ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ঘুষ ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ এলেই বাংলাদেশের মানুষের মানসপটে যে সরকারি কর্মচারীদের চেহারা ভেসে ওঠে, তারা হল পুলিশ। ইতিহাসের আদ্যিকাল থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত ঘুষের প্রতিমূর্তি হিসেবে পুলিশ মানুষের ঘৃণা, অনাস্থা, অসহযোগিতা ও অচ্ছুতপনা মহাদেবের মতো গরলসম কন্ঠে ধারণ করেছে। কিন্তু মানুষের বিচারে দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত পুলিশ আর যাই হোক, মহাদেবের মতো নীলকন্ঠ হতে পারে নি। তারা সভা-সমিতি, মিছিল-মিটিং, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম — সব স্থানেই থাকে অনুচ্চকন্ঠ। কারণ, চোরের মায়ের বড় গলা থাকতে নেই!

কিন্তু, দুর্নীতি সম্পর্কে গণমানুষের ধারণা পূর্বসংস্কার প্রসূত এবং অতিশয় সারল্য দোষে দুষ্ট। তারা চোখের সামনে যা দেখেন, কানে যা শোনেন, তার বাইরে খুব কমই চিন্তা করেন। অন্যদিকে, খবরের কাগজে প্রকাশিত খবরকেও তারা বিশ্লেষণ করতে অভ্যস্ত নন। তাই তাদের সামনে মলিন চেহারার ট্রাফিক কনস্টেবল কর্তৃক বাসের ড্রাইভারের কাছ থেকে দুই টাকা বখশিস নেওয়াই হল আলোচিত দুর্নীতি; থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক কোন নিরীহ কৃষককে হয়রানী করা হল বড় ক্ষমতার অপব্যবহার।

শুল্ক বিভাগের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষ বোঝে না, প্রকৌশল বিভাগে কি হয় গণমানুষ তার খবরই রাখেন না। বন বিভাগের কোন কর্মকর্তা যে অবৈধ অর্থের পাহাড় জমাতে পারেন, সাধারণ মানুষ তা জানেন না। তাই ঘুষ বলতে তারা পুলিশ কর্তৃক গ্রহণ করা উপরি পাওয়া অর্থকেই বোঝেন। পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ ঘুষ গ্রহণ করেন কিংবা পুলিশ ছাড়া অন্য কারো উপরি পাওনা যে ঘুষ-দুর্নীতির পর্যায়ভূক্ত তা অনেকেই মনে করেন না।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত
ক্রমিক নং————————- বিভাগ/খাতের নাম————————- শতকরা হার

১————————- পুলিশ————————- ২৫.৫১

২————————- স্বাস্থ্য————————- ২১.৫২
৩————————- ভূমি প্রশাসন————————- ১১.১০
৪————————- বিচার বিভাগ————————-১০.৭৯
৫————————- বিদ্যুৎ————————- ৬.৪০
৬————————- ব্যাংক————————- ৪.৮৫
৭————————-শুল্ক————————- ১.৫৬
৮————————-কর————————- ০.৯০
৯————————-টেলিফোন————————- ০.৩৯
১০————————- এনজিও————————- ১.৯৮
১১————————- ডাক ————————- ০.১২
১২————————- অন্যান্য————————- ১.২২
১৩ রেল ওয়ে ০.৩০

