ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 
sZsRLzL

 

বাংলাদেশে তারকাবহুল ও বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো ঈদেই মুক্তি দেয়া হয়ে থাকে। এটা অনেক আগে থেকেই ঢাকাই তথা ঢালিউড সিনেমার ঐতিহ্য বলা যায়। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদ উল আযহায় মুক্তি পেল বাংলার কিং খান খ্যাত শাকিব খান এর “রংবাজ”। পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি দেখেছি রংবাজ সিনেমাটিকে ঘিরে। খানিকটা সেই আগ্রহ ও ঈদের আনন্দে দেখাই হয়ে গেলো রংবাজ। আমার আজকের লেখা রংবাজ নিয়ে।

ঈদ এর ছুটিতে অনেক সিনেমা দেখা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতায় টিকেট সংগ্রহ করা বেশ কষ্টকর একটি কাজ। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনে রংবাজ সিনেমার টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে এবারে হলো ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অতিরিক্ত টাকা বা ব্ল্যাক টিকেট কোনটাই লাগেনি, বেশ ফাঁকা ছিল টিকেট এর লাইন। এই ভিন্ন অভিজ্ঞতার কারণ অবশ্য পরে বুঝতে পারলাম, সেটা হল এবারের কম ঈদের ছুটি। যাই হোক টিকেট নিয়ে হলে প্রবেশ এবং অপেক্ষা পর্দা উঠার। অতঃপর পর্দা উঠে গেলো, জাতীয় পতাকা প্রদর্শন। সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম জাতীয় পতাকা ও সঙ্গীতের সম্মান প্রদর্শন করতে।

পুরো ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ড দেখলাম রংবাজের রংবাজি। খুব আশা নিয়ে যারা হলে এসেছিলেন, তারা ঠিক তেমনটাই হতাশ হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। রংবাজের রংবাজিতে আমিও বুঝতে পারলাম জীবনে সব সময় সব কিছুতে আশা করা ঠিক নয়। দর্শকের হাব ভাব দেখে তাই মনে হচ্ছিল।

“রংবাজ” সিনেমাটি বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমা মানে বাণিজ্যিক ছবি বলতে যা বুঝায় ঠিক তেমনটাই। তবে সিনেমাটির নির্মাণ প্রসঙ্গে আমার বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ আছে, যেগুলো আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সিনেমার নাটকীয় দৃশ্য ও গানের অংশ দেখে খুব অবাক হয়েছি। কারণ পুরো সিনেমাটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। গানের দৃশ্যায়ন ও কাহিনীর দৃশ্যায়ন (নির্মাণের মানগত কাঠামো) একেবারেই আলাদা ছিল। একই সিনেমাতে এই ধরনের বৈষম্য সাধারণত খুব কম দেখা যায়। একটু ভেঙ্গে বলি তাহলে!!!

আপনি যখন সিনেমাটির গান দেখবেন তখন মনে হবে আপনি মান সম্পন্ন কোন কিছু দেখছেন, আবার সিনেমার নাটকীয় দৃশ্যগুলো যখন দেখবেন তখন মনে হবে আপনি বস্তাপঁচা কিছু দেখছেন। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে দুটি অংশেরই অভিনেতা ও অভিনেত্রী সিনেমাটির মূল চরিত্র রূপদানকারী। কেন এমনটা হলো আমার বোধগম্য হয়নি।

গানের দৃশ্যায়নটি দেশীয় কোন পরিচালকের করা আমার মনে হয়নি। নাটকীয় দৃশ্যগুলো দেখে আমার অতি নাটকীয় ছাড়া কিছুই মনে হয়নি এবং এই অংশটি যে আমাদের দেশীয় পরিচালকের কাজ এটা খুব ভালো বোঝা গেছে। খুব তাড়াহুড়ো করে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়েছে এটা যে কেউই বলতে বা বুঝতে পারবেন।

একজন শিল্পীর কাছে অভিনয়ের কাজ বের করে আনার দায়িত্ব থাকে পরিচালকের হাতে। তাই একজন পরিচালককে হতে হয় দক্ষ একজন কারিগর। একটি সিনেমার মূল নির্বাহী একজন পরিচালককেই হতে দেখা যায়। কিন্তু রংবাজ সিনেমাটি দেখে পরিচালকের জন্য আমার খুব আফসোস হলো। আমরা সাধারণত পর্দার পেছনের মানুষগুলোকে তেমনটি চিনিনা। কিন্তু একজন পরিচালকই পারে পর্দার পেছনে পুরো কাজটি করে দর্শকের সামনে আসার। বর্তমানে আমাদের দেশের সিনেমা পরিচালকগন বোধয় পর্দার আড়ালেই থাকতে বেশি পছন্দ করেন। একসময় বাংলাদেশের সিনেমাতে প্রযুক্তির তেমন ছোঁয়া ছিলোনা, তারপরেও মূলধারার অনেক খ্যাতিমান পরিচালকগণ বের হয়েছেন। পেয়েছেন দর্শকের ভালবাসা।

