ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কোন প্রকার পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করেই ফেল করেছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ। তার প্রস্হানের পূর্বে স্বেচ্ছায় হোক আর পরিস্হিতির কারনেই হোক স্বগৃহে বন্দি দশায় অবস্থান করছিলেন তিনি।গন আন্দোলনের মুখে সংবিধানিক পদ থেকে পদত্যাগ করতে চাননাই তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেই নজির বিহীন ঘটনার কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা। মনে থাকার কথা, তরিতরকারী ফল মূল নিয়ে তার শশুরবাড়ীর এলাকার লোকজন যেভাবে তার বাড়ীর সামনে অবস্হান নিয়ে, সমবেদনার উপহাসের উপখ্যান রচনা করছিলেন সেকথা। অবশেষে জরু্রী সরকারের ডিজিএফআই এর অনুরোধে ২১ শে জানুয়ারী ২০০৭ সনে পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।এর পরে জনাব এ টি এম শামসুল হুদা এর নেতৃত্বে দুই সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করাহয় ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০০৭ সনে ।বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যোগ হন কিছু দিনপরে।

আমার লেখায় বিএনপির সাথে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনারের সম্পর্কের বিষয়টা তুলে ধরতে চাই। আগেই বলে নেওয়া ভাল যে সদ্য বিদায়ী নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু ভালকাজ করছেন যা জনগনের জন্য স্বস্থীর কারন হয়েছে।কিন্তু নিয়োগ পাওয়ার পরেই তারা যে সব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার প্রায় অধিকাংশ পদক্ষেপই বিএনপির বিপক্ষে যায়। ক্ষমতায় এসে তারা একটি রোডম্যাপ দিলেন যা তারা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই। কিন্তু রোড ম্যাপের বাইরে এসে বিএনপির আমলে মাঠ পর্যায়ে ১৩০ জন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করে প্রথমেই তারা বিএনপিকে একটা পূর্বাভাস দিলেন। অথচ ঐ নিয়োগ গুলি বেআইনী ছিলনা। নির্বাচনী আসন পূর্নবন্টন এবং সীমানানির্ধারনের কারনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা।

ডকটিন অব নেসাসেটী:

দেশের কয়েক কুটি লোক একথা বিশ্বাস করে যে ডকটিন অব নেসাসেটীর কথা বলে প্রায় তিন যুগ পুরানো দল বিএনপিকে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনার চিনতে না পেরে অর্থাৎ দ্বিধা বিভক্তি করতে চেয়ে যে অন্যায় এবং ক্ষতি এই বিএনপিকে তারা করেছেন দলের ইতিহাসে এত বড় ক্ষতি আর কখনো হয় নি। জনাব সামসুল হুদা দেশের মানুষকে এভাবেই ডকটিন অব নেসাসেটী শিখালেন। নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনার জন্য মূলদলকে আমন্ত্রন না জানিয়ে আমন্ত্রন জানালেন তাদের ফরমূলা বাস্তবয়নকারীদেরকে।

বেশিভাল নির্বাচন করার কথা বলতে গিয়ে জনাব সামসুল হুদা বলছিলেন, তারা ১৯৭০ সালের ন্যায় নির্বাচন বাংলাদেশকে উপহার দিবেন । অর্থাৎ ভাল নির্বাচনের উদহরন দিতে গিয়ে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করছিলেন । মূলত ৭০ সনের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের কবলথেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বাংলাদেশীদের গনরায়। সে নির্বাচনের প্রসংগটিকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুস্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের সাথে তুলনা করতে পারেননা । তিনি ভাল নির্বাচন বলতে ৯১, ৯৬, কিংবা ২০০১ সনের নির্বাচনকে উল্লেখ করতে পারেন নাই। অর্থাৎ তার দৃস্টিতে সেই নির্বাচন গূলি ভাল ছিল না। আমার ধারনা জনাব সামসুল হুদা ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করছিলেন শুধুমাত্র ঐ নির্বাচনের ফলাফলকে বিবেচনা করে। ২০০৮এর নির্বাচনের ফলাফল কিন্তু তাই বলে। এমন এক বির্তকিত নির্বাচন কমিশনারের অধীনেই বিএনপি ঠিকই নির্বাচনে গেল। কারন একটাই তিন উদ্দিনের সেনা শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা। মূলত ডকটিন অব নেসাসেটী শিখানোর এই বিতর্কিত পর্ব থেকেই শুরুহয় বিএনপির সাথে নির্বাচন কমিশনারের দ্বন্ধ ।

