ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত ২৮ ই নভেম্বর ১৮ দলের মহাসমাবেশ এর মূল উদ্দেশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন:স্থাপন হলেও জোটের ২য় প্রধান দল জামায়াতের উদ্দেশ্য ছিল আটক নেতৃবৃ্ন্দের নি:শর্ত মুক্তি দাবি দলটির ভারপ্রাপ্ত আমীরের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়েছিল। ঐ সমাবেশ থেকে হরতালের মত কোন কর্ম সূচি না আসাতে দেশের মানুষ খুব আশান্নিত হয়েছিল। কিন্ত বিপত্তিটা ঘটল তখনি যখন বিজয়ের মাসের শুরুতেই জামাত-শিবির তাদের আবদার আরও স্পষ্টভাবে জানান দিল পুলিশের উপর হামলার মাধ্যমে। তারা পুলিশের উপর হামলা করেই থেমে থাকেনি হরতাল ও পালন করেছে। লোকমুখে শোনা যায় এ সরকারের আমলে যত হরতাল হয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে কঠিনভাবে পালিত হয়েছে। হবেনা কেন পুলিশের ঘুম থেকে উঠার আগেই তারা তারা এক রাউন্ড জালাও পোড়াও করে ফেলেছে। তারপর মানুষের আতঙ্কই বাকি দিনটা হরতাল সফল করেছে। আর তাদের হরতালে বি এন পি র নৈতিক সমর্থন তাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছে। জামাত যখন হরতাল দিল তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন বিজয়ের মাসে হরতাল কিছুতেই কাম্য নয় কোন হরতালই রাজাকারদের রক্ষা করেত পারবেনা।

পরবর্তীতে আবার যখন বি এন পি হরতাল দিল তখন এটা আরও বেশী করে বলা হল যে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর জন্যই বিজয়ের মাসে হরতাল দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বললেন যারা বিজয়ের মাসে হরতাল দেয় তারা কখনই মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতে পারেনা। আমি বিষয়টা খুব সহজভাবেই নিয়েছিলাম যে মানুষ বিজয়ের মাসে বিজয়ের আনন্দ করবে হরতাল কেন? কিন্ত সন্দেহ জাগল তখনই যখন সিপিবি বিজয়ের মাসে হরতাল ডাকল তাদের হরতালের প্রতিবাদ করার মত কেও নেই? শুধু বামদলই নয় নামসর্বস্ব সংগঠন “গড়বো বাংলাদেশ” ও এই বিজয়ের মাসেই হরতাল ডেকে বসল! কি আজব! আবার শোনা যায় আওয়ামী লীগ ও নাকি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিজয়ের মাসে হরতাল ডেকেছিল। তাহলে হরতাল কি দলীয় ? নাকি বিজয় দিবস দলীয় সম্পদ? কেউ বিজয় দিবস কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার রাখেনা। এ বিজয় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। এটা কারও পারিবারিক বা রাজনৈতিক সম্পদ নয়। তাই আমি সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে অনুরোধ করব দয়া করে বিজয় দিবস কে রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যে টেনে আনবে না। হরতাল হরতালই সেটা জামাত, বি এন পি, আ’লীগ বা বামদল যে দল ই আহবান করুক না কেন?