৭০ ও ৯০ দশকের মধ্যে কত নামি পরিচালক ছিলেন যাদের নামের জন্য সিনেমা চলেছে মাসের পর মাস। তাদের পরিচালিত সিনেমার জন্য মুক্তির আগেই হল মালিক অগ্রিম বুকিং দিয়ে পরে সিনেমা প্রদর্শন করিয়েছেন। এইসব জনপ্রিয় সিনেমা গুলো অনেক সময় কলকাতায়ও পুনঃনির্মাণ হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে এত প্রযুক্তি নির্ভর সিনেমা হবার পরেও উনাদের মতো একজন মানসম্পন্ন পরিচালক বের হতে পারছেন না।

এখন এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যিনি বর্তমান পরিচালকদের কাজের মানের উপর ভিত্তি করে অন্তত বাংলাদেশের ১০ জন পরিচালক এর নাম বলতে পারবেন। যাই হোক আমি কথা না বাড়িয়ে মূল কথায় ফিরে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশের সিনেমার পরিচালকদের নিয়ে আমি আমার কোন একটি লেখা লিখব বলে আশা করছি।

এবার “রংবাজের” কাহিনীতে আসা যাক। নচিকেতার সিনেমা নিয়ে গাওয়া একটি গান আছে যেটা “বক্স অফিস” নামে পরিচিত। গানের একটি লাইনে ছিল যে, “গল্পের গরুটাকে দড়ি দিয়ে বেধে রেখে মানুষকে গাছে তুলে মইটাকে সরাব”। গানটি একজন পরিচালকের দৃষ্টিকোণ থেকে গাওয়া হয়েছিলো। রংবাজের কাহিনীকার বোধয় গানটি আমার মতো আগেই শুনে রেখেছিলেন। তাই বোধয় গানের লাইনটির ব্যতিক্রম করেননি।

সিনেমাটির কাহিনীকারও ঠিক একই কাজটিই করেছেন, আর সেটা হল গল্পের গরুটাকে দড়ি দিয়ে বেধে রেখে, দর্শককে গাছে তুলে দিয়ে মইটিকে সরিয়ে নিয়েছেন। পরে অবশ্য দর্শক কাহিনী নামক মইটি আর খুঁজে পায়নি। সিনেমার বিরতিকালে হলের দর্শকদের সাথে কথা বলে যা মনে হয়েছে। হিন্দি “হাম কিসিসে কম নেহি” সিনেমার প্রায় অর্ধেক মিল পাওয়া গেছে।

পুলিশের পেছনে লাঠি নিয়ে চিৎকার করে তাড়া করছেন একজন রাগি মহিলা (সিনেমার নায়কের মা)। সিনেমার প্রথম দৃশ্য দেখে একটু নড়েচড়েই বসেছিলাম। বাংলাদেশে পুলিশকে তাড়া করে এমন শক্তি কার আছে? পরে ভাবলাম সিনেমার নাম যেহেতু রংবাজ সেহেতু কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা থাকতেই পারে! পরে বুঝতে পারলাম যে ঈদ এর দিনে পাড়ার বখাটে যুবক পুলিশ সেজে জনগণকে প্রতারিত করছিলো, আর তাঁর প্রতিবাদেই ওই রাগি মহিলার হুঙ্কার। ঈদের দিনে ছেলে হবে দেশের সেরা রংবাজ এইভেবে ছেলেকে মায়ের দোয়া দিয়ে সিনেমার কাহিনী শুরু হলো। মানুষ খুন করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে দেখা হয় সিনেমার অন্য মূল চরিত্রে থাকা নায়িকা বুবলির সাথে। নায়িকাকে দেখে রংবাজ প্রেমে পড়ে যায়, যার ফলে নায়িকার ভালবাসা ও মন পাবার জন্য রংবাজ এর ভালো হতে চাওয়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যায় পুরো সিনেমার কাহিনী। সিমেয়ার শেষ অংশে অল্প কিছু কাহিনীর নতুন মোড় রয়েছে।

সব সময় সিনেমার মূল চরিত্রগুলো দিয়েই শুরু করা হয় সিনেমার চরিত্র বিশ্লেষণ। কিন্তু এইবার আমি একটু ব্যতিক্রম ঘটিয়ে শুরু করবো পুলিশের পেছনে তাড়া করা সেই রাগি মহিলার কথা দিয়ে।