বিদায়ী নির্বাচন কমিশনাররা দু সরকারের আমলেই দ্বায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা নির্বাচন করেন তারা জরুরী সরকারের আমলে। ব্যাপক অনিয়মের দ্বায়ে তখন প্রায় নয়টি উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল তারা বাতিল করছিলেন তৎকালিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। কিন্তু আওয়ামিলীগ সরকার গঠনের সাথেসাথে আবার তারা সেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনাকরলেন। বিএনপি বিষয়টিকে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনাররা যে স্বাধীন ছিলেননা তার উদহরন হিসাবে প্রায়ই উল্লেখ করেন। যদিও আওয়ামিলীগের দলীয় সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনাররা যে স্বাধীন ছিলনা তা ডঃ এটিএম শামসুল হুদা স্বীকার করছেন তার দ্বায়িত্ব পালন শেষে। আসলে ডঃ এটিএম শামসুল হুদার নিকট বিএনপি ছিল এলার্জীর মত। এতবড় সাংবিধানিক পদেথেকে বিএনপির মত একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে খোঁচা মেরে কথাবলা তারমত ব্যাক্তির মুখেছিল সম্পুর্ন বেমানান , অথচ তিনি সে কাজগূলি করে চলতেন অবলিলায়। একদিকে তারা আওয়ামিলীগের সাথে আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত করে বলতেন, “আমরা আপনাদের(আওয়ামিলীগের)আন্দোলনের ফসল” অন্যদিকে বিএনপিকে খোচামেরে আহত করতেন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই আওয়ামিলীগ প্রীতি নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির ভাষায় একটি তোষামোদী ক্লাবে পরিনত করে।

“ফখরুদ্দিনের সময় এই সিইসি শামসুল হুদা সাহেবই বলেছিলেন বি,এন,পি’র গঠনতন্ত্র কোন গঠনতন্ত্র ই না ।এত বিশালবড় একটা দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা কি নিরপেখখতার কাজ ? তাও আবার নির্বাচনের ২ মাস আগে ! তবে বলা যায় , তিনি মন্দের ভাল “। সিইসি শামসুল হুদাকে নিয়ে প্রথমআলোর এক পাঠকের এমন মন্তব্যে আসলে বিদায়ী সিইসির চরিত্র ফুটেউঠে। বিএনপি’র সাথে সিইসির আরো কিছু অসৌজন্যমুলক আচারনের এবং নির্বাচনকমিশন যে পক্ষপাৎতুস্ট ছিল তার কিছু উদহরন দেওয়াযায় যেমন:- পৌর নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপুর্ন হলেও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ১৮-০১-২০১১ মঙ্গলবার ‘নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ ও সন্দ্বীপ পৌর নির্বাচন স্থগিত করে সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে যান। কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের সাক্ষাত্ দেওয়া হয়নি।

অথচ বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবির যুক্তিকতা মিলে আমরাযদি লক্ষ্মীপুর পৌর নির্বাচন নিয়ে প্রথম আলোর লক্ষ্মীপুরের রিপোটার শরিফুল হাসানের ১৮-০১-২০১১ তারিখের প্রথম আলোর ওয়ানলাইন রিপোর্টে, “ বিএনপির নির্বাচন বর্জন, ভোটকেন্দ্র তাহেরের দখলে” শিরোনামে যে সংবাদ ছাপা হয় তা পড়েথাকি। রিপোর্টটিতে বলাহয় “৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ নম্বর কেন্দ্রের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে তাহের এসে আমার গলা চেপে ধরে বলে মাইর খেতে না চাইলে এখান থেকে চলে যা।’

১১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর কেন্দ্রের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট আনোয়ারুল হক, ২ নম্বর কেন্দ্রের নিজামউদ্দিন ভূঁইয়াসহ বিএনপির সব এজেন্ট একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিটি কেন্দ্র তাহের এবং তাঁর লোকজনের দখলে রয়েছে। লোকজনকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে তাহের সমর্থকদের স্লোগান ও আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায়”। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে আনন্দ মিছিলকরার কী তাৎপর্য থাকতে পারে?
পৌর নির্বাচন নিয়ে এবিএম মূসার একটি কলাম থেকে কোর্ট করলে সে নির্বাচনটির একটি চিত্র ফুটে উঠবে,তিনি লিখছেন, “ নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা অথবা দুর্বলতা এমনকি একধরনের অসহায়ত্বের প্রকাশই ঘটেছে পৌর নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থায় বা অব্যবস্থার পর্যালোচনায়। যখন তাৎক্ষণিক পর্যালোচনাটি করছি, তখন আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে নির্বাচন কমিশনের আত্মশ্লাঘা। যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে’ তখন তাঁর আত্মসন্তুষ্টি নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। তার পরও ভাবছি, একজন নির্বাচন কমিশনার যদি পত্রিকায় প্রকাশিত ‘নির্বাচনে তাহের স্টাইল, বন্দুকধারীদের হামলা, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ’ নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘নির্বাচনের দিন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী’, তা হলে তো কোনো নির্বাচনে কমিশনের যথার্থ ভূমিকা আলোচ্যই হতে পারে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের দায়িত্ব পালন যথাযথ হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন করা যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জঙ্গি হামলা হতে পারে, মেয়র পদপ্রার্থী শামীম ওসমানের এমন আশঙ্কা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা এ ব্যাপারে বলেছিলেন, অভিযোগকারী ওই প্রার্থীর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী তাঁর প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। তদন্তে কি বলা হয়েছিল জানিনা তবে নির্বাচন কমিশন থেকে বলতে শুনেছি শামীম ওসমানের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রমানিত হয়নাই। ওই নির্বাচনে শামীম ওসমানের প্রার্থিতা বাতিল তো দুরের কথা মুখ রক্ষার কোন ব্যবস্থাও নেয় নি নির্বাচন কমিশন।

