ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

ছোটবেলা থেকেই সিনেমা আমার কাছে অন্যতম বিনোদন। ঈদের দ্বিতীয় দিন দৌড়ে গেলাম শ্যামলী সিনেমায়।

এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত এবং পরিচালক মালেক আফসারির সিনেমা ‘পাসওয়ার্ড’। সিনেমাটি মুক্তির আগে একে আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা বলে দাবি করেছিলেন শাকিব খান। আমিও আন্তর্জাতিক মানের মনোভাব নিয়ে  টিকেট সংগ্রহ করে পুরো সিনেমা দেখে ফেললাম।

বাংলাদেশে সবাই আন্তর্জাতিক মানের হয়ে গেলেও কেবল সিনেমার কাহিনীকাররা আন্তর্জাতিক মানের হতে পারলেন না বলেই বোধহয় আমাদের দেশীয় সিনেমার দুরাবস্থা। পাসওয়ার্ড সিনেমার কাহিনী আবদুল্লাহ জহির বাবুর তেমনই একটি দুর্বল কাহিনীচিত্র।  সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রের উত্থান-পতনও ছিল একেবারেই দুর্বল। কাহিনী সরাসরি নকল না হলেও তামিল-তেলেগু সিনেমার প্রভাব কিছুটা স্পষ্ট পাসওয়ার্ডের  দৃশ্যায়নে।

আমার ভাবতেই অবাক লাগে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ অভিনীত ‘এই ঘর এই সংসার’ চলচ্চিত্রটি পরিচালকও ছিলেন মালেক আফসারি। একজন দর্শক হিসেবে মনে করি, বেফাঁস কথা না বলে সিনেমা নির্মাণে এর কলাকুশলীদের আরও যত্নশীল হতে হবে।

চিত্রনায়ক শাকিব খান ও দেশীয় সিনেমার খল অভিনেতা মিশা সওদাগর ছাড়া পাসওয়ার্ড সিনেমায় তেমন কারও অভিনয় চোখে পড়েনি।

সিনেমা দেখার পর বরাবরের মত আবারো মনে হলো, শাকিব খানের শরীরের ফিটনেস গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সিনেমায় কাহিনী চিত্রাংশে ও গানের দৃশ্যায়নে কিছুটা পোশাকের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

পাসওয়ার্ড সিনেমায় সবচেয়ে বাজে অভিনয় করেছেন হালের চিত্রনায়িকা বুবলি। নাচে ও অভিনয়ে যথেষ্ট দুর্বলতার ছাপ পাওয়া গেছে। আমার পাশে বসা একজন দর্শক বললেন,  “ভালো অভিনয় ছাড়া শাকিব উনারে (বুবলি) বেশি দূর নিয়ে যাইতে পারবে না।”

সুতরাং, বেশি বেশি অভিনয় ও নাচে প্রশিক্ষণ বুবলির ক্যারিয়ারের জন্যই মঙ্গল।

বাংলার আরেক অভিনেতা অমিত হাসানের চরিত্রটি একেবারেই খাপ ছাড়া মনে হয়েছে। তবে উনি উনার মতো চেষ্টা করেছেন। একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনেতা ইমনকে দেখা যায়। চরিত্রটিতে অভিনয়ের বেশ ভালো জায়গা থাকলেও  তেমন মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি ইমন। সিনেমার বিরতিতে কিছু দর্শক ইমনের অতিমাত্রায় অভিনয়কে  ‘ন্যাকামি’ বলেই মন্তব্য করেন।

তবে পাসওয়ার্ড সিনেমার সব গানগুলেই  উপভোগ্য। সাধারণত সিনেমায় গান চলাকালীন গানের দৃশ্যায়ন ভালো না লাগলে অনেক দর্শকই উঠে বাইরে চলে যান, নয়তো ফিসফিসিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যায়। পাসওয়ার্ড সিনেমায় সব গানের সময় দর্শকের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

সব ক’টি  গানই এই সিনেমার অলংকার বলা যেতে পারে। গানের দৃশ্যায়ন বেশ প্রশংসাদায়ক। ‘পাগল মন’ গানটি বেশ রোমান্টিক। ‘ঈদ মুবারাক’ গানটি সবশেষ  আকর্ষণ ছিল। দর্শকরা গানটি শেষ করেই হল থেকে বের হয়েছেন।  দৃশ্য ভেদে সিনেমার আবহ সঙ্গীতও অনেক ভালো ছিল।

সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্য ছিল মোটামুটি মানের। তবে বেশ কিছু ভিএফএক্স কাজ ছিল বেশ ভালো। সিনেমার কালার গ্রেডিং বেশ ভালো হয়েছে।

সিনেমার দর্শকদের কিছুটা পাত্তা না দিয়েই অথবা বোকা ভেবেই অনেকে সিনেমা নির্মাণ করে থাকেন এমনটা ভাবতে হচ্ছে অনেক দর্শককেই; যা সিনেমা শিল্পের জন্য মঙ্গলজনক নয়। ইন্টারনেট যুগে দেশীয় সিনেমার সকল দর্শকরা যে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠেছে, তা সিনেমার সকল নির্মাতা, প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের উপলব্ধি করতে হবে।

 

মন্তব্য ০ পঠিত