ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

David Bergman এর নামটি বাংলাদেশের সচেতন মহলে ইতিমধ্যে পরিচিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধীতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে তার একটি লেখা নিয়ে আদালত আবমাননার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ এখনো নিষ্পন্নের অপেক্ষায় আছে।বহিবিশ্বের দুএকটি মিডিয়ায় ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তার লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। কিছুদিন আগে টরন্টোর সিবিসি রেডিওকে তিনি একটি সাক্ষাতকারও দিয়েছেন। তাঁর লেখা পড়ে এবং ইন্টারভিউ শুনে আমার ধারনা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের ‘আন্তর্জাতিক মান’ নিযে তিনি বেশ সন্দিগ্ন, এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ নিয়ে তিনি একধরনের ‘কেমপেইন’ও চালাচ্ছেন। আমরা জানি, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম জামাতে ইসলামি ও তাদের মিত্ররাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ঠিক একই ধরনের প্রচারনা চালাচ্ছেন।

David Bergman সম্পর্কে খুব বেশি জানার সুযোগ আমার হয়নি। ঢাকারা ইংরেজি দৈনিক নিউএজ পত্রিকার বিশেষ রিপোর্ট বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তিনি কাজ করছেন বলে মিডিয়াসূত্রে জানা গেছে। কোনো মিডিয়ায় বিশেষ রিপোর্ট বিষয়ক আলাদা পূণাঙ্গ একজন সম্পাদক থাকেন এমন কথা অবশ্য আমি এই প্রথম জানলাম। স্বীকার করি- এটা আমার জানার সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশের মিডিয়া যে যথেষ্ট স্মার্ট হয়েছে এটি তার একটি প্রমান বইকি। ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার দিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় কাজ শুরু করা David Bergman বিডিনিউজ২৪ডটকমেও কাজ করেছেন। নিউএজের বাইরে ‘এশিয়া কলিং’ নামের একটি পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচিতি উল্লেখ করেছেন তিনি। David Bergman নিউএজের সবধরনের বিশেষ রিপোর্ট এর দেখভাল করেন নাকি কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ক রিপোর্ট দেখভাল করেন সেটা অবশ্য আমাদের জানা কঠিন।তবে তিনি নিয়মিতই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ প্রত্যক্ষ্য করতে ট্রাইব্যুনালে যান এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এর একধরনের ধারাবিবরনী তিনি তার ব্লগেও প্রকাশ করছেন। যদ্দুর জানি, বাংলাদেশের কোনো আদালতেই ভিডিও বা অডিও রেকর্ডার ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। বিচার কার্যক্রম বা বাদী,বিবাদী কিংবা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের ধারাভাষ্য রেকর্ড করা যায় না। কিন্তু David Bergman তার ব্লগে নিয়মিতই এইসব জিজ্ঞাসাবাদের হুবুহুধারাবিবরনী প্রকাশ করে যাচ্ছেন। সেটি কিভাবে সম্ভব? দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের হুবহু সংলাপ তিনি শুনে শুনে মাথায় রেখে লিখে ফেলেছেন- সেটি বিশ্বাস করার মতো কোনো বক্তব্য নয়। তাহলে কি তিনি ট্রাইবুনালে রেকর্ডার বা কোনো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? ট্রাইব্যুনাল নিয়মিত কাভার করেন এমন একজন সাংবাদিক বন্ধুর কাছে শুনেছি ট্রাইব্যুনালে নাকি তাদের সেল ফোনও নিয়ে যেতে দেওয়া হয় না। তাহলে David Bergman পুরো ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কিভাবে রেকর্ড করে নিয়ে প্রচার করছেন?

যে কোনো বিচারকাজের স্বচ্ছতার পক্ষে আমি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও গ্রহনযোগ্য এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার কাজ পরিচারিত হবে সেই দাবি আমারও। কিন্তু ‘মিডিয়ার লোক’ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ বেআইনি সুবিধা নিলে আমাদের আপত্তি জানানোর অধিকার থাকে। David Bergman আ্‌ইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের ধারাবাহিক হুবহু ধারাবিবরনী তার ব্লগে প্রকাশ করছেন কী না সেই ব্যাপারে জানতে চাওয়াও আমাদের অধিকারের আওতায়ই পড়ে। এ ব্যাপারে সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ততপর গোষ্ঠীটি আরো উতসাহী হয়ে পড়বে।