ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, সেলুলয়েড

d0-theatre-em3

 

চলমান দৃশ্য নিয়ে আলো ছায়ার খেলার নাম সিনেমা। এইসব আলো ছায়ার দৃশ্যগুলো আমরা যে স্থানে বসে উপভোগ করি তার নামই প্রেক্ষাগৃহ। অবশ্য ‘প্রেক্ষাগৃহ’ শব্দটির সাথে আমরা তেমন পরিচিত না। সাধারণত আমাদের দেশের বেশিরভাগই প্রেক্ষাগৃহগুলো সিনেমা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। তাই আমাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছে প্রেক্ষাগৃহটি সিনেমা হল নামেই পরিচিত।

প্রেক্ষাগৃহ শব্দটি কোথায় থেকে এসেছে, এটা দ্বারা কি বুঝায়, এই শব্দটির আদি স্থল কোথায় প্রভৃতি এই সব বলে আমি আজকে লেখাটার মূল অংশ শুরু করবো না। এই বিষয়গুলো অনেকেই গুগল করেও জেনে নিতে পারবেন। আমি আজকে আমাদের দেশের প্রেক্ষাগৃহ তথা সিনেমা হল নিয়ে কথা বলবো। যে কথাগুলো আমাদের অনেক আগে থেকেই বলা উচিৎ ছিল। কিন্তু এখন সময় এসেছে বলার।

সিনেমা আমাদের দেশের বিনোদনের অনেক বড় মাধ্যম। শুধু আমদের দেশেই নয় সাড়া বিশ্বেই এখন সিনেমা বিনোদনের জন্য অনেক মুখ্য একটি স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে নাচ, গান, অভিনয়সহ বিভিন্ন কলা কৌশলের সমাহার পাবেন একসাথে এই সিনেমাতে। আসলেই বিনোদনের সমাহার একসাথে পাওয়া সিনেমা ছাড়া বোধয় সম্ভব নয়। যার কারণেই সিনেমার প্রতি মানুষের ভালো লাগাটা একটু অন্যরকম। এই ভালো লাগার সিনেমাগুলোই আমরা প্রেক্ষাগৃহে বসে উপভোগ করি।

ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আমার একটা আলাদা দুর্বলতা আছে। যখন বাংলা সিনেমার একটা ভালো দিন ছিলো তখন পরিবারের সবার সাথে অনেক সময় সিনেমা হলে বা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া হয়েছে। সেই সময়টা আসলেই সোনালী যুগ ছিলো। আমি কিন্তু বেশিদিন আগের কথা বলছিনা। বলছি ৯০ দশকের কথা। যখন একসময় মানুষ তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতো প্রেক্ষাগৃহে বা সিনেমা হলে। সিনেমা হলের পরিবেশ ছিল অনেক চমৎকার। মনে হতো অনেক পরিবারের সদস্যবৃন্দ এক সাথে হয়ে একই গৃহে বসে সিনেমা উপভোগ করছে।

কিন্তু আমি এখন আফসোসের সাথে বলছি যা এখন আপনি আমার বলা উপরের কথার সাথে কোন মিল পাবেননা। এখন একটি পরিবার খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে যারা নিয়মিত পরিবার সহ সিনেমা দেখেতে গেছেন। এমনকি এও শুনতে পাবেন অনেকেই আপনাকে বলছেন যে, এখন কি মানুষ সিনেমা হলে সিনেমা দেখে? কিছু মানুষ বলবে বাংলাদেশে সিনেমা হলে এখন মানুষ কি আর সিনেমা দেখে? সিনেমা হলের তো পরিবেশ আর নাই। আবার সিনেমার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিনেমা হলে যান না অনেক দিন হল এটাও বলবে। আমিও মাঝে মাঝে এই ধরনের কথা শুনে অভ্যস্ত। আমার বাংলা সিনেমা ছোটবেলা থেকেই কিছুটা দেখা হতো। প্রেক্ষাগৃহে গিয়েই অনেক সিনেমা দেখা হয়েছে। আমিও নিজে ভাবি কেন এই সব কথা বলে থাকেন প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে। আমি পর্যবেক্ষণে নেমে গেলাম। বেশ কিছু দিন ধরে অনেক কিছু পর্যবেক্ষণে পেয়েছি আমি।

