ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

লাইব্রেরি থেকে ওয়াজেদ ভবনের দিকে গুটি গুটি পায়ে হাঁটছিলাম। সামনেই হাবিপ্রবির পরিবহন ও মেরামত শাখা। কানে ভেসে আসছিলো হেল্পারের উচ্চ গলার আওয়াজ। সেদিকেই চোখ আপনা আপনি চলে গেল। বাসটা পুরোই মেধাবী শিক্ষার্থীতে মুখরিত। সেদিকে আর না তাকিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম। কিন্তু…. পিছন থেকে পরে যাওয়া আওয়াজ। কে পরল? তাকালাম। একি! একটা নিথর দেহ। ভাবলাম গাড়ির কোন স্টাফ, হয়ত পরে গেছে মাটিতে। কিন্তু সে আর পরে নাই, সে তো কবেই আকাশের তারা হয়ে গেছে।কয়েক সেকেন্ড আগের কথা, বাস ভরপুর থাকায় মীর তার দেহটা এলিয়ে দিল দরজার সেই ধাতুর তৈরি আনুভূমিক তলে,আর দেহের ভরটা ছিল বাহির মুখী। বাসচালক তো হাবিপ্রবির মন্ত্রী। তার কথাই সব!! বাস যাবে তো যাবেই। কাউরে দেখার টাইম নাই।মনের কথা হয়ত এটাই। তাইতো সেই রকেট চালক(বাস চালক) রকেট নিয়ে খেলা শুরু করল।প্রথম বেগ বুঝি শেষ বেগের সমান হবে।কি আর করার,রাস্তা ছিল পিরামিড আকৃতি। মাঝ উঁচু,আর পাশ ঢালু। মাঝে মাঝে আবার ভারত মহাসাগরের মত খাদ। তাই বাস দুলছিল ভূমিকম্পের মত। সেই মীর সহ্য করতে পারল না, পরে গেল। সাথে সাথে পিছনের চাকা…. থাক না বলি।

লাশটা পরেই আছে।আমিও দাঁড়ায় আছি হতবাক হয়ে। শুধু শুনতে পারছিলাম কান্না। লাশটার মুখ দেখার সাহস পাচ্ছিলাম না। তবুও এগিয়ে গেলাম। এতক্ষণে জায়গাটা খেয়াল করলাম। আবিষ্কার করলাম, একটা নদী উৎপন্ন হয়েছে যার উৎপত্তিস্থল মীরের বুদ্ধিবিত্ত মাথায়।মাঝে একটা খাদ! সেখান থেকে ব্রেইন বের হয়ে গেছে।যতবার দেখছি গা শিউরে যাচ্ছে । এতক্ষণ হলো,এম্বুলেন্স এর দেখা না মিললে কয়েক জন মিলেই তাকে নিয়ে গেল….. কোথায় জানি না।কারণ সামনে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না,একটু সামিল হলাম তাতে। কারণ হাবিপ্রবির প্রাণ মানে আমার প্রাণ।

জানিনা কবে আমার পালা আসবে। তবে যতদিন এই এলোমেলো পৃথিবীতে থাকব,তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করব।