ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১৯৯৩-৯৬ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা ও আওয়ামী লীগের আন্দোলন পর্ব ০১ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা প্রথম আসে জামায়াতে ইসলামী নামক দলের প্রধান গোলাম আযমের একটি মুদ্রিত লিফলেট থেকে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় আমাদের বাসায় বাসায় দরজার নিচ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছিল। ঘটনাটি আশির দশকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ের। ওই সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁর ক্ষমতা গ্রহণকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দেওয়া সেই টোপ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গলাধঃকরণও করেছিলেন, আবার উদগিরণ করেছিলেন। কিন্তু বিগত দিনের সেসব কথা এখনকার সংকটময় মুহূর্তে না আনাই ভালো।

সে যা-ই হোক, সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তৎকালীন মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত জনমত গড়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত হয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে সম্মত হয়। সব দলের সমঝোতার মাধ্যমে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এক অভিনব পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি ১৪০টি আসনে নির্বাচিত হয়ে সংসদে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে সরকার গঠন করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতিতে নবাগত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দলের এই বিপুল বিজয়ের কারণ তাঁর সামরিক শাসনবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ। যে জন্য তিনি বারবার এরশাদের প্রস্তাবিত নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাঁর এই অনমনীয়তা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংশোধন করে আবার সংসদীয় সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনেন। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তাঁর সরকার যথেষ্ট সফলতা অর্জন করে। গ্রামগঞ্জে বিবিধ ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের অর্জন বিস্তারিত উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতে চাই।