ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বউ পেটানো বাংলাদেশে কোন এক সময় অপরাধ ছিল না। পুরুষ নারীদের উপর প্রভূত্ব করবে এটাই ছিল যেন প্রকৃতির নিয়ম। বিবাহিতা নারী তার স্বামীর সম্পত্তি। এই সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব স্বামীর।| আর সে যদি তা ফেলে দিতে বা ধ্বংশ করতে চায় তো অন্যেদের কী? তাই রাস্তা দিয়ে চলতে আমরা যদি কোন মহিলাকে কোন পুরুষ কর্তৃক উত্তম-মধ্যম দেয়ার দৃশ্য দেখি, তো মানবিক কারণেই হোক আর কৌতুহল বশতই হোক একটু এগিয়ে যাই। জিজ্ঞেস করি, আরে মিয়া! মেয়েটাকে মারছেন কেন? পুরুষ উত্তর দেয়, আমার বউ আমি পেটাচ্ছি। তুমি বলার কে? আমরা বিব্রত বোধ করি। মনে মনে বলি, ও! নিজের বউ। তো পেটান, যা খুশি তাই করেন। আমরা বলার কে?

আমাদের এই মানসিকতার গায়ে আঁচড় পড়ে ১৯৯৫ সালে যখন সংসদ কর্তৃক নারী ও শিশু নির্যাতন ( বিশেষ বিধান) আইনটি পাশ করা হয়। কিন্তু এই আইনটিও ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন সমস্যার মুখে লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায়, মহান সংসদ ২০০০ সালে এই আইনটি পরিমার্জন করে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার অপরাধগুলোকে বিশেষভাবে তদন্ত ও বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন পাশ করে। এই আইনে যৌতুকের জন্য সাধারণ বা গুরুতর আহতকরণসহ ধর্ষণ, ধর্ষণের প্রচেষ্টা, যৌন হয়রানী, হত্যা, অপহরণ, দহনকারী পদার্থ দিয়ে আহত করা ইত্যাদি প্রায় ১২ প্রকার অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন, ভিকটিমের জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধকরণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এই আইনের অপরাধকে জামিনের অযোগ্যও ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু, বাংলাদেশের নষ্ট সমাজে কোন আইনকেই নষ্ট করতে খুব বেশি সময় লাগে না। আইন যতই কঠিন হয়, তার অপব্যবহারও ততো বেশি হয়। এ যেন যেমন কুকুর তেমন মুগুর! মামলা হওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে শুরু করে। এক্ষেত্রে যে আসামী যত বেশি অর্থশালী, সেই আসামীর গ্রেফতারের সম্ভাবনাও ততো বেশি বেড়ে গেল।

অথচ আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধিতে কারো বিরুদ্ধে আমলযোগ্য মামলা হলেই পুলিশকে গ্রেফতার করতেই হবে এমন কোন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আইনে করণীয় বিষয়গুলোতে ইংরেজীতে `shall’ কিংবা may শব্দ দুইটি ব্যবহার করা হয়। যেমন, যে কাজটি আইনে বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে তার ক্ষেত্রে shall বা করিবে এবং যে কাজটি বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে বা শর্তসাপেক্ষে করতে হবে তার ক্ষেত্রে may বা করতে পারে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়। গ্রেফতার সম্পর্কিত এমন কোন আইন নাই যেখানে করিবে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আইন সব সময় পুলিশকে বিবেচনা শক্তি ব্যবহার বা অবস্থাগত দিক বিবেচনার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ এই বিবেচনা শক্তি প্রয়োগের সুযোগটি যেন গ্রহণই করল না। নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা মানেই হল আসামীকে গ্রেফতার করা। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে দিন মজুরের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য রইল না।

এই জন্য অবশ্য পুলিশকে এককভাবে দায়ী করা সমীচীন হবে না। মামলার বাদীপক্ষ পুলিশের প্রতি এমন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে কিংবা প্রলোভন দেখায় যাতে পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। এই সব মামলার আসামীরা সাধারণত পেশাদার অপরাধী নয়। তারা ভদ্র মানুষ না হলেও চোর-বাটপাড় নয়। তাদের খুঁজে পাওয়া পুলিশের জন্য কঠিন কিছু না। তাই, তারা পুলিশের কাছে গ্রেফতারের পক্ষে অত্যন্ত সহজলভ্য।

এদিকে বাদীপক্ষ, এজাহার করার ব্যাপারে ন্যায়-অন্যায়ের বাছবিচারের ধার ধারলেন না। কোন নারীকে নির্যাতনের দায়ে কিশোরী ননদটি থেকে শুরু করে অশিতীপর শ্বশুরকেও আসামী হতে হল। আসামীর খাতায় শুধু স্বামীর পরিবারের সদস্যরাই যুক্ত হল না, যুক্ত হল বিয়ের ঘটক, এমন কী কাজী সাহেবরাও।

