ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

২০০৯ কি ২০১০ সালে নোয়াখালী জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এক দিন সন্ধ্যায় বেগম গঞ্জ থানা এলাকা থেকে এক ভদ্রলোক আমাকে ফোন করলেন। কণ্ঠে তার উদ্বেগ। যত কথা বলেন, তার চেয়েও বেশি কাঁদেন।

বললেন, স্যার, আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়েটার বয়স কম, সেটা আমি জানি। কিন্তু গরিব মানুষ মেয়ে যখন বড় হয়েছে, বিয়ে না দিয়ে কী করব? অবিবাহিতা থাকলে নানান জনে নানান কথা কয়। ছেলেপেলেরা ডিসটার্ব করে। কখন যে কী হয় তার ঠিক নাই। তাই একটা ভাল ছেলে পেয়ে বিয়ে ঠিক করেছিলাম। আমি বাজারঘাট সবই করেছি। কিন্তু আপনার থানার লোকজন এসে আমাকে মেয়ের বিয়ে দিতে না করেছে। তাদের নাকি ইউএনও সাহেব পাঠিয়েছেন।
ballo
আমার মেয়েটির বিয়ে ভেঙ্গে গেলে আমার বাজারঘাটই কেবল নষ্ট হবে না, আমার মেয়েটাকে আর বিয়েই দিতে পারব না। আজ পুলিশ এসে বিয়ে দিতে বাধা দিচ্ছে। পরে আমার মেয়েটার বিয়ে দিতে কি পুলিশ কোন সাহায্য করবে?

স্যার, আপনি আমাকে চেনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। আপনি কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর মিটিং করতে আমাদের গ্রামে এসেছিলেন। তখন আপনার কথা শুনে আমার বড় ভাল লেগেছে। আপনাকে আমাদের আপন মনে হয়েছে।বড় আশা করে আপনার কাছে ফোন করেছি।স্যার, আমার মেয়েটার জন্য একটা কিছু করেন। বিয়েটা হয়ে যাক, আমি না হয়, মেয়েটাকে এখন শ্বশুরবাড়ি পাঠাব না।

বন্ধুরা, এ বড়ই নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রশ্ন। আমি পুলিশ অফিসার হলেও এ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নই। আমি জানি আমার পুলিশ ভাল কাজই করেছে। কিন্তু সেই সাথে এটাও জানি যে এ বিয়ে ভেঙ্গে যাবার ফলে এ মেয়ের পিতা-মাতা পরে যে সমস্যায় পড়বেন তা থেকে তাকে উদ্ধার করার সামর্থ্য ও সদিচ্ছা পুলিশ বা প্রশাসনের কারই হবে না।

সকল আইনই অন্ধ, কিন্তু সব মানুষ অন্ধ নয়।এমতাবস্থায়,নাবালিকার সেই অসহায় পিতাকে আমি কি সাহায্য করেছিলাম তা গোপন রাখলাম।