ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

নোবেল পুরস্কার বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার।আর নোবেল শান্তি পুরস্কার হচ্ছে সবধরনের নোবেল পুরস্কারের মধ্যে সম্মানিত।এ পুরস্কার এমন সব ব্যাক্তিদেরকে দেওয়া হয় যারা নিতান্তই বিশ্বমানবতার জন্য অনেক বড় কিছু করে থাকেন। কিন্ত গত তিন বছর যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বমানবতার জন্য তাদের তেমন কোন অবদান আমার চোখে পড়েনি। গুগলে সার্চ দিলেও তাদের নামের পাশে এমন কোন মহৎ কাজ পাওয়া যাবেনা যা সত্যিই বিশ্বমানবতার জন্য নিবেদিত। বরং তাদের দ্বারা বিশ্বে যে পরিমান নৈরাজ্য, নির্যাতন, হত্যা সম্পাদিত হয়েছে তার বর্ণনা লিখে শেষ যাবেনা।তবুও কিছু উদাহরণ না দিলেই নয়। প্রথমেই বারাক ওবামার কথা বলি যিনি দ্বিতীয়বারের মত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। বারাক ওবামার আমলে শুধুমাত্র আফগানিস্তানে হাজার হাজার নিরাপরাধ মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে, ইরাকের মত দেশে জন্ম নেওয়া নতুন শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেনা। অনেক শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ইরাকে স্বাভাবিক ও সুস্থ শিশু আগামী ৫০ বছরে জন্ম নিবেনা কারণ হিসেবে তারা বলেছেন ইরাক অভিযানে ন্যাটোর সৈন্যরা যে পরিমান রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার অবশিষ্ঠ অংশ ইরাকের আকাশে-বাতাসে এমনকি আবাদি জমিতেও মিশে আছে যার প্রভাব উৎপাদিত ফসলেও পড়ছে। সব মিলিয়ে ইরাক প্রায় ২০০ বছর পিছিয়ে গেছে। আর যে জন্য ইরাকে অভিযান চালিয়েছে সেই পারমানবিক অস্ত্রের কোন নামগন্ধও পাওয়া যায়নি।

এবার মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সাং সুচীর কথায় আসি যিনি কিনা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ দিন জেল খেটেছেন। কিন্ত অতি সাম্প্রতিক তার দেশের আরাকান রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে তাদেখে তিনি মোটেও চিন্তিতনন। তিনি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অথচ বৌদ্ধদের ধর্মের মূলনীতি হচ্ছে “অহিংসা পরম ধর্ম”।আর এবছর শান্তিতে নোবেল পাওয়া সংগঠনটির নাম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা নাকি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিক পালন করেছে! তাদের সমালোচনা করে লেখার কলেবর বাড়ানোর ইচ্ছা আমার নেই। শুধু এুটুকুই বলব যে তারা বিশ্বে বিভিন্ন অশান্তির পথ তৈরী করেছেন তা সবাই জানে। আর এখন নোবেল দাবি করা হচ্ছে মালালার জন্য যে কিনা কিছুদিন আগে পাকিস্তানে তালেবান হামলার শিকার হয়েছে। আমার কাছে এটা খুবই স্পষ্ট যে মালালা কিভাবে নোবেল পাবে সেতো নির্যাতিত। নোবেল তো নির্যাতকদের জন্য! সম্প্রতি গাজায় ঈসারাইল যে হামলা চালাচ্ছে তাতে প্রায় ৩০০ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে।গাজাবাসী যে সামান্য প্রতিরোধ করছে তার প্রতিবাদ স্বরুপ বারাক ওবামা ও তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন ঈসরাইলের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন।তাই একথা খুব স্পষ্টভাবে বলা যায়যে সামনের বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারটা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অথবা ঈসরাইল নামক রাষ্ট্র পেলেই আমেরিকা খুশি হবে অযথাই মালালা কে টানবেন না।