ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

সবচেয়ে অল্প সময়ে আমরা অনেক কিছু অর্জন করার সাফল্য দেখিয়েছি যার সুফল ও কুফল দুইটাই আমাদের দেখার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য হয়েছে। আবার অনেক সময় অনেক কিছু অর্জন হয়েছে যার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন। ঠিক তেমনি অতি দ্রুত স্বাধীনতার স্থপতিকে সপরিবারে হত্যা এবং তারচেয়েও দ্রুত স্বাধীনতার বিরোধিদের পুনর্বাসন। এখন হয়ত এক পক্ষ বলতে শুরু করবে শাসক হিসেবে শেখ মুজিবের কি ভুল ছিল ইত্যাদি। কিন্তু তাই বলে রাজাকারদের পুনর্বাসন- এইটার যুক্তি কি? আসলেই ‘শেখ মুজিব এক অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন’ যার ফলাফলঃ মীরজাফরের পর মোস্তাকের আগমন এবং শেখ মুজিব কে জাতির জনক বলতে বা মানতে আপত্তি কিন্তু কাদের মোল্লার নামের আগে শহীদ।

সবাই চাই গনতন্ত্র, স্বৈরাচারের পতনের পর আজ এত বছর ধরে আমাদের গনতান্ত্রিক দেশ কিন্তু গনতন্ত্রের সংজ্ঞাই আজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বে যেই গনতন্ত্র কোনোরকম প্রশ্ন ছাড়াই যুগের পর যুগ চলে আমাদের দেশে তা হুমড়ি খেয়ে পরে বারবার। কারন আমাদের ভোট দেয়ার জন্য বয়স হয় সাবালক হলেই কিন্তু বিচার বিবেচনার বয়স কিন্তু এখন নাবালক। আপনি যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিলেন কিন্তু আপনার আশেপাশের সবাই দিবে নিজের স্বার্থ দেখে। ভোটকেন্দ্রে আপনার সাথে অধিকাংশই চোর, বদমাশ, অসভ্য, সবাই কিন্তু এক কাতারে। আপনি তাহলে কিভাবে আশা করেন যোগ্য নেতা নির্বাচিত হবে আর সবাই উন্নতবিশ্বের মত গনতন্ত্র উপভোগ করবে। ফলাফল সবাই জানি।

ইন্টারনেট যখন এত সহজলভ্য ছিলনা তখন কম্পিউটার ছিল সিনেমা দেখা ও গেম খেলার জন্য। এত দামী একটা জিনিস বাসায়, তার সর্বোত্তম ব্যবহার- সিডির ট্রে হল চায়ের পেয়ালা আর রসময় গুপ্তের বাজার ধ্বস। এখন মোবাইলের কল্যাণে সবাই আপনার সাথে এক কাতারে। যাদের সাথে আপনি ভোট কেন্দ্রে ছিলেন তারাও যেমন আছে সেই সাথে যে মাত্র হাঁটতে শিখল সেও আপনার সাথে অনলাইনে কোথাও না কোথাও আছে। নিজেকে জাহির করার এমন সুযোগ কেউ কখনও পায়নি এবং হাতছাড়াও করতে চায়না। যে আপনি রাস্তায় মাথা নিচু করে হাঁটেন বা কারও সাথে খারাপ কথা বলেন না, সমাজের চোখে আপনার একটা ভদ্র সুশীল মুখোশ সেই আপনিই ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করেন, কারনে অকারনে সবাইকে হুমকি দেন, ব্লগের জগতকে আপনার ব্যক্তিগত ডায়েরি মনে করে নিজের সাহিত্য প্রতিভা দেখান, না বুঝে সবার লেখায় উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেন, সবকিছুই লাইক আর শেয়ার দিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। যার ফলাফলঃ একজন ভাই তার বোনের সাথে বা একজন বাবা তার মেয়ের সাথেও ছবি শেয়ার করতে ভয় পায়।