ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বর্তমান যুগে যেকোন পেশা থেকে খেলোয়ারদের ডিমান্ড সবথেকে বেশি।জনপ্রীয়তার শীর্ষেও এদেরই অবস্থান। পাত্র হিসেবেও খেলোয়ারদের চাহিদা সবথেকে বেশি । আর সে যদি ক্রিকেটার হয় তাহলে তো আর কোন কথায় নেই। পাত্রীর বাবা মা উঠে পড়ে লাগবে তার মেয়েকে বিদায় করার জন্য। যাই হোক, কে কতটা যোগ্য সেটা নিয়ে না লিখে অন্য প্রসঙ্গে আসি।

সম্প্রতি পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের প্লেয়ারদের অসাধারণ নৈপুন্যে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় করেছে টাইগার বাহিনী। ব্যটিংএ এক দুর্দান্ত পারফর্মান্স দেখেছে সারা বিশ্ব। তামিমের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরী এবং মুশফিকের একটা সেঞ্চুরী এবং আরেকটা হাফ সেঞ্চুরী নজর কেড়েছে সকলের। বোলারদের বোলিংও ছিল অসাধারণ । সব মিলিয়ে দারুণ খেলা যার ফলাফল সিরিজ জয়। এখন বাঙালী বাংলা ওয়াশের স্বপ্ন দেখছে এবং আমরা আশাবাদী আমাদের সেই স্বপ্ন পুরণ হবে।

কোন স্বামী স্ত্রী তাদের সংসার চলাকালীন সময়ে নানা ঝগড়া করে, কথা বন্ধ রাখে , গালমন্দ করে আবার সময়মত সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। এই দুঃসময়ে দুজন দুজনার সমালোচনা করেও বটে।

বিশ্বকাপের পুর্বে কিংবা বিশ্বকাপে আমাদের ব্যাটিংএর মূল অস্র তামিম ফর্মে ছিলনা । তার ব্যাটিং ছিলো প্রচন্ড বাজে। একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যানের কাছে দীর্ঘদিন এমন বাজে পারফর্মান্স আশা করা যায়না। অনেকেই বলাবলি করে হয়তো তামিম তার চাচা আকরাম খানের বদোলৌতেই জাতীয় দলে এখনো টিকে রয়েছে। কথাটাকে একেবারে মিথ্যা ভাবা ভুল হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তামিমের এই দুঃসময়ে অনেকেই তামিমের বিরুদ্ধে নানান কথা বলেছেন , অতি উৎসাহী কিছু মানুষ তার স্ত্রীকে নিয়েও নোংরামি করেছে। কিন্তু সেসব মানুষ এখন আবার তামিমের প্রশংসায় মত্ত্ব। এটা আসলে কতটা যৌক্তিক?  একটু ব্যাখ্যা দিই।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হওয়ার পরে কিন্তু একটা সময় তারা পূনরায় মিলে যায়, দুজন দুজনাকে ভালবাসে আগের মতই । এখানে তামিমের বাজে ফর্মের সময় সমর্থকেরা তার সমালোচনা করেছে , একজন দেশপ্রেমিক সমর্থকের এটাই করা উচিৎ কারন সে তাকে ভালবাসে বলেই তার সমালোচনা করেছে , তার কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফর্ম না পাওয়ায় গালমন্দ করেছে আর এখন তার সুসময়ে আবার তাকে বাহবা দিচ্ছে এবং প্রসংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে।
একটা কথা ক্লিয়ার কাট বলি , যদি দেশপ্রেমের প্রশ্ন আসে তাহলে আমি ক্রিকেটার থেকে সমর্থকদের এগিয়ে রাখবো । বিশ্বাস করেন আর না করেন একজন ক্রিকেটার মুলত জনপ্রীয়তা আর টাকার নেশাই ক্রিকেট খেলে। মুষ্টিমেয় প্লেয়ার আছে যারা দেশকে ভালবেসে ক্রিকেটের পেশায় আসে।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যদি বিসিবি ঘোষনা করতো ক্রিকেটারদের বেতন, ভাতা , ভাল সুযোগসুবিধা দেয়া হবেনা তাহলে অধিকাংশ ক্রিকেটার এ পেশায় আসতোনা। টাকার কাছে সব দেশপ্রেম মুল্যহীন।
এবার একজন সমর্থকের কথা ভাবুন !! দেশ জিতলে কি পাচ্ছে সে ? তবুও সে খেলা দেখছে । অফিস কামাই করে, কাজ বাদ দিয়ে , পকেটের টাকা খরচ করে খেলা দেখছে সে । জিতলে আনন্দে ভাসছে , হারলে চোখের জল ফেলছে। এদের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই , দেশের স্বার্থই এদের স্বার্থ। হার জিত তোয়াক্কা না করে নিঃস্বার্থ ভাবে এরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে । খেলার সাথে এদের আবেগ ভালবাসা জড়িত।

এত কিছুর পরে কোন প্লেয়ারের কাছ থেকে এরা যদি কাংখিত ফর্ম না পায় তাহলে তার সমালোচনা করা কি খুব অন্যায় হবে? এ কারনেই বলেছি খেলোয়াররা নয়, সমর্থকরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।