ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমরা স্বভাবতই ‘রোধ’ করতে না পারলে তা ‘রদ’ করে দেই। আর সেটাই হয়েছে এবার ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার পর।

ওবায়েদ স্যার সড়ক পরিদর্শন করার পর এমন কিছু একটা হবে এটা মনে না করলেও এটাই হলো । আমাদের দেশে কোন সমস্যার সমাধান কখনও স্থায়ী ভাবে নেয়া হয় না তার আপডেট প্রমাণ হচ্ছে ‘মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা’। কোন কোন মহাসড়ক এর আওতায় পরে সেটা কিন্তু বলে দেয়া হয়নি।

টক আম গাছে মিষ্টি আম ফলনের জন্য কী করতে হয় জানেন? আম গাছের নিচে বস্তায় বস্তায় চিনি দিলে আম এক সময় মিষ্টি হয়ে যায়।
হয়তো বুঝতেই পারছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। না বুঝলে বুঝিয়ে বলছি…

অপরাধ অথবা ভুলের গাছটা পুরোপুরি উপরে না ফেলে যদি প্রতিবারই তার ডাল-পালা ছেটে দেয়া হয় তাতে গাছ আরো ঝরঝরে হয়। যেটাকে সম্ভবত আমরা গাছ নিড়ানো নামেই জানি। এবং এরপর খুব সহজে ঐ গাছ আরো বাড়তে পারে। আর এই কাজটাই করে আসছি আমরা সব সময়। সড়কে দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম হয়ে গেলো না? এই সময় দুর্ঘটনা কিছুটা কমে আসলেও দুর্ঘটনার সমাধান কিন্তু স্থায়ী হলো না।

কিছুদিন আগে সরকার বাল্যবিবাহের বয়স কমিয়ে দিয়ে ১৬ বছরে আনার প্রস্তাব করেছিল। এতে স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে বাল্যবিবাহ না কমায় সরকার তাই বিয়ের বয়স কমিয়ে দিতে চেয়েছিল। ‘বিয়ের বয়স ১৮ই থাকবে, তবে অভিভাবকরা চাইলে ১৬ বছরেও মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে’, এতে করে বাল্যবিবাহের হার কমে যাবে তবে বাল্য বিবাহ কিন্তু কমবে না। বোঝাই যাচ্ছে গাড়ি বন্ধ করেও কখনও দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না।

দেশে প্রশিক্ষিত এবং সঠিক ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া কত জন আছে বলাই বাহুল্য। অপ্রশিক্ষিত ড্রাইভার কি করে লাইসেন্স পাচ্ছে? কেন আমরা দুর্নীতির আতুর ঘরে গিয়ে আঘাত না করে শুধু সিদ্ধান্তের পর সিদ্ধান্ত বদলাতে থাকি এটাই বুঝি না।

কিছুদিন আগে প্রশ্ন পত্র নিয়ে খুব হইচই হয়েছিল এখনও হয় মাঝে মাঝে। তো সে সময় আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ফেইসবুকের উপর খুব চটেছিলেন। প্রশ্নপত্র ফেইসবুকে প্রিন্ট বা ফটোকপি হয় না। এটা হয় সরকারি ছাপা খানাতে যেখানে প্রিন্ট বা ফটোকপিকারি একখানা সাদা গেঞ্জি ও পকেটবিহীন হাফপ্যান্ট পরে এই কাজ করার কথা। এখানেও আঁতুর ঘরেই সমস্যা…

ছোটবেলায় আমার এক বন্ধুর বাসায় একটা ক্যালেন্ডারের ছবিতে বিদেশি একটা প্রশস্থ রাস্তার ছবি (Photo Caption: Accident-proof Road) দেখে বন্ধুকে দেখিয়ে বলেছিলাম- দেখ, এমন রাস্তা আমাদের দেশে থাকলে আর দুর্ঘটনা হইতো না। উত্তরে বন্ধু আমার বলেছিল, নিয়ম মাইনা না চললে এমন রাস্তাতেও হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ‘আমাদের দেশে কি শুধু ঈদ-কোরবানিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়? কখনই না। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে আর পত্র-পত্রিকায় হেডলাইন এবং সংবাদ সম্মেলনে বলা হচ্ছে ‘চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনাই দুর্ঘটনার কারণ’। এতেই যেন হয়ে গেল সব কিছু। এর জন্য কে বা কারা দায়ি, কখনই বের হচ্ছে না। আর তাদের শাস্তি দেখতে পাওয়া তো ছেঁড়া কাথায় শুয়ে আমেরিকা যাবার স্বপ্ন দেখার মত।

অনাকাংক্ষিত মৃত্যু বা হয়রানি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে ও করতে চাইলে চাই সচেতনতা এবং সিস্টেম ‘রদ’ না।