আমাদের বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দুই ধরনের প্রেক্ষাগৃহ বা সিনেমা হল আছে। তার একটি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল বা সাধারণ মানের হল এবং মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল। ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল বলতে বোঝানো হয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে একটি মাত্র পর্দায় সিনেমা দেখানো হবে। মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল বলতে যেটা বোঝানো হয়েছে, যেখানে একই স্থানে একাধিক পর্দায় একের অধিক সিনেমা দেখানো হয়ে থাকে।

স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টার বাংলাদেশের মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল হিসাবে অন্যতম। তবে আরও কিছু জায়গায় মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা নির্মাণ ও নির্মাণাধীন রয়েছে। বাকি সবগুলো হল সাধারণ ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল। যেমন- বলাকা, মধুমিতা, শ্যামলী, আনন্দ, পূর্ণিমা, সনি সহ আরও অনেক। বর্তমানে প্রায় ২৫০-৩০০ (মতভেদে) সিনেমা হল রয়েছে বাংলাদেশে। যার মধ্যে অনেক হল বন্ধ হবার পথে। বিভিন্ন কারণে অনেক হল আবার অনেকটা খুঁড়িয়ে চলছে এমনটা শুনেছি। বর্তমানে পত্রিকায় হল মালিকদের মুখে শোনা যায় যে, বাংলা সিনেমার বেহাল দশাই নাকি তাদের প্রেক্ষাগৃহ গুলোর এই অবস্থার জন্য দায়ী। তাদের কথা একেবারেই ফেলে দেয়া যায়না। কিন্তু তাদের কথা সম্পূর্ণ সত্যও নয়। শতভাগ হিসাব করলে তাদের কথা ৩০ ভাগ সত্য। বাকি ৭০ ভাগ অভিযোগ সত্য নয় বলে মনে করি।

বিষয়টা একটু ভেঙ্গে বলা যাক। আমার ঢাকা শহরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় মাল্টিপ্লেক্সসহ অন্য সিনেমা হল গুলোতে সিনেমা দেখার সুযোগ হয়েছে। খুব ভালো-মন্দ বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। ভালোর চেয়ে মন্দের ভাগটাই বেশি হয়েছে আমার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে।

 

Bashundhara-Star-Cineplex

 

যখন আমি এই লেখাটি লিখছি তা সবটুকুই আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই লিখছি। আমি আবারও বলছি যে, আমি যে শুধু মাল্টিপ্লেক্স এ সিনেমা দেখি ঠিক তা নয়, বিভিন্ন কারণে সব ধরনের সিনেমা হলগুলোতে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা রয়ছে। সিনেমার মানের কারণে কিছুদিন আগেও বেশিরভাগ বাংলাদেশী সিনেমাই কোন মাল্টিপ্লেক্স এ প্রদর্শিত হতো না। এমন কি সাকিব খানের সিনেমাও প্রদর্শিত হতোনা শুধুমাত্র সিনেমার মানের জন্য। যার কারণে কিছু বাংলাদেশী সিনেমা দেখার জন্য অন্য হলগুলো বেছে নিতে হয়েছে। তবে এখন বাংলাদেশী কিছু সিনেমা মাল্টিপ্লেক্স এর পর্দায় দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ প্রযোজনার সিনেমাগুলো। ঢাকা শহরে বলাকা, মধুমিতা, শ্যামলী সিনেমা হল গুলোতে কিছুটা ঈদের সময়ে ভিড় লক্ষ্য করা যায় তবুও সেটা শুধু মাত্র ঈদের সময়ে। এটা ছাড়া বাকি সময়গুলো বেশ হতাশাজনক।

