ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

প্রতিক দিয়ে নির্বাচনের ফলশ্রুতি খুব ভালো নয় ইউপি নাগরিকদের। আমি আমার এলাকার বাস্তবতা থেকে এটায় অনুধাবন করলাম। আমার ইউনিয়ন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়ন। এখানে আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবলীগের সভাপতিকে ছাপিয়ে নৌকা প্রতিক পেল মাত্র তিন বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া একজন ব্যবসায়ী। আমি একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মি হিসাবে আমি সহ যারা আমার অনুসারি তারাও এর ফল পেল। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সিদ্ধান্ত নিল দলের প্রবীণ নেতা জনাব আঃ অহাবের ভোট করবে। আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মি কিছুতেই মেনে নিতে পারলোনা যে আগে বিএনপি করতো, যার মেজো ভাই পাশের ইউনিয়নের বিএনপির সাধারন সম্পাদক। যিনি কোন অনুষ্ঠানের ভাষণে এখনো জয় বাংলা বলতে পারেনা। সে পেল নৌকা!

এর আগে চেয়ারম্যান ছিল জনাব আজিজুর রহমান লিটন। যিনি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়। তখন ইউনিয়নের সবাই ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড পেয়েছে। জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বলে কোন সাম্প্রদায়িকতা ছিলনা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল ভালো। কিন্তু পাল্টে গেল গত ইউপি নির্বাচনের পর। কিছু অতি উৎসাহী লোক যেন আইনের তোয়াক্কা করে না। এলাকায় শুরু হল চুরি, ডাকাতি, চাদাবাজী সহ নানা অপকর্ম। যেদিন সাঈদীর ফাসির রায় হয়েছিল সেদিন ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রাম থেকে ঝিনাইদহ শহরে মিছিল করতে গিয়েছিল কিছু সাঈদী ভক্ত জামায়াত সমর্থক। এই সমস্থ লোকেরা আবার সরব হল ইউপি নির্বাচনের পর। পুলিশ ডাকাত-চোরদের কোন ক্ল্যু খুজে পায়না। আবার সন্দেহভাজন কাউকে ধরলে চেয়ারম্যান সাথে সাথে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

ঈদের আগে দুঃস্থদের জন্য বিতরণকৃত চাউলের বেশির গেল বড় লোকের গরুর পেটে। সরকার ১০ টাকা কেজি চাল বিতরনের উদ্যোগ নিল। এবার চেয়ারম্যান মহাশয় কার্ড করে দিলেন তার কাছের লোকদের। এক পরিবারে দিয়েছেন চারটা। দিয়েছেন  যারা স্বামী-স্ত্রি সরকারী চাকুরীজীবি, মাঠে চল্লিশ বিঘা জমি, শহরে দুইতলা মার্কেট, দুটি ট্রাক আছে, বাজারে সারের বড় দোকান আছে এমন বেশ কিছু পরিবারকে। কিন্তু যারা আদিবাসি মাছ ধরায় যাদের একমাত্র জীবিকা তাদেরকে দিলেন না। দিলেন না গরিব দিন মুজুর খেটে খাওয়া দরিদ্রদের। আর এই সমস্ত সত্য কথা বলতে গেলে বাঁধে যত বিপত্তি। আসে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি।

তিনি যে সেবার মন নিয়ে নির্বাচন করেছেন, এখন তার হাত থেকে এলাকাকে কে বাচাবে!