ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

দেলোয়ার হোসেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাস চালক। তবে তিনি শুধু কেবল একজন গাড়িচালকই নন, একজন সফল মানুষ গড়ার কারিগরও। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ছাড়াও ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এইসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অংক ও পরে ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়ান।

গত বছর তার ১৪ জন ছাত্রের মধ্য ৯ জনই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার প্রায় ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

এ বছরও ৮ জন ভর্তিচ্ছুসহ প্রায় ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়ছেন। কিন্তু তার এই পথচলা মোটেও সুখকর নয়।

hstu

ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবি শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাশের পর পারিপার্শ্বিক কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি। পরবর্তীতে গাড়ি চালক হিসেবে যোগদান করেন। এক পর্যায়ে আবারও পড়াশোনার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ জন্মায়।

এরপর শুরু হয় পথচলা। প্রথম দিকে ঠিকমতো ইংরেজি পড়তে বা বুঝতে পারতেন না, তারপরও তিনি থেমে যাননি। বিভিন্ন ধরনের ইংরেজি বই কিনে অথবা ভার্সিটির লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করে রাত জেগে নিজে বুঝে বুঝে পড়তেন, দিনের বেলা গাড়ির ড্রয়ারে বই নিয়ে ঘুরতেন, একটু অবসর পেলে গাড়িতে বসেই বই পড়া শুরু করতেন।

এরপর একে একে তিন জায়গার ইংলিশ স্পোকেনের উপর কোর্স করেন, না বুঝলে শিক্ষকদের কাছে যেতেন।

বিশেষ করে এগ্রিকালচার অনুষদের টিএমটি ইকবাল স্যার তাকে সাহায্য করেছেন। এজন্য তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

এভাবে নিজে শেখার পর শুরু করেন প্রাইভেট পড়ানো, কিন্তু সেখানেও আসে বাঁধা। তার সহকর্মী সহ অনেকেই এটা নিয়ে ব্যাঙ্গ করা শুরু করেন। কিন্তু এতে তার উৎসাহ কমেনি, থেমেও থাকেন নি।

আস্তে আস্তে তার শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখে অনেকেই তাদের ভুল বুঝতে পারেন। যারা প্রথমে তাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করতেন পরবর্তীতে তারাও তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে পড়ানোর জন্য তার কাছে পাঠানো শুরু করেন। এভাবেই মানুষ গড়ার কারিগর দেলোয়ার হোসেনের পথচলা।