আমরা আজকাল পত্র-পত্রিকায় বিনোদনের অনেক সংবাদ দেখে থাকি। বাংলদেশের অনেক শিল্পী সমিতি সহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেক দলের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখেছি। কিন্তু সিনেমা হলের সুস্থ্য পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন আমার চোখে পড়েনি বললেই চলে। সবাই ভালো মানের সিনেমা নিয়ে কথা বলে থাকেন। ভালো শিল্পী সমৃদ্ধ, গল্প, কাহিনী, প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমা নির্মাণ নিয়ে ভাবছে। কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে একজন দর্শক যে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে আসবেন, সেই সিনেমা হলের পরিবেশ নিয়ে কারও মুখে কোনও কথা বলতে শোনা যায়না। সিনেমা হলের পরিবেশটা যেন কারো মাথা ব্যাথার কারনই না। নির্মাতারা সিনেমা নির্মাণ করেই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ। একজন শিল্পীও তাদের দায়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন শুধু অভিনয় করে। তাদের এইরকম  দায়সাড়া দায়িত্ববোধ দর্শক হিসাবে আমাকে খুব আশাহত করে।

monihar
ছবিসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সিনেমা একটি বিনোদনের মাধ্যম এইকথা আমাদের অজানা নয়। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদনে সিনেমা হল তথা প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ দেখে থাকি। যেখানে সিনেমা হল বন্ধে সিনেমার মান নিয়েই বেশি প্রশ্ন তোলা হয়ে থাকে। দোষ ছুঁড়ে দেয়া হয়ে থাকে নির্মাতা সহ সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীবৃন্দকে। যা আমি একেবারেই মনে করিনা। শুধুমাত্র সিনেমার মানের কারনে একটি প্রেক্ষাগৃহ কিভাবে বন্ধ হতে পারে?  আর যদি তাই হয়, তাহলে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের সিনেমা হলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা যাবে কয়েক বছর পর। বর্তমানে ভারতেও ১০-১৫ টি তারকাবহুল  ছাড়া পুরো বছরে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সিনেমা নির্মাণ হয়না। কিন্তু সিনেমা হলের পরিসবেশ ভালো থাকায় তারকাবহুল নয় এমন সিনেমা গুলো  ভালো পরিমানে দর্শক পেয়ে থাকে। হলে দর্শকসমাগম হলে একটি সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হবে, আলোচনা  হবে, সমালোচনা হবে, হবে আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশী সিনেমার ক্ষেত্রে এই বিষয়টা একেবারেই দুঃখজনক।

শুধুমাত্র সিনেমা হলের পরিবেশ না থাকায়, সিনেমাগুলো হারাচ্ছে দর্শক এবং সাথে সিনেমায় বিনিয়োগকৃত অর্থ। সিনেমা হলের পরিবেশ এর কারণে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশের পুরো সিনেমা শিল্প

বাংলদেশে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক অপ্রয়োজনীয় কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি দেখা যায়। কেবল দেখা যায় না সিনেমা হলের পরিবেশ নিয়ে কারো উত্তাল আন্দোলন। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতিরও কোন মাথা ব্যথা নেই। নেই কোন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। সিনেমা হলের মান নিয়ন্ত্রণ গুলোও ঠিক ভাবে তারা তদারকি করেন বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের মাল্টিপ্লেক্স ও সাধারণ সিনেমা হলের কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রধান প্রেক্ষাপটগুলো তুলে ধরছি।

সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহের কথা উঠলে সর্বপ্রথম যেটি মাথায় আসে সেটি হল বড় পর্দা। আর এই বড় পর্দাকে ঘিরেই সব আলো ছায়ার খেলা। কিন্তু বাংলাদেশের আজ প্রায় সব সাধারণ হল গুলোর পর্দার অবস্থা বেশ নাজেহাল অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। কোন ধরনের মান পরিবর্তন চোখে দেখা যায়না প্রদর্শক কর্তৃপক্ষকে।

তবে এই সিনেমা হলের পর্দার ব্যাপারে মাল্টিপ্লেক্স গুলো অনেকটা এগিয়ে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দর্শকদের ভাল কিছু সেবা দিয়ে যাচ্ছে যা অনেক দর্শকের ভাল চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আবার অন্য দিকে বাংলাদেশের সাধারন সিনেমা হলের প্রজেকশন সিস্টেম একেবারেই নাজেহাল অবস্থা।

