ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ছোট্ট একটি মফস্বল শহরে বড় হয়েছি আমি। এটা ঝিনাইদহ সদর থানার একটি বড় বাজার। ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি। ২০০৭ সালে গ্রামের পার্শ্বস্থ টিআইসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, গান্না বাজারে অবস্থিত আলহাজ্ব মশিউর রহমান কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি ও ঝিনাইদহ সরকারি কে, সি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে বাংলায় স্নাতক হয়েছি। এর মধ্য থেকে কতই বা শিখতে পারি। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন বাবা মার্ডার হয়। তখন বিএনপি সরকারের আমল। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারনে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাপে আমার পরিবার মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হয়। তখন সেই সংসদের কথায় আমার বাবাকে সন্ত্রাস বানিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ ছেপেছিল। রাজনৈতিক ক্রিয়া বিক্রিয়া গুলি দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। আজও কিছুই করার নাই।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলো। আমিও স্নাতকে ভর্তি হলাম। শহরে ঘোরাফেরা করি পরিচিতি বাড়ে মানুষের সাথে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য মনের মধ্যে থাকা ভালোবাসা আরও বেড়েই চলে। নিজেকে পরিচয় দেয় ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে। শহরের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যাই। ইউনিয়নে ঘুরিফিরি। এর মধ্যে ২০১২ সালের জুন মাসে গান্না বাজারের উপরের একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ বাধে। দখল পক্ষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে প্রতিদিন টাকা দিতে থাকলো। নেতারা তাদের আশ্বাস দিল জমি তাদের দখল করে দেবে। নেতাদের আশ্বাসে দখল পক্ষ একটি বিল্ডিং তুললো। অসহায় পূর্ব মালিক পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। আমি মালিক পক্ষের একজনকে ঝিনাইদহ শহরের মানবাধিকার অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস ও প্রেস ক্লাব নিয়ে যায়। চক্ষুশুলে পরিণত হই। দু’য়েকদিনের মধ্যে এলাকায় মালিক পক্ষে ব্যপক জনমত তৈরি হয়। কিন্তু সেদিনও কোন সাংবাদিক আমার কথায় নিউজ করেনি। তাদের সরেজমিনে আসার গাড়ি ভাড়া দিতে পারেনি বলে।

১০ই জুন সন্ধ্যা বেলা গান্না বাজারে এলাকার লোক মিছিল বের করে। সেই রাত্রে পাইকপাড়া গ্রামের আঃ অহাব নামের একজন প্রতিবাদকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সেদিন থেকে খুব ইচ্ছা হয় সাংবাদিকতা করার। ২০১৪ সালে আমার এক শুভাকাঙ্খীর জন্য স্থানীয় একটি পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়। আমি আজও আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি। তাই সারাদিন সারা জেলাতে ঘুরে ঘুরে নিউজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আমার এলাকা থেকেই ছোট ছোট খবর পাঠাই। কিন্তু এমন হয়েছে আমার সম্পাদক অনেক সময় আমার পাঠানো নিউজ ছাপেনি বা কর্তন করেনি। আমি যখন কোন অপরাধ নিয়ে লিখতে গেছি তখন তিনি আমাকে বলেছেন এই খবর ছাপালে তোমার ও আমাদের পত্রিকার সমস্যা হবে।

আমি আমার সম্পাদক সাহেবকে বাবার মত শ্রদ্ধা করি। তিনিও আমাকে বাস্তবতা বোঝান। আমি আমার এলাকার ছোট ছোট খবর পাঠাই। তাতেও বাধে বিপত্তি। প্রায় মাসে খেতে হয় মৃত্যুর হুমকি। অপরাধীরা মনে করে অপরাধ তাদের নয় । অপরাধ আমার লিখছি বলে। আমি সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে দোষ, চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললে দোষ। কিন্তু আমার কী দোষ!