ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের জন্য কত সময়ের প্রয়োজন?– এমন প্রশ্ন সংগত কারণেই তোলা হতে পারে। কারণ, যার শুরু আছে তার শেষও আছে; যা কোন নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করা হয়, তা নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত করাও সম্ভব। তাই কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রত্যাশা অতি স্বাভাবিক। এই প্রত্যাশা আসতে পারে সরকার থেকে, সাধারণ জনগণ থেকে এবং খোদ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও। কিন্তু, কমিউনিটি পুলিশিং একটি দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য পুলিশিং দর্শন। কোন দর্শন নির্দিষ্ট কতিপয় কর্মসূচির মাধ্যমে রাতারাতি কোন সংগঠনের সংস্কৃতিতে প্রবিষ্ট করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার, কর্মসূচির পর কর্মসূচির, বছরের পর বছর।

অনেক পুলিশ অফিসার কমিউনিটি পুলিশিং এর আওতায় কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেই থানায় মামলা সংখ্যা কমানোর প্রত্যাশা করেন। অনেকে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম গঠন করেই ফোরামের মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু, আমাদের মনে রাখতে হবে কমিউনিটি পুলিশিং একটি দর্শন এবং একটি সাংগঠনিক কর্মকৌশলও বটে। সনাতনী পুলিশিং ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা দীর্ঘ দিনের পুলিশিং সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এনে জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি সমস্যার সমাধানমূলক পুলিশিং ব্যবস্থা কায়েম করাই এর লক্ষ্য। কমিউনিটি পুলিশিং কোন পুলিশি অভিযান নয় যা একটি খণ্ডকালীন উদ্দেশ্য সাধন করে। কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া। দুই/এক মাস বা দুই/এক বছরে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। অধিকন্তু, কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনের বাস্তবায়ন শুধু মাত্র পুলিশ বিভাগের উপর নির্ভরশীল নয়। সরকার ও সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহ এগিয়ে না এলে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। পুলিশসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন বাস্তবায়ন এক বছর নয় বরং এক যুগেরও বেশী সময়ের প্রয়োজন।

আমাদের মনে রাখতে হবে অর্থ-বিত্ত, সহায়-সম্পদ কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি নয়; কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন কোন দেশের পুলিশিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রকাশিত হতে হলে প্রয়োজন সময়, অনেক অনেক সময়।