ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

২. কর্মকৌশল নির্ধারণ করা
কমিউনিটি পুলিশিং একটি সাংগঠনিক কর্মকৌশলও বটে। কোন সংগঠনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপরই বর্তায়। বর্তমানে সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকাণ্ড অনেকটা সমন্বয়হীন বা বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এক ইউনিটের কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকাণ্ডের সাথে অন্য ইউনিটের কর্মকাণ্ডের রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য গ্রহণীয়। কিন্তু দর্শনের মৌল বিষয়গুলোর বিচ্যূতি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী পুলিশ অফিসার ও কমিউনিটি নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে। বলা বাহুল্য, ইতোমধ্যেই এই শ্রেণির সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। অনেক জেলায় পুলিশ অফিসারগণ কমিউনিটি সদস্যদের গায়ে উর্দি তুলে দেওয়ার পক্ষেও মত দিচ্ছেন। অনেক স্থানে কিছু কিছু লোক কমিউনিটি পুলিশিংকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে রীতিমত ইউনিফর্ম ও র্যাংক ব্যাজ পরে নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করছেন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এদের কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন না করলেও এদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।

এমতাবস্থায়, সিনিয়র পুলিশ নেতৃত্বের উচিত পুলিশ সংস্কার কর্মসূচির সহায়তায় ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কমিউনিটি পুলিশিং এর জাতীয় কর্মকৌশল ও কমিউনিটি পুলিশিং ম্যানুয়েলের দ্রুত সরকারি অনুমোদন গ্রহণ করে এই ডকুমেন্ট দুইটি তৃণমূল পর্যায়ে বিতরণ করা এবং এই কর্মকৌশলের সাথে অসংগতিপূর্ণ কমিউনিটি পুলিশিং বলে চালিয়ে দেওয়া সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া। অধিকন্তু, এই কর্মকৌশল মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করাও জরুরী। কর্মকৌশল বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় দিক নির্দেশনা স্থানীয় সিনিয়র পুলিশ অফিসারদেরই তৈরি, বিতরণ ও বাস্তবায়নের ভার নিতে হবে।

৩. স্থানীয়ভাবে নীতি নির্ধারণ, নির্দেশনা জারি ও বাস্তবায়নে তৎপরতা
পুলিশ বিভাগ একটি বড় আমলাতন্ত্র। শত বছরের ইতিহাস রয়েছে এর। এত বছরের পরিক্রমায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কাজকর্ম, চিঠিপত্র আদান প্রদান, নির্দেশ দান, আদেশ গ্রহণ ইত্যাদি সম্পর্কে এই বিভাগে একটি সুনির্দিষ্ট ও অলঙ্ঘণীয় কর্মপদ্ধতি তৈরি হয়েছে। তাই কোন পুলিশ অফিসার তার অফিসের দৈনন্দিন কাজের ঐতিহাসিক ফিরিস্তি অফিসে বসার সাথে সাথেই পেয়ে যান। তার অধীনস্তরা তাকে প্রতি মুহূর্তেই পূর্বে অনুসৃত নিয়মকানুন সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেও তার কাজটিকে সহজ করে তোলেন। সিআরপিসি, পিআরবি, সরকারি গেজেট, পুলিশ অর্ডার ইত্যাদি মিলে সনাতনী পুলিশিং কর্মকে অনেকটা সহজ ও গৎ বাঁধা নিয়মের ধাঁচে ফেলে দেয়।

কিন্তু, কমিউনিটি পুলিশিং একটি নতুন দর্শন ও কর্মকৌশল হওয়ায় এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে পুলিশ বিভাগে তেমন কোন দিক নির্দেশনা বা সরকারি প্রচারপত্র/নির্দেশপত্র নেই। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু করলেও বাংলাদেশ পুলিশ মূলত ২০০৬/০৭ সাল থেকে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন সরকারিভাবে শুরু করেছে। ২০০৮-১০ বছরের জন্য প্রথম কৌশলপত্র ভিন্ন পূর্বের অন্য কোন সরকারি ডকুমেন্টে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নকে বাংলাদেশ পুলিশ অন্যতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেনি। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিস ম্যানুয়েল বা কমিউনিটি পুলিশিং এর জন্য জাতীয় কর্মকৌশল এখন পর্যন্ত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয় নাই। এআইজি (ক্রাইম-১) এর অফিস হতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টারের মাধ্যমে কিছু সার্কুলার বা নিদেশই হল বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা।

এমতাবস্থায়, মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জুনিয়র অফিসারদের দিকনির্দেশনা প্রদান বা নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানী মন নিয়ে কাজ করতে হবে। যেহেতু, নিম্ন পর্যায়ের সমস্যাগুলো অতিমাত্রায় আঞ্চলিক, তাই এগুলোর সমাধানও আঞ্চলিক মাত্রার হতে হবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটি মাত্র আদেশ বা নির্দেশ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন অসম্ভব। তাই, স্থানীয় পর্যায়ে যাবতীয় নির্দেশনা স্থানীয় পুলিশ ইউনিট সমূহের সিনিয়র অফিসার দ্বারা তৈরি করতে হবে । এক্ষেত্রে সিনিয়র অফিসারদের একই সাথে নীতি নির্ধারণ, নির্দেশনা তৈরি ও তা বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ কমিউনিটি পুলিশিং এ বামের পাতায় কিছু নেই। সিনিয়র অফিসারদের বামের পাতা তৈরি করতে হবে।