ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রতিদিন আমরা পুলিশের মন্দ কাজের বিবরণ সম্বলিত কতশত খবর দেখি। কিন্তু পুলিশে এখনও যে কিছু ভালো মানুষের অস্তিত্ব রয়েছে সেটা দেখা গেলো যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক(SI) কাওসার আলীর মহানুভবতায়।

ছেলেটির নাম নির্মল। বয়স সাতের কাছাকাছি। বারবার খিঁচুনি দিচ্ছে আর বলছে, ‘কাকা একটু ঘুমাবো।’

যাত্রাবাড়ী থানার পাশে অসুস্থ এই শিশুটিকে খুঁজে পান উপ-পরিদর্শক কাওসার আলী। একটি অপমৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ রিপোর্ট করতে তিনি এসেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নির্মলকে।

নিজের কাজ শেষ করে যখন নির্মলকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন উৎসুক মানুষজন ভিড় করে তার কাছে। জরুরি বিভাগে যখন টিকিট কটছিলেন কাওসার তখন বারবারই শিশুটি বলছিলো, ‘কাকা ঘুমাবো।’ উত্তরে কাওসার বলেন, ‘এইতো বাবা চলো। উপরে গিয়ে ঘুমাবা।’

ডাক্তারের কাছে নির্মলকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় এ পুলিশ কর্মকর্তার। সঙ্গে দুই জন কনসটেবল। কাওসার বলেন, ‘থানার পাশে ছেলেটিকে পেয়েছি। থেকে থেকে খিঁচুনি দিচ্ছিলো। হাসপাতালে আসছিলাম বলে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ওর চিকিৎসা দরকার।’

এরপর নির্মলকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন কাওসার। আর কথা হয় না তার সঙ্গে। সঙ্গের দুই কনসটেবলও স্নেহের স্বরে কথা বলছিলো শিশুটির সঙ্গে।

এসময় পাশ থেকে মানুষজন বলছিলো, ‘পুলিশের এমনই হওয়া উচিত। শিশুটিকে পুলিশ যেভাবে যত্ন করে ডাক্তারে কাছে নিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ভালো মানুষ এখনো আছে।’

দিনে-রাতে অসংখ্য পথশিশুকে দেখা যায় মহানগরীতে। সচরাচর এসব শিশুর খোঁজ নেয় না কেউ। তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বোধ আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিলো, পুলিশই পারে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে।

(সংগ্রহীত)