ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

 

Bogra_Zilla_School_Academic_Building

 

স্কুল থেকে ১২ বছর পার হয়ে গেলো বের হয়েছি। পৃথিবীতে মানুষের একটা সমীকরণ মিলে যাওয়াটা খুব কঠিন, সেটা হল মানুষের চাওয়া-পাওয়া। না…না…কোন ভারি কথা না! আমি কঠিন কেউ না যাতে আমার প্রতি শব্দ তত্ত্ব হয়ে যাবে, তাই ঘাবড়ানোর কারন নেই। আমি আজকে যা বলার চেষ্টা করছি খুব সহজ। বিষয়টা একটু পরিষ্কার করে বলা যাক।

আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন একটাই চাওয়া ছিল যে, কবে স্কুল থেকে বেরুবো, আর আজ যখন স্কুল থেকে অনেক দূরে আছি তখন মনের মধ্যে একটাই পাওয়ার আশা, কবে আবার স্কুলে যাবো! এই হলো চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণ!

জীবনের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমার স্কুলটাকে অনেক পেছনে ফেলে এসেছি, আর তাই ফেলে আসা স্কুল জীবনের অনেকের কাছে থেকে শোনা কিছু খাঁটি কথা নিয়ে আমার আজকের এই লেখা। চাওয়া-পাওয়ার মধ্যেই যত কথা। আমার আজকের লেখাটা কথা নিয়েই।

মানুষের শিক্ষা জীবনের দীর্ঘ একটা সময় যায় স্কুলে। শেখার সময় সবচেয়ে বেশি স্কুল জীবনে। তাই অনেকের কাছেই অনেক কথা শুনতে হয় এমনকি স্কুলের দেয়ালটাও বাদ যায়না। স্কুলের দেয়ালটাও তার গায়ে লেখা কথাটা সব সময় মনে রাখতে বলে, আর গুরুজনদের কথাতো আছেই। তাই তেমন কিছু স্মরণীয় কিছু কথার কথা বলি।

কথা-১  “শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও”।

স্কুলের ফটকের পাশে মূল ভবনের দেয়ালে লেখাটা ছিল। লেখাপড়া শিখে সবাই বড় হবে, টাকা পয়সা রোজগার করবে এটাই স্বাভাবিক।

লেখাটা হতে পারত “শিক্ষার জন্য এসো, উপার্জন করার জন্য বেরিয়ে যাও”।

 

1

 

কেন এমন লেখাটা ছিল সেটা স্কুল জীবনে বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছি যে, মানুষের জীবনের সব তৃপ্তি সেবা করাতে। হোক সেটা দেশের বা মানুষের। দেশ ও দশের সেবা করাতেই গড়ে উঠে মনুষ্যত্বের মানুষ, তাই বোধয় লেখাটা লেখা হয়েছিলো।

কথা-২: “এই ছেলেরা একটা করে হলেও গাছ লাগাও, এখন না বুঝলেও ভবিষ্যতে বুঝবে”

এই কথাটি আমাদের স্কুলের প্রভাতি শাখার একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের, যিনি গাছ খুব ভালবাসতেন। ছোটবেলায় যখন স্যার এর কাছে এই কথাটা শুনতাম, তখন ভাবতাম কি যে বলে না স্যার! যে জিনিসের মূল্য এখনি বোঝা যায়না, সেটা আবার ভবিষ্যতে কি বুঝব? কিন্তু এখন বুঝতে পারছি।

সামান্য কয় পা হেঁটে গরমের চোটে ক্লান্ত হয়ে গাছের ছায়া না পেয়ে যখন একটু ঠাণ্ডা বাতাসের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে দৌড়াই, তখন স্যার এর কথা বেশ মনে পড়ে। স্যারকে বলতে ইচ্ছা করে, জী স্যার এখন বুঝতে পারছি, গাছের কি উপকার! ইশহহহ…আর কটা যদি বেশি গাছ লাগাতাম কি ভালই না হতো।

কথা-৩: “বিয়ে নাকি করবি শুনলাম, তা পা দুটো শক্ত না করলে তো বিয়ে হবেনা!”

