একটি স্থলভূমিতে ঠেকল। এখানে একটি ফেরিঘাট আছে। এ ফেরি দিয়ে বাস-ট্রাকও পার হয়। আমরা একটি পুরাতন কুটিরে গেলাম। এটা আসলে একটি রিসোর্ট। কিন্তু অয়তন আর অবহেলায় এটা ভাঙাচোরা রূপ ধারণ করেছে। এর নাম হল ‘আইসিস বিচ’। মহাদেশীয় আফ্রিকার সাধারণ মানুষ সাধারণত সমুদ্র দেখার সুযোগ পায় না। কিন্তু সমুদ্র থেকে অনেক দূরে হলেও আল্লাহ পাক তাদের কিছু বড় বড় পুকুর বা হ্রদ দান করেছেন। এগুলোর অনেকগুলোই সমুদ্রের মতোই বিশাল।

isis
এ ভিক্টোরিয়া হ্রদের আয়তনও বিশাল। কেবল পানির অংশটুকুই ৭১ হাজার বর্গমাইল। আর কুল-কিনারাসহ ৯২ হাজার বর্গ মাইল। মানে বাংলাদেশের আয়তনের দ্বিগুণের কাছাকাছি। তিনটি দেশের মাঝ খনে এই হ্রদটি। উত্তর দিকে উগান্ডা, দক্ষিণে তানজানিয়া ও পূর্ব দিকের সামান্য অঞ্চল কেনিয়ার মধ্যে পড়েছে। এমতাবস্থায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক হ্রদ। এ হ্রদের পানিতে যেমন বিশাল মৎস্য সম্পদ আছে তেমনি এর পানির বুক চিরে তিনটি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও চলে। তাই রাজনীতি, অর্থনীতি আর ভূ-নীতিতে ভিক্টোরিয়া তাদের কাছে সাগরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

হ্রদের যে সব স্থানে পানির কাছাকাছি স্থাপনা তৈরির সুযোগ আছে সে সব অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে রিসোর্ট কিংবা সরকারি অফিস আদালত। এসব স্থানের নাম দিয়েছে তারা সৈকত বা বিচ। আমরা নৌকা ভ্রমণের এক ফাঁকে এই আইসিস বিচে নামলাম। দেখলাম এ বিচের রিসোর্টটি মেরামত করা হচ্ছে। একজন মহিলা এর কাজ তদারক করছেন। জানতে পারলাম এ মহিলা উগান্ডার হলেও বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিক। কয়েক বছর আগে তিনি এ স্থানটি কিনে রিসোর্ট তৈরি করেছেন। তবে বছরের সব সময় তার ব্যবস্থা এক রকম যায় না। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে নাকি প্রচুর সংখ্যক পর্যটকের আমদানি হয়। তখন তার ব্যবসাও হয় রমরমা।

উগান্ডার আবহাওয়া বছরের সব সময় প্রায় একই রাকম থাকে। তাই এখানে সারা বছরই সব ধরনের ফল পাওয়া যায়। এই আইসিস বিচের বাগানের আমগাছে আম ঝুলছে। কিছু আম পেকেছে, কিছুতে ছোট ছোট গোটা ধরেছে। আগে কাঁঠালও আছে। আমাদের সাথীরা গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়া শুরু করল। তবে বিচের মালিক মহিলাও আমাদের কয়েকটি আম দিলেন। আমরা গছে পাকা আমের গায়ে বাল্যের ভঙ্গিতে দাঁত বসিয়ে খাওয়া শুরু করলাম।
beache

সন্ধ্যের আগেই আমরা এনটেবের মূল ভূমিতে ফিরে আসলাম। বেড়াতে গেলাম ভিক্টোরিয়া মলে । এনটেবে শহরের সবচেয়ে বড় সুপার মার্কেট এই ভিক্টোরিয়া মল। ইতোপূর্বেও আমি এখানে গিয়েছি। ভিক্টোরিয়া মলের পাশেই আর একটি বিচ আছে। এখানে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। স্থানটি ছোট হলেও বেশি জাক জমক পূর্ণ। দেখলাম স্থানীয় লোকজনও গাড়ি নিয়ে সেখানে বেড়াতে এসেছেন। অনেক ছেলেমেয়ে সৈকতে খেলা ধুলা করছে। লেইকের পানিতে গোসলও করছে অনেকে। কিন্তু অগভীর হওয়ায় পানিতে শ্যাওলা আছে। পানি ঘোলা। আর সবচেয়ে বড় কথা হল পুকুর বা বিলের পানিতে যে সব পোকা মাকড় থাকে তার সবই এখানে আছে। ছোট ছোট ঢেউয়ের দোলায় ভেসে ভেসে সেইসব প্রাণীর মৃতদেহ এসে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচেছ। পরখ করে দেখলাম, ছোট ছোট সামুক, ঝিনুকসহ জলজ পোকার মৃতদেহ থেকেই এ গন্ধ আসছে।

কাঁঠাল, ঘাসফড়িং আর তরমুজের ফালি
আমার কাছে ডলার থাকলেও স্থানীয় মূদ্রা নেই। এখানে যারা, আমরা এক সাথে ঘুরছি, তাদের প্রায় সবারই একই অবস্থা। সহকর্মী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিনের কাছে কিছু স্থানীয় মূদ্রা ছিল সেটা দিয়েই আমরা সব খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রবল ইচ্ছা হল কিছু ফল কিনে খাব। কিন্তু স্থানীয় মূদ্রা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আমি ভিক্টোরিয়া মল থেকে একই চলে আসতে চাইলাম। কিন্তু ওরা সেটা হতে দিল না। এখানকার ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে তাই এক ফালি তরমুজ কেনা হল ৪৫০০ কেনিয়ান শিলিং দিয়ে। ওটাই পাঁচখণ্ড করে খেয়ে নিলাম।

বলাবাহুল্য, উগান্ডার সকল ফলই সুস্বাদু। এদেশের আনারসের তুলনা হয় না। যে কোন কলাই মিষ্টি। তবে কাঁঠালগুলো পাকলেও শক্ত থাকে। নৌভ্রমণের শুরুতেই আমি দেখলাম, একটি ভাসমান দোকানে কাঁঠাল ফালি ফালি করে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। আমার ইচ্ছে হল একটু খেয়ে দেখি। ওরা আমাকে একটি কোষ দিল। অত্যন্ত মিষ্টি। কিন্তু শক্ত। তবে এদেশে এরা কাঁঠালের বিচি সবজি হিসেবে খায়না বলেই মনে হল। কারণ ঐ দোকানের আশেপাশে কাঁঠালের বিচি পড়ে স্তর জমেছে। কাঁঠালের খোসার সাথে সাথে ওরা বিচিগুলোও ফেলে দিচ্ছে।
faring
নৌঘাটের পাশে একটি মাছের দোকান জাতীয় একটা কিছু চোখে পড়ল। কাছে গিয়ে দেখি এগুলো ঘাস ফড়িং। কিভাবে যে এত ফড়িং এরা শিকার করেছে তা জানা সম্ভব হল না। এগুলো কি? এ প্রশ্নের উত্তরে এরা বলল মাছ। আমি তো ভাবলাম চিংড়ি মাছ। কিন্তু না এগুলো আসলে বড় বড় ঘাস ফডিং ই। উড়ন্ত পোকামাকড় ভক্ষণ আফ্রিকার প্রায় সব স্থানেই আছ্ তবে এ ঘাস ফড়িংটা ওদের পছন্দের তালিকায় নাকি শীর্ষেই থাকে। (চলবে–)