ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দর্শনে বিশ্বাস স্থাপন ও ব্যাপক প্রচারঃ
কমিউনিটি পুলিশিং একটি দর্শন বা মতবাদ। যেমন কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম কিংবা সুখবাদ, দুঃখবাদ ইত্যাদি এক্‌ একটি দার্শনিক মতবাদ, অপরাধ নিবারণের ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংও একটি মতবাদ। তাই কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনে বিশ্বাসী না হলে কারও পক্ষে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ দর্শন সম্পর্কে সঠিক ধারণালাভ ও তা বিতরণের প্রাথমিক দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের কৌশলগত নির্দেশনায় কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে কমিউনিটি পুলিশিংকে তাদের পুলিশিং দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই কোন পুলিশ অফিসারের ব্যক্তিগতভাবে এর বিরোধিতা করার কোন অবকাশই নেই। তারপরও যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনে বিশ্বাসী না হয়ে থাকেন, তবে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা দরকার। এক্ষেত্রে তাকে এমন সব পদের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে যেখানে কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন বাস্তবায়নের বিষয়টি গৌণ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃপক্ষের উচিত হবে তাদের সিআইডি, RAB, টেলিকমিউনিকেশন, আইসিটি বা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিভাগ/ইউনিটে পদায়ন করা। কেননা কমিউনিটি পুলিশিং মন ও মগজের যুদ্ধ। এই দর্শনে বিশ্বাসী না হলে তা নিজেরাও বাস্তবায়ন করতে পারবেন না এবং অন্যকে দিয়ে তা বাস্তবায়নও করাতে পারবেন না।

কোন নতুন দর্শনের প্রচার ও প্রসারের উপরই এর বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভর করে। কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যতিক্রম নয়। তাই এর ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা সিনিয়র পুলিশ অফিসারদেরই করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং একটি উদীয়মান দর্শন। এর পরিপূর্ণতা এখনও আসেনি। প্রতিনিয়ত এর পরিবর্তন হচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ও কার্যকরিতা সম্পর্কে এখনও ব্যাপক গবেষণা চলছে। তাই প্রচারের ক্ষেত্রে দর্শনের সর্বশেষ উন্নত অবস্থাটিকে গ্রহণ করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনেক বিকৃত হয়ে গেছে। দর্শনের উপর কোন প্রকার তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন ছাড়াই কোন কোন সিনিয়র পুলিশ অফিসার তার সংকীর্ণ ধারণাটি প্রচার ও প্রসারে উদযোগী হয়েছেন। তাই সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের প্রকৃত দর্শনটি প্রচারের দিকেই দৃষ্টি দিতে হবে।

কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন প্রচারের জন্য এর উপর ব্যাপক সংখ্যায় সাহিত্য সৃষ্টি করতে হবে। পুলিশিং দর্শনের উপর বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলে তেমন কোন গবেষণা বা লেখালেখি নেই। একমাত্র মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও পুলিশ সাইন্স পড়ানো হয় না। কিন্তু এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিও এক্ষেত্রে তেমন কোন গবেষণা কর্ম হাতে নিতে পারে নি। এমতাবস্থায়, পুলিশ অফিসারদেরই সাহিত্য সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে।

বিভিন্ন প্রকার প্রচার পত্র, বিজ্ঞাপন, কেবল টিভিতে স্থানীয়ভাবে প্রচারসহ বিভিন্ন প্রকার কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে আন্তর্ব্যক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারই হল সব চেয়ে বেশী কার্যকর। এজন্য স্থানীয়ভাবে পুলিশ অফিসারদের নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন বাস্তবায়নে পুলিশই যেহেতু অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তাই পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কমিউনিটি সদস্যদেরও শিক্ষা দিতে হবে । এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণে কমিউনিটি সদস্যদেরও অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। বাংলাদেশ পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলো এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।