ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হলভর্তি দর্শকের মাঝে বসে বাংলা সিনেমা দেখার আনন্দটাই  আলাদা। সেই আনন্দের পিছু নিয়ে টিকেট কাউন্টার থেকে আনন্দযাত্রার টিকেট সংগ্রহ করে ফেললাম। আমার এবারের আনন্দযাত্রার নাম বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘নাকাব’ সিনেমা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নাকাব সিনেমাটি বাংলাদেশে পরিবেশনা করে জাজ মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড। তবে এটি কোন যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নয়। যদিও কলকাতার সিনেমা হলে আগেই মুক্তি পেয়েছিলো সিনেমাটি, সাফটা চুক্তির আওতায় কলকাতার শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্ম প্রযোজিত ও রাজিব বিশ্বাস পরিচালিত  নাকাব বাংলাদেশে মুক্তি পায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর।

এতে শাকিব খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন নুসরাত, সায়ন্তিকা, রুদ্রনীল ঘোষ, সুপ্রিয় দত্ত, রেবেকা, শিবা সানু, খরাজ মুখারজি, সুদীপ মুখারজি, ভরত কলসহ আরও অনেকে।

নাকাব সিনেমাটি প্রায় দুই ঘণ্টা ৪২ মিনিটের। ব্যস্ততম একটি পার্কে  জেল পলাতক একজন আসামীর পুলিশ কর্মকর্তাকে খুনের দৃশ্য দিয়ে সিনেমা শুরু হলো। এরপর দর্শকের সঙ্গে পরিচয় ঘরে পরিবারহীন মাস্ক ও রহিমের, যারা প্রতারনা করে জীবিকা নির্বাহ করে।

একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অলৌকিক শক্তি পেয়ে যায় মাস্ক। অতৃপ্ত কিছু আত্মা দেখতে শুরু করে মাস্ক। সেই অতৃপ্ত আত্মার ইচ্ছা পূরণের গল্পেই এগিয়ে যায় এই সিনেমার ভৌতিক কাহিনী।

সিনেমার কিছু কিছু বিয়োগান্তক দৃশ্য দর্শককে কখনও কখনও আবেগঘন করে তুলতে পারে। সিনেমার শেষ অংশে দর্শক পাবেন কিছু মজার সাসপেন্স। এরচেয়ে বেশি জানতে হলে  দর্শককে হলে গিয়ে দেখতে হবে নাকাব।

 

সিনেমা দেখে আসার পর জানতে পারলাম, কয়েক বছর আগে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা সুরিয়া অভিনীত তামিল সিনেমা ‘মাস’ সিনেমার রিমেক এই ‘নাকাব’ সিনেমাটি। ইউটিউবে খুঁজে হিন্দি ডাবিং করা মাস দেখে ফেললাম।

তামিল সিনেমাটি থেকে নাকাব সিনেমা যে কোনো দিক থেকেই ভালো মানের। যদি কেউ তামিল সিনেমাটি না দেখে থাকেন তবে তার জন্য  শাকিব খানের নাকাবই যথেষ্ট।

শাকিব খানকে পুরো অচেনা লেগেছে নাকাব সিনেমায়। দ্বৈত চরিত্রে দর্শক আরো একবার নতুন এক শাকিব খানকে পাবেন। আগের অভিনয়ের সঙ্গে পার্থক্যগুলো সবার চোখে ধরা দেবে। এই সময়ের শাকিব খান দেশীয় সিনেমার ‘লাল লিপস্টিকের’ শাকিব নন।

তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আগামী সময়ে রিমেক ও নকল সিনেমা থেকে শাকিব খানের সরে আসা উচিত হবে। তা না হলে বোদ্ধা অনেক তরুণ দর্শক হারাতে পারেন বাংলার সুপারস্টার শাকিব খান।

শরীরের প্রতিও যত্নবান হওয়া উচিৎ শাকিব খানের। নাকাব সিনেমায় শাকিব খানের নাচের দিকটা ছিল দৃষ্টিকটু।  কিছু কিছু মুদ্রায় তার শরীরের মেদ খুব বাজে ভাবে দেখা গেছে।

‘তখন বাজে বারোটা’ গানের নাচের দৃশ্যে নুসরাতকেও ভাল দেখা যায়নি। নাচের মুদ্রাগুলোও বেশ খাপছাড়া মনে হয়েছে। অন্যান্য গানের ক্ষেত্রে অবশ্য উতরে গেছেন নুসরাত ও সায়ন্তিকা।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে চরিত্র অনুযায়ী বেশ সাবলীল ছিলেন নুসরাত ও সায়ন্তিকা। সিনেমায় বিশেষ একটি পার্শ্ববর্তী চরিত্রে দেখা গেছে সিনেমা ‘চ্যাপলিন’ খ্যাত রুদ্রনীলকে। সিনেমায় তার অভিনয় দর্শককে হাসিয়েছে; আবার আবেগপ্রবণও করে তুলেছে।

নাকাবে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে ছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘এরাও শত্রু’ খ্যাত অভিনেতা সুদীপ মুখার্জী। সিনেমার শেষ দৃশ্যেও বেশ হাসির খোরাক যুগিয়েছেন। এক ঘেয়েমি লেগেছে সুপ্রিয় দত্তের অভিনয়। খল চরিত্রে ভরত কল দর্শককে নিরাশ করেননি।

নাকাবে খরাজ মুখারজির অবদানটাও কম নয়। বরাবরের মতোই অসাধারণ কমেডি অভিনয়। চরিত্র যাই হোক না কেন, তার অভিনয়ে দর্শক হাসতে বাধ্য।

সিনেমার চারটি গান ভাল লাগবে সবার। আরমান ও নাকাশ আজিজের কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো উপভোগ্য ছিল। তামিল ‘মাস’ সিনেমার চেয়ে নাকাবের আবহ সঙ্গীতের কাজ অনেক ভালো হয়েছে।

সিনেমার চিত্রনাট্যের কাজ ভালো ছিলো। দর্শকের হাততালি বলে দেবে নাকাবের সংলাপও বেশ ভালো ছিল।

সিনেমার কাহিনী দেখানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আর কাহিনী প্রয়োজনে বাংলাদেশের কক্সবাজারের দৃশ্য দেখা গেছে। ক্যামেরার কাজ ভালো ছিল। ড্রোন ক্যমেরার কাজ খুব একটা চোখে পড়েনি। ভৌতিক দৃশ্য  এবং বিশেষ করে শাকিব খানের দ্বৈত চরিত্রের দৃশ্যগুলি চমৎকার হয়েছে।

সিনেমার দর্শক এখন আগের চেয়ে অনেক বোদ্ধা।  কিছুদিন আগেও মানুষ হল বিমুখ ছিল। ইদানিং সিনেমার মানের পরিবর্তনের কারণে দর্শক আবার অনেকটাই হলমুখি।  এর মাঝে নকল বা  রিমেক সিনেমা পয়সা খরচ করে হলে সিনেমা দেখতে যাওয়া  দর্শকের জন্য পীড়াদায়ক। নকল বা রিমেক এমনটা আগে থেকে জানলে হয়তো  নাকাব সিনেমাটি দেখা হতো না আমার।

দর্শকরা একটু একটু করে হলে ফিরছেন, তাদের ধরে রাখতে চাই মৌলিক সিনেমা।