আমার এক বন্ধু ক্লাস সিক্স এ মজা করে বলেছিল ক্লাস ক্যাপ্টেন এর কাছে, অবশ্য এই মজা খুব বেশিক্ষণ ছিলোনা তার, যখন ক্যাপ্টেন স্যার এর কানে কথাটা দিয়ে দেয়। অতঃপর আমার বন্ধুটির টেবিলে এর নিচে মাথা দিয়ে স্যার এর পক্ষ থেকে তাকে নিজের পা যুগলে কিছু  বেত্রাঘাত সহ্য করতে হয়েছিলো। বেত্রাঘাতের সময় বন্ধুটির উদ্দেশ্যে স্যার কথাটি বলেছিলেন। ক্লাস এর সবাই শুনে বেশ হেসেছিল আমার মনে আছে কিন্তু কথাটি শুনে আমি খুব একটা হাসতে পারি নাই। তখন ভেবেছিলাম যে, এ আবার কেমন কথা! বিয়ে করার জন্য পা শক্ত করতে হবে কেন?

কিন্তু আজকে আমার নিজের পা দুটো শক্ত না হবার অজুহাতে আমি যেমন এখনও ব্যাচেলর, এখন আমি বুঝতে পারছি স্যার কি মূল্যবান কথাটায় না বলেছিলেন। স্যার আপনাকে ধন্যবাদ পা দুটো শক্ত করার উপদেশ দেবার জন্য, যার মানেটা হল একটি নতুন দায়িত্ব নেবার জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা।

 

কথা-৪: “যোগ ব্যায়াম কর, এইটার উপরে ওষুধ নাই”

কথাটি বলেছিলেন আমাদের একজন স্যার, যিনি পড়া না পারলেই বেত্রাঘাতের পরিবর্তে যোগ ব্যায়াম করতে দিতেন। আমার নিজেরও যোগব্যায়াম করার সুযোগ হয়েছে স্যার এর সামনে। কিন্তু বুঝতে পারতামনা স্যার এর কথা যে যোগ ব্যায়াম ওষুধ কিভাবে হয়? মাথায় খটকাটা লেগেই ছিল।

2

 

যেটা এখন আমি বুঝতে পারি কিভাবে যোগ ব্যায়াম ওষুধ হয়ে উঠে মানুষের জন্য। জীবনে সব কিছু থাকা সত্ত্বেও একটু সুস্থভাবে চলা ফেরার জন্য যখন মানুষ ব্যায়ামাগারে বা মেডিটেশন সেন্টার যায়, তখন আমি বুঝতে পারলাম যোগ ব্যায়ামও মানুষের জন্য একটা ওষুধ। শুধুমাত্র যোগব্যায়াম নামক এই ওষুধটির জন্য একজন মানুষ যাপন করতে পারে তার সুস্থ, জীবন এটা বোধয় এখন সবারই জানা।

এই যা ভুলেই গেছি…আমার লেখাটা তো আর বড় করা যাবেনা, সম্পাদনা কমিটির নির্দেশ বলে কথা! কথায় কথা বাড়ে, আর আমার বেলায় কথায় লেখা বাড়ে। আমরা সবাই শুনেছি, “কথায় ক্ষয় আবার কথাতেই জয়”। কথার পেছনেই লুকিয়ে থাকে অনেক কথা, কিছুটা আমি বের করে এনেছি, বাকিটা আপনিও বের করতে পারেন। দেখবেন আপনার খোঁজা কোন একটি খাঁটি কথাতে পেয়ে যেতে পারেন আপনার আনন্দের আলোকিত জীবন……।

 

পূর্ব প্রকাশিতঃ ব্যাচ যুগপূর্তি স্কুল ম্যাগাজিন, বাংলা ইনসাইডার।

বি:দ্রঃ আমার এই লেখাটি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত আবেগ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। এই লেখাটি কোনো ভাবেই পাঠকের আবেগ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতাকে আঘাত করেনা। গঠনতান্ত্রিক মতামত সব সময়ের জন্য উৎসাহযোগ্য। এই লেখায় ব্যবহৃত ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।