উৎসঃ করাপশন ইন বাংলাদদেশঃ এ হাউজ হোল্ড স্টাডি-২০০২ টিআইবি

কিন্তু সমপ্রতি জার্মান ভিত্তিক বেসরকারি আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ অফিসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে যে সিদ্ধান্তে উপণিত হয়েছে তাতে ঘুষ ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ঐতিহ্যবাহী শীর্ষ স্থানটি খোয়াতে বসেছে। টিআইবি ২০০০ সালে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল তাতে বাংলাদেশকে প্রথম বারের মতো দুর্নীতির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ স্থানে উঠে আসে। ঐ সময় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির মধ্যে পুলিশকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হয়। টিআইবি এর সেই সময়ের গবেষণা ছিল শোনা কথার উপর; পূর্বসংস্কার প্রভাবিত। কারণ, আমাদের বাপ-দাদারা যে পুলিশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে জন্ম-জন্মান্তরে জেনে এসেছেন, দুর্নীতিবাজ হিসেবে তাদেরকে দ্বিতীয় সারিতে স্থান দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু ২০০০ সালের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। প্রচার মাধ্যমের স্বচ্ছতা, মান ও সচেতনা যেমন বেড়েছে, টিআইবিও তেমনি একমাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক ডাটা সংগ্রহের দিকেও মনোনিবেশ করেছে। ‘‘আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ’’ নামের এই সংগঠনটি স্বচ্ছতর হতে গিয়ে পুলিশের জন্য নির্ধারিত শীর্ষ অবস্থানটিকে নড় বড়ে করে তুলেছে। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত তো দূরের কথা বাংলাদেশ পুলিশ এখন আর দুর্নীতির ক্রম-তালিকায় তার নামটি পর্যন্ত রাখতে পারছে না। কিন্তু কিভাবে?

সরকারের পক্ষে যারা অর্থ রোজগার করেন কিংবা সরকারের পক্ষে অর্থ ব্যয় করেন সাধারণতঃ তারাই সরকারি অর্থে পিতৃশ্রাদ্ধ করতে পারেন। সরকারি সেবা খাত– যেমন ব্যাংক, বীমা, ডাক, তার, টেলিফোন, ট্যাক্স, আবগারী শুল্ক, রেল, সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি বিভাগ সরকারের পক্ষে রেভিনিউ সংগ্রহ করে কিংরা সরকারের পক্ষে অর্থ ব্যয় করে। অর্থাৎ এই সব বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সরকারি ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে এই সব দপ্তর ও পরিদপ্তর/বিভাগ জড়িত। তাই এই সব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরাসরি পকেটস্থ করা কিংবা সরকারের ঘরে লাল বাতি জ্বালিয়ে বেসরকারি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পারসেনটেজ নিতে পারেন বা তাদের পক্ষে দুর্নীতির বখরা বাগানো সম্ভব।

গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে ইংরেজী দৈনিক দি ডেইলী স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০০৩ সালের জুলাই হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত– ছয় মাসে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ২২৫ কোটি টাকার পিতৃ শ্রাদ্ধ করেছে। প্রশ্ন হলো, ৩৬ টি খাত/বিভাগের কর্মচারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া এই ২২৫ কোটি টাকার কত অংশ কার পকেটে গেল? রিপোর্টে প্রকাশ, যোগাযোগ খাতের ব্যক্তিরা দুর্নীতি করেছেন সর্বাধিক। তাদের ভাগে পড়েছে ৩২.৮% ভাগ। অন্যান্য খাতের মধ্যে খাদ্য বিভাগ ১৮.৮%, কর বিভাগ ১৬.৩% এবং বাকী ৩২.৯% ভাগ অর্থ গেছে বাকী ৩৩ টি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। বাকী ৩৩% ভাগ অর্থের মধ্যে পুলিশ কতটুকু পেয়েছে তা স্পষ্ট করে বলা হয় নি। তবে পুলিশের ভাগে যে খুব বেশী পড়েনি তা সহজেই অনুমান করা যায়।