রংবাজের মানে শাকিবের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৮০-৯০ দশকের সাড়া জাগানো অভিনেত্রী নুতন ম্যাডাম। ১৯৯১ সালে “স্ত্রীর পাওনা” সিনেমাতে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের সিনেমাতে অনেক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দর্শক ওনাকে দেখেছেন। কিন্তু রংবাজ সিনেমাতে উনি দর্শকদের আফসোস ও হতাশা ছাড়া কিছুই দিতে পারেননি। অতি নাটকীয়ও অভিনয়, বাজে সংলাপ বলার ধরন এবং বিশেষত তার চরিত্রের রূপসজ্জা যেগুলো দর্শকের মনে বেশি করে হতাশা সৃষ্টি করেছে। এই দায়ভার অনেকটা পরিচালককেও নিতে হবে। তবে নুতন ম্যাডাম এর মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর কাছে এটা একেবারেই আশা করা যায়না। নিশ্চয়ই উনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু উপহার দেবেন বলে আশা করছি।

শাকিব খান কে সিনেমায় দেখা যায় রংবাজ এর নাম ভূমিকায়। পুরো সিনেমাটি শাকিব খান একাই টেনে নিয়ে গেছেন। যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন বোঝা যায়, অন্তত তার পূর্বের সিনেমাগুলো যদি হিসাবে আনা হয় সেই ক্ষেত্রে। এটা অবশ্য আমি তার রূপসজ্জা, পোশাক, অভিনয় ও অন্যান্য বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই বলছি। সিনেমাতে সব চেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটাই হচ্ছে গানের দৃশ্যে এক রকম আবার নাটকীয়ও দৃশ্যে একেবারেই অন্য রকম। গানের দৃশ্যে যত ভালো ছিল শাকিব, নাটকীয় দৃশ্যে ততটাই তাকে বাজে লেগেছে। তবে শাকিব খান কে তার শরীরের দিকে বেশ খেয়াল রাখতে হবে। তবে সিনেমার রংবাজ খ্যাত টাইটেল গানটিতে শাকিবের নাচ ও গান অনুযায়ী একেবারেই বেমানান লেগেছে। অনেকটা হাত-পা ছোড়াছুড়ির মতো লেগেছে। শাকিবকে আরও অনেক পরিশ্রম করতে হবে বলে আমার মনে হয়েছে।

বুবলি ছিলেন রংবাজের নায়িকা চরিত্রে এবং উল্লেখ্য যে সিনেমাতেও নায়িকার নাম বুবলিই ছিল। সংবাদ পাঠিকার চরিত্র থেকে উনি বের হয়ে এখনও আসতে পারেননি যেটা উনার অভিনয় দেখে মনে হয়েছে। শুধুমাত্র সংলাপের শুদ্ধ উচ্চারণ ছাড়া একেবারেই বেমানান লেগেছে তার পুরো অভিনয়ের সময়টি। নাচের ক্ষেত্রে বেশ ফাঁকিবাজি লক্ষ্য করা গেছে, তাই নাচের প্রতি মনযোগী হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলা যেতে পারে বুবলির জন্য। গান সহ রোম্যান্টিক দৃশ্য গুলোতে একেবারেই অভিনয়ের তেমন রসায়ন ছিলোনা। তবে শাকিব অনেক চেষ্টা করেছেন এই ক্ষেত্রে। সিনেমাতে অভিনয়কালে বুবলির চরিত্রে অভিনয় না করে সিনেমাটির চরিত্র অনুযায়ী অভিনয় করাই বুবলির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করেছেন আমিসহ হলে আসা আরও অনেক দর্শক।

এবার বলবো সিনেমাটির অন্যান্য চরিত্রগুলো ও তাদের রূপদানকারী অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে। খল চরিত্রে ছিলেন অমিত হাসান, সাদেক বাচ্চু, শিবা শানুসহ কিছু  অন্যান্য সহশিল্পী। খল চরিত্রে অমিত হাসান ও সাদেক বাচ্চু বেশ ভালো করেছেন উনাদের চরিত্র অনুযায়ী। নায়িকার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন খ্যাতিমান চিত্র পরিচালক কাজী হায়াত। ওনার অভিনয়ে দর্শক বেশ মজা পেয়েছেন যা আমি দেখেছি। ওনার দৃশ্য গুলোতে দর্শকের হাসির আওয়াজ শোনা গেছে।