সিইসি বলেছিলেন, “নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনে সরকার সেনাবাহিনী কেন দেয়নি, তা নিয়ে কমিশন সরকারের সঙ্গে লড়াইয়ে যাবে না। তবে অবশ্যই এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে”। সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া তিনি কোনপদ্ধতিতে করছেন তা তিনি জনগনকে আজো বলেননি। তিনি বলেন, “আমি আগেই বলেছি, সেনাবাহিনী না দেওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনী চেয়েও পায়নি, এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বর্তমান বিরোধী দল ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য লিখিতভাবে সেনাবাহিনী চেয়েও পায়নি তৎকালীন কমিশন”।এমন সব বক্তব্যের মধ্যে দলীয় রাজনিতীর গন্ধ পবেন যেকোন স্বচেতন নগরিক। মনে হয়যেন আওয়ামিলীগ সাধারন সম্পদক অতীতের উদহরন টেনে কেন সেনাবাহিনী দেয়াহয়নি তার জবাব দিচ্ছেন। তার ভাষায় সেনাবাহিনী না দেওয়ায় যদি সংবিধান লঙ্ঘনই হয়েথাকে তবে নির্বাচন বৈধ হয়েছে কিভাবে ? এমনকি নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনে সেনাবাহিনী না দেওয়ায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিশনের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “সাংবিধানিক পদে থেকে যখন-তখন চাইলেই পদত্যাগ করা যায় না। সেনাবাহিনী না দেওয়ায় পদত্যাগ করে চলে যাওয়াটা চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয় হতো। কেননা, পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন। পদত্যাগ করলে হয়তো কারও কারও ইস্যু সৃষ্টি করতে সুবিধা হতো”। এখানে তার চারলাইনের উত্তরেরমধ্যে প্রথম তিন লাইন যথার্থ হলও শেষের লাইনটি যেমন:-“ পদত্যাগ করলে হয়তো কারও কারও ইস্যু সৃষ্টি করতে সুবিধা হতো” এমন বক্তব্যে যে কোন মানুষই বুঝবে যে, রাজনৈতিক উস্কানীমুলক বক্তব্য।

বিদায়ী নির্বাচন কমিশন যে আওয়ামিলীগের কথার বাহিরে চলতে পারতেন না তার একটি লজ্জাহীন উদহরন:-অনেকেরই মনেথাকার কথা চট্রগ্রামে বিদায়ী নির্বাচন কমিশন একটি সুস্ঠ নির্বাচন করার পরপরই ঘোষনা করছিলেন যে ,তারা ঢাকাসিটি করপরেশন নির্বাচন করারজন্য সম্পূর্ন প্রস্তত, এমন কি তারা একটা আনুমানিক সময় নির্ধারন করে মিডিয়ায় বক্তব্যও রাখছিলেন। ঠিক দুই দিন পরে আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক জনাব আশ্রাফ সাহেব নির্বাচন কমিশনে যান এবং বেড়িয়ে যওয়ার সাথে সাথে সিইসি সাংবাদিকদের তার স্বভাবসুলভ ভংগীমায় বললেন সীমানা নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় আপাতত নির্বাচন করা যচ্ছেনা। লজ্জাহীন উদহরন বলি আর নি্র্লজ্য উদহরনই বলি নির্বাচন কমিশনের জন্য এ উদহরনটিও একটি খারাপ দৃস্টান্তের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকল। এমন সব উদহরন ই বলে দেয় বিদায়ী নির্বাচন কমিশন (২০০৭–২০১২) এর সাথে বিএনপির সম্পর্ক কখনো ভাল ছিলনা কেননা ঐ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ছিলনা।

ইভিএম:

বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন ইভিএম নিয়ে বলেন, “নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা আমরাই প্রথম বলেছিলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ইভিএমের পক্ষে কথা বলেছেন বলেই বিএনপি এখন এর বিরোধিতা করছে”। বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের এইমতের সাথে আমরা অনেকেই একমত হব।কিন্তু দুঃখের বিষয় ইভিএমের পক্ষে বেশী সাফাইগাইতে গিয়ে তিনি একটি বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। তিনি বলেছেন ইভিএমের বিপক্ষ যারা করেন তারা আসলে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তার বিদায়ের পূ্র্ব মূহু্র্তে এই মন্তব্য ছিল অনাক্ক্ষিত।