টিআইবি’র করাপশন ডাটাবেজ/০৫ বিভিন্ন বিভাগ/খাতের আর্থিক দুর্নীতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২৬ কোটি ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৫১৫ টাকা যার মধ্যে কেবল স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির পরিমাণ ছিল ২০৮ কোটি ০৯ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ টাকা যা দেশের মোট দুর্নীতির অর্থের প্রায় ৪০%। প্রিয় পাঠক, এই করাপশন ডাটাবেজের হিসেব মতে পুলিশ যত টাকার দুর্নীতি করেছিল তার পরিমাণ হল ০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫০ টাকা এবং শতকরা হিসেবে তা মোট দুর্নীতির শতকরা ০.৩২ ভাগ মাত্র। অর্থাৎ টিআইবি এর হিসেব মতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশের দুর্নীতিবাজ সদস্যগণ সবাই মিলে দেশের মোট দুর্নীতির অর্থের মধ্যে শতকরা মাত্র ৩২ পয়সা নিজেদের পকেটে ঢুকাতে পেরেছিল। ২০৮ কোটি টাকার তুলনায় পুলিশের এই অংশ ভিক্ষা বৃত্তির সাথে তুলনা করাই বাঞ্ছনীয়। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরতের কুয়াশা-রৌদ্র-বৃষ্টি-বাদল রক্ত-মাংসের শরীরে প্রতিবাদহীনভাবে ধারণ করে চৌরাস্তার মোড়ে ১০/১২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালনকালীন কোন ট্রাফিক কনস্টেবল যাত্রীবাহী বাসের ড্রাইভার বা হেলপারের দিকে ঘর্মাক্ত হাত প্রশস্ত করে যে পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে, সেই উৎকোচের অর্থের অংক একই চৌরাস্তার মোড়ে মাটির শানকি হাতে ভিক্ষারত ভিক্ষুকটির দৈনিক উপার্জনের চেয়ে কোন ভাবেই বেশী হবে না।

টিআইবি’র করাপশন ডাটাবেজ/০৫ বিভিন্ন বিভাগ/খাতের আর্থিক দুর্নীতির পরিমাণ
ক্রঃনং মন্ত্রণালয়/বিভাগ/খাতের নাম দূর্নীতির পরিমাণ(টাকা) শতকরা হার
১ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ২০৮ কোটি ০৯ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ ৩৯.৫৪
২ বিদ্যুৎ বিভাগ ৬৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৭ ১২.৯১
৩ বন বিভাগ ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯১ ১২.৭৭
৪ বেসরকারি খাত(এনজিও ছাড়া) ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৬২ ০৬.৫৩
৫ অর্থ খাত ৩৩ কোটি ০২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৮৭ ০৬.২৭
৬ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর ২১ কোটি ০৭ লাখ ০৪ হাজার ৪২২ ০৪.০০
৭ যোগাযোগ খাত ২০ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৬ ০৩.৮৪
৮ ভূমি ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ০৭২ ০৩.৪৫
৯ শিক্ষা ০৬ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ ০১.২৬
১০ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ০৬ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৫ ০১.১৭
১১ পুলিশ ০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫০ ০০.৩২
১২ অন্যান্য ৪৩ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ২৬৬ ০৮.২০
সর্বমোট= ৫২৬ কোটি ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৫১৫
সূত্রঃ দৈনিক যায় যায় দিন (০৬/০৭/০৬)

অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত প্রণীত বাংলাদেশে কালো টাকা ও এর উৎস নামক গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে ২০০৪ সালে দুর্নীতির আর্থিক পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা। ১৯৯১ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। ৭০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৮ হাজার কোটি টাকা বৈধ আয় উদ্ভূত এবং মাত্র ০৪ হাজার কোটি টাকা নিরেট ঘুষের মাধ্যমে আহরিত। আবুল বারাকাতের মতে মোট দুর্নীতির মধ্যে ঘুষ হল মাত্র ৫.৭%। কেবল পুলিশই ঘুষ খায় আর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প-পরিচালকরা ধোয়া তুলশীর পাতা— নিশ্চয় এমনটি কেউ বিশ্বাস করবেন না। তাই ৭০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে(৫.৭% ) পুলিশের ভাগে কত টাকা এসেছে সচেতন মানুষ তা সহজেই অনুমান করতে পারবেন। তাছাড়া টিআইবি এর রিপোর্টে আর্থিক বিবেচনায় দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান বা খাত গুলোর মধ্যে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে পুলিশ বিভাগ কখনো শীর্ষ স্থানে উঠে আসে নি। ২০০৪ সালের টিআইবি এর রিপোর্টে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি), ২০০৫ সালের রিপোর্টে যোগাযোগ খাতকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত কথিত ২০০৪ সালে দেশে দুর্নীতির খাতওয়ারী পরিমাণ

