ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমার পাশের ঘরের একজন কাজ করে একটি ছাপা খানায় । বেতন পায় ৩২০০ টাকা । ঘর ভাড়া (মেসে) ৫০০ টাকা, আর খাওয়া বাবত দেয় ২৫০০ টাকা । তবে ওভারটাইম আছে ,হলে সেখান থেকেও কিছু বাড়তি টাকা পায় । কিন্তু এই রোজার মাসে প্রেসে তেমন কাজ ছিল না। অফিসের বড় কর্তারা ইচ্ছা করেই রোজার মধ্যে কাজ কম ধরেছে । কোন ওভারটাইম করার সুযোগ নেই। গতকাল মালিক পক্ষ বেতন এবং বোনাস ২৮৮০ টাকা দিয়েছে। বাসায় এসে মনখারাপ করে বসে ছিল, জিজ্ঞাসা করলাম মনখারাপ কেন? কষ্টে উত্তর দিল কারণটা । আমি বললাম তুমি মালিককে টাকার কথা বলতা ? বলল,আমি স্যারকে বাড়তি টাকার কথা বলেছিলাম । কিন্তু স্যারের একটি কথা সবার জন্য একই নিয়ম আমার কিছু করার নেই । বাড়িতে আমার ছোট একটি বাচ্চা আছে, ঘরে বউ আছে আপনিই বলেন এ টাকা দিয়ে আমি কি করবো ? আমার কোন উত্তর জানা নেই , শুধু নিজের অবস্থার কথা চিন্তা করে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লাম । রাস্তাঘাটের দোহাই দিয়ে গাড়ি ভাড়া বাড়িয়েছে । আমাদের বেতন তো আর বাড়েনি । তার পরে টিকিট পাওয়া একটা ভাগ্যের ব্যাপার । আমি তো টিকিটই কাটতে পারিনি । শুনলাম যেদিন টিকিট দেওয়া শুরু করে সেদিনই সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে । তাহলে আমরা কিভাবে বাড়ি যাবো ? কোন ট্রাক বা বাসের ছাদে ? বাড়িতে আমার ১৮ মাসের ছোট্ট ছেলে আর বউ আমার বাড়ি যাওয়ার দিন গুনছে । আমাদের মত মানুষের বাড়ি পৌঁছার কি কোন গ্যারান্টি আছে ? আমি বাড়িতে বলে দিয়েছি ঈদে নাও আসতে পারি । আমাকেও বোনাস দিয়েছে আজ । বেতন ছুটির পর দিবে । আমি শুধু আমার বসকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা ঘর ভাড়া না গাড়ি ভাড়া স্যার ? কোন উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না, শুধু বললেন, নেক্সট । আমি এই ভেবে সান্তনা পেলাম, এই দেশে আমার মত লোকের সংখ্যাই বেশি । আমদের কথা ভাবার মত কেউ নেই । জানি কেউ হবে কিনা ।