অস্পষ্ট ও ঘোলা ছবি দর্শকের অনেকটায় বিরক্তিকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখনও অনেক হল আছে যেখানে নেই কোন ডিজিটাল প্রোজেক্টর। আন্তর্জাতিক মানের সিনেমাস্কোপে সিনেমা গুলো দেখে ঠিক উপভোগ করতে পারেনা দর্শক বৃন্দ। এই ক্ষেত্রেও ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স হলগুলো এগিয়ে আছে।

সিনেমা হলের সাউন্ড সিস্টেমের অনেক বড় একটি ভূমিকা দেখা যায়। ঢাকা শহরেই এমন কিছু সিনেমা হলে (অভিজ্ঞতা থেকে) সিনেমা দেখেছি, যেখানে আপনাকে সব সময় চেষ্টা করে যেতে হবে সিনেমার সংলাপ স্পষ্ট ভাবে শোনার জন্য। গানের দৃশ্যগুলোতে সাউন্ড এর কথা না বলায় ভালো!!

এই হল গুলির সাউন্ড সিস্টেমকে পুরনো মাইক এর সাথে তুলনা করলেও খুব একটা বেমানান লাগবেনা। বাংলাদেশে আমার জানা মতে সাধারণ মানের সিনেমা হলগুলোর মধ্যে ঢাকার বলাকায় প্রথম ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম চালু করে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য। কিন্তু বাকি হলগুলোর ক্ষেত্রে সেই আশা কিছুটা বিলাসিতাই বলা যেতে পারে।

 

no_joy_in_ananda_1

 

এবার বলবো সিনেমা হলের টয়লেট বা শৌচাগার এর কথা। আমরা কয়েকদিন আগে অক্ষয় কুমারের বেশ জনপ্রিয় সিনেমা ‘টয়লেট’ দেখেছি। সিনেমাটির কাহিনীতে দেখেছি, যেখানে একজন ছেলে ও মেয়ের ভালোবাসার মধ্যেকার দেয়াল হিসাবে ছিল শুধুমাত্র একটি টয়লেট। আমাদের দেশেও এই ঘটনা হয়তো সেই ভাবে খুঁজলে তেমন পাওয়া যাবেনা। তবে সেই টয়লেট সিনেমার কাহিনীর সাথে মিল রেখে  যদি বলি তাহলে বলতে হবে, আমাদের দেশে দর্শক ও বিনোদনের মধ্যেকার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশের সাধারণ  সিনেমা হলের টয়লেট গুলি।

বিনোদন স্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই হচ্ছে টয়লেট। প্রাকৃতিক ভাবে মানুষের জন্য খুব বেশিই প্রয়োজনীয় এই টয়লেট। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের জন্য। কিন্তু  দুঃখের বিষয় বাংলাদেশে সব চেয়ে খারাপ অবস্থা সিনেমা হলের টয়লেট গুলি।

আমার এক সহকর্মীর  সাথে কয়েক মাস আগে ঢাকার গুলিস্তানে গিয়েছিলাম। আমার সহকর্মীটি  গুলিস্তান পার্কে পাবলিক টয়লেটে  যায় প্রকৃতির ডাকে। যদিও আগে থেকেই বলে রাখছি ঢাকা শহরের পাবলিক টয়লেট সম্পর্কে আমার ধারণা বেশি ভালো নয়। কিন্তু বাহির থেকে ভালো স্থাপনা ও কারুকার্য দেখে কৌতূহলবসত আমিও ভিতরে ঢুকি। আর ঢুকেই আমার চোখ প্রায় কপালে। কি ঝক ঝকে পরিবেশ আর পরিষ্কারও বটে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে ঐটা পাবলিক টয়লেট ছিল।

2017-03-12

 

বাংলাদেশের সাধারণ সিনেমা হলের টয়লেট গুলি ঢাকা শহরের ঐ পাবলিক টয়লেট এর চেয়েও খারাপ বললে আমার বোধয় বেশি একটা ভুল হবেনা। এর থেকে খুব ভালো ভাবে সিনেমা হল গুলির টয়লেট সম্পর্কে আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন হবেনা আশা করি। ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লক বাস্টার সিনেমা হল দুটিতেই টয়লেট বা শৌচাগার এর মান সব চেয়ে ভালো। বাকি হল গুলোর দুর্দশা না দেখলে তা লেখার মধ্যমে বোঝানো সম্ভব নয়। আমাদের দেশে জীবাণু থেকে সুরক্ষার জন্য এখন বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়ে থাকে। প্রথম প্রথম হাসি পেলেও ঢাকার পূর্ণিমা সিনেমা হলের টয়লেট এ  গিয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি!!