ক্রঃ নং দুর্নীতির খাত পরিমাণ(কোটি টাকা)
১ আবগারী শুল্ক ২৫ হাজার
২ ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংক,বীমা,শিল্প প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির ট্যাক্স ফাঁকি ১৬ হাজার
৩ আয়কর ফাঁকি ০৭ হাজার
৪ আমদানী রপ্তানি শুল্ক ফাঁকি ০৬ হাজার
৫ ভ্যাট ফাঁকি ০১ হাজার
৬ স্ট্যাম্প,ভূমিকর,নিবন্ধন ফাঁকি ০১ হাজার
৭ চোরা চালান ০৮ হাজার
৮ ঘুষ ০৪ হাজার
মোট— ৭০ হাজার
সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক,১৩ মে/২০০৪

পুলিশকে বাংলাদেশের মানুষ যত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে, বিদেশীরা কিন্তু ততো বেশী দুর্নীতিবাজ বলে মনে করেন না। কারণ, বিদেশীরা, যারা বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মিশনে কাজ করেন কিংবা বাংলাদেশে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, পুলিশ সম্পর্কে তাদের পূর্বসংস্কার নেই। তারা আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার উপর সাধারণ ধারণা পোষণ করেই আমাদের বিভিন্ন খাতকে পর্যালোচনা করেন। অধিকন্তু, বিদেশী দাতারা এখন পর্যন্ত পুলিশের উন্নয়নে খুব বেশি অর্থ খরচ করেননি কিংবা পুলিশের উন্নয়নমূলক কোন প্রকল্পের কোন টেন্ডার প্রতিযোগিতাতেও তারা অংশ গ্রহণ করেন নি। তা ছাড়া পুলিশের কোন যন্ত্রপাতি বা যান বাহন কেনার জন্য যে অর্থ খরচ হয় বা টেন্ডার আহ্বান করা হয় সেখানে পুলিশ সদস্যদের খুব বড় ভূমিকা নেই। তাই আর্থিক দুর্নীতির ব্যাপারে বিদেশী দাতারা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়কারীদের চরিত্র ভাল ভাবেই পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। আর এজন্য বিশ্বব্যাংকের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ওয়ালিচকে বিদ্যুৎ খাত সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্থ খাত বলে মন্তব্য করতে এবং দুর্নীতি সম্পর্কে প্রকাশ্য সেমিনারে তৎকালে জনৈক মন্ত্রীর সাথে বির্তক করতেও দেখা যায়।

তাহলে পুলিশের এত দুর্নাম কেন? টিআইবি এর রিপোর্টে এর কারণও দেয়া আছে। মানুষ যেমন কেবল পুলিশের দুর্নীতির খবর নিয়ে যাবর কাটে, তেমনি পত্রিকাগুলো পুলিশের দুই টাকার ঘুষ নিয়ে বড় বড় রিপোর্টও তৈরি করে। তাই, টাকার অংকে নয়, ঘুষের ঘটনার দিক থেকে পুলিশ অগ্রগামী বটে। কারণ, টিআইবির রিপোর্ট অনুসারে ওয়াসার কোটিপতি ড্রাইভারের দুর্নীতির ঘটনা আর ট্রাফিক কনস্টেবলের দুই টাকা ঘুষ খাওয়ার ঘটনা একই পাল্লায় মাপা হয়। তবে দুর্নীতির ঘটনার সংখ্যার ক্ষেত্রেও পুলিশ খুব একটা বেশি এগিয়ে নেই। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর গুলোর সাংখ্যিক বিচারে পুলিশ ১৫.১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে পুলিশকে প্রায় ধরে ধরে অবস্থা। এর পর শিক্ষা বিভাগ রয়েছে ১০.৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ও ১০.১০ পয়েন্ট নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ চতুর্থ স্থানে।

দূর্নীতির ঘটনার সংখ্যার শতকরা হার
ক্রমিক নং খাতের নাম শতকরা হার
১। পুলিশ ১৫.১৮
২। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১২
৩। শিক্ষা বিভাগ ১০.৪
৪। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা ১০.১

