ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 
Image-1584110

 

শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সু চি সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিলেন একজন মানব দরদী হিসেবে। তাইতো রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্বিচারে হত্যা ও অত্যাচারের ঘটনাগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই অনেকে আঙুল তুলছেন তার নোবেল পুরষ্কারের দিকে। তিনি কি সত্যিই ‘শান্তিতে’ নোবেল পাওয়ার যোগ্য ছিলেন? বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটাকে আমিও যৌক্তিক মনে করি।

শান্তিতে নোবেল পায় কারা? যারা মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন, তারাই তো এই পুরস্কারটি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। অং সান সু চি পূর্বে ঠিক কি কারণে নোবেল পেয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বিশ্ববাসী অবগত। আমার কাছে মনে হয় সেই সু চি আর বর্তমান সু চির আচরণ পুরোপুরিই স্ববিরোধী। অন্ততঃ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তার ভূমিকা দেখে এই বিষয়ে কারোই দ্বিমত থাকার কথা নয়।

গতকাল সু চি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তার দেওয়া তথ্যের কতটুকু সত্য? আর মিয়ানমার থেকে জীবন হাতে করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আবারও সেই দেশে ফেরত নেয়া ও আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে যা বলেছেন, তা কি সত্যিই কার্যকর হবে? এই প্রশ্নগুলো রোহিঙ্গা নেতাদের।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মিয়ানমার সরকারের পূর্বের আচরণ আর বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে এটা সুস্পষ্ট হয় যে, ভাষণে দেওয়া তার বেশিরভাগ তথ্যই মিথ্যা। আর রোহিঙ্গাদের পুনরায় আশ্রয়ের বিষয়ে যা বলেছেন, তা-ও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

আমরা জানি যে, হত্যাযজ্ঞ আর নিপীড়নের মুখে গত দুই সপ্তাহেই প্রায় ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এদের অনেকেই অসুস্থ বা জখম অবস্থায় রয়েছে। এরা কিভাবে জখম হলো? কাদের ভয়েই বা এরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই হত্যাযজ্ঞ আর অত্যাচারের কথা সারা বিশ্ববাসী জানলেও তিনি এটাকে অস্বীকার করেছেন! আরো বিষ্ময়ের ব্যাপার হলো, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে দেয়া তার ভাষণে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেন নি!

তাছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহীর বক্তব্যে বরং আমাদের জানা তথ্যের বিপরীত তথ্য উঠে এসেছে। রোহিঙ্গাদের তারা ‘সন্ত্রাস’ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। তাইতো রোহিঙ্গাদের উপর করা অত্যাচারকে তারা ‘সন্ত্রাস দমনের’ নাম দিয়েছেন। অং সান সু চিও তাদের সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। সেনাবাহিনীর করা হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধেও তাই তিনি বিন্দু পরিমাণ বিরোধিতা করেন নি।

এই যদি হয় একজন ‘শান্তিতে’ নোবেল পাওয়া ব্যক্তির ‘মানবতার’ নমুনা, তাহলে তার ‘শান্তিতে’ নোবেল পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা কি স্বাভাবিক নয়?

তাইতো কেউ কেউ শান্তির জন্য পাওয়া তার নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় নোবেল কমিটি এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়।