বাংলাদেশে পণ্য বা সেবার উচ্চমূল্য একটি বিরাট ও বহুল সমস্যা। আর এই সমস্যাটি রয়েছে সাধারণ সিনেমার টিকেট এর ক্ষেত্রেও। যেকোনো উৎসবের সময় দাম বাড়িয়ে দেয়াটা বাংলাদেশের ব্যাবসায়িক ঐতিহ্য হয়ে গেছে এখন বলা যেতে পারে। সিনেমা হল গুলোও সেই দিক থেকে কোন অংশেই পেছনে নয়। সাধারণত ঈদের সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব সিনেমা হলগুলি টিকেটের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রেও দর্শকের মধ্যে একটা অনীহা দেখা যায় সিনেমা না দেখার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিনোদনের পেছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ কিছুটা এই সময়ে অনেক পরিবারের জন্য বিলাসিতাও বলা যেতে পারে।

Blockbuster-cinemas_JFP

 

বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের জন্য অনেক আন্তরিক। সিনেমা প্রদর্শন ও সিনেমা হল নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সে অনেক শিথিলতা এনেছে বর্তমান সরকার। তাছাড়াও হল ডিজিটাল করনের লক্ষ্যে অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন যা পত্র-পত্রিকায় আমরা সবাই জেনেছি। বর্তমানে ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলে টিকেটের বেশ উচ্চমূল্য দেখা যায়। যা অনেক হতাশাজনক। মধ্যবিত্ত সম্পন্ন একটি পরিবার ইচ্ছা করলেও নিয়মিত সিনেমা দেখতে চাওয়াটা সেই পরিবারের জন্য অনেক বড় একটি বিষয়। একটি সাধারণ বাংলা সিনেমা মাল্টিপ্লেক্স এ দেখতে হলে ৪ সদস্যের পরিবারটিকে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। যদিও এটা বেশ ব্যায় সাধ্য একটি বিষয়। তবে দর্শকের কথা চিন্তা করে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলগুলো কিছুতা টিকেট এর দাম কমিয়ে আনবে এতাই প্রত্যাশা দর্শকের।

 

আমাদের দেশে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল গুলোর ভিতরে বর্তমানে ফুড ক্যাফে আলাদা মাত্রা যোগ করে দিয়েছে। আমাদের দেশের জেলা ও উপজেলাতে অবশ্য এই ফুড ক্যাফের কোন ঝামেলা নেই। তবে এই ফুড ক্যাফে যেখানে আছে সেখানে আবার দর্শকের ভিন্ন মতও রয়েছে। আর তা হলো  বেশি দামে খাবার বিক্রি করা। পৃথিবীর মধ্যে আমাদের দেশেই শুধুমাত্র পণ্যের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি নেয়া হয়ে থাকে। এটি আমাদের দেশের সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে মাল্টিপ্লেক্স গুলোতে আমাদের দেশে অনেক বেশি দাম রাখা হয়ে থাকে খাবার এর জন্য।

তবে সাধারণ হলগুলোতে খাবারের তেমন মান সম্পন্ন খাবার না পাওয়া গেলেও প্যাকেটজাত কিছু খাবার পাওয়া যায়। তবে তার জন্য আপনাকে দ্বিগুণ টাকা খরচ করতে হবে। ধরুন একটি চিপস এর সাধারন দাম ১০ টাকা হলে সেটা আপনাকে ২০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে। তবে পণ্যের অতিরিক্ত টাকা নেওয়াটা কিন্তু শুধু  সিনেমা হল  কর্তৃপক্ষই যে করে থাকেন ঠিক তা নয়, বর্তমানে রেস্টুরেন্টসহ অনেক জায়গাতেই নেয়া হয়ে থাকে। যা একেবারেই একজন ক্রেতার জন্য খুব দুঃখজনক।