টিআইবি এর রিপোর্টের প্রাথমিক ডাটাগুলো ক্রমেই পুলিশকে দুর্নীতিতে পিছনের সারিতে ঠেলে দিচ্ছে। গত ২০০৬ সালের মে মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে টিআইবি যে রিপোর্ট তৈরি করে তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ মাথা পিছু প্রতি বছর ৬৪১ টাকা করে ঘুষ প্রদান করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে বৎসরে থানা গুলিতে ঘুষ ১৫০০ কোটি টাকা, নিম্ন আদালত ১৪০০ কোটি টাকার মতো। ভুমি রেজিষ্ট্রেশন ও ভূমি খারিজ করতে গিয়ে যে ঘুষের লেন দেন হয়, তার অংক পুলিশকে প্রদত্ব ঘুষের অংক থেকে অনেক বেশি।

তথ্যগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, টিআইবি পুলিশকে শীর্ষে নিয়ে আসার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। পুলিশের ঘুষের পরিমাণ নিম্ন আদালতের ঘুষের পরিমাণের চেয়ে সামান্য উপরে। কিন্তু ভূমি রেজিষ্ট্রেশন ও ভূমি খারিজকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে। অথচ বিষয়টিকে পৃথকভাবে দেখানোটা সঠিক নয়। ভূমি রেজিষ্ট্রেশন ও খারিজের কর্মচারীগণ আসলে একই শ্রেণীর কর্মকর্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পুলিশকে ঢালাও ভাবে ঘুষ খোর বলাও বড় অন্যায়। কারণ, পুলিশের সিনিয়র লেভেলে খুবই কম সংখ্যক লোক কাজ করে। পুলিশের এক লক্ষ ৪৫ হাজার সদস্যের মধ্যে শতকরা তিরানব্বই ভাগ হয় কনস্টেবল নয়তো কনস্টেবল পদে ভর্তি। অধীনস্তদের নিয়ন্ত্রণ, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত, তদন্ত তদারকী, আসামী গ্রেফতার, খানা তল্লাশী ইত্যাকার পুলিশী কাজের সাথে সরাসরি জড়িত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা তাদের মোট সংখ্যার অতি সামান্য। পুলিশ লাইন্সে বসবাসকারী নায়েক, হাবিলদার, সুবেদারদের কে ঘুষ দিতে আসবে? রিজার্ভ ফোর্স বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের অপারেশনাল কার্যক্রম নেই। থানায় কর্মরত সেন্ট্রি ডিউটি করা গোবেচারা কনস্টেবলটি কতটা দুর্নীতি করতে পারে? তাছাড়া এত বড় একটি সংগঠনে প্রকৃত সৎ লোক এক জনও নেই—– এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। পুলিশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিটি থেকে নিম্ন স্তর পর্যন্ত অনেক সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি আছেন যারা অন্যদের কাছে অনুশরণীয় চরিত্রের অধিকারী। অথচ ঘুষ-দুর্নীতির অপবাদ দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা এ সবের কাউকেই বাদ দেই না। অনেক সরকারি দফতর আছে যেখানে কর্মরত মাত্র দুই হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারের কয়েক শত কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে বলে জন সম্মুখে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত দিয়েছে। তাদের মধ্যে আবার ১৬৭ জনই কোটি পতি হয়েছেন ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে। অনেক অফিসের পিওন, সিবিএ নেতা এবং দারোয়ানগণ পর্যন্ত বিপুল অর্থের মালিক বনে যান। সেখানে কর্মরত প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিই দুর্নীতির সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে দশ থেকে বার শতাংশের বেশী সদস্য দুর্নীতির সুযোগই পায় না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে যদি সৎ বলতে পারি, তাহলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত পুলিশের কনস্টেবলকে কোন যুক্তিতে অসৎ ভাবতে হবে?