বিশ বছর ঘর সংসার করার পর বৃদ্ধা মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দায়ে মারপিটের মামলা করতে থানায় আসে। যৌতুক দেওয়া, নেওয়া, চাওয়া ইত্যাদি অপরাধের সুরাহা করার জন্য যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ নামে অলাদা একটি আইন থাকলেও, আমাদের ভূক্তভোগীরা নানা বিবেচনায় সেই আইনের আশ্রয় নিতে চান। পারিবারিক ভুল বোঝাবোঝি, পরকীয়া প্রেম, বিয়ের পূর্বে অন্যদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে পছন্দ না হওয়া ইত্যাদি নিতান্তই পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে থানায় দেদারছে মামলা হওয়া শুরু হল। প্রেমিকের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হওয়া সাবালিকা মহিলার পিতৃপক্ষ থানায় এসে ছেলে পক্ষের চৌদ্দ পুরুষের নামে মামলা করতে শুরু করে।

অনেকে তর্ক তোলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি মূলত পুরুষ নির্যাতন আইনে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক বিবাহিত পুরুষই সম্ভাব্য নারী নির্যাতন মামলার আসামী। নিতান্তই সুবোধ ব্যক্তিটি স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারে। তার নামে তদন্তপূর্বক অভিযোগপত্রও দাখিল করা হতে পারে। তারা দাবি তোলেন, নারী নির্যাতন আইনতো হলই। এখন একটি পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন তৈরি করা হোক। পুরুষগণ নারীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু, নারীদেরে বিচার করা যাচ্ছে না।

অভিজ্ঞতায় দেখেছি, প্রত্যেকটি নারী নির্যাতন মামলার পিছনে এক বা একাধিক পুরুষের হাত থাকে। স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাটি যখন বাবার ঘরে ফেরত আসে তখন সে মামলা করবে কি করবে না, তার সিদ্ধান্ত নারীটি নয়, পরিবাবের পুরুষ সদস্যরা নেয়। অনেক স্থানে কিছু ঢিলা চরিত্রের মেয়ে মানুষ রয়েছে যারা পুরুষদের প্যাঁচে ফেলে নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখিয়ে স্বার্থ সিদ্ধ করতে তৎপর। এই সব মহিলার পিছনেও অন্য এক বা একাধিক পুরুষের হাত থাকে। তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে মহিলাকে ব্যবহার করে ।

এমনও দেখেছি, শরীকদের সাথে জমাজমি নিয়ে ঝগড়া হওয়ার ফলে দেবর ভাবিকে মার দিয়েছে। স্বামী তার স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এই জন্য স্ত্রী রাগ করে তার বাপের বাড়ি চলে গেছে। মহিলার ভাই মামলা করতে গেছেন আদালতে । উকিল-মোহরারগণ তাকে বোঝালেন, নারী নির্যাতনের মামলা করতে হলে মহিলার স্বামীকে আসামী করতেই হবে। কি আর করা! মহিলার নির্দোষ স্বামীকে প্রধান আসামী করে স্বামীর পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে মামলা করা হল। আমি সরেজমিনে মামলাটির তদন্ত তদারকিকালে মহিলার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তিনি বলেন, স্যার, আমি তো আমার দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। স্বামীর বিরুদ্ধে তো কোন মামলা করি নাই। স্বামী তো আমাকে নির্যাতন করে নাই। হেই তো ভাল মানুষ। অর্থাৎ মামলার বাদিনীই জানেন না তার মামলার আসামী কে কা কারা?

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনটি সত্যিই মানুষের কাছে একটি ড্রাকোনিয়ান আইনের মতো মনে হতে লাগল। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের অধীন প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার মামলা রুজু হয় যা মোট মামলার ১০-১২%। আইনটির কার্যক্রম ২০০০ সালে শুরু হলে দ্রুত এর অপব্যবহার শুরু হয়। ২০০১ সালে যেখানে ১২,৯৫৮ টি মামলা রুজু হয় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ২০০৩ সালে সেই মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০,২৪২ । অর্থাৎ এই বছর মোট মামলার ১৬% ভাগেরও বেশি ছিল নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা। আরো একটি বিষয় এখানে বিবেচনায় আনতে হবে, আর তা হল, পুলিশের খাতায় রেজিস্ট্রির বাইরেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজার হাজার মামলা রুজু হয়। এগুলোর পরিসংখ্যান পুলিশের খাতায় নেই। অর্থাৎ মামলার প্রকৃত সংখ্যা পুলিশ পরিসংখ্যানে প্রদর্শিত মামলার সখ্যার চেয়ে অনেকগুণ বেশি।

নারী ও শিশু নির্যাতনের এই সরকারি পরিসংখ্যান যে কাউকে স্তম্ভিত করার জন্য যথেষ্ঠ। ক্রমবর্ধমান মামলার হার দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করে। আমি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, সুদানে কর্মরত থাকাকালীন কমিউনিটি পুলিশিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করি। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার হেলেন নামের এক নারী পুলিশ সদস্য জেন্ডার অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিল। আমরা প্রায়ই একসাথে ফিল্ডে যেতাম। একদিন কথা প্রসঙ্গে হেলেন আমাকে বলে, তোমাদের দেশের নারীদের অবস্থা তো ভাল না। তোমাদের দেশের অপরাধ পরিসংখ্যানে তো নারী নির্যাতনের মামলা অনেক বেশি। আমি হেলেনকে প্রকৃত অবস্থা বোঝাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু, সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে আমার বেসরকারি ব্যাখ্যা হেলেনের মনপুত হয় নাই। যদিও নারী নির্যাতন আইনের সব মামলাই প্রকৃত নির্যাতন বোঝায় না; তবুও হেলেনের মতো নারীবাদীগণ জানেন ও বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের পুরুষরা মেয়েদের প্রতি যাচ্ছেতাই নির্যাতন করে।