 

সিনেমা হলগুলো বিনোদনের একটি স্থান, যেখানে একজন শিশু থেকে সব বয়সের মানুষের অবাধ যাতায়াত থাকবে বিনোদনের জন্য এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমাদের দেশের অনেক সিনেমা হলই অনৈতিক কাজের অভয়ারণ্য স্থান হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিনেমা দেখা বিষয়টি হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া নারী দর্শকের হয়রানি তো আছেই এইসব হল গুলোতে। সবচেয়ে বড়ো দুঃখের বিষয়টা হচ্ছে, এই সব অনেক অনৈতিক কাজে সহায়তা করে থাকে সিনেমা হলের কর্মচারীরা। এইসব ক্ষেত্রে হল মালিক ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছাড়া সাধারণ দর্শকের করার কিছুই নেই। তবে চাইলে চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও  শিল্পী সমিতিও  এই বিষয়টি সু-নজরে আনতে পারে, তাতে তাদের লাভটাই বেশি।

 

10620

 

বাংলাদেশের সিনেমা হলের টিকেট ব্ল্যাক অন্যতম একটি বাজে বিষয়। ঢাকা শহরের মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল দুটি বাদে একজন দর্শক সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা কোনভাবেই ব্ল্যাক টিকেট ছাড়া সিনেমা দেখতে পারবেনা, বিশেষ করে সপ্তাহের ছুটির দিন গুলোতে।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই ব্ল্যাক টিকেট ছড়ানোর জন্য খোদ হল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই দায়ী। তারা ইচ্ছে করে টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট বন্ধ করে দর্শককে বাধ্য করে ব্ল্যাক টিকেট কাটার জন্য। কিন্তু তাদের এই বাধ্যবাধকতা একজন দর্শক মানবে কেন? আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, হলের মালিক পক্ষও বোধয় এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়, যার কারণে উনিও হারাচ্ছে মুনাফা ও মুনাফার দর্শকদের। তাদের এই অনাকাঙ্খিত কারসাজিতে দর্শক হারিয়ে ফেলবে সিনেমা দেখার ইচ্ছে। তবে এই বিষয়টি যদি হল মালিকের ইচ্ছাকৃত কারসাজি হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি হারিয়ে ফেলবে সাধারণ দর্শকের  আস্থা ও বিশ্বাস। সিনেমা হল বন্ধ হবার জন্য এটি অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত হবে।

 

IMG_20170126_105345

 

এবার হলের ভেতরের কিছু কথা না বললেই নয়! আর সেটি হচ্ছে হলের ভিতরের গ্রাহক সেবা। আমাদের বাংলাদেশে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলগুলো ছাড়া গ্রাহক সেবা শব্দটি একজন দর্শক কোথাও খুঁজেও  পাবেনা। এই গ্রাহকসেবা খুঁজতে গিয়ে একজন দর্শক হয়ে যাবেন অপরাধী যিনি কিনা কষ্টের টাকা দিয়ে টিকেট কেটে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাবেন বা গিয়েছেন। সিনেমা হলের টিকেট বিন্যাস থেকে শুরু করে যে কোন তথ্য চাইতে গেলেই পাবেন হল কর্মচারীদের মুখ ঝামটা বা দুর্ব্যবহার। আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতার আপনাদের বলছি।

 