এবার দেখা যাক ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কে কিভাবে খরচ করেন। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজ পকেট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ খরচ করতে হয় একমাত্র পুলিশ বিভাগের কর্মচারিদেরকেই। পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টরের তদন্তের ব্যয়, আসামী গ্রেফতেরের খরচ, পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ পরিবহনের ব্যয়, প্রতি মাসে পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অবস্থিত আদালতে মামলার সাক্ষ্য দেয়ার জন্য যাতায়াত ইত্যাদি হাজারো কাজে ঘুষের মাধ্যম অজিত অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু শিক্ষা ভবনের একজন কেরানী বা শুল্ক বিভাগের একজন পিয়ন তার ঘুষের অর্থে বাধ্যতামূলক ভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন বলে আমাদের জানা নেই। কেবল পুলিশ বিভাগের কর্মচারীগণই গরু মেরে গুরুকে জুতো দান করেন। এমন ঘটনা বিরল নয় যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানায় রক্ষিত সর্বাধিক পরিচিত জিডি বই খানাও ঘুষের টাকায় তৈরি করে থাকেন ( বর্তমানে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে)। কোর্টে কর্মরত পুলিশগণ নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে বিভিন্ন ধরণের রেজিস্টার পত্র কিনেন। এমনকি আদালতের অর্ডার শীট পর্যন্ত তাদের নিজ অর্থে কিনতে হয় বলে পত্রিকায় মাঝে মধ্যেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে অনেকে এক কাপ চা প্রত্যাশা করেন। থানায় আগত ব্যক্তিদের আপ্যায়ণের জন্য উপর থেকে নির্দেশনাও আসে। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপ্যায়ণের ব্যয় কোথা থেকে মেটাবেন তার কোন নির্দেশনা নেই।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জার্তীয় টাস্কফোর্সের এখনই সময় কর্র্মসূচী দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত সমূহকে চিহ্নিত করেছিল । তাদের শনাক্ত মতে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত আটটি খাতের মধ্যে শীর্ষ স্থানটি দখল করেছিল বে-সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অন্য সাতটি খাত ছিল–ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডেসা), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও যশোরের বেনাপোল কাস্টমস। উল্লেখ্য টাস্কফোর্সের তালিকায় বাংলাদেশ পুলিশের কোনই স্থান মেলেনি (দৈনিক ডিসটিনি ২৮/১০/০৭)

সেই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের যে তালিকা তৈরি করেছিল তার মধ্যে একাধিক রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বন রক্ষক কর্মকর্তা, সাংবাদিক-সম্পাদক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক নেতা, ব্যাংকের সিবিএ নেতা এমনকি তিতাস বা পিডিবির মিটার রিডারের নামও ছিল। কিন্তু দুদকের ১৭৭ জন তালিকাভূক্ত দুর্নীতিবাজের মধ্যে একজন মাত্র পুলিশ অফিসার ঠাঁই পেয়েছিল। (বাংলাদেশ নিউজ.কম.বিডি অক্টোবর ০৫/০৭)। কথা হল পুলিশ যদি জনগণের বিচারে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হয়েই থাকে তবে তালিকায় মাত্র একজন পুলিশ অফিসার স্থান পেলেন কেন? প্রকৃতপক্ষে, জনগণ দুর্নীতির প্রত্যক্ষ শিকার হলেও দুর্নীতির মাত্রা বা আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। দুর্নীতির জগৎকে যারাই উল্টে-পাল্টে দেখেছেন তারাই দুর্নীতির আখড়াটি পুলিশ ভিন্ন অন্যান্য খাতেই আবিষ্কার করেছেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যাবলী বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিতর্কের জন্ম দিলেও এই সময়ের ঘটনাবলী আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অজানা তথ্যাবলীর দ্বার উন্মোচন করেছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এমন সব তথ্য বের হয়ে এসেছিল যার ধারণা পূর্বে আমাদের অনেকেরই ছিল না। বন রক্ষক কর্তৃক টাকা দিয়ে বালিশ বানান, সচিবালয়ের কেরানী কর্তৃক গুলশান-বনানীতে বাড়ি বানান, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে পথে বসিয়ে সিবিএ নেতাদের মার্সিডিস গাড়ি হাঁকার রূপ-কথা কেবল ১/১১ এর বদৌলতে সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে। মানুষ এখন জানতে পেরেছে পুলিশকে পণ্য হিসেবে প্রদর্শন করে পুলিশ ভিন্ন অন্য ব্যক্তিরা কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে থাকে। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেবল পুলিশই ঘুষ নেয় না, মামলার বিচার পেতে গিয়ে অন্যান্য স্থানেও ঘুষ দিতে হয়। পুলিশকে শয়তান ভাবলেও অন্যদের ফেরেস্তা ভাবার কোন যৌক্তিক কারণ ভূক্তভোগী মানুষ আর খুঁজে পান না।