আমি সিনেমাটির পার্শ্বচরিত্র নিয়ে কথা বলবো, যেটা আমার কাছে খুব খারাপ লেগেছে বলবো। ভারতের বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক খ্যাতিমান অভিনেতাকে পাবেন যারা কিনা একসময় সিনেমার পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতেন। শুধুমাত্র ভালো অভিনয়ের জন্য তারা আজ অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। যেমন নওয়াজ উদ্দিন, মনোজ, রাজপাল যাদবসহ আরও অনেকেই আছেন যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা।

কিন্তু আফসোস হয় আমাদের দেশের পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের দেখে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সব সিনেমাতেই এখন দেখা যায়। রংবাজ সিনেমাতেও তার ব্যাতিক্রম দেখতে পেলাম না। একটি হাসির দৃশ্য হচ্ছে অথচ একজন দর্শক হিসাবে আমি হাসতে পারছিনা, যদিও অনেক হাসির দৃশ্য ছিল যেটা একটু ভালো অভিনয় করে দৃশটা ভালো করা যেতো। অতি নাটকীয় অভিনয়, ভাঁড়ামি, অসামঞ্জস্য সংলাপ যা চরিত্র গুলকে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে অনেক থিয়েটার আছে যেখানে রয়েছেন অসংখ্য গুণী মঞ্চ শিল্পীবৃন্দ। যারা মঞ্চে কাজ করে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন। আমি নিজেও দেখেছি। সিনেমাতে এই সকল শিল্পীরা অভিনয় করলে সিনেমার মান আরও বহুগুনে বেড়ে যাবে বলে আমি আশা করি। কিন্তু থিয়েটার এর এইসব গুণী  শিল্পীরা কেন বাংলাদেশের চিত্র পরিচালকদের নজরে আসেন না সেটা আমার প্রশ্ন থেকেই গেলো?

এবার ছবির অন্যান্য দিক নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য আমার কাছে যথেষ্ট অস্বাভাবিক মনে হয়েছে এবং বোঝা গেছে যথেষ্ট তাড়াহুড়ো করে বানানো হয়েছে। বেশ গড়মিল দেখা গেছে। সিনেমায় কিছু নাম চরিত্রের শুরু দেখানো হলেও তার পরিণতি দেখানো হয়নি। রূপসজ্জার কাজ ছিল একেবারেই নিম্নমানের, তবে গানের অংশটি বাদ দিয়ে বলতে হবে। সিনেমার প্রিন্ট ভালো ছিল। ইনডোর ও আউটডোরে মিলিয়েই দৃশ্যায়নের কাজ করা হয়েছে। কিছু অংশে ভিএফএক্স কাজ ছিল যা খুব নিখুঁত ছিলোনা বলেই বোঝা গেছে।

সিনেমাটিতে ৪ টি গান রয়েছে। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা হিসাবে গানের দৃশ্যায়ন বেশ ভালো ছিল। তবে এই গানের দৃশ্যায়ন কোন বাংলাদেশী পরিচালকের করা ছিলোনা যা দেখলেই বোঝা যায়। অদ্ভূত একটি বিষয় দেখলাম সেটা হলো গানের কণ্ঠ শুনলাম একজনের আর সিনেমাটির টাইটেল অংশে দেখানো হলো অন্য কিছু শিল্পীর নাম। তবে “তুই চাঁদ ঈদের” গানটি বেশ উপভোগ করেছেন হলের দর্শকরা।

সব শেষে কিছু কথা বলতেই হবে একজন দর্শক হিসাবে। আমার এই লেখাটি সিনেমাকেন্দ্রিক সম্পূর্ণ গঠনমূলক একটি আলোচনা যা দেশীয় সিনেমার উন্নতিকরণের উদ্দেশ্যে লেখা এবং যা কোন ভাবেই সমালোচনার পর্যায়ে পড়েনা।

বলিউড এর এক খ্যাতিমান নির্মাতা সিনেমার মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে, “দর্শক যতদিন বোকা থাকবেন ততদিন নিম্ন মানের সিনেমা নির্মাণ হবে”। আমাদের দেশীয় সিনেমা পরিচালকগণ বোধয় বাংলাদেশের সব দর্শককেই এখনও বোকা ভাবেন। আর এই ভেবে ওনারা যা ইচ্ছা তাই বানিয়ে দর্শকদের হলে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন সিনেমা দেখবার জন্য।

বাংলাদেশের সিনেমা দর্শক এখন অনেক উন্নত রুচির ও মানের এই কথা অস্বীকার করার কোন উপায়ই নেই। তাই আমাদের দেশের সব চলচ্চিত্র পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলতে চাই যে “দিন পরিবর্তন হয়েছে, তাই আপনাদের সিনেমা নির্মাণেও পরিবর্তন আনুন। তা নাহলে বোকা দর্শকরাও এক সময় আপনাদের সিনেমার উপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে”।