এবারে ঈদের সময় শ্যামলী সিনেমাতে (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হল) সিনেমা দেখার সময় আমি সহ অন্যান্য দর্শকবৃন্দ বেশ গরম অনুভব করছিলাম। হল ভর্তি মানুষ থাকায় এসির তাপমাত্রাটি বোধয় সহনীয় ছিলোনা, তাই  মাঝে মাঝে গরমের জন্য অনেকেই এই ব্যাপারটা নিয়ে চিৎকার করছিলেন। আমিও বিরক্ত হয়ে কেন এমন গরম লাগছে জানতে চেয়ে  হলের একজন গ্রাহক সেবা প্রতিনিধিকে জিজ্ঞেস করলাম। আমার প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করার পরেই ঐ গ্রাহক সেবা প্রতিনিধি আমাকে উত্তর দেয় যে, “এসির ব্যবহার আমি জানি কিনা? বেশি সমস্যা হলে বাসায় গিয়ে টিভিতে সিনেমা দেখেন, ঝামেলা করবেন না।” উনার উত্তর শুনে আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম কেন অনেক দর্শক সিনেমার পাইরেটেড কপির বা সিডি ভার্সনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এও বুঝতে পারলাম বাংলাদেশে কেন ইউটিউব এর ব্যবহারকারির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। একজন দর্শক হিসাবে আমার সিনেমা হলের ঐ গ্রাহকসেবা প্রতিনিধির দুর্ব্যবহার কিছুতেই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়

আমাদের বাংলাদেশে সাধারণ হল কর্মচারীরা অনেকেই শিক্ষার মান থেকে অনেক দূরে। তাদের আচরণ ও ব্যাবহার একেবারেই নিম্নমানের। যার কারনেই শিক্ষিত শ্রেণীর দর্শকের এক অংশ হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্স মুখি আর এক অংশ একেবারেই সিনেমা হল বিমুখী। হল কর্তৃপক্ষ চাইলে তাদের গ্রাহক সেবা উন্নত করতে পারে। তবে স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার এর গ্রাহক সেবা যথেষ্ট ভালো বর্তমানে।

 

2016-04-29

 

আমি যতটুকু জানি পৃথিবীর যেসব দর্শনীয় বিনোদনের স্থান রয়েছে সেগুলো বেশ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের বিনোদনের বা দর্শনীয় স্থানগুলো যেন সবচেয়ে উপেক্ষিত। সেটা যে জায়গাই হোক না কেন, অস্বীকার করার কোন উপায়ই নেই। পার্ক, চিড়িয়াখানা, দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থানসহ সিনেমা হলগুলো এর বাইরে নয়। আমার এক ছোট ভাইকে সিনেমা দেখার জন্য বলাতে আমাক সাফ জানিয়ে দেয় যে “সিনেমা হলে নাকি পরিবেশ নেই সিনেমা দেখার, তাই সে ঘরে বসেই সিনেমা দেখবে’’। সাধারণ সিনেমা হলগুলোতে  নিরাপত্তার বিষয়টি খুব অবহেলিত। ঢাকা শহরের সিনেমা হল গুলোতে কিছুটা নিরাপত্তা দেখা গেলেও জেলা শহর গুলোতে খুবই করুণ দশা। ঐসব জেলা শহর গুলোতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা অনেক পরিবারের আকাশ কুসুম কল্পনাই বটে!!!

একটি বিষয় আমি অনেক সময় খেয়াল করেছি যে, বিনোদনের জনপ্রিয় স্থান সিনেমা হলগুলো জেলা শহরের অনেক মানুষের কাছেই নিকৃষ্ট স্থান হিসাবে এখন বিবেচিত। একটি পরিবারের ছেলে বা মেয়েকে যদি সিনেমা হলের আশেপাশে দেখা যায়, তাহলে তাকে খারাপ হিসাবে ধরে নেয়া হয়ে থাকে বর্তমানে। সিনেমা হলের প্রতি খারাপ এই ধারণা সৃষ্টি করার পেছনে আমি বলবো এটার জন্য হল মালিকরাই দায়ী। নিরাপত্তা ও ভাল পরিবেশের কারণেই বাংলাদেশে গ্রাম ও জেলা শহরগুলোতে মহিলা দর্শকের সংখ্যা অনেক অংশে কমে গেছে। শুধু একটু  ভাল পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য বিনোদনের এই স্থানটি এখন নোংরা জায়গা হিসাবে  মানুষের কাছে চিহ্নিত হচ্ছে।

 