বাংলাদেশের মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয়, অথচ উৎকোচ দিয়ে কাজ আদায় করতে হয় না— এমন কোন অফিস মানুষের ধারণার মধ্যে নেই। নতুন তথ্য জানার ফলে সাধারণ মানুষ আজ দেশকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। মানুষ জেনেছে, পুলিশ আসলে পচে-যাওয়া এই সমাজেরই একটি অংশ মাত্র। যে সমাজের গোটা শরীরেই দুর্নীতির ক্ষত সেখানে কেবল পুলিশকে দোষারোপ করাটা সঠিক নয়। কিন্তু তাই বলে পুলিশকে দুর্নীতির অতলে রেখে দিতেও দেশবাসী রাজি নয়। এ কথা সঠিক যে, অসংখ্য সীমাবদ্ধতার মাঝে পুলিশকে কাজ করতে হয়; কিন্তু এ কথাও সঠিক যে পুলিশের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা সীমাহীন। পুলিশের প্রয়োজনীয়তা বিকল্প উপায়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। পুলিশকে মানুষ সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ঘুষ-দুর্নীতি ও অপরাধের নিবারক বলে ভাবতে পছন্দ করে। সমাজে সংঘটিত অনেক অপরাধের খবর অপরাধী ও ভূক্তভোগীরা ছাড়া অন্য কেউ জানে না; অনেক অপরাধের খবর থানা-পুলিশ পর্যন্ত আসে না; অনেক অপরাধের জন্য থানায় নিয়মিত অভিযোগ রুজু হয় না। যে সব অপরাধের জন্য নিয়মিত মামলা হয়, তাদের প্রায় অর্ধেকের ফয়সালা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে পুলিশ অফিসার নিজেরাই দিয়ে দেন। বাকী যে সামান্য সংখ্যক অপরাধের বিচারের ভার আদালতের উপর পড়ে তাদের তিন-চতুর্থাংশ ঘটনায় আসামীগণ খালাস পেয়ে যায়। অন্য দিকে যে কয়জন অপরাধীর সাজা হয় তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সমর্পন করার ভারও পড়ে পুলিশের উপর। এমতাবস্থায়, পুলিশ ব্যবস্থা অকার্যকর হলে পুরো ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ঘুষ-দুর্নীতি হল কোন সংগঠনের অকার্যকর হবার অন্যতম প্রধান কারণ। দেশের সকল প্রতিষ্ঠানই যেখানে কার্যতঃ অকার্যকর সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কেবল পুলিশকে কার্যকর করা সম্ভব নয়। গোটা সমাজটাই যেখানে দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়স্থল, সেখানে কেবল পুলিশকে একক ভাবে শুদ্ধ করা যাবে না। আমাদের গোটা সমাজে, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই দুর্নীতির জীবানু ধ্বংশ করতে জীবানু নাশক ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে। তবে মানুষের প্রত্যাশাকে মূলায়ন করে ব্লিচিং পাউডারের প্রথম চালানটি পুলিশ বিভাগের জন্যই বরাদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্বীকারোক্তি
১. লেখাটি বেশ পুরাতন তাই ডাটাগুলোও পুরাতন
২. দুই যোগ দুই চার হয়; কিন্তু দুইটি দুর্নীতির ঘটনা একত্র করলে একটি সুনীতি হয় না। দুই জন অসৎ ব্যক্তি একজন সৎ ব্যক্তির সমান হতে পারে না।
৩. পুলিশ অন্যান্য যে কোন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পৃথক