বিএনপি (ইভিএম) ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে । তবে বেশ কয়েকটা নির্বাচনে দেখাগেছে অল্পসময়ে বেশি ভোট কাষ্ট এবং কাউন্ট করাসম্ভব।ফলে ফলাফল তাড়াতারি ঘোষনা কর সম্ভব। সেই যুক্তিতে তারা যন্ত্রটি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিল।গত ১লা ডিসেম্বর ২০১১ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি ইভিএম যন্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি চিঠি দেয় বিএনপি ।চিঠিতে বলা হয়েছিল, ইভিএম এমন একটি যন্ত্র, যার ত্রুটি নিয়ে বহির্বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। ভারতের আদালতে ইভিএম নিষিদ্ধ ঘোষনা করাহয়েছে, জার্মানীতে অনেক আগেই নিষিদ্ধ, আমেরিকার অনেক ষ্টেটে নিষিদ্ধ রয়েছে। সুতরাং এ যন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকায় নির্বাচনে এ যন্ত্রের ব্যবহার বিএনপি গ্রহণযোগ্য মনে করে না। তা সত্ত্বেও দলের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে একটি ইভিএম যন্ত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে সরবরাহ করার জন্য দলের হয়ে অনুরোধ করছি।তবে কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেছেন, ইভিএম বাইরে পাঠানো যাবে না। পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আসতে হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি ইভিএম সরবরাহ করা হলে কমিশনের কী ক্ষতিহত কমিশনই তা ভাল জানেন।প্রয়োজনে একটি ইভিএম এর মূল্য বিএনপি থেকে আদায় করাযেত।

নাসিক নির্বাচনের আগে তৈমুর আলম বিশষজ্ঞ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন। তখন কমিশনকে বলা হয়েছিল অন্তত একটা মেশিন দিলে তিনি প্রমাণ করে দিবেন যে এই ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশন দেয়নি। নির্বাচন কমিশন তখন স্বীকার করেছিল প্রতিটি জিনিসে ভাল এবং খারাপ দুটি দিক থাকে। নির্বাচন কমিশনের এই স্বীকারউক্তিতে বুঝাযায়, কোন পক্ষ চাইলেই এটির (এই ইভিএমে) খারাপ দিকটিও ব্যবহার করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতবিক্ষত বিএনপি ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কিছুতেই বি শ্বাস করতে পারেন না। কারন নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে বিশ্বাসকরাবার কিংবা আস্থায় আনারমত কোন আচরন করেননাই।

কেউ টাকা দিলে নেবেন তবে ভোট দেবেন পছন্দের প্রার্থীকে, নাসিক নির্বাচনের আগে সিইসির এমন বক্তব্যের মধ্যে তার নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিএনপি সিইসির এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আবদুল জলিল একটি সত্যঘটনা ফাঁসকরে দিয়াছিলেন, তিনিবলেছিলেন ২০০৮ এর সাধারন নির্বাচন ছিল নির্বাচন কমিশন ও সেনাবাহিনীর মধ্যের একটা বোঝাপরার ফলাফলের নির্বাচন । সিইসি বলেছিলেন , “আবদুল জলিলের বক্তব্য একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির অভিমত” । দেশও জাতি একদিন জানতেচাবে এদের মধ্যে কে হতাশাগ্রস্ত আবদুল জলিল নাকি জনাব এটিএম শামসুল হুদা?

নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে নির্বাচনী আইন সংস্কারের জন্য সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়াছিল।বিএনপিও নির্বাচন কমিশনকে সংলাপে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়ে ইসিকে চিঠি দিয়াছিল, সিইসি বলছিলেন “বিএনপির চিঠির প্রতিটি লাইনের জবাব দেওয়া যেত:”এ প্রসংগে গত ২১.০৬.২০১১ তাং প্রথমআলোর ওয়ানলাইনের পাঠক মোঃনজরুল ইসলাম মজুমদারের একটি মন্তব্য উল্লেখকরে আমার লেখা শেষকরছি। “যে নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে চিনতেই পারেনা তাদের সাথে আলোচনা না করার চিঠি দিয়ে এক প্রকারের ভদ্রতাই দেখানো হল। বিএনপির জায়গায় আওয়ামীলীগ হলে নির্বাচন কমিশন টের পেত জবাবের ভাষা এবং আক্রমন কত কঠিন হতে পারে। হতভাগা বিএনপির সেই যোগ্যতা নাই বলেই তাদের এই দুর্দশা”।