বর্তমানে আমার দেখা মতে বাংলাদেশের ২ টি মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা ও একটি সাধারণ হলে কিছু ভাল মানের আসন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি সিনেমা হলগুলোতে যে আসন বাবস্থা আছে সেগুলো লেখে প্রকাশ করা যাবেনা যতক্ষণ একজন দর্শক বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বসে  থাকার মত কোন সিট পাবেননা একজন রুচিশীল দর্শক। একজন দর্শক টাকা  খরচ করে সিনেমা হলে ঠিক  ভাবে বসে যদি সিনেমা না দেখতে  পারে তাহলে সিনেমা ও সিনেমা হলের প্রতি একটা অনাগ্রহ আসবে এটাই স্বাভাবিক।

 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল গুলো বাদে, অন্য সব হলের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটিকেও বিলাসিতার কথা হিসাবে চিন্তা করে থাকেন দর্শকবৃন্দ। গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে যখন ছোট্ট সুপারশপ গুলো শীতাতপ যন্ত্র ব্যাবহার করে, তখন ভাবতে খুব অবাক লাগে এই ভেবে যে, আমাদের দেশের সিনেমা হলগুলো তা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। ২/৩ ঘণ্টা একটি বদ্ধ ঘরে গরমের মধ্যে সিনেমা দেখা যে একটি কষ্টকর বিষয় তা বোধয় কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবেনা।

সব চেয়ে আফসোসের বিষয় হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বলে টিকেট বিক্রি করলেও হলের ভিতরে শীতাতপের বিন্দুমাত্র ছিটে ফোটাও নেই বা থাকলেও সেগুলো চালু করেনা পর্যন্ত। আবার এমন কিছু সিনেমা হল আছে যারা সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ না হবার অজুহাতে শীতাতপ যন্ত্র চালু করে না। সিনেমা হলের পরিবেশ নিয়ে ক্ষিপ্ত  আমার একজন পরিচিত আমাকে বলেছিলেন যে, “সিনেমা হলে মানুষ যাবে বিনোদন জন্য, টাকা দিয়ে কষ্ট সহ্য করার জন্য নয়”। সিনেমা  হলের বর্তমানে বেহাল দশা দেখে আমার সেই ভাইটির কথাটি হারে হারে টের পাচ্ছি, যেখানে আমার নিজেরও  অনেক বাজে অভিজ্ঞতা আছে একজন দর্শক হিসাবে।

 

পরিশেষে কিছু কথা বলা খুব জরুরী। যেকোনো পণ্যের জন্য তার মার্কেট যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি বিনোদন নামক এই সেবাটির জন্য সিনেমা হলও তেমনিই গুরুত্বপূর্ণ। যখন প্রযুক্তির ছোয়া ছিলোনা বাংলাদেশের সিনেমা ও সিনেমা হলে তখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছেন অনেকেই। সময়ের তালের সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে, হয়েছে উন্নতও। সব কিছুর উন্নতি হলেও, হয়নি বাংলাদেশের  সিনেমা ও সিনেমা হলগুলি। উন্নতির একেবারেই বিপরীত দিকে হাঁটা সিনেমা হলগুলির সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তা না  হলে খুব অচিরেই এই সিনেমা শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে  যাবে। বর্তমান সিনেমা হলের নিম্নমানের পরিবেশের জন্য আমি একটি কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

সেটা হলো “একজন সাধারণ সিনেমা হলের মালিকই তার নিজের হলে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে পারবেনা শুধুমাত্র তারই হলের নিম্নমানের পরিবেশের জন্য। সেখানে একজন সাধারণ দর্শক তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাবেন ভাবাটা একেবারেই অযৌক্তিক”।

সকল শিপ্লী কলাকুশলী, পরিচালক, প্রযোজক, প্রদর্শক ও  চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলছি, যেদিন আপনারা নিজেরাই নিজেদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটি সাধারণ হলে যেতে পারবেন সিনেমা দেখার জন্য, কেবল সেদিনই দয়া করে একজন সাধারণ দর্শককে আমন্ত্রণ জানাবেন তাদের পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখাবার। তা না হলে নয়!!!

 

বি:দ্রঃ আমার এই লেখাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। এই লেখাটি কোনো ভাবেই পাঠকের আবেগ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতাকে আঘাত করে না। গঠনতান্ত্রিক মতামত সব সময়ের জন্য উৎসাহযোগ্য। এই লেখায় ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।