যাহোক, এই বিপুল পরিমাণ মামলা ও তার ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতি সরকারকে চিন্তার মধ্যে ফেলে ২০০৩ সালে এই আইনটিতে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হয়। অন্যদিকে এই আইনের অধীন অপরাধগুলোর তদন্ত, গ্রেফতার, তল্লাশি ইত্যাদি কাজে নিম্নপদস্থ পুলিশ অফিসারদের লাগাম টেনে ধরা ও এর যাচ্ছে তাই ব্যবহার প্রতিরোধ করার জন্য সরকার এই আইনের মামলাগুলোর তদারকির দায়িত্বভার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারের বাইরেও পুলিশ সুপারের উপর ন্যাস্ত করেন। এই ভারের কিছু অংশ পুলিশ সুপার আবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর অর্পণ করলেন। নিয়ম হল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুজুকৃত মামলার কোন আসামী গ্রেফতারের পূর্বে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদারককারী কর্মকর্তা অর্থাৎ পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে পরবর্তী বছরেই মামলার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশত কমে যায়। কিন্তু, পর পর কয়েক বছর মামলার সংখ্যা কমতে থাকলেও ইদানীং তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০১১ সালে শেষে এই সংখ্যা আবার ১৯,৬৮৩ টিতে উন্নীত হয়েছে।

আইনের সংস্কার ও মামলা তদন্তের তদারকি বৃদ্ধির ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলা নেওয়া বন্ধ না হলেও, যাচ্ছেতাই গ্রেফতারের প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশ কর্তৃক আইনের অপপ্রয়োগের মাত্রা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু, বাদী বা সমাজের মানুষ কর্তৃক এই আইনের অপপ্রয়োগের হার কিন্তু আগের মতোই রয়েছে। কোন নারী বা তার অভিভাবকগণ যদি মনে করেন যে কোন পুরুষের, বিশেষ করে, স্বামীপক্ষের বিরুদ্ধে তারা লঘু অপরাধের জন্য গুরুতর মামলা করবেন, সেটা তারা নির্বিঘ্নে এখনও করতে পারেন। কারণ, আমাদের ফৌজদারি আইনে মামলা রুজুর পূর্বে কোন আমলযোগ্য ফৌজদারি অভিযোগ বা অপরাধের খবরকে মিথ্যা গণ্য করার এখতিয়ার পুলিশকে দেওয়া হয় নাই।

তবে এর অপব্যবহার রোধের জন্য কী পুলিশের কিছুই করার নেই? অবশ্যই আছে। কোন আইন তৈরি হলে তার যে অপপ্রয়োগ হতে পারে তা আইন তৈরিকারি সংসদ অবশ্যই জানেন। তাই এর সম্ভাব্য অপপ্রয়োগ রোধ করার প্রচেষ্টা শংশ্লিষ্ট আইনে মিথা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথক ধারার সংজোযন করা হয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় এই আইনের অধীন মিথ্যা মামলা রুজুর শাস্তি রয়েছে। এমনি ভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় এই আইনের অধীন মিথ্যা মামলা রুজুর অপরাধে সাত বছরের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ অফিসারদের উচিৎ হবে এই ধারাটির যথাযথ প্রয়োগ করা।

ধর্ষণ, ধর্ষণের প্রচেষ্টা বা শ্লীলতাহানীর মতো বিষয়গুলো ছাড়া অন্যান্য অপরাধগুলোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধগুলোকে সাধারণ শ্রেণির অপরাধ থেকে বহুলাংশে পৃথক। চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই ইত্যাদি চিরায়ত অপরাধ পরিকল্পিত টহল, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার বা মুচলেকা গ্রহণ ইত্যাদি সনাতনী পুলিশিং কৌশল অবলম্বণ করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কিন্তু, যৌতুকের দায়ে মারপিট, স্বামী-শ্বাশুড়ি-ননদ-দেবর কর্তৃক গৃহবধুদের নির্যাতন প্রতিরোধের উপায় বা এর জন্য রুজুকৃত মামলার সংখ্যা কমানো এই জাতীয় কৌশল অবলম্বণে সম্ভব নয়। অধিকন্তু, এই আইনের অধীন অপরাধগুলোর একটি সামাজিক মাত্রা থাকায় সমাজের সংস্কার ছাড়া এর সঠিক সুরাহা হতে পারে না। তবে পুলিশ অফিসারগণ উপরিউল্লিখিত কৌশল প্রয়োগ করে এর কিছুটা লাগাম টেনে ধরতে পারেন। আর এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পুলিশকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পণা গ্রহণ করতে হবে । একমাত্র কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমেই সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পণা বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।