ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

বন্ধু এসো হাত ধরো…কথাটা কি কিছুটা হতাশাজনক নয়।আমার কাছে কথাটা একই সাথে হতাশাজনক এবং অনুভুতিময়।এই লেখাটা প্রকৃতপক্ষে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন আমন্ত্রন আমার প্রিয়তম বন্ধুর প্রতি।

মনের ভিতর অনেক স্মৃতি জাগরিত হচ্ছে আমাদের বন্ধুত্ব কে ঘিরে…আসলে এই সকল স্মৃতির মাঝেই আমার আজকের লেখার বীজ বিদ্যমান।এটি বাস্তবে নিজের আত্মাকে নিজের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে আসার স্বল্প চেষ্টা।
.
সময়টা ছিল ২০০২ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে…তখন আমি অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি।। চট্টগ্রাম শহরের সমুদ্র তীরবর্তী সুন্দর একটি কলোনির বিদ্যালয় এ পাঠ গ্রহন করতাম…বৃত্তি পরীক্ষার কোচিং চলছিল।হঠাৎ আমাদের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক আমাদের ক্লাস এ এসে বললেন একজন নতুন ছাত্র আমাদের সাথে ক্লাস করবে…স্যার এর সাথে ছেলেটি প্রবেশ করল…সেইটাই ছিল আমার ওকে প্রথম দেখা…লম্বা ছিপছিপে গড়নের ছেলেটি।।মুখটি শান্ত,কোমল দেখাচ্ছিল।।হাসলে সুন্দর টোল পরে।।যা সবার মন কেড়ে নেয়।।সেদিন তার সাথে প্রথম কথা হল…ধীরে ধীরে তা বন্ধুত্বে রুপ নিল…যা আজ ও অটুট। সেই জুলাই মাস।জুলাই মাসেই তার জন্মদিন।।আমি কি করছি এটা।তার নামটাই এখনও জানানো হইনি।।তার নামটা অনেক সুন্দর এবং তাৎপর্যময়। ‘দীপ’।যা সবাইকে আলোকিত করে।। আসলেই তো! আমার জীবনটা আলোকিত করেছিল ও…সেই অষ্টম শ্রেণী থেকে শুরু।।ধীরে ধীরে নবম,দশম শ্রেণী পার করলাম।।আমার মনে পড়ে, হুমায়ুন স্যার এবং জাফর স্যার এর বই এর প্রতি ভালবাসা তার ও তার বোন শ্রদ্ধাভাজন মনি আপুর হাত ধরেই।তার ছিল একটি সমৃদ্ধ বই এর পাঠাগার।এই পাঠাগার আমাকে বই পড়া শিখিয়েছে।এই জন্য কি আমি তার প্রতি ঋণী!কেন নয়?

ক্লাস ১০ এ পড়ার সময় একটা ঘটনা প্রায় মনে পড়ে।আমাদের ক্লাস এর মেয়েরা আমাদের ছেলেদের নিকট থেকে আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরত।। কিন্ত প্রতিবার বিফল।এই বিফলতার পথ থেকে তাদেরকে সফলতার পথে নিয়ে আসার কাজটা দীপ সম্পাধন করেছিল।তাই সে ছিল খুবই জনপ্রিয় মেয়েদের মহলে।হয়ত এখনও আছে।।এসএসসি পাশ করার পরে আমাদের দুই বন্ধুর মাঝে কিছু সময়ের জন্য অভিমান তৈরী হয়েছিল যা আমারি সৃষ্ট।এবং আমি এখনও তার জন্য অনুতপ্ত।বন্ধু, আমায় ক্ষমা করিস।।সেই অভিমানের সমাপ্তি দীপ নিজে শেষ করে আবার আমাদের বন্ধুত্ব কে নতুন রুপ দিয়েছিল।এই হল দীপ।আমাদের কলেজ ভিন্ন ছিল কিন্তু আমরা সবসময় একসাথে বাসায় আসতাম ।কখনও বা আমি, কখনও দীপ চট্টগ্রামের টাইগার পাস নামক জায়গায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করতাম।।এই অপেক্ষা ছিল সবসময় আনন্দজনক…কত কি যে করেছি কলেজ জীবনে।।বন্ধু তোর কি মনে পরে?পকেটের সব টাকা খরচ করে হেটে বাসায় আসা।।বৃষ্টিতে ভিজা…পড়া ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মারা।এই সব স্মৃতি কি কখনও ভুলা যায় বল…

কলেজ এ পড়ার সময় আমার এক বান্ধবীর বোনের প্রতি আমার প্রথম ভাললাগা শুরু হয়…ওখানেও দীপ ছিল আমার সর্বক্ষণের সাথী..কত বুদ্ধি কত প্লান করেছি মেয়েটিকে বুঝনোর, তার ইয়ত্তা নেই।একদিন আমাদের দুইজন কে আমাদের এলাকার মানুষেরা বলত মানিকজোড়…বন্ধু সেই মেয়েটির এখন বিয়ে হয়ে গিয়েছে.। মেয়েটার নামটি কী বলবো..না থাক.. মেয়েটার প্রতি তোর কী কোন আকর্ষন ছিল না…?

আজ সময়ের পরিক্রমার দীপ সিলেটের শাহজালাল ভার্সিটি আর আমি চট্টগ্রাম ভার্সিটি।।ও এখন সপরিবারে ঢাকা থাকে..গত দুই বৎসরে ওর সাথে আমার মাত্র একবার দেখা হয়েছিল…কিন্তু আমার মনটা সবসময় ওর কাছেই পরে আছে…কালের বিবর্তনে আমাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ক্ষীণ আকার ধারন করেছে…এখন যান্ত্রিকতার মাঝে বন্ধুত্ব ফেসবুক এবং সেল ফোন এ সীমাবদ্ধ…তাইতো এই লেখা দিয়ে দীপ কে বলছি বন্ধু…এসো হাতটা ধর…এই হাত সবসময় বন্ধুর ছিল।।বন্ধুর থাকবে…তাই আবার চাইছি তোমার বন্ধুতা…